Category: রাজনীতি

  • ইভিএম এনেছে ইসি: ফখরুল

    ইভিএম এনেছে ইসি: ফখরুল

    সরকারি দল আওয়ামী লীগকে সাহায্য করার জন্যই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে আসা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার এলাকায় ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন,‘ইভিএমের বিষয়টা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের। এতে অন্য কারও কোনো এখতিয়ার নাই। নির্বাচন কমিশন তাদের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য ইভিএম নিয়ে আসছে। সরকারি দলকে সাহায্য করার জন্যই কমিশন ইভিএম নিয়ে আসছে। আমরা বলছি, প্রয়োজনে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হোক।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘এই সরকার একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।

    ইশরাক হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি এই নেতা বলেন,‘আজকে ঢাকাবাসীর প্রতি আমার একটা আকুল আবেদন থাকবে তরুণ উদ্দীপ্ত নেতা ইশরাক হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। আজকে ঢাকাবাসী তাদেরই ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচন করবেন, যারা ঢাকার উন্নয়নে, ঢাকাকে পরিবর্তনের জন্য কাজ করবেন।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ইশরাক হোসেন ঢাকাসহ সারা দেশে তার সাহসী বক্তব্য, তার মেধা এবং সাহসী পদক্ষেপে প্রমাণ করেছেন তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি আগামীতে ঢাকাকে নেতৃত্ব দিতে পারেন মেয়র হিসেবে।’

  • প্রচলিত পন্থায় সরকারের ঘোষিত কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়

    প্রচলিত পন্থায় সরকারের ঘোষিত কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়

    বাংলাদেশে বর্তমান কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এ গতিতে এগুলে ২০৩০ সাল নাগাদ সরকার ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। সরকার যুব উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রচলিত পন্থায় সরকারের ঘোষিত কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার গুলশানের একটি মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ‘প্রান্তিক যুব সমাজের কর্মসংস্থানে সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ শীর্ষক এই সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক এমপি। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সংলাপে আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার, ইউসেফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক তাহসিনা আহমেদ, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (জেসিআই) সভাপতি সারাহ কামাল, বিডি জবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও উন্নয়ন কর্মীরা।

    মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, জাতীয় যুব নীতিতে বর্ণিত ১৬টি ক্যাটাগরির প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে চার ধরনের মানুষের ওপর জরিপ চালানো হয়। এক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের ‘আদিবাসী’, শহরের বস্তিবাসী, মাদ্রাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সিলেটে অবস্থানরত শহুরে যুবগোষ্ঠীর ৩৩৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়াদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, গ্রামীণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো কেবল নামেমাত্র দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে ঠিক মতো প্রশিক্ষণের ক্লাস হয় না, ভালো প্রশিক্ষক নেই। শিক্ষায় সরকার অনেক সাফল্য অর্জন করলেও প্রান্তিক যুবকেরা এর সুফল পুরোপুরি পায়নি। তিনি বলেন, সমতলের ‘আদিবাসী’ ও সিলেট অঞ্চলের শহুরে যুবগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ শতাংশ মনে করেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেক জাতীয় মানের নিচে রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তাদের বিজ্ঞান, গণিত বিষয়ের শিক্ষকের অভাব রয়েছে।

    আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে যে ধরনের জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, সে ধরনের জনশক্তির সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি বাছাইয়ের জন্য সমাজে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ শূন্য থেকে শুরু করে এখন অনেক উন্নতি করেছে। কাজেই ধীরে ধীরে আমরা অন্য লক্ষ্যগুলোও অর্জনে সক্ষম হবো। নাহিম রাজ্জাক প্রচলিত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অনেকে এমএ পাস করার পরও একটি রচনা সঠিকভাবে লিখতে পারে না। আমাদের অর্থনীতি যেহেতু বেসরকারি খাত নির্ভর, তাই বেসরকারি খাত দক্ষ জনশক্তি তৈরির কোর্স কারিকুলাম তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে জোর সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। শিক্ষার মানের বিষয়ে তিনি বলেন, হজার হাজার শিক্ষার্থী জিপিএি-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। এমন মানহীন শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয়। তিনি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর জোর দেন। সারাহ কামাল বলেন, আদের শিক্ষা অনেকটাই সার্টিফিকেট নির্ভর। কর্মমুখী শিক্ষায় তেমন জোর দেওয়া হয় না। যা বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাবুল আক্তার বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরতদের ৮০ শতাংশই যুবশ্রেণির। কিন্তু তাদের মধ্যে দক্ষতার বেশ ঘাটতি রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাইবান্ধার যুবক সুমন খন্দকার বলেন, তাদের গ্রামের কয়েকজন একটি সরকারি প্রশিক্ষণে গেলেও সেখানে তিন দিনের বেশি ক্লাস হয়নি। ঐ প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক সরকার ঘোষিত এক লাখ টাকার ঋণ নিতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়েছিল। হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্য ঝুমা বলেন, সরকার তাদেরকে স্বীকৃতি দিলেও যেই উদ্দেশ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে সেটা পূর্ণ হয়। হিজড়াদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।

