Category: রাজনীতি

  • সংবাদকর্মীদের স্বাধীন থাকতে হবে, রাজনৈতিক দলের পকেটে ঢুকে গেলে সমস্যা: মির্জা ফখরুল

    সংবাদকর্মীদের স্বাধীন থাকতে হবে, রাজনৈতিক দলের পকেটে ঢুকে গেলে সমস্যা: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক:     রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গত পনের বছর অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছায় ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে স্বাধীন গণমাধ্যমের পথ কঠিন হয়ে যায়। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার বিজেসি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যেই দলীয় বিভাজন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের পকেটে নিতে চায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরাই দলীয় ঘেরাটোপে ঢুকে পড়েন, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক।

    এ সময় ফখরুল মনে করিয়ে দেন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপি আগেই অঙ্গীকার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ আছে। কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত হলেও তার প্রতিবেদন নিয়ে কোনো আলোচনার উদ্যোগ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় দেশের প্রায় সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলত। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মুক্ত সংবাদপত্রের সুযোগ তৈরি করেন। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে যখনই কাজ করেছে, তখনই গণমাধ্যমকে আধুনিক ও সবল করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের টেলিভিশন শিল্পের বিকাশও তারই ধারাবাহিক অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার জায়গা ধরে রাখতে হলে নিজেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে। তার ভাষায়, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো জনগণের তথ্য জানা ও জানানো। তাই তাদের নিজেদের অঙ্গীকার থাকতে হবে, দলীয় বিভাজনের বাইরে থেকে কাজ করতে হবে।

    বিজেসির এই অনুষ্ঠানে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক কমিটি এনসিপি, এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য আলাদা আইন, স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন, পে চ্যানেল নীতিমালা, কর্মীদের প্রতিনিধিত্বসহ আট দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয় সভায়।

    বিজেসি জানায়, কমিশনের তৈরি প্রতিবেদন ও সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তাই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে এসব প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেবে বলে তারা আশা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

  • নির্বাচনে সমান সুযোগ নেই, উদ্বেগ প্রকাশ নাহিদের

    নির্বাচনে সমান সুযোগ নেই, উদ্বেগ প্রকাশ নাহিদের

    অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার (২৩ নভেম্বর) বলেছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা উচিত, তা তারা দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে প্রশাসন দখলের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দেখছি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে প্রশাসনকে কীভাবে দখল করতে হবে। প্রশাসনকে হাতে রাখতে হবে কীভাবে, সেই পরিকল্পনাই তারা করছে। নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান থাকা প্রয়োজন, সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

    তিনি আরও বলেন, “আগের নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এবার নির্বাচনের পরিস্থিতি এর চেয়ে ভিন্ন করার জন্য সরকারের শক্ত অবস্থান থাকা উচিত ছিল। তবে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।” নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, এনসিপি ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেবে এবং কোনো ধরনের ক্ষমতা বা আসনের বিনিময়ে কোনো সমঝোতা করবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের জামায়াত নেতার এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছে, নির্বাচনে প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে আনা দরকার। এটি দেখেই আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।” নাহিদ ইসলাম মনে করান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো নানা দর-কষাকষির মধ্যে রয়েছে। “যারা একসময় বন্ধু ছিল, তারা এখন চক্রান্ত করছে। নির্বাচনকে ভাগাভাগি বা সমঝোতার রূপ দিতে চায়। এমন হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এর সাথে কখনোই সায় দেব না,” তিনি বলেন।

    এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দলটি নতুন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে এগোতে চায়। “পাঁচ বছর আগে যাদের মনোনয়ন দিত, এবারও তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম, স্বপ্নবাজ ও যোগ্য মানুষরা সংসদে আসুক।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হলে জনগণ সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রমুখ।

  • শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    অনলাইন ডেস্ক:     বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম অতন্দ্র প্রহরী’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ দেশের মানুষ দেখুক এবং ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা যেন মনে রাখে যে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই। যারা গণতন্ত্র হত্যা করবে, তাদের পরিণতি এ রকমই হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ কখনোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক দল ছিল না। বরং এটি গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি মাফিয়া–ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসেবে কার্যকর ছিল, যা বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

    তিনি বলেন, দেশের জনগণের গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা জন্মেছে, তা হলো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। “মানুষ বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র চাইছে। যদি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হই, বা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ব্যর্থ হন, তাহলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটতে পারে। তাই আমাদের দায়িত্ব গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা,” যোগ করেন তিনি।

    সমাবেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।” তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী রাজনীতিকে ‘মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রহীনতার রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী বাকশালীদের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হলেও তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তাই এ দেশের রাজনীতি স্বাধীনতার চেতনা এবং গণতান্ত্রিক আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা আবশ্যক।”

    তিনি আগামী নির্বাচনের গুরুত্বও উল্লেখ করে বলেন, “গত ১৭ তারিখ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পতিত স্বৈরাচারী–ফ্যাসিস্ট শাসকের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

    সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সহস্রাধিক সদস্য।

  • ভারত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে, প্রত্যর্পণে সাড়া দেবে না: জয়

    ভারত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে, প্রত্যর্পণে সাড়া দেবে না: জয়

    অনলাইন ডেস্ক:      ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত মেনে নেবে না বলে মনে করেন তার ছেলে, আওয়ামী লীগ নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে বুধবার ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত সবসময়ই ভালো বন্ধু, আর এই সংকটের সময় ভারত মূলত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে। তিনি যদি বাংলাদেশ না ছাড়তেন, তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। তাই আমার মায়ের জীবন রক্ষার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পর দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেসময় হত্যার আদেশ, উসকানি এবং সহিংসতা বাস্তবায়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার শুরু হয়। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের সময় প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ওই রায়ে মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণে ভারতকে পুনরায় চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন অবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা।”

    ভারত সরকার জানান, “বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে রায়ের বিষয় জেনে আমরা নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আমরা সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকব।”

    সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, “আমি মনে করি নয়াদিল্লি খুব ভালোভাবে জানে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ কীভাবে সামলাতে হয়। আমি বিশ্বাস করি না ভারত সরকার এ ধরনের বেআইনি অনুরোধে সাড়া দেবে। এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই, কারণ আমি ভারতের গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখি।”

    জয় তার মায়ের ২০২৪ সালের বাংলাদেশ ত্যাগের প্রেক্ষাপটও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমার মায়ের জীবন রক্ষা করতে ভারত সাহায্য করেছে। আমাদের সরকার বিক্ষোভ সামাল দিতে চেষ্টা করেছিল, তবে শুরুতে কিছু ভুল ব্যবস্থাপনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল। অনির্বাচিত সরকার দেড় বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে সবকিছু অগণতান্ত্রিকভাবে হয়েছে।”

    সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, বিক্ষোভ চলাকালে জামাত-নামধারী উগ্র সংগঠনগুলো, এমনকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, সহিংসতা উৎসাহিত করেছিল। তিনি বলেন, “অবশ্যই অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল, এবং এর উৎস উপমহাদেশ ছাড়া সম্ভব নয়, যা সম্ভবত পাকিস্তানের আইএসআই।”

    উল্লেখ্য, জয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া রায় অস্বীকার করেন এবং বলেন, তার মাকে আদালতে “আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি।”

  • তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় আস্থা দেখছেন আমীর খসরু

    তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় আস্থা দেখছেন আমীর খসরু

    অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই রায় কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বাস্তব সাফল্যের প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব, যা গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

    বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফের এসেছে, তাই এর কাঠামো এবং বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়বে। তার বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে বহু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং এবারও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হবে।

    এই রায়কে বিএনপির আন্দোলনের ফসল হিসেবে বর্ণনা করে আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় দেশের মানুষকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন করে নিজেদের দর্শন ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করছে, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তিনি বারবার তুলে ধরেন। তার ভাষায়, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পিছিয়েছে, তা এখন জনসমক্ষে পরিষ্কার। জনগণের রায় নিয়ে প্রশাসন পরিচালনার মধ্যে যে স্বচ্ছতা থাকে, তা জোর করে ক্ষমতায় থাকা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

    এদিন সকালেই প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার যে রায় ছিল, সেটির পুনর্বিবেচনা থেকে উঠে আসা আপিল শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেন। বিচারপতিরা স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর চতুর্দশ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

    রায় ঘোষণার পর বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল স্বস্তির। তাঁদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে এই সিদ্ধান্ত একটি ভিত্তি স্থাপন করবে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করার যে দাবিতে আন্দোলন চলছিল, এই রায় সেই দাবির ন্যায়সঙ্গত স্বীকৃতি।

    সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। এর পর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মহলের উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের রায় আবারও নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের বৈধতা ফিরিয়ে দিল। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।

    আলোচনা এখন ঘুরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো কী হবে, কোন মডেল অনুসরণ করা হবে, সে প্রশ্নে। তবে রায়ের পর বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে যে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে, তা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি: জামায়াত আমির

    জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি: জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক:      বাংলাদেশ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে প্রীতি সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কারো ওপর ব্যক্তিগত কোনো প্রতিশোধ নেয়নি।” তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের যতটুকু সহযোগিতা করেছিল, পরবর্তী সময়ে লুটতরাজ করে বিনিময় নিয়ে গেছে।”

    ডা. শফিকুর রহমান বললেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা গত দেড় বছরে কারও ওপর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি। আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন সংগঠন হলেও জামায়াত বিবেক দিয়ে দেশ পাহারা দিয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায় এবং দরদ রয়েছে। তাই কারও প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়নি জামায়াত।”

    তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে। তার রায়ে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাময়িক স্বস্তি পাবে। বিচারবিভাগের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা রায় কার্যকর করুন- দেশবাসী পাশে থাকবে।”

    ‘ফ্যাসিবাদী ১৭ বছরে বিপরীত মতের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার দেশকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। অভ্যুত্থান দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী নিপীড়ন দেখে সাধারণ জনগণ ঘরে বসে থাকতে পারেনি। রাস্তায় গুলি করে মন ভরেনি আকাশ থেকেও গুলি করে মানুষ মেরেছে ফ্যাসিস্ট সরকার’-উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসলে আইনের হাতে সোপর্দ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। নৈতিকতার ভিত্তির ওপর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হবে। আমরা চাই না আমাদের একটি সন্তানও বিপথগামী হোক। আমাদের মূল কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে এগিয়ে নেয়া।’

    ‘দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা না পর্যন্ত আমরা থামব না। দেশের সব সম্পদশালীর সম্পদ পাহারা দেবে জামায়াত। সব ধরনের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত’-যোগ করেন জামায়াত আমির।