Category: রাজনীতি

  • নাশকতা মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির ৪৫ নেতাকে অব্যাহতি

    নাশকতা মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির ৪৫ নেতাকে অব্যাহতি

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ ৪৫ জনকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।

    মির্জা আব্বাসের আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক ও মহিউদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আইনজীবীরা বলেন, আজ পৃথক দুই থানার মামলায় চার্জগঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। আমরা তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

    অব্যাহতি প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা – ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ।

    পল্টন থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১ হাজার থেকে ১২শ নেতাকর্মী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শান্তিনগরের দিকে ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অগ্রসর হয়। বিকাল ৫ টার সময় শান্তিনগর ক্রসিংয়ে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর করতে থাকে। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে তারা আরো উগ্র হয়ে উঠে। পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়। পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে  পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্য পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ের পল্টন থানার উপপরিদর্শক মেহেদী মাকসুদ বাদী মামলাটি দায়ের করেন।

    একই বছরের ২৬ মার্চ পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে অব্যাহতি দেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শাহজাহানপুর থানাধীন মালিবাগ এলাকায় বিএনপির ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মিছিল করে। বিকাল সাড়ে চারটার সময় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে। পুলিশ তাদের নিষেধ করলে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ওই দিনেই শাহজাহানপুর থানা উপপরিদর্শক মো. আশরাফ আলী মামলা মামলা করেন।

    ওই বছরের ২০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন মুন্সি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অব্যাহতি পেয়েছেন।

  • স্বাধীনতা বিরোধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতা বিরোধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তাদের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার শত্রুরা, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে একাত্তর সালে অবস্থান নিয়েছিল; আজকে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। দেশের মুক্তিকামী মানুষ, স্বাধীনতাকামী মানুষ ও গণতন্ত্রকামী মানুষ- তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।

    মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল জানান, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে এসে গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও বেগবান করবেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধে আমরা ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্য এদিনটি আমাদের কাছে বিএনপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ মঙ্গলবার বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে পুরো জাতি। এদিন সকাল থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে নেতাকর্মীদের।

    সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলের প্রতিষ্ঠাতার আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি নেতারা।

  • পরিকল্পিতভাবে টার্গেট কিলিং চালানো হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    পরিকল্পিতভাবে টার্গেট কিলিং চালানো হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক:    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বললেন, “নির্বাচন বানচাল করা এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করতেই টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের ভেতর ও বাইরের সব পক্ষকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা হাদিকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

    হাদির ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক দোষারোপের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে একে অপরকে দায়ী না করে সবাইকে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তিরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

    ‘যারা নিজেদের ‘সুশীল বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন, জনগণের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবীদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া’-যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

  • সামনে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটতে পারে—শঙ্কা মির্জা ফখরুলের

    সামনে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটতে পারে—শঙ্কা মির্জা ফখরুলের

    অনলাইন ডেস্ক:    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, “নতুন করে শত্রুরা হত্যাকাণ্ডের মেতে উঠেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সামনে নির্বাচনকে ঘিরে আরো হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”তিনি রোববার মিরপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে এমন শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আবারও স্বপ্ন দেখছে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখবো, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রক্ষা করব।”তিনি আরও বলেন, “সকল চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের মানুষ, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করবে। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

    বিএনপির এ নেতা উল্লেখ করেন, “১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের দোসরদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অনেককেই তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। জাতি তার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায়। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মেধাহীন করে দেয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড। একইভাবে দুর্ভাগ্যক্রমে ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে।”

    এসময় সব ষড়যন্ত ও চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে দেশকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

    এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সর্বস্তরের মানুষের জন্য স্থান দুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

  • আ. লীগকে পুনর্বাসিত করার পরিকল্পিত আয়োজন এটা: নাহিদ ইসলাম

    আ. লীগকে পুনর্বাসিত করার পরিকল্পিত আয়োজন এটা: নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক:   (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে বললেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসার একটা স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা গোপন মিটিং করার সুযোগ পাচ্ছে। কোর্ট পাড়ায় জয় বাংলা স্লোগান হচ্ছে। টক শোতে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা আসছেন। ভোটের মাঠে দেখছি, জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই যে একটা সম্মিলন আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটা একটা পরিকল্পিত আয়োজন আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসিত করার।”

