Category: রাজনীতি

  • বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম

    বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাংলামটর কার্যালয়ে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই তালিকা ঘোষণা করেন। তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-১১ আসন থেকে লড়বেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

    ঢাকা-১১ আসনটি বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। গত ৩ নভেম্বর বিএনপি এই আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল। এনসিপি সূত্র জানায়, নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

    এ ছাড়া দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে লড়বেন মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রংপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১ আসনে মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনে এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ আসনে তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-১২ আসনে নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৩ আসনে আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ আসনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৭ আসনে ডা. তাজনূভা জাবীন, ঢাকা-১৯ আসনে ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ।

    এ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ও প্রস্তাবনা পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি এবার ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করছে।

  • ঐক্যই এখন সবচেয়ে জরুরি: মির্জা ফখরুল

    ঐক্যই এখন সবচেয়ে জরুরি: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে। মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, রোববার নয় বরং মঙ্গলবার, দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও তার প্রয়াত স্ত্রীর গ্রন্থসমূহের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই দেশের মানুষের ত্যাগ ও অংশগ্রহণে যে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। তার ভাষায়, “গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে সুসংহত করতে হবে। মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু শহিদদের আত্মাহুতি যেন কখনো বৃথা না যায়।”

    তিনি অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন অর্থনীতি এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই, সেখানে মাহবুব উল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। বিশেষ করে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা প্রণয়নে এই শিক্ষকের মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

    আলোচনা সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর গবেষণা, চিন্তাশক্তি এবং সমাজ পরিবর্তনে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, সংকটময় সময়ে এই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক নির্দেশনা দেশ গঠনের পথে নতুন অনুপ্রেরণা যোগায়।

    মির্জা ফখরুল বক্তব্যের শেষ দিকে সবাইকে সতর্ক করে বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু দেশ গঠনের যে সুযোগ সামনে এসেছে তা হারানো যাবে না।” তার আহ্বান, গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রেখে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া।

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না: ডা. শফিকুর রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকাস্থ দূতাবাসে ৮ দেশের দূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ধর্মের ব্যবহার করে না, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে না। যারা নির্বাচনের সময় এলে তসবিহ নিয়ে ঘুরে তারাই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। নির্বাচন পেছালে দেশ গভীর সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন পেছানো জামায়াতের কাম্য না। কোনো কারণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন পেছালে দেশ গভীর সংকটে পড়বে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়বো। আমরা কোনও দলকেই বাদ দেবো না। দেশের স্বার্থে দারুণভাবে আমোরা অনুভব করি, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অন্তত আগামী ৫ বছর দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনিতী ফিরিয়ে আনা, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

    দুইটি জিনিস অনুরোধ করবো প্রথমত, নিজে দুর্নীতি করবেন না এমনকি বিষয়টাকে প্রশ্রয় দিবেন না। দ্বিতীয়ত, সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা, এ বিষয়ে রাজনৈতিকভাব হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যারা অন্তত এই দুইটি বিষয়ে একমত হবেন আমরা তাদের নিয়ে সরকার গঠন করতে আগ্রহী।

    খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় রাজনীতিতে কোনও সংকট দেখছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুস্থতা অসুস্থতা আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দেশবাসী তার সুস্থতায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া করছে। সবাইকে বিদায় নিতে হবে। এর সঙ্গে সমাজের চাকা চলা বা অচল হওয়া উচিত নয়।

    ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই দিনে দুই ভোট নিয়ে শঙ্কা আছে। এ সময় আলাদা আলাদা দিনে নির্বাচন করার কথাও জানান তিনি।

    তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন খুবই প্রয়োজন। এর সামান্য নড়চড় হলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে। এ সময় দেশের স্বার্থে আগামীর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।

  • রাষ্ট্রকে ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রকে ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ ধর্ম মানে এবং ধর্ম পালন করে, কিন্তু রাষ্ট্রকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার ধারণায় বিএনপি কখনও বিশ্বাস করে না। রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    এর আগে খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও সহাবস্থানের রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিও ছিল সবার বাংলাদেশ। তাঁর দাবি, একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে, যা দেশের জন্য অশুভ সংকেত। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী হলেও ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা বা সমাজ বিভাজনের পথ মেনে নেয় না।

    ঘটনার পটভূমিতে তিনি আরও বলেন, ১৫ বছর পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যদিও সেই পথে বাধা বাড়ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং সাইবার আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে নেতিবাচক দল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, এই প্রবণতা ভাঙতে হবে এবং তরুণদের সজাগ থাকতে হবে।

    অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি জানান, তারেক রহমান দেড় বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। ফখরুলের মতে, এই পরিকল্পনা প্রমাণ করছে বিএনপি এখনও একটি উন্নত রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, অতীতে দেশের বড় অর্জনগুলো বিএনপির হাত ধরেই এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে।