  • আমাদের রাজনীতি উন্নয়ন ও কাজের রাজনীতি: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

    আমাদের রাজনীতি উন্নয়ন ও কাজের রাজনীতি: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

    জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, মানুষের অবস্থার যদি পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে স্বাধীনতার প্রত্যাশা অর্থহীন হয়ে যাবে। আমাদের রাজনীতি কাজের রাজনীতি, এলাকার উন্নয়নই এ রাজনীতির মূল কথা। মানুষ সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে, যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন এই রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা চিন্তা, কথা ও কাজে লালন করে যাব।

    তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা সদরে একাধিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বা জেপি, যিনি যে দল করুন না কেন সবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করা। মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে, স্বস্তিতে থাকে এটা আমরা বরাবর প্রত্যাশা করেছি। এই উদ্দেশ্যকে পাথেয় করে মানুষের কল্যাণে গত ৩৬ বছর ধরে কাউখালী-ভাণ্ডারিয়াসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে আমরা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছি। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে তুলতে চাই। আর এই দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকলে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত ফল আমরা পাবই। ঐক্য না থাকলে উন্নয়ন ঘটে না।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে যখন গাবখান সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও পিরোজপুরের নবনির্মিত বলেশ্বর সেতুর উদ্বোধন করেন, সেদিনই কঁচা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বেকুটিয়ায় কঁচা নদীর ওপর যে সেতু নির্মাণাধীন তা প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের ঘোষণারই বাস্তবায়ন। বঙ্গবন্ধু সেতুকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে তেমনি বেকুটিয়া সেতুকে ঘিরে কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া, স্বরূপকাঠি, রাজাপুর, পিরোজপুর সদর প্রভৃতি উপজেলায় নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। মনে রাখতে হবে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ রয়েছি বলেই আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা, হিস্যা তথা ন্যায়বিচার আদায় করতে সক্ষম হচ্ছি। যতদিন এলাকার মানুষ এক থাকবে, ততদিন আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না।

     

    আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমরা অর্জন করেছি রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যদিয়ে। যে কোনো মূল্যে রাষ্ট্রের এই চরিত্র অটুট রাখা আমাদের সবার কর্তব্য। গত ৩৬ বছর ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী তথা এই এলাকায় আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন হতে দেইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে এ দেশে এ সম্প্রীতি কখনই বিনষ্ট হয়নি। বাংলাদেশে মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সুখে-শান্তিতে একত্রে বাসবাস করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক অটুট। বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ভাণ্ডারিয়ায় এসে পৌর সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন। এসময় তিনি কাউখালীর শ্রী গুরু কেন্দ্রীয় আশ্রমের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। আগামী দিনেও ভারতের সহায়তায় ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালীর বিভিন্ন মন্দিরে অনুরূপ আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের বন্ধু হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এখন ভারত সরকারের পররাষ্ট্র সচিব হওয়ায় এই সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হয়েছে। এছাড়া আমার ১৮ বছরের মন্ত্রিত্বকালের অভিজ্ঞতা প্রসূত ধারণায় আমি দৃঢ়ভাবে এ কথা বলতে পারি যে, বর্তমান সরকারের টাকার অভাব নেই। এ ধরনের আশ্রমসহ এলাকার নানা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ আমরা আদায়ে সক্ষম হব।

    কাউখালীর শ্রী গুরু বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে যে মতবিনিময় করেন, সে সভায় অধ্যক্ষ পরিমল কর্মকারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন আশ্রমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রনঞ্জয় দত্ত, আশ্রমের সংগঠক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ড ও সুব্রত রায়। এরপর কাউখালী শ্রীশ্রী হরি গুরু চাঁদ মতুয়া আশ্রমে অপর একটি মতবিনিময় সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বক্তব্য রাখেন। এখানে আশীষ কুমার মৃধার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র হাওলাদার ও কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন। এখানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আশ্রমের পাঁচ তলা বিশিষ্ট ‘ভক্ত নিবাস’ ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    সন্ধ্যায় তিনি কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ কৃষকের মধ্যে সার ও শস্যবীজ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, ইউএনও মোসা. খালেদা খাতুন রেখা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার হাদিয়া, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামসুদ্দোহা চাঁদ, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাদী রেবেকা শহীন, আওয়ামী লীগের উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন প্রমুখ।

    রাতে জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি সংগঠনের উপজেলা কার্যালয়ে তার উদ্দেশে দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিলে পুনরায় দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার সম্মানে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। জেপির উপজেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন জেপির সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু ডাকুয়া, কাউখালী জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু, জেপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজু, উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার দেলোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, মহিলা পার্টির সভানেত্রী আফরোজা শানু, চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন জেপির সাধারণ সম্পাদক খান মো. বাচ্চু, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জেপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র দে, যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, ছাত্রসমাজের উপজেলা আহ্বায়ক মো. কাইয়ুম শেখ প্রমুখ।

    ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা কে এম ফজলুর রহমান জানান, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল মঙ্গলবার ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভাণ্ডারিয়া শেখ রাসেল অডিটরিয়াম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এছাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাণ্ডারিয়া-কাঠালিয়া সড়ক থেকে মীরবাড়ির রাস্তা উন্নয়নের নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে দোয়া-মোনাজাতে শরিক হন। এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক ও জনপথের বাবুল খন্দকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম, জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক প্রমুখ। এ ছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পভুক্ত ঘোষের খালের পুনঃ খননকাজ পরিদর্শন করেন। এসময় বোর্ডের পিরোজপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন।

  • রওশনের সিদ্ধান্তকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন জিএম কাদের

    রওশনের সিদ্ধান্তকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন জিএম কাদের

    ছেলে রাহগির আল মাহি ওরফে সাদ এরশাদ এমপিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান হিসেবে বুধবার ঘোষণা দিয়েছিলেন রওশন এরশাদ। একদিন পরেই জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশনের ঘোষিত সিদ্ধান্তকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে সাদকে দলের ১১ নম্বর যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পদায়ন করলেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

    শুক্রবার সাদকে এই পদ দেন চাচা জিএম কাদের। অথচ সাদের অনেক উপরে, এমনকি দ্বিতীয় যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে গাজীপুরের নুরুল ইসলাম দীপুর নাম রেখেছেন জিএম কাদের। আর এই দীপু হচ্ছেন গাজীপুরের জনপ্রিয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আহসান উল্যাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামি। যদিও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় নামের ক্রম ঠিক করা হবে।

    জাপা চেয়ারম্যান দলের আরো ৮ জন উপদেষ্টা, ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও সাদসহ ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেন।

    সিলেটের সাবেক এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান করেছিলেন রওশন। আর কাদের তাকে করেছেন দ্বিতীয় যুগ্ম মহাসচিব। সাবেক এমপি মাহ্জাবিন মোরশেদ ও নুরুল ইসলাম ওমর এবং আরিফুর রহমান খানকে রওশন করেছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য। আর জিএম কাদের এ তিনজনকে ভাইস চেয়ারম্যান করেছেন। বর্তমান এমপি অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নানকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ঘোষণা দেন রওশন, সেটির বদলে কাদের তাকে করেছেন উপদেষ্টা।

    আর দলের দুই প্রবীন নেতা এমএ ছাত্তারকে কো-চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। তবে শুক্রবার পর্যন্ত এ দুজনকে কোনো পদ দেননি জাপা চেয়ারম্যান কাদের। এছাড়া রওশন ঘোষিত প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর ( অব.) খালেদ আখতার, কাজী মামুন ও অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজুকেও পদায়ন করেনি দলটির চেয়ারম্যান।

    জাপার একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দলে সাদের পদ নিয়ে রওশন ও কাদেরের বিপরীতমুখী অবস্থান এরশাদ পরিবারে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি পুরনো নেতা এমএ ছাত্তার এবং এরশাদ মুক্তি আন্দালনে পুলিশের নির্যাতনের শিকার অধ্যাপক দেলোয়ারকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ রাখার ঘটনাও দলে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

    যদিও জাপা চেয়ারম্যান বলছেন, দলে কাউকে পদায়ন বা পদোন্নতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশনের। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলে পদায়ন-পদোন্নতির একক ক্ষমতা শুধু চেয়ারম্যানের।

    গত ২৮ ডিসেম্বর জাপার কাউন্সিলে অনুপস্থিত থাকা রওশনকে দলের ক্ষমতাহীন প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। কাউন্সিলের পরদিন একজন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও ছয়জন কো-চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করেন জাপা চেয়ারম্যান কাদের। পরদিন আটজন অতিরিক্ত মহাসচিবের এবং একদিন পর ৩৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তালিকায় প্রেসিডিয়ামের পুরনো সদস্যদের মধ্যে ১১ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। এনিয়ে বাদ পড়ারা বিক্ষুব্ধ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪১ জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা যাবে, সেই হিসাবে আরও চারজনকে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে।

    জিএম কাদের বুধবার ৯ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মোট ২৯ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদের বাকি ২০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আর ৪১ ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ৩৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। ১৬ জন যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করেছেন জিএম কাদের। এত পদ পদবির বিষয়ে জাপার প্রবীণ নেতাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, দলে এখন পদের ছড়াছড়ি, পদের ভারে জাপা হেলে পড়ছে।

  • বিতর্কিত করতে নির্বাচনে আসে বিএনপি: শিক্ষামন্ত্রী

    বিতর্কিত করতে নির্বাচনে আসে বিএনপি: শিক্ষামন্ত্রী

    বিএনপি সবসময় নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নির্বাচনে অংশ নেয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময়ই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। তারা জানে তারা জনবিচ্ছিন্ন একটি দল। যেসব নির্বাচনে তারা জয়ী হয় সেসব নির্বাচনেও ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিতর্ক করে। বিএনপি জামাত দেশকে ধ্বংস করার জন্যে কাজ করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বিএনপি কখনই চায় না বাংলাদেশ এগিয়ে যাক।

    দীপু মনি আরও বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও এসে তারা বলছে, নির্বাচন যে সুষ্ঠু হচ্ছে না তা প্রমাণ করার জন্যেই তারা ভোট অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়।

    তিনি বলেন, ভোটাররা অবশ্যই বিবেচনায় আনবেন, কারা নির্বাচন করার জন্য অংশ নিয়েছেন। আর কারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের অপরাজনীতির ফায়দা লুটার জন্য। নির্বাচনে বিএনপির এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা ভোট দিবেন।

    চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে ৪০ ভাগের উপর ভোট পরেছে। সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্র এসে উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছে। অথচ বিএনপি ইভিএম নিয়েও বিতর্ক করতে চায়।

    এসময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা করছি : রিজভী

    সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা করছি : রিজভী

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইতিমধ্যে দেশবাসী দেখেছে চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট ডাকাতি উৎসব। চট্টগ্রামে ডিজিটাল ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে সরকার। আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং সরকারের পেটোয়া বাহিনী সবগুলো ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে নিঃশব্দে, নিভৃতে এবং নীরবে ইভিএমে ভোট ডাকাতি করেছে। এবার ৩০ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে ঢাকার দুই সিটিতে।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, মৎস্যজীবী দলের আব্দুর রহিম প্রমুখ।

    লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, ইভিএম দিয়ে ডিজিটাল ভোট ডাকাতির মহড়া হলো গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের শূন্য আসন এবং হাইমচরের উপজেলা নির্বাচন ভোটে। যা ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে প্রমাণিত হয়েছে ভোটার ছাড়াই ইভিএমে নৌকার প্রার্থীদের কিভাবে পাস করানো সহজ। গত ২৯ ডিসেম্বরে মিডনাইট ইলেকশনের পর গোটা বিশ্বের নিন্দা ও ধিক্কারের ঝড় সামলাতে না পেরে এই অবৈধ গণবিচ্ছিন্ন সরকার দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ,বিদ্ব্যৎজন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং সরকারি দল ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি থোড়াই কেয়ার করে ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট ডাকাতির কৌশল নিয়েছে। তারা জানে, এখন কোনো নির্বাচনের আগে রাতে ভোট দেয়া শুরু করলে আর কেউ না হোক সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে যাবেন। অতএব এবার তাদের আরেকটি নতুন পন্থা উদ্ভাবন করতে হয়েছে। সেটা হলো এই ইভিএম।

    তিনি বলেন, কার্যত ইভিএমে সুষ্ঠু ভোটের ন্যুনতম সুযোগ নেই। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনও চট্টগ্রামের মতো দখলের নীলনকশার প্রস্তুতি কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঢাকাতেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, প্রচারণার সময়ে গ্রেফতার অভিযান করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এখন গ্রেফতার চলছে, অভিযানও চলছে, আক্রমণ চলছে, হামলা চলছে এবং হামলার মাধ্যমে একটা ভয়ভীতির পরিবেশ তারা সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে সরকারি দলের প্রার্থীরা।

    বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ৭৫ বছর বয়স্ক দেশনেত্রীর জীবন প্রতি মূহুর্তে শংকার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মদদে তার গুরুতর অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে। তিনি এখন কি অবস্থায় আছেন তা কাউকে জানতে দেয়া হচ্ছে না। তার সাথে স্বজনদের দেখা সাক্ষাত করতে দেয়া হচ্ছে না। পিজি হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে তার বর্তমান অবস্থায় এডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।