Category: রাজনীতি

  • নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়, বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়, বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:     দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ইন্তেকালে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক দিনের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে স্মরণ করছেন গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায়।

    মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।” তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।

    ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মানুষের মধ্যে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

    শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।” একই সঙ্গে নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। তিনি শোকাহত পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী ও সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান এবং সবার জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

    খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা এই নেতা দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।

  • বেগম জিয়ার মৃত্যু: ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

    বেগম জিয়ার মৃত্যু: ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন।

    প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণে বললেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে আমি তার পরিবারের সদস্যরা, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সবাইকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহীরুহসম ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তার অবিচল ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

    ‘শোকাবহ এই মুহূর্তে আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সেই বিষয়ে আমি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি’-উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও যোগ করে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) তার নামাজে জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছি। নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমি সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।‘আমি জানি আপনারা সবাই এই সময়ে অনেক আবেগাপ্লুত। আমি আশা করছি শোকের এই সময়ে আপনারা ধৈর্যের পরিচয় দেবেন এবং তার জানাজাসহ সব আনুষ্ঠানিকতা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষমতা দিন।”

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

  • খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হবে জিয়াউর রহমানের পাশে

    খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হবে জিয়াউর রহমানের পাশে

    অনলাইন ডেস্ক:     বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শেরেবাংলা নগরে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

    দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

    মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে ছিলেন। এই খবরে হাসপাতালজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অনেককে আবেগ ধরে রাখতে দেখা যায়নি।

    খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অনড়।

    তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

  • ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা

    অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে তার প্রার্থিতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেন তার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ দলের জ্যেষ্ঠ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। নানা নির্যাতন ও চাপের মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটে তিনি জয়ী হবেন এবং দেশের চলমান সংকট উত্তরণে ভূমিকা রাখবেন।” তিনি তারেক রহমানের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।

    এর আগে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়। একই দিনে দলীয় নেতারা জানান, ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছিল। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে নির্বাচন করার বিষয়ে তারেক রহমানকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পর রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। এই আসনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হবে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে এবং চলবে ২০২৬ সালের রোববার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

  • কুমিল্লা-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিলেন আসিফ মাহমুদ

    কুমিল্লা-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিলেন আসিফ মাহমুদ

    অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ওই আসন থেকে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

    শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে মুরাদনগর থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির মুরাদনগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মিনহাজুল হক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাহেব আলী।

    জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে তার কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।

    এনসিপির মুরাদনগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মিনহাজুল হক বলেন, আসিফ মাহমুদ আমাদের কাছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, আসিফ মাহমুদ মুরাদনগর থেকেই নির্বাচন করবেন।

    তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে আমাদের একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি কোনো দলের সঙ্গে জোট হবে কি না, সে বিষয়টিও আমরা নজরে রাখছি। মুরাদনগরের আপামর জনসাধারণ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এই আসন থেকে নির্বাচনে দেখতে চায়। তাই উপজেলা এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

    তবে এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মুরাদনগর ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুর রহমান বলেন, আমার অফিস থেকে মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়নি। তারা সম্ভবত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করেছে।

  • জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

    জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

    অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতায় যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্টের পর এই দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এনসিপি ও জামায়াতের জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে।”

    এই বক্তব্যের পর এনসিপির অবস্থান জানতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সাড়া দেননি। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    আবদুল কাদের দাবি করেন, জামায়াতের কাছে এনসিপি শুরুতে ৫০টি আসন চেয়েছিল। দর কষাকষির পর সেই সংখ্যা ৩০ আসনে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতার শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও লেখেন, “এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

    এনসিপির সঙ্গে আবদুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সহযোদ্ধারাই দলটি গড়ে তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর মতোই সমন্বয়ক ছিলেন এনসিপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি এনসিপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

    এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে।” তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা জানতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দুই দলের সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

    আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর জিততে না পারলে বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, এমন আলোচনাও নাকি রয়েছে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করলেও আরও দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটি।

    এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য এই জোটের খবর সামনে আসতেই তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।