Category: রাজনীতি

  • গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিলো জামায়াতসহ আট দল

    গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিলো জামায়াতসহ আট দল

    অনলাইন ডেস্ক:     নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরের দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করে। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন শিল্প ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান।

    এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টন থেকে জামায়াতসহ আট দলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। মৎস্য ভবন মোড়ে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে পদযাত্রা। পরে প্রতিনিধি দল যমুনার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সেখানে স্মারকলিপি প্রদান করে। আদিলুর রহমান জানান, তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো তুলে ধরবেন।

    স্মারকলিপিতে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন, জাতীয় নির্বাচনে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু, সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতি ও সহিংসতার বিচার করা এবং স্বৈরাচার ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

    দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি একজোট হয়েছে।

    স্মারকলিপি জমা শেষে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছেই স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, পরে তাঁর নির্দেশে শিল্প উপদেষ্টা এটি গ্রহণ করেন। তিনি আমাদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেননি এবং বলেছেন যে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করবেন।”

    তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আলোচনার গুরুত্ব শিল্প উপদেষ্টা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তবে আমরা চাই, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দ্রুত জারি করা হোক। ১১ নভেম্বর ঢাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়ে আমরা মহাসমাবেশ করব। এর আগে যদি আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না আসে, তবে ঢাকার অবস্থা ভিন্ন হবে।”

    এর আগে সকাল থেকে রাজধানীর পল্টন, কাকরাইল ও শাপলা চত্বর এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে জড়ো হন আট দলের নেতাকর্মীরা। পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু জুলাইয়ের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব, ঘি আমাদের লাগবেই।”

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সহযোগী দলের শীর্ষ নেতারাও। কর্মসূচি শেষে প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশে যমুনার দিকে রওনা হয়।

  • গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

    গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

    অনলাইন ডেস্ক: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এখন দেশের সবচেয়ে জরুরি কাজ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব ছিল কেবল একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “সেদিন দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমেছিল জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। তাই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত।”

    বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজস্ব স্বার্থে দেশকে আধিপত্যবাদের থাবায় ঠেলে দিয়েছিল। একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয় এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এই সংকটকালে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়, বন্দীদশা থেকে মুক্ত হন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।”

    তারেক রহমান দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সুশাসনের সূচনা হয়। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তির দেশীয় সহযোগীরা ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে হত্যা করে। “জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তাঁর আদর্শে বলীয়ান মানুষ আজও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।”

    বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর গণতন্ত্র ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। এদের নতজানু নীতির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াকু নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে দমন করা হয়, গুম-খুনের রাজত্ব কায়েম করা হয়, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিস্তার ঘটে।”

    তিনি মনে করেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টদের পতনের পর গণতন্ত্রের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে। “এখন প্রয়োজন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা,” বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

    অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় দিন। সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে পূরণ হয়েছিল রাজনৈতিক শূন্যতা। সেনাবাহিনী ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মহানায়কে পরিণত হন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই বিপ্লবের সফলতার সিঁড়ি বেয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে, সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।”

  • নির্বাচনে জোট নয়, সমঝোতার পথে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

    নির্বাচনে জোট নয়, সমঝোতার পথে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

    অনলাইন ডেস্ক:     বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াত এবার জোট নয়, বরং নির্বাচনী সমঝোতার পথে হাঁটবে। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো জোট করার সিদ্ধান্ত নিইনি, জোট করবও না। তবে নির্বাচনী সমঝোতা করতে পারি। শুধু ইসলামী দল নয়, দেশপ্রেমিক ও প্রতিশ্রুতিশীল যারা আছেন, তারা সবাই এতে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা চাই, সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে।”

    তিনি আরও বলেন, “গণভোট আগে না হলে জাতীয় নির্বাচন কিসের ভিত্তিতে হবে? আমরা চাই গণভোট আগে হোক এবং জুলাই সনদ আইনিভিত্তি পাক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন আদায় করতে হবে, নইলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।”

    দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, “আওয়ামী লীগ নিজেরাই তো নির্বাচন চায়নি। তাদের ওপর জোর করে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা ঠিক হবে না।”

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো একাধিক দল ও আদর্শের অংশগ্রহণ। আমাদের প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পি আর) পদ্ধতির দাবি জনগণের জন্যই। বিশ্বের বহু দেশে এই পদ্ধতি ফ্যাসিবাদ রোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। জনগণ যদি এটাকে সমর্থন করে, তাহলে দেশে আর স্বৈরাচার ফিরে আসবে না।”

    সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিদেশে প্রবাসীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের বুকভরা ভালোবাসা ও প্রত্যাশা এই জাতির প্রতি। তারা সম্মান ও অংশগ্রহণ চায়, বিনিময়ে কিছু নয়।”

    তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতের আমির নির্বাচিত হওয়ার পর এদিনই প্রথম নিজ জন্মভূমি সিলেটে ফিরে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন ডা. শফিকুর রহমান।

  • বিএনপির ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনে অগ্রাধিকার পাবেন যারা

    বিএনপির ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনে অগ্রাধিকার পাবেন যারা

    জীবন নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩টি আসন আপাতত ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব আসনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন জোটভুক্ত শরিক দলের পরীক্ষিত নেতারা। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকা দলগুলো—বিশেষত ৫ আগস্টের পরও যেসব দল অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে—সেসব দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার জন্যই বেশ কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে।

    জোটগতভাবে আসন ভাগাভাগির সময় এসব আসনে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় বিএনপি, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জোটের অংশ হিসেবে আসন বণ্টনের পর অবশিষ্ট আসনগুলোতে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিছু আসন এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে কারণ সেখানে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন—যার মধ্যে কাকে দিলে জয় নিশ্চিত হবে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আবার কিছু আসনে এখনই প্রার্থী ঘোষণা দিলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে যুগান্তরকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ওই সময় তিনি জোটের প্রার্থীদের জন্য কিছু আসন ফাঁকা রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রায় ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দেওয়া হচ্ছে। যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তারা যেসব আসনে প্রার্থী দিতে চান, সেখানে আমরা প্রার্থী দেইনি। তারা কোন কোন আসনে প্রার্থী দেবেন তা জানালে পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।”

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, যিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন। ওই আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

    বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—সেখানে বিএনপিও কোনো প্রার্থী দেয়নি। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে, আর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন—উভয় আসনেই বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনিও জানিয়েছেন, “আমাকে অনেক আগেই বিএনপির উচ্চমহল থেকে মৌখিকভাবে কাজের সংকেত দেওয়া হয়েছে। আমি নির্বাচনি কার্যক্রম চালাচ্ছি এবং আশা করছি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সমর্থন আমার ওপর থাকবে।” তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

    লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে লড়বেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব, এবং এ আসনেও বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, আর ঢাকা-১৩ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন ববি হাজ্জাজ—এই দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

    ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে আমরা বিএনপির পাশে থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। এখনো আমরা বিএনপির সঙ্গে আছি। জোটসঙ্গী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন পাব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।” তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন এবং এবার ঝালকাঠি-১ আসনে দলের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

    এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, যিনি ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই জনসংযোগ শুরু করেছেন। এ আসনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

    এছাড়া জোটের আরও অনেক নেতার জন্যও কিছু আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে, যেখানে তাঁদের সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন ইশরাক হোসেন

    নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন ইশরাক হোসেন

    অনলাইন ডেস্ক:     ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    প্রার্থী ঘোষণার আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসেন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে এ বৈঠক হয়।

    প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফশিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

  • সংস্কারের বিপক্ষের সঙ্গে জোট নয়: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কারের বিপক্ষের সঙ্গে জোট নয়: নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারের বিপক্ষের কোনো দলের সঙ্গে জোটে যাওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জুলাই সনদের আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে হলে সেটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেই জারি করতে হবে।

    রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম এ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন ও সংস্কারকে আলাদা কার্যক্রম হিসেবে দেখলে ঐক্যের জায়গা সংকুচিত হয়। সংস্কারের পক্ষে কেউ না থাকলে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য বা জোটে যাওয়া সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল দাবি হচ্ছে সংস্কার, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত বাংলাদেশ এবং বৈদেশিক আধিপত্য থেকে স্বাধীনতা। যে কেউ এই অবস্থানে কাছাকাছি এলে আমরা আলোচনা করতে পারি, দরজা খোলা আছে, কিন্তু এখনও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।”

    এনসিপি আহ্বায়ক জানান, দলটি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি নিজেও ঢাকা থেকে প্রার্থী হবেন বলে জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এই মাসেই প্রার্থীর তালিকা দিতে পারব।”

    ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান প্রশ্নে যতদিন ভারত তার অবস্থান পরিবর্তন না করবে, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক শীতলই থাকবে। ভারতের উচিত জুলাইয়ের স্বীকৃতি দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্কে যাওয়া।”

    বিএনপি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিলে শুধু নির্বাচনে নয়, রাজনীতি থেকেও হারিয়ে যেতে হবে।” তিনি মনে করেন, একদল সংস্কারকে ভেস্তে দিচ্ছে, আরেক দল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এনসিপি সময়মতো নির্বাচন চায় এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে।

    গণভোটের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোট নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনও হতে পারে, এটি মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ কবে এবং কার মাধ্যমে জারি হবে।” তার মতে, যদি এই সনদ প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে জারি হয়, তবে তা “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কফিনে শেষ পেরেক মারা হবে।”

    সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশে পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাস্তবায়ন আদেশের প্রথম খসড়ায় ২৭০ দিন পর সংস্কার প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হওয়ার বিধান ছিল, আমরা সেটি সমর্থন করি। সেটি পরিবর্তন করা হলে এনসিপি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করতে পারে।”

    নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নতুন দল হিসেবে সহযোগিতার বদলে আমাদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শাপলা কলির প্রতীক আমরা আগেই চেয়েছিলাম, কমিশন চাইলে এক মাস আগেই তা দিতে পারত।”