Category: রাজনীতি

  • মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আসিফ জানান, সরকারে দেড় বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান নির্বাচনি আসনের উন্নয়নে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের টার্গেট করা হচ্ছে এমন তথ্য আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে প্রাচারণা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ধানমন্ডি ১০ আসনে এরই মধ্যে পোস্টার ও নির্বাচনি বুথ বসিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান আসিফ।গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে  অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    এদিকে ঢাকা-১০ আসনে (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।

  • মবোক্রেসি দমনে কঠোর অবস্থানের আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    মবোক্রেসি দমনে কঠোর অবস্থানের আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    অনলাইন ডেস্ক: দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঘটনাকে সরকারের দুর্বলতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মবোক্রেসি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটিকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

    রাজধানীর বনানীতে গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রোববার (২১ ডিসেম্বর) এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমকে আগে থেকেই টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু কেন আগেভাগে সতর্ক হওয়া গেল না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “মবোক্রেসি কেন হচ্ছে, কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, তার মূল কারণ সরকারের দুর্বলতা। এসব ঘটনা শক্ত হাতে দমন না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই বাংলাদেশে মবোক্রেসি দেখতে চাই না।”

    গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শে বিশ্বাস থাকতে পারে, সেটি স্বাভাবিক। তবে দেশের প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকা নয়, দেশের পক্ষে থাকা জরুরি। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য বিএনপি সবার সহযোগিতা চায়। কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যই এই আহ্বান।” তিনি অতীত ভুলে যাওয়ার কথা বললেও ফ্যাসিস্ট আমলের অভিজ্ঞতা স্মরণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

    বিএনপির এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে ঢাকায় জামায়াত আমির

    জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে ঢাকায় জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার সকালে তিনি পৌঁছান।

    এরপর সেখানে থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা শহীদ হাদির মরদেহ দেখতে যান।

    এ বিষয়ে জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, সকালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দেখতে যান।

    এ সময় ডা. শফিকুর রহমান শহীদ ওসমান হাদির বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। পরে সবাইকে নিয়ে মাগফিরাত কামনা এবং দোয়া করেন জামায়াত আমির।

    তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা-১৭ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

    এদিকে, দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

  • এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর  মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ কী?

    এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ কী?

    অনলাইন ডেস্ক:   রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকায় অবস্থিত জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জান্নাত আরা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

    ‎হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ঝিগাতলা পুরান কাঁচা বাজার এর পাশে একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন দুপুরে ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে মারধরের ঘটনায় রুমীর নাম আলোচনায় আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেওয়ায় ওই নারীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনার পর থেকেই জান্নাত আরা রুমী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ধমকির শিকার হচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিভাবে লিখবো বুঝতেছি না। আমার হাত কাঁপতেছে। আপনাদের মনে থাকার কথা, গত মাসে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২-এ ফ্যাসিস্ট ও খুনি আওয়ামীলীগাররা কী সিন ক্রিয়েট করেছিলো। সেখানে একজন জেন-জি নারীকে আপনারা দেখেছিলেন এক আওয়ামীলীগারকে (যে জিয়ার কবর খুড়তে চাইছিলো) পিটায়ে পুলিশের কাছে ধরায়ে দিতে।’

    স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘সেই জেন-জি নারী গত এক মাস ধরে আওয়ামীলীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হ/ত্যা ও রেপ থ্রেটে অতিষ্ঠ হয়ে আজ রাতে আত্মহত্যা করেছে। ধানমন্ডির ভাইব্রাদারদের সাথে কথা হলো। তারা গত এক মাসে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে তার পাশে থাকার। কিন্তু সাইবার বুলিং আর ফোনকলে সারাদিন থ্রেট পাওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। তবে কারোর কল্পনাতেও ছিলো না, বুলিংয়ের মাত্রা এত তীব্র যে সে আত্মহননের পথ বেছে নেবে।’

