Category: প্রচ্ছদ

  • বাবার স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলসী খাল পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বাবার স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলসী খাল পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শা এলাকায় কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে ঐতিহাসিক উলসী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।

    তিনি সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১১ টা ৪২ মিনিটে খাল খনন স্থলে আসেন। এসেই খালের উপরের অংশে নির্মিত উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শার উলসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত।

    এই খালটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃখনন করা হচ্ছে।

    উদ্বোধন করা ফলকে লেখা আছে, ‘যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল(জিয়ার খাল)পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী.. ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।’

    তার ঠিক পাশের ফলকে লেখা আছে, ‘গণযোগ’ উলসী- যদুনাথপু-বেতনা নদী সংযোগের প্রকল্প।  দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণ-উপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উদ্বোধন করলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, ‘উলসী গ্রাম, যশোহর’। ১ নভেম্বর ১৯৭৬।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর খালকাটা কর্মসূচিকে ঘিরে  শার্শা ও তার আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে ভোর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। তাদের সবার হাতে ছিলো গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল। চোখে মুখে ছিলো খুশির আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী খালে নেমেই প্রথমে চারপাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    এ সময় তারা থেমে থেমে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন,‘ প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

    এলাকাবাসী বলছেন, খাল খননের ফলে তাদের পানির সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া ভবিষ্যতে সেচ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ দশক আগে যশোরের শার্শার উলসী এলাকায় কৃষকদের দুঃখ ছিল জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকত। সেই কষ্ট দূর করতে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজে কোদাল হাতে খাল খননের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৫০ বছর পর সেই মৃতপ্রায় খালটি পুনরায় খননের মাধ্যমে সচল করার কাজে উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এর আগে গত ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৫৪ জেলায় একযোগে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    ওইদিন তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করেন।

  • মেহেরপুরে পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে পাখির কোলাহল

    মেহেরপুরে পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে পাখির কোলাহল

    পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, পাখি শিকার কমিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগের কারণে জেলায় পাখির সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ঘুঘু, লালকন্ঠি ঘুঘু ও শালিকের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। একসময় যেসব পাখির দেখা মিলতো খুব কম, এখন সেগুলো মেহেরপুরের গ্রাম-গঞ্জের আকাশ ও গাছপালায় যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

    ঘুঘু পাখিকে সাধারণত অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের পাখি হিসেবে ধরা হয়। এরা লাজুক প্রকৃতির পাখি হলেও মানুষের খুব কাছাকাছি বসবাস করতে অভ্যস্ত এবং সহজে কারও ক্ষতি করে না। তবে সচরাচর কারো সামনে আসে না। তাদের মৃদু, সুরেলা ডাক গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। বিশেষ করে ভোর কিংবা কাঠফাঁটা দুপুর ও বিকেলের নীরবতায় ঘুঘুর ডাক এক ধরনের আবেগময় অনুভূতির জন্ম দেয়।

    সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ সাদ হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেও নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে ছিল।

    কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং সামাজিকভাবে শিকারবিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে।

    হরিরামপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘আগে সকাল বিকেল শিকারিরা বন্দুক নিয়ে বের হতো। এখন সেই দৃশ্য আর নেই। ফলে পাখিরা নিরাপদে বাসা বাঁধছে, বংশবিস্তার করছে। আমার বাড়িতে একটি কুল গাছে দুই জোড়া ঘুঘু বাসা বেঁধে ডিম পেড়েছে। এলাকায় ঘুঘুর অবাধ বিচরণ এখন চোখে পড়ে। বছর দুই আগেও এমন ঘুঘু দেখা যেত না। তবে ঘুঘু বাসা বানাতে জানেনা। অল্প খড় কুটো জড়ো করে ডিম পাড়ে। অনেক সময় ডিম পড়ে ভেঙে যায়।’

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ করে ঘুঘু ও লালকন্ঠি ঘুঘুর মৃদু ডাক আবার  গ্রামবাংলায় চেনা সুর হয়ে উঠেছে। শালিকের দলবদ্ধ উড়াউড়িও চোখে পড়ে বেশ। কৃষিজমি, বাঁশঝাড়, ফলের বাগান ও বসতভিটার গাছপালায় এদের বিচরণ বাড়ছে।

    পাখি বিশারদ সদানন্দ মন্ডলের মতে, পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি জানান, পাখি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে আমরা স্কুলে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা এখন নিজেরাই পাখি রক্ষার কথা বলে।

    মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে বনভূমি রক্ষা, গাছ লাগানো এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি। আমরা অবৈধ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদার করেছি। তাতে মানুষের সচেতনতা ও উদ্যোগে প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে তার হারানো সুর ফিরে পাচ্ছে।

  • রাঙামাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্যহাতির মৃত্যু

    রাঙামাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্যহাতির মৃত্যু

    জেলার লংগদু উপজেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি বড় পুরুষ বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।

    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটি মারা যায় বলে রোববার দুপুরে বাসস’কে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ।

    তিনি জানান, বড় বয়স্ক হাতিটি বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিল। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি থেকে একটি টিম অসুস্থ হাতিটিকে চিকিৎসা দেয়। এর পর থেকে উপজেলার ইআরটি টিমের সহযোগিতায় হাতিটিকে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইআরটি টিম আজ সকালে হাতিটিকে খাবার মাধ্যমে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য গেলে সেখানে হাতিটির মৃতদেহ দেখতে পায়। মৃত পুরুষ হাতিটির বয়স আনুমানিক ৬৩ বছর ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    মো. রফিকুজ্জামান শাহ আরও বলেন, মৃত হাতিটির পাশে সঙ্গীয় আরো হাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সঙ্গী হাতিটি সরে গেলে মৃত হাতিটির দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

