Category: প্রচ্ছদ

  • এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক গ্রহণ

    এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক গ্রহণ

    চীনের পর্যটন নগরী সানিয়ায় চলমান এশিয়ান বীচ গেমসে কাবাডি ডিসিপ্লিনে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত লড়াই শেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। বিজয়মঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে যখন নারী অ্যাথলেটরা পদক গ্রহণ করছিলেন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নারী কাবাডিতে সোনা জিতেছে ভারত আর রৌপ্য জিতেছে শ্রীলঙ্কা।

    আজকের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ। তিনি পদকজয়ী নারী দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন এবং এই অর্জনকে দেশের কাবাডির জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

    গেমসে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং আক্রমণাত্মক কাবাডি প্রদর্শন করেছে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে হারলেও, পুরো আসরে তাদের লড়াকু মানসিকতা সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান অক্ষুন্ন রেখেছে। এই ব্রোঞ্জ জয় কেবল একটি মেডেল নয়, এটি আমাদের কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার ফসল।

    আমাদের বর্তমান কমিটির লক্ষ ছিল পদক পুনরুদ্ধার করা। এশিয়ান বীচ গেমসে আমাদের মেয়েরা সেটা করে দেখিয়েছে। ১৪ বছর পর এশিয়ান বীচ গেমসের কাবাডিতে  ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ।’

    তিনি আরও বলেন, বীচ কাবাডিতে এই সাফল্য আগামীতে এশিয়ান গেমসসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। বিশেষ করে নারী কাবাডি দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এই মেডেল তারই প্রতিফলন।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে থাইল্যান্ড ও চাইনিজ তাইপেকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। যদিও গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে দারুন লড়াইয়ের পর ৩৬-৩৮ পয়েন্টে পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। নেপালের বিপক্ষে পরাজয়ের কারনে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ভারত। সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৫০-৩১ পয়েন্টে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেমিফাইনাল নিশ্চিতের সাথে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়। একইসাথে র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থান নিয়ে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশের নারী দল।

  • রাজবাড়ীতে মে দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

    রাজবাড়ীতে মে দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

    রাজবাড়ী জেলায় মহান মে দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার বেলা ১টায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত মহান মে দিবস পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসান, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি,  ডা. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল হক, সহকারী কমিশনার মো. আরিফুল হক।

    সিবিএ’র জেলা সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী মোল্লা, বাস মালিক সমিতি সহ সভাপতি মো মুরাদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামও রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা প্রমুখ।
    জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস পালন শুধু মাত্র মিটিং মিছিল, রালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা উচিত।

    মে দিবসে অহেতুক অপচয় না করে শ্রমিকদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই।

    তিনি বলেন আমাদের অনেক শিশু, পড়াশুনা বাদ দিয়ে শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে। তাদেরকে এই কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করে পড়াশুনায় মনোযোগী করতে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।

    এছাড়া অনেক শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পড়ে আছে। তাদের খোঁজ খবর নেয়া, তাদের পাশে দাঁড়ান আমাদের কর্তব্য।

    আমরা অসহায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালে তাদের পরিবারের অনেক কষ্ট দূর হবে।

    আসুন এই দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা একে অপরের প্রতি সহনশীল হই সমাজকে সুখী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেই।

    সভায় সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী বের করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: বৈশ্বিক-বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

    ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: বৈশ্বিক-বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

    বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর নোটিফিকেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    আজ (সোমবার) সকালে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকোয়ারমেন্ট’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিও-এর নিয়ম মেনে চলতে, হালনাগাদ থাকতে এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নোটিফিকেশন অপরিহার্য উপাদান। তিনি উল্লেখ করেন, নোটিফিকেশন ডব্লিউটিও-এর টুলবক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও। এটি সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারলেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারব।

    তিনি আরও বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাই হবে এই প্রশিক্ষণের মূল সাফল্য।

    মন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আইটিটিসি’র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা ডব্লিউটিও সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

    তিনি বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, তা আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে-এই প্রত্যাশা রাখতে হবে।’

    তিনি আশা করেন, বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে খুব শিগগিরই ডব্লিউটিও নতুন উদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান। এছাড়াও ডব্লিউটিও এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর আইটিটিসি ওসমান আলী খিলজি এবং ডাব্লিউটিও এর সেন্ট্রাল ও এস্ট্রান ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ড. কেঞ্জা লি মেনটেক বক্তব্য দেন।

    চারদিনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। ডব্লিউটিও সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক সেশনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • সমন্বিত উদ্যোগে কমছে যানজট; ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্বস্তি

    সমন্বিত উদ্যোগে কমছে যানজট; ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্বস্তি

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীতে ঢুকতেই দীর্ঘ যানজট, ধীরগতির চলাচল ও অনিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একসময় নাকাল ছিল সাধারণ যাত্রী থেকে পণ্যবাহী যানচালক, সবাই। সংকীর্ণ সড়ক, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে রাজধানীর ডিএমপি ট্রাফিক-ওয়ারী জোনে চরম ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। তবে, অন্যতম ব্যস্ত এই করিডরের সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই পাল্টেছে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ফলে এই রুটে চলাচলকারী হাজারো যাত্রী ও চালকের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

    শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কই নয়, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ হয়ে সংযুক্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা পেরিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পথে আগের তুলনায় কমেছে যানজট। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থেকে পোস্তগোলা হয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতেও গতি এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় যাতায়াতে সময় কমেছে, স্বস্তি বেড়েছে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

    ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ-সংযুক্ত সড়কগুলোতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ছাপ দেখা যাচ্ছে। বিকল্প রুট হিসেবে এসব সড়কের ব্যবহার বাড়ায় মূল মহাসড়কের ওপর চাপও কিছুটা কমেছে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাচ্ছে নগরবাসী।

    সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী শাকিল হোসেন বাসস’কে জানান, আগে ভোরে রওনা দিলেও সন্ধ্যার আগে ঢাকা শহরে ঢুকতেই পারতাম না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। বাচ্চা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ত। এখন সেই কষ্ট নেই।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সায়েদাবাদ ও লালবাগকেন্দ্রিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধোলাইপাড় এলাকায় যাতে অবৈধভাবে কেউ রাস্তায় বসতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, গুলিস্তান অঞ্চল এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশনসহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে আরও কাজ বাকি রয়েছে। সে কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমি সন্তুষ্ট নই। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আরও মনোযোগী হয়ে কাজ করতে হবে বলেও জোর দেন তিনি।

    ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জানান, ফুটপাতে জীবিকার তাগিদে থাকা মানুষদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের মূল সড়কে নামতে না দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পারমিটবিহীন বাস বন্ধ এবং নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো নিশ্চিত করা গেলে যানজট আরও কমবে।

    আনিছুর রহমান বলেন, ‘রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে হবে এবং সেগুলো কেবল যান চলাচলের জন্যই ব্যবহৃত হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।’

    তিনি আরও জানান, যানজট কমার পেছনে জ্বালানি সংকট বড় কারণ নয়; বরং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাই মূল ভূমিকা রাখছে।

    ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের আওতাধীন যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, সায়েদাবাদ ও ডেমরা এলাকায়- বিশেষ করে সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে (সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ধোলাইপাড়-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অংশ) দীর্ঘদিন তীব্র যানজট ছিল। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলত। আগে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী অংশে দুই লেনের গাড়ি একটি স্থানে এসে এক লেনে প্রবেশ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হত।

    অন্যদিকে, ধোলাইপাড় মোড়ের বড় আকারের গোলচত্বরও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করত। বিভিন্ন সড়কে একাধিক ট্রাফিক সিগন্যাল, যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল, রাস্তার মাঝখানে বাস থামানো, অবৈধ টার্মিনাল ও হকারদের দখল সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ছিল। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ভোগান্তি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