    তারেক রেজা আরও লেখেন, ‘এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই। এটা খুন। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন আমরা শান্তিতে কাটাতে দেবো না। আমার বোনের রক্তের শপথ!’এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। রুমি পারিবারিকভাবে মানসিক চাপে ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জান্নাত আরা রুমিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

    তিনি জানান, সকালে হোস্টেলের কাজের বুয়া রুমের দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    এসআই কামরুজ্জামান আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারী জীবনে দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। প্রথম স্বামীর ঘরে তার একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনো স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন না। তার সন্তানরা নওগাঁয়ে থাকলেও তিনি ঢাকায় একাই হোস্টেলে বসবাস করতেন।ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

    নিহত জান্নাত আরা রুমি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মো.জাকির হোসেন ও মাতা নুরজাহান বেগম।নিহতের সাবেক স্বামী মো. বিপ্লব সরকার জানান, তার সঙ্গে চার–পাঁচ মাস আগে জান্নাত আরা রুমির ডিভোর্স হয়। এর আগে তার আরেকজন স্বামী ছিলেন এবং সেখানেও ডিভোর্স হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিয়ের পর আমরা নওগাঁর নজিপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম। তার প্রথম স্বামীর ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, নাম মুনতাহা। আর আমার সঙ্গে সংসারে তার সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে, নাম আয়মান। একদিন সে আমাকে বলে—তুমি ঘর থেকে বের হয়ে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই। এরপর গত তিন–চার মাস ধরে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না।’

    তিনি আরও জানান, জান্নাত আরা রুমি আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। পরে ৫ আগস্টের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ ফোন করে তাকে আত্মহত্যার খবর জানায় বলে তিনি দাবি করেন।নিহতের খালাতো ভাই সোয়েইব হোসেন জানান, জান্নাত আরা রুমি ঢাকায় ওই ছাত্রী হোস্টেলে একাই থাকতেন। তার দুইটি সন্তান রয়েছে—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা দু’জনই নওগাঁয়ের গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। পরে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়।’

  • চিকিৎসা নিতে পারছেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল

    চিকিৎসা নিতে পারছেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল

    অনলাইন ডেস্ক:     দীর্ঘদিনের নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। চিকিৎসকরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে তিনি সুস্থতার দিকে এগোবেন।

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন অধ্যাপক জাহিদ। তিনি জানান, বয়স ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বিবেচনায় নিলে বর্তমান অবস্থাকে স্থিতিশীল বলা যায়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারছেন।

    অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “ওনার শারীরিক অবস্থা আগে যে পর্যায়ে ছিল, এখনও সেই পর্যায়েই আছে। চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন, এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।” তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবেই এবার তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড প্রতিদিন তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ম্যাডাম তা গ্রহণ করতে পারছেন এবং গত কয়েকদিনের অবস্থা তিনি ধরে রাখতে পারছেন।”

    তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দ শামিলা রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও বড় বোন সেলিনা ইসলাম নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে থাকায় তাঁরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না।

    চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া রোববার (২৩ নভেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও পরদিন শ্বাসকষ্টের জটিলতা বাড়তে থাকে।

    অধ্যাপক জাহিদ আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবাই আশাবাদী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

    একই সঙ্গে তিনি বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতাল সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে চিকিৎসাধীন প্রতিটি রোগীর সেবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতন, শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরুর আদেশ

    জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতন, শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরুর আদেশ

    অনলাইন ডেস্ক:     জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন শেষে আদালত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানিতে প্রসিকিউশন দাবি করে, জেআইসি সেলে শত শত মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও মাইকেল চাকমাসহ অন্তত ২৬ জন নির্যাতনের পর মুক্তি পান। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গুমের নির্দেশনা দিতেন শেখ হাসিনা এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা।

    অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানায়। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলায় তিনজন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    মামলার বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের একাধিক সাবেক মহাপরিচালক ও পরিচালক এবং একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।

    প্রসিকিউশন জানায়, গত ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচার শুরুর আদেশ এলো। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।