    বৈঠক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গতকালের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটেই মূলত আজকের আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা তিনটি দলের নেতাদের ডেকেছিলেন। আমরা একত্রে আলোচনা করেছি। এ ধরনের পরিবেশকে আমরা কীভাবে একত্রে মোকাবিলা করব এবং সেটার জন্য যেই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, সেটা যাতে অটুট থাকে। আমরা জানি, নির্বাচনে আমরা প্রতিযোগিতা করব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, একে অন্যের বিরুদ্ধে হয়তো বলব। কিন্তু সেটা যাতে কখনোই একটা সীমাকে অতিক্রম না করে এবং আওয়ামী লীগকে যাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা করে না দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে আমরা সকলেই একমত পোষণ করেছি।”

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলি করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, “আমি গতকাল বলেছি, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এটা আওয়ামী লীগ যে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে নির্বাচনকে ঘিরে, সেটার একটা শুরু বলা যেতে পারে। আওয়ামী লীগকে শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে প্রশাসনিকভাবেও। কিন্তু একইভাবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আওয়ামী লীগকে যারা রাজনীতির মাঠে আনার চেষ্টা করছে, এটার বিরুদ্ধে আমাদের সকল দলকে তৎপর হতে হবে।”

    এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “কীভাবে কোর্ট পাড়ায় জামিন হচ্ছে? এই আইনজীবীরা কোনো না কোনো দলের সঙ্গে জড়িত। মিডিয়া হাউসগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকে, আমরা জানি। ফলে সব দলকেই এই ভূমিকা নিতে হবে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সেটা বলেছি। আমরা সর্বাত্মকভাবে সেই জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করব। আমরা সহযোগিতা করব।”

    ‘প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর সেই আস্থাটা থাকতে হবে, যাতে তারা সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারে এবং অবশ্যই ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টায় যারা জড়িত, আমরা তাদের আজকের মধ্যে গ্রেপ্তার চেয়েছি। শুধু তারাই নয়, বরং এই পরিকল্পনার সঙ্গে যারা জড়িত, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও যাতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়’-উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগ সব পরিকল্পনা করছে’ অভিযোগ তুলে নাহিদ আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া আওয়ামী লীগ এ ধরনের পরিকল্পনা করতে পারে না। এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা তারা করেছে। ফলে অবশ্যই ভারত সরকারকে, আমাদের এখানে যারা ভারতীয় দূতাবাসে আছে, তাদের অ্যাকাউন্টেবল (জবাবদিহি) করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ডেকে বলতে হবে, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে ভারত সরকার আশ্রয় দিয়ে এরই মধ্যে একটা নৈতিক অপরাধ করেছে। এখন তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সেই আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে।’

    ‘আমরা দেখেছি, ৫ আগস্টের আগে ভারত আওয়ামী লীগকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময় হস্তক্ষেপ করেছে। ভারত সরকারকে আমরা বলছি, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে এ ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে’-যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

  • তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন: মির্জা ফখরুল

    তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক: দেশ গঠনের নতুন পরিকল্পনা সামনে রেখে রাজধানীর ফার্মগেটে আয়োজিত বিএনপির বৃহৎ সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দেবেন, সেদিন যেন পুরো দেশ কেঁপে ওঠে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

    বিজয়ের মাস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক নেতা অংশ নেন। সমাবেশের শুরু থেকেই উত্তেজনা ও প্রত্যাশায় ভরপুর পরিবেশ তৈরি হয়, বিশেষত যে ঘোষণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারেক রহমান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চলছে, আরও চলবে। তবু দলকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। তার ভাষায়, বিএনপি কখনও পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবেও না। কারণ বিএনপি জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল। তিনি বলেন, দলকে সামনে এগিয়ে নিতে ইস্পাতের মতো ঐক্যই বিএনপিকে শক্তি দেবে।

    অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবারই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ এসেছে, আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন হতে হবে সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ। আর সেই নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। মানুষের মন জয় করে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মনোনয়ন কে পেল বা পেল না তা এখন ভাবার সময় নয়, বরং জনগণ বিএনপির কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে, সেটি তাদের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

    মির্জা ফখরুল নানা প্রেক্ষাপটে বিএনপির অতীত ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করেন। আর খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর শিক্ষা, যুবকের কর্মসংস্থান, অর্থনীতির আধুনিকায়নসহ বহু সংস্কার করা হয়।

    এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থানসহ আটটি বিষয়ে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব পরিকল্পনা তুলে ধরতেই ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন চলছে।

    তিনি সতর্ক করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা এবং নতুনভাবে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এই অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ আরও অনেকে।