Category: রাজনীতি

  • প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত

    প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত

    অনলাইন ডেস্ক:   শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ বুধবার শেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আসনটিতে নির্বাচনের জন্য পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মো. নুরুজ্জামান বাদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।

  • প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি: শেখ হাসিনার দশ বছর ও টিউলিপের চার বছরের কারাদণ্ড

    প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি: শেখ হাসিনার দশ বছর ও টিউলিপের চার বছরের কারাদণ্ড

    অনলাইন ডেস্ক:   রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পৃথক দুই মামলায়  ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ বছর করে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    এই পৃথক দুই মামলায় শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের দুই বছর করে চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    শেখ হাসিনা-টিউলিপের মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান।

    ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক-এর সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

    এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    শেখ হাসিনা-টিউলিপের আরেক মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক-এর সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

    মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া।

    মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

  • দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি: রিজভী

    দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি: রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা ভয়াবহ সংকটে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের মধ্যেও অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি।”

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যখন শেখ হাসিনা তার প্রবল প্রতাপ দিয়ে বিরোধীদল নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচির ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যে, আমরা দলীয় বা এমনকি সামাজিক কোনো কাজও করতে পারতাম না। আমাদের সামাজিক সেবামূলক কাজগুলোতেও পুলিশ এসে বাধা দিত। কিন্তু তারপরও আমরা সেই কাজগুলো করে গেছি। গত ১৫-১৬ বছরের অন্যায় শাসনামলের সময় করোনা, বন্যা কিংবা প্রচণ্ড শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি কোনো বছরই আমাদের বাদ যায়নি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এখনও করছি। যদিও হাসিনার পতন হয়েছে, তবুও সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ কখনোই সরে যায়নি।”

    ড্যাবের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবও প্রতি বছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। বিএনপি ও তার আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো, বড় বড় কথা বা ফাঁকা বক্তৃতা নয়, কাউকে হেয় করা নয়, ভিডিও ভাইরাল করে চরিত্র হনন নয়। আমরা এসব কখনোই করি না। আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখবেন কারা ভিডিও ভাইরাল করছে, কারা কুৎসা রটাচ্ছে, সেটা জনগণ বোঝে। বিএনপির ক্ষেত্রে এ সব দেখবেন না। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছে।”

    বিএনপির এ নেতা বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটাই জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় বৈশিষ্ট্য। আমরা কারও প্রতি বিষোদগার করি না, কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাই না। আমরা বিশ্বাস করি- রাজনীতি মানেই সমাজসেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণ সাধন।”

    তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আপনারা দেখেছেন দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি মেনেই অংশ নিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা। ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের প্রবল আক্রমণের মুখে তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আইন করে তার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, তার বক্তব্য যেন দেশে প্রচার না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।”

  • বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে কৃষকদল নেতাকে অব্যাহতি

    বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে কৃষকদল নেতাকে অব্যাহতি

    সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষকদলের কমিটি থেকে সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক ফজলুল হক কন্ট্রাক্টরকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙকরায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সভাপতি এনামুল হক স্বপন খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই চিঠিতে সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক হিসেবে মো. আলমগীর হোসেন ও যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে শাখাওয়াত হোসেন মিন্টুকে থানা কৃষকদলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক ফজলুল হক কন্ট্রাক্টরকে অব্যাহতি প্রদানের কারণ জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সাল জানান, বিএনপি মনোনিত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ফজলুল হক দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিস্কৃত এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড দলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামিল। তাই তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষকদলের সদস্য সচিব মো. সোহেল রহমান জানান, কমিটি পাওয়ার পর ফজলুল হক কন্ট্রাক্টর প্রথমে দুএকটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলেও পরে তিনি আর কোন দলীয় অনষ্ঠানে অংশ নেননি। দলীয় কাজে নিক্রিয় হয়ে তিনি বহিস্কৃত সাবেক এক বিএনপি নেতার পক্ষ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল যাকে বহিস্কার করেছে এমন একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সবার উচিত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলা।

  • জিয়াউর রহমান : এক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতি গঠনের কারিগর

    জিয়াউর রহমান : এক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতি গঠনের কারিগর

    অনলাইন ডেস্ক:    ‘আমি মেজর জিয়াউর রহমান… বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’— ১৯৭১ সালের সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে এটিই ছিল তৎকালীন মেজর জিয়ার সেই ঐতিহাসিক আহ্বান। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়ে দেশকে রক্তগঙ্গায় পরিণত করেছিল, যখন গোটা জাতি দিশেহারা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ঠিক তখনই তাঁর এই কালজয়ী ঘোষণা আশার আলো হয়ে আসে।

    ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন ‘৭১-এর কণ্ঠস্বর’। সেই ভয়াল রাতে কামানের গর্জন আর গুলির শব্দে যখন বাঙালির ঘুম ভেঙেছিল, সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে। প্রথমে নিজের ব্যাটালিয়নের সামনে এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া তাঁর সেই ঘোষণা সব দ্বিধা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে মানুষকে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।

    মেজর জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশ কেবল স্বায়ত্তশাসন নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এটি মুক্তি সংগ্রামের বৈধতাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। ভয় ও অনিশ্চয়তার সেই চরম মুহূর্তে তাঁর কণ্ঠস্বর মানুষের মনে সাহস জোগায় এবং বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধকে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

    শৈশব থেকেই জিয়াউর রহমান ছিলেন আপসহীন ও স্বাধীনচেতা। স্কুলজীবন থেকেই পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে ব্যথিত করত। তাঁর হৃদয়ে কেবল একটিই স্বপ্ন ছিল— সুযোগ পেলেই পাকিস্তানিদের ঔদ্ধত্যের জবাব দেওয়া। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি সেই আজন্ম লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন নিয়ে বিদ্রোহ করে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীনও জিয়া মনে-প্রাণে ছিল বাংলাদেশ ও তার মানুষের প্রতি গভীর টান। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অবস্থানরত বাঙালি ক্যাডেটরা যখন বিজয় উল্লাস করছিলেন, তখন পাকিস্তানি ক্যাডেটরা বাংলাদেশের নেতাদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, ‘গাদ্দার’ বলে গালি দেয়। তরুণ জিয়া এর তীব্র প্রতিবাদ জানান, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একটি বক্সিং ম্যাচের আয়োজন করা হয়। জিয়া বাঙালির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বক্সিং গ্লাভস হাতে রিংয়ে নামেন। লতিফ নামে এক পাকিস্তানি ক্যাডেট তাঁকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার দম্ভোক্তি করলেও জিয়া মাত্র ৩০ সেকেন্ডের বিধ্বংসী লড়াইয়ে তাকে ধরাশায়ী করেন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তিনি এভাবেই বাঙালির সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় অকুতোভয় ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের বীর সেনানী ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি যেমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি স্বাধীনতার পর দেশের এক চরম অস্থিতিশীল মুহূর্তে তিনি জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান পুনরায় দেশের হাল ধরেন। দেশজুড়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য ও গ্রহণযোগ্য নেতায় পরিণত হন। তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও দূরদর্শী নেতৃত্বই পরবর্তীতে তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করে।

    একজন সফল ‘জাতি গঠনের কারিগর’ হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে এক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর ১৯ দফা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির তিন প্রধান স্তম্ভ— কৃষি, পোশাক শিল্প এবং রেমিট্যান্স— এই তিনটিরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল তাঁর শাসনামলে। তাঁর সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে দেশে এনে পোশাক শিল্পের বিপ্লব ঘটান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানির বিশাল দ্বার উন্মোচন করেন।

    শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় শাসন থেকে দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে এনে তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বহুদলীয় রাজনীতির এই পুনর্জাগরণ দেশের জন্য এক যুগান্তকারী রূপান্তর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তিনি বাংলাদেশের মানুষকে একটি সুস্পষ্ট পরিচয় দিয়েছেন— ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ নানা মত, পথ ও ধর্মের বৈচিত্র্যময় জনপদ, যেখানে মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনধারা ভিন্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন, জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা বা সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়, বরং এর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত দেশের ভৌগোলিক পরিচয়।

    জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটান এবং দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে পরিচালিত করেন। স্বপ্রণোদিত হয়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার মাধ্যমে তিনি এ দেশের কৃষিখাতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেন।

    বিএডিসি’র (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) মাধ্যমে জিয়াউর রহমান কৃষকদের মাঝে সার, উন্নত বীজ ও কীটনাশকের যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করেন। বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি তিনি নতুন নতুন শিল্প গড়ার ডাক দেন, যা বেকারদের একটি কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করতে সহায়তা করে। এভাবেই কৃষক ও শ্রমিকের ভাগ্য বদলাতে তিনি ‘উৎপাদমুখী রাজনীতি’র সূচনা করেন এবং দেশের যুব ও নারী সমাজকে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়ন করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

    জিয়াউর রহমান বৈশ্বিক কূটনীতিতেও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে কেবল ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমেরিকা ও চীন পর্যন্ত প্রসারিত করেন। তাঁর উদ্যোগেই মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ (SAARC) গঠনের নেপথ্যে তিনি প্রধান রূপকারের ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তাঁর সুদক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

    জিয়াউর রহমান কেবল একটি নাম বা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক নেতা নন, বরং জাতীয় সংকটের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন; এরপর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পুনরায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন। এ কারণেই তাঁকে ‘বারবার দেশের ত্রাণকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। জাতির প্রতি তাঁর এই গৌরবোজ্জ্বল কর্ম এবং অসামান্য অবদানই তাঁকে ‘এক অকুতোভয় দেশপ্রেমিক ও মহান জাতি গঠনের কারিগর’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

