Category: রাজনীতি

  • ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা

    ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা

    ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

    এর আগের দিন ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুল দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। গত মঙ্গলবার সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার সমাধিতে ফুল দেন তারা। তবে বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা-কর্মীরা তাদের সঙ্গে যাননি।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বেলা দুইটার দিকে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিতে যান ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা-কর্মীরা। তাদের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম।

    তার নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ও সদস্য আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মী জিয়ার সমাধিতে ফুল দেন। এসব নেতা-কর্মীর কয়েকজন ছাত্রদলের নতুন দুই কমিটিতে (কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) পদ পেলেও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। তারা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে মূল কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

    ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমনটা কখনো হয়নি যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের দিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দেওয়া হয়েছে। অথচ বর্তমান কমিটি সেই ঐতিহ্যের ধারা লঙ্ঘন করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে যাইনি।

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, প্রোগ্রামের জন্য নানা জায়গায় চেষ্টা করেছি। আমরা কোথায় অনুমতি পাইনি। যার কারণে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশানে করার জন্য আমাদের আগের দিন এ প্রোগ্রাম পালন করতে হয়।

    তিনি আরও জানান, ১ জানুয়ারি বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং সেখানে ছাত্রদল নিয়ে বিতর্ক উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় আমরা আগের দিন ফুল দিতে যাই।

  • ‘নির্বাচন করা নয়, বিএনপির উদ্দেশ্য নির্বাচনকে বিতর্কিত করা’

    ‘নির্বাচন করা নয়, বিএনপির উদ্দেশ্য নির্বাচনকে বিতর্কিত করা’

    নির্বাচন করা নয়, নির্বাচনকে বিতর্কিত করা বিএনপির উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এই বিতর্কিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের চলার পথকে বাধাগ্রস্ত করে।’

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রখ্যাত অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম।

    প্রয়াত আওয়ামী নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সমসাময়িক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছেন- আমরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি, নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় না সেটি দেখানোর জন্যে। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা। তারা যে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না, এটি তারা এখনই অনুধাবন করতে পারছেন। এবং তিনি সেটি খোলসাও করেছেন যে, তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটাকে বিতর্কিত করা।’

    ড. হাছান বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আরেকটি কথা বলেছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলে ১০ জনের ৯ জনই নাকি সরকারের বিপক্ষে বলবে। আমি নিশ্চিত, তিনি নয়া পল্টনের রাস্তায় তাদের দলের যে কর্মীরা দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের কথাই বলেছেন। কারণ তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই শুধু সে রকম উত্তর পাওয়া যেতে পারে।’

    ‘প্রকৃতপক্ষে আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন, তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বে অনন্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছে’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অপরদিকে, আজকে যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, বিএনপির নেতৃত্ব কিভাবে দল পরিচালনা করছে, শতকরা ৯৫ জন বলবে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।’

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, আমি তাদেরকে অনুরোধ জানাবো, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। বরং আপনারা জনগণের কাছে যান, আপনাদের কর্মসূচি, ঢাকায় আপনারা কি করতে চান, সেটি নিয়ে জনগণের কাছে উপস্থিত হোন। জনগণকে যদি বুঝাতে সমর্থন হয় তাহলে আপনাদের বরং জয় হবে, এই লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচন করা উচিত বলে আমি মনেকরি।’

    ‘সেই কারণে দুই একদিন আগে তাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, হঠাৎ করে সরকারের পতন ঘটবে’ স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই কথার মাধ্যমে এটিই তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলবো, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। আসুন সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্রকে সংহত ও শক্তিশালী করি। আপনাদের মতামত নিয়ে জনগণের কাছে হাজির হোন। দয়া করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করবেন না।’

    ‘উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সময়ে বহু রাজনীতিবিদ আদর্শের জন্যে জীবন দিয়েছেন’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘জাতীয় চারনেতার কাছে প্রস্তাব ছিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার, তারা আপোষ করলে বেঁচে যেতেন, কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে বেঈমানি করেন নাই। সুতরাং রাজনীতি হচ্ছে একটি ব্রত। আজকে অনেক রাজনীতিবিদরা এগুলো ভুলে গেছে। রাজনীতিতে আজকে যে অবক্ষয়, সেই অবক্ষয়ের সূচনা করে জিয়াউর রহমান।’

    ‘পঁচাত্তরের পরে জিয়াউর রহমান রাজনীতিবিদদেরকে মৌসুমে যেমন খেলোয়াড় কিনে নেওয়া হয় এবং সেটার জন্য বিট হয়, জিয়াউর রহমান ঠিক একই কায়দায় দেশের কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের কিনে নিয়েছেন, তাদেরকে নিয়েই দলটি পরিচালিত হয়’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তাদের সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বলতে চাই, বিএনপির অনেকেই জিয়াউর রহমানের হাটে বিক্রি হওয়া রাজনীতিবিদ।’

    প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একনিষ্ঠতার কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন এ আটকের পর শেষ পর্যন্ত জননেত্রীকে মুক্ত না করা পর্যন্ত তিনি যেভাবে বিশ্বস্ততার সাথে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন, সে কারণে তাকে পরে আবার তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে, বিশ্বস্ততার সাথে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সবসময় মিতভাষী, মিতভোজী ছিলেন। তার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয় প্রকৃতপক্ষে ২০০৭ সালে। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০২ সাল থেকেই আছি, তারপরও এর আগে তার সাথে এত ঘনিষ্ঠতা আমার সাথে ছিল না।’