    বিএনপির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষায় সুযোগ তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, ছাত্রদলের সক্রিয়তার অভাবেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি ভালো করতে পারেনি এবং এই জায়গায় তাদের আরও সংগঠিত হতে হবে।

    কর্মসূচির বক্তৃতায় তিনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চিকিৎসকরা চিকিৎসায় যুক্ত আছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদলই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রথম পাঠশালা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ছাত্রদল আবারও তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

  • ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসন অবসানের দিন: তারেক রহমান

    ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসন অবসানের দিন: তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বললেন, “অবিস্মরণীয় একটি দিন ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালের এ দিনে রক্তাক্ত পিচ্ছিল পথে স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছিল।”

    ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, “এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পেশাগত বিশ্বস্ততা ও শপথ ভেঙে অস্ত্রের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র হত্যা করে জারি করেছিল অসাংবিধানিক শাসন। যে সাংবিধানিক রাজনীতি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা, যার সূচনা করেছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একনায়ক হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ গণতান্ত্রিক সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন।”

    তিনি আরও লিখেন, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ৯ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে আপসহীন নেত্রী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। গড়ে তুলেন এক দুর্বার গণ-আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ’৯০-এর ৬ ডিসেম্বর এই দিনে ছাত্র-জনতার মিলিত শক্তিতে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে মুক্ত হয়েছিল গণতন্ত্র।”

    তিনি বলেন, “সেই অর্জিত গণতন্ত্রের চেতনায় আবারও ছাত্রজনতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক হিংস্র ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে। ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ছিল গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অবসানের পর আবারও গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ পুনরুজ্জীবন এবং রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের নিরলস সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তারেক রহমান লেখেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনে ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর জেল-জুলুমসহ নানামাত্রিক নিপীড়ন নামিয়ে আনা হয়েছিল। অবিরাম নির্যাতনের কষাঘাতে অসুস্থ দেশনেত্রীর জীবন এখন চরম সংকটে। আল্লাহর কাছে তার আশু-সুস্থতা কামনা করছি। এ ছাড়াও দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছিল। সারাদেশকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল।”

    স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি লেখেন, আজকের এ দিনে আমি ’৮২ থেকে ’৯০ পর্যন্ত রক্তস্নাত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ স্মরণীয় দিনে আমি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্রের হেফাজতকারী দেশবাসীকে।

    গণতন্ত্র বিরোধী পরাজিত শক্তির যাতে আর পুণরুত্থান না ঘটে সেজন্য গণতান্ত্রিক শক্তিক সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবানও জানান তারেক রহমান।

    প্রসঙ্গত, আজ ৬ ডিসেম্বর, ‘স্বৈরাচার পতন দিবস।’ ১৯৯০ সালের এ দিনে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়। দীর্ঘ ৯ বছর সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের সাথে দেশের জনগণ সম্পৃক্ত হলে তা গণ-আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থানে রুপ নেয়। সেই গণ অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

  • শিশুদের দোয়া বেগম জিয়ার জন্য কবুল করবেন আল্লাহ: রিজভী

    শিশুদের দোয়া বেগম জিয়ার জন্য কবুল করবেন আল্লাহ: রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বললেন, “মাদরাসার মাসুম শিশুদের দোয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহ কবুল করবেন।” এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশ্ববাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    রাজধানীর আদাবরের জামিয়া আরাবিয়া আহসানুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দলের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই মাদরাসার মাসুম বাচ্চাদের সামনে আর কী-ই বা বক্তব্য রাখবো? আজ তারা দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবে এমন একজন মানুষের জন্য, যিনি রাজনীতিতে আসার দিন থেকেই দেশের মানুষের কল্যাণ, তাদের সুখ-দুঃখের সাথেই নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বড় ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার পথেই থেকেছেন।

    ‘গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য বেগম জিয়াকে দীর্ঘসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তার খাবারে বিষপ্রয়োগের বিষয়েও মানুষের মনে সন্দেহ রয়েছে। একটি সুস্থ মানুষ হেঁটে হেঁটে কারাগারে গিয়ে আড়াই বছর পর হুইলচেয়ারে করে বেরিয়ে আসেন। এ দৃশ্য দেশবাসী আজও ভুলতে পারেনি’-উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি আরও যোগ করে বলেন, “তার চোখের অপারেশনসহ নানা শারীরিক জটিলতায়ও তাকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবুও তাকে মাটি ও মানুষের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। আজ সারা দেশ কাঁদছে, মাদরাসার এতিম শিশুরাও তার জন্য দোয়া করছে। তিনি শুধু একটি দলের নন আজ নানা রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, আলেম-ওলামা এবং বিদেশি রাষ্ট্রনায়করাও তার সুস্থতা কামনা করছেন।”

    ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের এই প্রিয় নেত্রীকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন এবং দীর্ঘ হায়াত দান করেন। তিনি প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি’-যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।