    এ বিষয়ে পাবলাখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম অসুস্থ হাতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান, পুরুষ হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দফায় হাতিটিকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হলেও আজ চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইআরটি টিমের (এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম) টিম লিডার মো. জয়নাল জানান, ‘রোববার সকালে আমরা হাতিকে ওষুধ ও খাবার দিতে এসে অসুস্থ বন্যহাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।

    পাহাড়ে হাতির বসবাসকৃত অভয়ারণ্যগুলো ধংস হওয়ার ফলে প্রতিনিয়ত হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি। মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে হাতিসহ নানা প্রজাতির প্রাণী। প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

  • নেপালের কাছে হেরে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

    নেপালের কাছে হেরে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

    চীনের সানিয়ায় এশিয়ান বীচ গেমস কাবাডির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে হেরে গেছে বাংলাদেশ নারী দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৩৬-৩৮ পয়েন্টের ব্যবধানে হার মানতে হয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।

    এই পরাজয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজই শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
    শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে এক বিন্দু ছাড় দেয়নি।

    বিরতিতে যাওয়ার সময় নেপাল ১৯-১৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। বিরতির পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও নেপালের রক্ষণভাগ এবং রেইডারদের নৈপুণ্যে ব্যবধান বজায় থাকে। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় নেপাল ৩৮ আর বাংলাদেশ ৩৬।  মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় হিমালয় কন্যা নেপাল।

    গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান দ্বিতীয় হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ভারতের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।

  • গুলির ঘটনা ইরান যুদ্ধ থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না: ট্রাম্প

    গুলির ঘটনা ইরান যুদ্ধ থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গুলির ঘটনা তাকে ইরান যুদ্ধ থেকে বিরত করতে পারবে না।

    তবে ঘটনাটি ওই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই তার বিশ^াস।

    হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ঘটনা ইরান যুদ্ধ জয়ে আমাকে নিরুৎসাহিত করতে পারবে না। এটি এর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না আমি জানি না। তবে আমরা যা জানি, তাতে আমি তা মনে করি না।’

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এর আগে শনিবার তিনি বলেন, ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিয়ে ‘কখনোই নিশ্চিত হওয়া যায় না।’

    তিনি জানান, হামলাকারীর উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।

    তাকে তিনি ‘একক হামলাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    এর আগে, শনিবারই ট্রাম্প পাকিস্তানে তার দূতদের সফর বাতিল করেন।

    প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর তেহরানের আলোচনার অবস্থান সন্তোষজনক না হওয়ায়, তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
    ওই সফরে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

  • তিমির মৃতদেহ ঘিরে হাঙ্গরের আনাগোনা, অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু সৈকত বন্ধ

    তিমির মৃতদেহ ঘিরে হাঙ্গরের আনাগোনা, অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু সৈকত বন্ধ

    সমুদ্রতীরে ভেসে আসা একটি বিশাল তিমির মৃতদেহ খেতে গ্রেট হোয়াইট ও বুল শার্কসহ একদল হাঙ্গরের ভিড় জমেছে। এই পরিস্থিতিতে সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু সমুদ্র সৈকত বন্ধ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণী ও সার্ফ রেসকিউ কর্তৃপক্ষ।
    আজ রোববার তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার উপকূলীয় রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কের ‘এরা’ বিচে পাথরের ওপর আট মিটার লম্বা এবং ২৫ টন ওজনের স্পার্ম তিমির মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই সৈকতগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    নিউ সাউথ ওয়েলস ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের এরিয়া ম্যানেজার ব্রেন্ডন নিলি বলেন, ‘সেখানে বেশ কিছু গ্রেট হোয়াইট ও বুল শার্ক দেখা গেছে।’

    তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘মানুষের কাছে এটি বেশ নাটকীয় বা ভীতি জাগানিয়া মনে হতে পারে। তবে এটি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হাঙ্গরগুলো তিমির মৃতদেহটিকে খাদ্যচক্রে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।’

    নিলি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে সাঁতার কাটতে যাব না, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।’

    বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা তিমির মৃতদেহটিকে অপসারণের পরিকল্পনা করছেন।

    তবে আগামী মঙ্গলবারের আগে তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।

    ‘সার্ফ লাইফ সেভিং এনএসডব্লিউ’ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, হাঙ্গরের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায়, রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন এরা, গ্যারি, বার্নিং পামস ও ওয়াটামোলাসহ সব সৈকত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সার্ফ লাইফ সেভিং এনএসডব্লিউ’র প্রধান নির্বাহী স্টিফেন পিয়ার্স জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এবিসি’কে বলেন, ‘আমরা কাউকে পানিতে নামতে বাধা দিতে পারি না। তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক বিশাল আকারের হোয়াইট ও বুল শার্কের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এই মাছগুলোর সঙ্গে একই পানিতে সাঁতার কাটা মোটেও নিরাপদ নয়।’

    হাঙ্গরের আক্রমণের তথ্য সংরক্ষণকারী একটি ডেটাবেস অনুযায়ী, ১৭৯১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কবলে পড়ার প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

    সবশেষ গত জানুয়ারিতে সিডনি হারবারে হাঙ্গরের আক্রমণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।