    ‘আশরাফ ভাইয়ের কাছ থেকে এবং তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের জীবন থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি একটি ব্রত, দেশ সেবা, জনসেবার ব্রত হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়, রাজনীতির লক্ষ্য হচ্ছে আমি যে আদর্শে বিশ্বাস করি, সেই আদর্শকে লালন করে, সেই আদর্শের আলোকে আমি সমাজে পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সেটির প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে, মানুষের প্রতি অবিচল থেকে, জনসেবা ও দেশসেবা করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করা হচ্ছে রাজনীতি।’

  • কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলাটা সমর্থনযোগ্য নয়: জিএম কাদের

    কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলাটা সমর্থনযোগ্য নয়: জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, শহীদের একটা সংজ্ঞা আছে। জামায়াতের কাদের মোল্লার মৃত্যু এই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলে মনে করিনা। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে দণ্ডিত আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাটি ঠিক করেনি। কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলাটা সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।

    শনিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নর জবাবে তিনি একথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দৈনিক সংগ্রামের ডিক্লারেশন বাতিলের বিষয়টি একান্তই সরকারের ব্যাপার।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমফয়সল চিশতি, আলমগীর সিকদার লোটন ও নাজমা আখতার এমপি প্রমুখ।

  • অবশেষে বিতর্কিত ১৯ জন ছাত্রলীগ থেকে বাদ যাচ্ছেন

    অবশেষে বিতর্কিত ১৯ জন ছাত্রলীগ থেকে বাদ যাচ্ছেন

    অবশেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী ১৯ নেতানেত্রীকে। দীর্ঘদিন যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আজকালের মধ্যেই তাদেরকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

    আল নাহিয়ান খান জয় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আজকালের মধ্যেই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে।’
    কোন ১৯ জন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটু ধৈর্য ধরুন, প্রেস রিলিজের মাধ্যমেই জানতে পারবেন। তালিকা প্রকাশ করার আগে নাম প্রকাশ ঠিক হবে না।’

    গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন দুই নেতা।

    এরপর কমিটিতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, অছাত্র ও বিবাহিতদের রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পদবঞ্চিতরা আন্দোলনে নামেন। তারা কয়েকদিনের মধ্যে ৯৯ জনের নাম প্রকাশ করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৫ মে মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলন করে ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেন দুর্নীতির দায়ে পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী।

    এরপর চাঁদাবাজিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

    ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আসার পর থেকেই বিতর্কিতদের বাদ দিতে নানামুখী চাপ আসছিল জয়-লেখকের ওপর। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমেই অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করা হচ্ছে।

  • সহিংসতা হলে চুপ থাকবে না আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের

    সহিংসতা হলে চুপ থাকবে না আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালালে জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সমুচিত জবাব দেবে।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সতর্ক থাকবেন যাতে বিএনপি রায়কে কেন্দ্র করে কোন ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে। নিজে থেকে কিছু করবেন না, তবে আক্রান্ত হলে চুপ থাকবেন না।

    বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এই বর্ধিত সভার আয়োজন করে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের রায় দেবে, বুধবার তারা আগুন দিয়েছে। তারা অগ্নিসন্¿াসের হুমকি দিচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার শক্তি আওয়ামী লীগের আছে। এটা ১৯৭৫ কিংবা ২০০৪ সাল নয়।

  • ‘সরকারি হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট পাল্টানোর চেষ্টা চলছে’

    ‘সরকারি হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট পাল্টানোর চেষ্টা চলছে’

    হাসপাতাল কারাগারে গুরুতর অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট পাল্টানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে সুপ্রিমে কোর্টে যে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল সেটি এখনও পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়নি। আমরা যেটুকু জানি, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল সরকারের হস্তক্ষেপে সেই রিপোর্ট বাদ দিয়ে অন্য একটি রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে আমরা পরিষ্কারভাবে লক্ষ্য করছি, বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রাখার ব্যবস্থা করছে সরকার। এতে করে উনার যে অধিকার এবং মানবাধিকার আছে সেটা চরমভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে।

    বুধবার সকালে গুলশানের লেকশোর হোটেলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ এতে বক্তৃতা করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গত দশ বছরে শুধুমাত্র ভিন্নমত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করার কারণে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষকে মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৪টি। ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকার এবং আওয়ামী লীগের হাতে মারা গেছেন ১ হাজার ৫২৬ জন। গুম হয়েছেন আমাদের হিসাব মতে, বিএনপির ৪২৩ জন, সর্বমোট ৭৮১ জন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় গত ২০ মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলায় যারা আসামি আছেন তারা সবাই জামিন পেয়েছেন এবং জামিনে আছেন। কিন্তু দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্নভাবে সরকার তাঁর জামিনে বাধাগ্রস্ত করছে।

    মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানসহ ১৫টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গত দশ বছরে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ঘুম এবং খুন হওয়া বিরোধী দলের মোট ২৭ টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।