    এসব সমস্যার সমাধানে ক্ষমতা গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী অংশে সড়ক প্রশস্ত করে দুই লেন চালু করা হয়। ফলে ঢাকাগামী যান চলাচল অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়েছে। ধোলাইপাড় মোড়ে গোলচত্বরের ব্যাসার্ধ ২৭ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ মিটারে আনা হয়েছে; এতে যান চলাচলের সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

    এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিগন্যাল অপসারণ, পথ পুনর্বিন্যাস, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সড়ক উন্মুক্ত হয়েছে। বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও গাড়ি দাঁড়াতে না দেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ডাম্পিং ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়েতে এসব যান চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কাগজপত্রবিহীন যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে।

    ডিএমপি আরও জানায়, যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক প্রায় ৩৫০টি অবৈধ টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এসব কাউন্টারে যানবাহন থামানোর কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উদ্যোগে এসব অবৈধ টিকিট কাউন্টার সিলগালা করা হয়। যদিও পরবর্তীতে বাস মালিক পক্ষ সরে যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় চায়। ডিএমপি জানিয়েছে, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ টিকিট কাউন্টার অপসারণ করা গেলে সংশ্লিষ্ট সড়ক আরও যানজটমুক্ত হবে।

    মিলন নামে এক বাসচালক জানান, ১৫-১৬ বছর ধরে এই মহাসড়কে গাড়ি চালাই। উন্নয়ন হয়েছে, তবে অটোরিকশা ও সিএনজি এখনও ঝামেলা করে। বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এখন এই পথে যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগে; এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অন্তত এক ঘণ্টা সময় কম লাগত। তবে আগের তুলনায় যানজট কমেছে।

    লিটন নামে আরেক চালক জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট অনেক কমেছে। তবে বিশ্বরোড, ভৈরব, ইটাখোলা ও আশুগঞ্জ এলাকায় পেট্রোল পাম্পে লাইনের কারণে সাময়িক জট তৈরি হচ্ছে।

    ট্রাফিক ওয়ারী জোনের ডিসি মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, হকারদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা গেলে সড়ক ফাঁকা থাকবে এবং যানজট আরও কমে আসবে। যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক প্রায় ৩৫০টি অবৈধ টিকিট কাউন্টারে এখনও কার্যক্রম চলছে। এগুলো অপসারণ করা গেলে ওই এলাকায় যানজট অনেকটাই কমে যাবে এবং যান চলাচলের গতি আরও বাড়বে।

    তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন ভিআইপি সড়কে ইতোমধ্যে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ওয়ারী জোনেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • লিগ্যাল এইড সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার : আইনমন্ত্রী

    লিগ্যাল এইড সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার : আইনমন্ত্রী

    জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    এ সময় তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় লিগ্যাল এইড সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

    আইনমন্ত্রী বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে জার্মান সরকার অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে এবং তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সারা দেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে| তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যৌথ উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের সূচনা হয়| পরবর্তীতে তারেক রহমানের উদ্যোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয় এবং বর্তমান সংসদ অধিবেশনেই লিগ্যাল এইড আইন পাস হয়েছে।

    আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কর্মসূচির আওতায় শুধু দরিদ্র ও অসহায় মানুষই নয়, বরং রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, পঙ্গুত্ববরণকারী, মামলায় জর্জরিত নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শহীদদের স্বজন এবং আহতদের জন্যও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

    নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি| যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলেও যারা অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে আইনি সহায়তা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।

    আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক| এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।

    এসময় মোস্তাকিমা আক্তার ও হাওয়া বেগম নামের দুইজন নারীকে আইনমন্ত্রী তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন| একইসাথে বস্তিবাসীর বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তার সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    শেষে তিনি এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জার্মান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার : মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার : মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান জরুরি।

    তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন  তিনি। আজ (সোমবার) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারসহ দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ওপরও জোর দেন।

    তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে বিশ্বের সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

    জহির উদ্দিন স্বপন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, সরকার গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। এসব বৈঠক থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কার্যকর একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও পেশাদার সহযোগিতা কামনা করেন।

    এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে নিয়মিত বৃত্তি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকা-ের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল এসময় তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।