Category: প্রচ্ছদ

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পর রোববার তিনি বলেন, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

    ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়,ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক অঙ্গীকার’ চাইছিল—যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব-এর পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকেও এমন অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।

    তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সময় দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে।

    আলোচনার আয়োজক পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে এবং উভয় পক্ষকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এক বৈঠকেই চুক্তি হবে—এমন আশা কেউই করেনি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে।

    আলোচনায় দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়ে অংশ নেয়। হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়েও চাপ তৈরি হয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাঝেই দাবি করেন, ইরানি নেতাদের হত্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না—কারণ আমরা জিতেছি।’

    প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেন, এখনো কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি।

    ‘আমরা একটি সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি—এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়,’ বলেন তিনি।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ ভবিষ্যতেও সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা জরুরি।

    আলোচনায় ইরানের ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মার্কিন দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

    চুক্তির পথে প্রধান বাধা

    যুদ্ধ শেষের যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, ইসলামাবাদে এসব বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

    শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালীতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে এবং সতর্ক করে দিয়েছে, এমন কিছু হলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ড জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা কেবল ‘নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক জাহাজের’ জন্য প্রযোজ্য।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিজেরা ব্যবহার না করলেও প্রণালী খুলে দেব, কারণ অনেক দেশ এটি ব্যবহার করে—তারা হয় ভীত, নয় দুর্বল, নয়তো কৃপণ।’

    লেবানন ইস্যুতে জটিলতা

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা সবসময়ই ‘ব্যর্থতা ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে চিহ্নিত।

    অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরান সদিচ্ছা দেখালে যুক্তরাষ্ট্রও আন্তরিকভাবে আলোচনা করবে, তবে ‘খেলতে চাইলে’ তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

    ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পৃথক আলোচনা করবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এমন একটি শান্তিচুক্তি চান, যা ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে’।

    তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বরং বৈরুতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।

  • কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    ভারতের কিংবদন্তি  সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (রোববার) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় বুকের সংক্রমণ ও শারীরিক অবসাদের কারণে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে।

    ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছে।

    আশা ভোসলের বহুমুখী প্রতিভার কারণে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ আট দশকের কর্মজীবনে তিনি হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন।

    ভারতীয় সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    এছাড়াও দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ এবং ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।

    ১৯৩৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। চার বোনের মধ্যে লতা, উষা ও আশা প্লেব্যাক শিল্পী হয়েছিলেন, মীনা হয়েছিলেন সুরকার। ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরও সংগীতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়েছিলেন।

  • তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা।

    তিনি বলেন, ‘তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি অপতথ্য (মিসইনফরমেশন) ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের (ডিসইনফরমেশন) বিস্তার রোধ করে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

    আজ (রোববার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’-এর কোর গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন অধ্যাদেশ স্থগিত রাখার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে অপতথ্যের প্রচারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

    শুধু তথ্যের প্রবাহ বাড়ালেই চলবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে একটি কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘মোর ইনফরমেশন, মোর ট্রুথ- এজন্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে তথ্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেটিও আমাদের ঠিক করতে হবে।’

    জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের লক্ষ্যে উপস্থিত অংশীজনদের কাছ থেকে গঠনমূলক সুপারিশ প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি তথ্যের ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ ও ‘স্ক্রিনিং’ প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আইন প্রণয়নের এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে যুক্ত করা হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

    অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।

    সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

  • পটুয়াখালীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    পটুয়াখালীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    জেলায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এমপি।

    আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং তা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় পটুয়াখালী জেলা ও বাউফল উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, সিভিল সার্জন খালেদুর রহমান মিয়া, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ

    প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে  শেরপুর ও বগুড়ার দুই আসনের নব-নির্বাচিত দুই এমপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    আজ রোববার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় স্পিকারের কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

    সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নবনির্বাচিত শেরপুর-৩ আসনের মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের রেজাউল করিম বাদশাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    স্পিকারের কাছে শপথ নেওয়ার পর দুই সংসদ সদস্য রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর এবং স্পিকারের সাথে করমর্দন করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন’শ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

    ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। গত ৯ এপ্রিল স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন  এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়।

    গতকাল বিজয়ী দুই সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনে বিজয়ী এমপিরা শপথ নেন। বিগত সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় নতুন সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নিলেন। বাকী  চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল গণনা সারা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় তা ঘোষণা করা হয়নি। প্রার্থিতা নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি শেষে সেই ফল ঘোষণা করা হবে।

  • সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

    সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।

    রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দরবারে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

    এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

    তারেক রহমান আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতের সংস্কার এবং মানুষের উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি নতুন রূপান্তরের পরিকল্পনা তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে রয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।