  • মান্না ও জামায়াতসহ মোট ৫৮ জন প্রার্থির বৈধতা ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    মান্না ও জামায়াতসহ মোট ৫৮ জন প্রার্থির বৈধতা ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জামায়াতে ইসলামীর দুজনসহ মোট ৫৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    এ নিয়ে গত দুদিনে ১০৯ জন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরে এলেন। দ্বিতীয় দিনে স্বতন্ত্র ১০ জন, খেলাফত মজলিসের আটজন, জাতীয় পার্টির ছয়জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ছয়জন এবং ইসলামী আন্দোলনের দুজনের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে ইসি।

    নির্বাচন কমিশন রোববার মোট ৭১টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করে। এর মধ্যে ৫৮টি মঞ্জুর, সাতটি আবেদন নামঞ্জুর ও ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। শুনানিতে বগুড়া-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন ও জামালপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান আজাদীর আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। ফলে এ নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা নেই। তবে যশোর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হলেও সিদ্ধান্ত না দিয়ে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এ আবেদনের ওপর ১৬ জানুয়ারি আবারও শুনানি হবে।

    অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবি পার্টির একজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের তিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র এক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের চারজন, জনতার দলের তিনজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একজন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় ১৮৪২ জনের। মনোনয়নপত্র বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এসব আপিল আবেদন আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি করবে ইসি।

    স্বতন্ত্র যেসব প্রার্থী নির্বাচনে ফিরেছেন তারা হলেন-বগুড়া-২ রেজাউল করিম তালু, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা, সাতক্ষীরা-৩ শহীদুল আলম, জামালপুর-৩ সাদিকুর রহমান, ঝালকাঠি-২ নুরুদ্দীন সরদার, নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরফান সরকার, যশোর-২ জহুরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ মিজানুর রহমান চৌধুরী, নড়াইল-১ এসএম সাজ্জাদ হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন।

    জাতীয় পার্টির ছয়জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন-বগুড়া-২ আসনে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, কুমিল্লা-১ ইফতেখার আহসান, যশোর-৪ জহরুল হক, যশোর-৫ এম এ হালিম, যশোর-৬ জিএম হাসান ও রাজশাহী-৬ ইকবাল হোসেন।

    খেলাফত মজলিসের বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন-গাজীপুর-২ আসনের খন্দকার রুহুল আমিন, টাঙ্গাইল-৫ হাসনাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ মোহাম্মদ আবু তাহের, গাইবান্ধা-২ এ কে এম গোলাম আযম, ফেনী-৩ মোহাম্মদ আলী, জয়পুরহাট-১ আনোয়ার হোসেন ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের হাজী মুখলেছুর রহমান। এবি পার্টির জয়পুরহাট-১ আসনের সুলতান মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও জয়পুরহাট-২ আসনের এসএ জাহিদও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৮ আসনে বাসদের আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ আসনে জেএসডির বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান ও নড়াইল-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নূরুল ইসলামের আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

    এছাড়াও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার, চাঁদপুর-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এনায়েত হোসেন, মাদারীপুর-৩ বাসদের আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে জনতার দলের গোলাম সরোয়ার ও ঢাকা-১০ আসনে একই দলের জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ, চাঁদপুর-২ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুননুর, নারায়ণগঞ্জ-৪ গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জ-৫ একই দলের নাহিদ হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আম জনতার দলের আলমগীর হোসেন, বগুড়া-৬ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশীদ, সিরাজগঞ্জ-১ নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব, ঢাকা-১৮ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, ঝালকাঠি-১ গণঅধিকার পরিষদের শাহাদৎ হোসেন, ঢাকা-১৫ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন, ঢাকা-১৮ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মফিজুল ইসলাম, ঢাকা-৭ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান, বগুড়া-৫ এলডিপির খান কুদরদ ই সাকলায়েন, গাইবান্ধা-৩ জনতার দলের মঞ্জুরুল হক ও মাগুরা-১ আসনে গণফোরাম প্রার্থী মিজানুর রহমান।

    আপিল শুনানিতে সাতজনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে। তারা হলেন-ফরিদপুর-৩ মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ তাছলিমা বেগম, রংপুর-৪ জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ এসএম আজমল হোসেন ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের শামসুল ইসলাম।

    আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ থাকা ছয়জন প্রার্থীরা-ভোলা-২ স্বতন্ত্র মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ স্বতন্ত্র আবদুল কাদের মিয়া, রাজশাহী-৫ স্বতন্ত্র রায়হান কাওসার, ময়মনসিংহ-৪ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলাম, খুলনা-১ স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার ও যশোর-২ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ।