Category: রাজনীতি

  • ১৩ দফা ইশতেহারে ১৪৪ প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

    ১৩ দফা ইশতেহারে ১৪৪ প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

    ‘ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে’ ১৩ দফা ইশতেহারে রয়েছে ১৪৪টি প্রতিশ্রুতি।

    প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দুনীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদকমুক্ত, যানজট ও দূষণমুক্ত, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত, ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রত্যয় ঘোষণা করেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সিটি করপোরেশনের সেবা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ইশরাক হোসেন জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচিত হলে সিটিকে ঢেলে সাজানো হবে। আমি ঢাকার ছেলে তাই আমি জানি এখানে কি সমস্যা আর কি করতে হবে। নির্বাচিত হলে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হোক, সেই প্রত্যাশা করছি।

    তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা ওয়াসাসহ সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ড্রেন পরিষ্কারসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। রাতের ঢাকার উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করা, নদীর তীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের জন্য পুরান ঢাকাকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা এবং সিটি করপোরেশেনর যেসব উন্মুক্ত উদ্যান, নদী ও খাল বেদখল আছে সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ওয়ানস্টপ বাস সার্ভিস চালু, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান ইশরাক।

    ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, দুঃসময়ের ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।

    যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আসা ইশরাক কীভাবে গর্বিত ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সম্মিলনে ঢাকাকে সবার বাসযোগ্য একটি ‘বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মহানগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছেন? জবাবে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা ওয়াসাসহ রাজধানীতে সেবা প্রদানকারী সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপেয় পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, পয়ঃনিষ্কান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন।

    নাগরিক সেবার কর্মকাণ্ড ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিচ্ছেন।

    দল-মত ও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মহানগরীর সকল জাতি-গোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। কোনো নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করতে দেওয়া হবে না। ধর্ম যার যার, এ মহানগরী সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর ঢাকা মহানগরীর এই ঐতিহ্য কোনো রকমেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

    এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নগর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, নবীউল্লাহ নবী, অধ্যাপক ড. এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

  • ধানের শীষের পক্ষে গণঅভ্যুত্থান ঘটে গেছে:তাবিথ

    ধানের শীষের পক্ষে গণঅভ্যুত্থান ঘটে গেছে:তাবিথ

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার, প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার কোনটিই আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি ইসির প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, ইসি, আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। যাতে ভোটাররা ভয়ভীতি মুক্ত হয়ে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া সম্ভব হবে না।

    প্রচার-প্রচারণার ১৯তম দিন মঙ্গলবার পৌনে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের শেরশাহ সুরী ঈদগাঁও মাঠের সামনে এক পথসভায় তাবিথ এসব কথা বলেন। এদিন তিনি মোহাম্মদপুর টাউন হল, জাকির হোসেন রোড, জেনেভা ক্যাম্প, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, নূরজাহান রোডের মোড়ে পথসভা করেন। নির্বাচন কমিশন তাদের কোনও অভিযোগ আমলে নিচ্ছ না বলে অভিযোগ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা ইসিতে ১৪০টির বেশি অভিযোগ দিয়েছি। এগুলো আমলে না নিয়ে ১০২টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। এই যদি হয় ইসির ভূমিকা, তাহলে ঢাকায় নির্বাচনের যে উৎসব আছে তা বিলীন হয়ে যাবে।

    ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ভোটের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি আছে। আপনারা সজাগ, সতর্ক থাকুন। নিজে নিজ ভোটটি আপনারা দেবেন। আমরা যখনই আমাদের ভোট দেব না, তখনই অন্য কেউ ভোট চুরি করতে পারে এবং আমাদের ভোট অন্য জায়গায় দিয়ে দেবে। তাই আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রত্যেকে সকাল সকাল ভোট দিতে যাব।

    তিনি আরও বলেন, সরকার ভয় পাচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে গণঅভ্যুত্থান ঘটে গেছে এই ভেবে। এবার তাই তারা (প্রতিপক্ষ) বিশৃঙ্খলা ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাইবে। আমরা কোন সুযোগ দিবো না। ১ তারিখ সকলে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমরা আমাদের ভোট দিবো। আমরা সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনবো। জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনবো। মেয়রপ্রার্থী বলেন, ঢাকাকে আমরা বসবাসযোগ্য সবুজায়ন করবো।

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রতিপক্ষ বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বের করতে পারবে না বলে মন্তব্য করে তাবিথ আউয়াল বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সাজেদুল হক রনি, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. লিটন মাহমুদ বাবুসহ বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

  • ‘হামলায় নেতাকর্মীরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়’

    ‘হামলায় নেতাকর্মীরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়’

    ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন দিনভর নেতা-কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ ও প্রচারণা চালান। দুপুর ১টার দিকে গোপীবাগের সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের সামনে সহিংসতার পর প্রচারণায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন সহিংস ঘটনার পর দুপুরে নিজ বাসার নির্বাচনী কার্যালয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে ওরা ভীত-সস্ত্রন্ত হয়ে পড়েছে। তাই আমাদের গণসংযোগে কাপুরুষের মত হামলা করছে। তিনি এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হামলা-গুলি করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবেনা। আমাদের নেতাকর্মীরা এতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। এ ধরনের হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা দেখে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনকে বানচালের অপচেষ্টায় অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। আমরা ভোটারদের আহ্বান জানাব, আপনারা অবশ্যই পহেলা ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। অধিকার আদায়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

    প্রেস ব্রিফিং-এ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, রওনাকুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন, বিচলিত হবেন না। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না।

    এই হামলার কারণে পরবর্তীতে কয়দিন নির্বাচনী প্রচারণায় কোন শঙ্কা বোধ করছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একদমই না। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। গুলির শব্দে আমি ভয় পাই না। জনগণের অধিকারের লড়াইয়ে আমি জীবন দিতে প্রস্তুত, রক্ত ঝরাতে প্রস্তুত। মরতে হলে মরবো, তবুও কোন সন্ত্রাসীর কাছে মাঠ ছেড়ে দিবো না।’

    হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মতিঝিল এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ করে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মহিলা কমিশনার লাভলী চৌধুরী ক্যাম্পের সামনে দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আকস্মিকভাবে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নয়া দিগন্তের সাংবাদিক ইকবাল মজুমদার (তৌহিদ), সময় টিভির ক্যামেরাম্যান আশরাফুল ইসলাম ও বাংলাভিশনের সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন উজ্জ্বল দাস আহত হয়েছেন। আমার উপরে হামলার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আমার নেতাকর্মীরা আমাকে সুরক্ষা দিয়েছে। ’

    ধানের শীষকে ভয় পেয়েই হামলা : তাবিথ

    ইশরাক হোসেনের প্রচারে সংঘর্ষের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, ধানের শীষের জয় নিশ্চিত। এই ভয় থেকেই হামলাগুলো শুরু হয়েছে। কিন্তু ভয়কে জয় করতে হবে।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় দুপুরে তাবিথ আউয়াল এসব কথা বলেন। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পেয়ে আমরা পিছু হটব না। ভয়কে আমরা জয় করব, এ নির্বাচনকে জয় করব। ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যাবে। সরকার এ রায় ঠেকাতে পারবে না। এরপরই আন্দোলন ত্বরান্বিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব, দেশকে মুক্তির পথে নিয়ে আসব। ইশরাকের প্রচারে হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তাবিথ বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ করছি, আপনারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিন। আগামী ছয় দিন দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং ইসির সদিচ্ছা প্রমাণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন। নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। এ শহরের অবনতি হয়েছে। দূষণের জন্য কেউ বাঁচতে পারছে না। ভেজাল খাদ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শেষ করে দিচ্ছে। সড়কের বিল চলে যাচ্ছে, কিন্তু রাস্তা মেরামত হচ্ছে না। টাকা চলে যাচ্ছে, এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে যেতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে।এর আগে বনানীতে পথসভায় তাবিথ আউয়াল বলেন, যেসব ওয়ার্ডে গিয়েছেন, সেসব ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এক লাখের বেশি নগরবাসী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মারা গেছেন। নির্বাচিত হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই ঢাকার সমস্যাগুলো মোকাবিলা করবেন বলে জানান তাবিথ।

    এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে হামলা হয়েছে। এসব কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও কমেছে। আমরা ভোটারদের অভয় দেওয়ার চেষ্টা করছি। সব ভোটারদের বলছি, আপনারা সকলে মিলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, নির্ভয়ে ভোট দেবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমেই বিজয় লাভ করব।

    নির্বাচিত হতে পারলে দ্রুত ডেঙ্গু ও বায়ুদূষণ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তাবিথ। তিনি বলেন, ঢাকা সিটিকে একটি সুন্দর ও আধুনিক সিটিতে রূপান্তরিত করার জন্য সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। মেয়র না হয়েও অতীতে বিভিন্ন সময় ঢাকার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন জানিয়ে তাবিথ বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকার উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ হবে।

    তাবিথ আউয়ালের গণসংযোগে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

  • রাজাকারের উত্তরসূরিরা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে

    রাজাকারের উত্তরসূরিরা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে

    আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশের’ বিষয়টি এখন দেশময় আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা। রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের উত্তরসূরিরা এখন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শাখার পদ-পদবি কিনেছেন তারা। হয়ে উঠেছেন বড়ো নেতাদের ঘনিষ্ঠ। একই সঙ্গে এসব পদবি ব্যবহার করে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ ব্যবসা, বাণিজ্য, ঠিকাদারিসহ সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছেন। এমনকি মাদক ব্যবসায় জড়িত তাদেরই সিন্ডিকেট।

    এসব বিরোধী মতাদর্শীরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দুর্নীতি, চোরাচালান, জমি দখল, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, টিআর-কাবিখা প্রকল্পে লুটপাটসহ নানা কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তাদের দাপটে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা ও ত্যাগী নেতারা হয়ে পড়েছেন একলা। দলীয় ফোরামের একাধিক বৈঠকে ত্যাগী নেতারা এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নানা তথ্য তুলে ধরেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। বরং যারা তাদের এসব পদ-পদবি দিয়েছেন তারাই তাদের রক্ষা করেন। বিষয়গুলো দলীয় হাইকমান্ডের নজরের বাইরে নয়।

    মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা হঠাত্ করে ঘটেনি; শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে, ঢালাওভাবে হয়েছে ২০১৪ সালের পর এবং সব অনুপ্রবেশই ঘটেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের হাত ধরেই। দলে বিরোধী মতাদর্শীদের এ ধরনের ঢালাও অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকবারই দলীয় নেতাদের সতর্ক করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছরে ৫৫ হাজার বিরোধী মতাদর্শী আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছেন। বিষয়টি দলের জন্য অশনিসংকেত—সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে আসায় বিতর্কিত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলছে শুদ্ধি অভিযান।

    সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা হাতে পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অপরাধ যে করবে, অন্যায় যে করবে; সে কোন দল করে, কী করে তা আমি কখনো দেখব না। আমার দৃষ্টিতে যে অপরাধী সে অপরাধীই। দলের লেবাস লাগিয়ে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীরা পার পাবে না।’

    এদিকে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিতে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী না ঢুকতে পারে সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আগামীতে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া অন্য দল থেকে কাউকে দলে না ভেড়াতে তৃণমূলে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী এবং যাদের হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের তালিকা করার কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। এছাড়া সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে যাতে বিতর্কিত কেউ দলে ঢুকতে না পারে—এমন বার্তাও পাঠানো হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে।

    রাজাকার ও পাকবাহিনীর সহযোগিতায় গঠিত শান্তি কমিটির প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন—এমন ব্যক্তি ও তাদের সন্তান-স্বজনদের কেউ কেউ নানা কৌশলে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোতে ঢুকে পড়েছেন। তবে জামায়াত তাদের আদিপিতা। জামায়াতের জন্মলগ্ন থেকেই দলটিতে তারা আছেন এবং থাকবেন। ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন করে সংঘবদ্ধ হয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেওয়া বিরোধী মতাদর্শীর এই নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই হত্যা-সন্ত্রাস-নাশকতা মামলার আসামি—এমন তথ্য সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    জানা গেছে, এক সময় যারা ফ্রিডম পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২০০৯ সালের পর তারা দলে দলে সরকারি দলে যোগদান করা শুরু করেন। সংঘবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যেই স্বাধীনতাবিরোধী আদর্শের মানুষরা অর্থের বিনিময়ে ও নানা কৌশলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ছত্রছায়ায় আছেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও পেয়েছেন। একই সঙ্গে অতীত অপকর্ম থেকে রেহাই পাওয়া, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার টার্গেট নিয়েও তারা ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিয়েছেন। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের আলাদা বলয় সৃষ্টি করতে শান্তি কমিটির সদস্যদের সন্তান-স্বজনদের থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছেন। এতে দলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন।

    জানা গেছে, অনুপ্রবেশকারী সবাইকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যারা অপরাধী একে একে তাদের সবাইকে ধরা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ থেকে হঠাত্ করেই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা উধাও হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের সন্দেহ হয়। গোপনে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় এ ভয়াবহ চিত্র। অনেকেই মিলেমিশে একাকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। আবার কেউ কেউ নিজেরাই আওয়ামী লীগ কর্মী সেজে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানামুখী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের সরকার সমর্থক হিসেবে জাহির করছেন। তবে অতি ভক্তি যে চোরের লক্ষণ এটা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড বুঝে গেছেন। এই কারণে গোপনে তাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ টিমকে তিনি এক্ষেত্রে কাজে লাগান এক বছর ধরে। এছাড়া একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও রিপোর্ট দেয়। দুইটি মিলিয়ে অর্ধ লক্ষাধিক বিরোধী মতাদর্শীর অনুপ্রবেশের চিত্র উঠে আসে। সেখান থেকে ১৫০০ বিতর্কিত বিরোধী মতাদর্শীর তালিকা তৃণমূলে পাঠানো হয়েছে। তাদের দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, অতীতে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান বিরোধী মতাদর্শীরা। উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে পদ বেচা-কেনার ঘটনা ছিল অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। অর্থের বিনিময়ে এসব পদে এসেছেন তারা। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ফোরামের প্রায় ১০টি কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশকারীদের দলে না নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কও করে দিয়েছেন। দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি বড়ো দল, এই দলে পরগাছাদের কোনো জায়গা নেই।

    আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জানান, অনুপ্রবেশকারীরাই আওয়ামী লীগের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যে দলের ক্ষতি করতে এসেছিল তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দলটি। অনুপ্রবেশকারীদের হাতে সংঘটিত বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনায় বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। সরকার ও দলকে বারবার বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার নতুন কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই তারা আওয়ামী লীগে এসেছে—এ বিষয়টি দলের হাইকমান্ড আঁচ করতে পেরেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এ নিয়ে চরম বিরক্ত। ইতিমধ্যে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের একটি দীর্ঘ তালিকা দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়েছেন।

    ঢাকা মহানগরে ১১ বছরে ১ হাজারেরও বেশি বিরোধী মতাদর্শী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় ১০ বছরে প্রায় ৭ হাজার বিভিন্ন দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন। রংপুর বিভাগের সাত জেলায় প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে নতুন করে আওয়ামী লীগার হয়েছেন বিভিন্ন দলের কমপক্ষে ১৮ হাজার নেতাকর্মী। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় প্রায় ৭ হাজার এবং সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২ হাজার নেতাকর্মী বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বরিশাল বিভাগে প্রায় ৪ হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন দল থেকে এসেছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা—জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে বিরোধী মতাদর্শী ১ হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

  • হারের ভয়ে বিএনপি সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে: কাদের

    হারের ভয়ে বিএনপি সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেসব অভিযোগ করছে, তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।’

    শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিএনপি আসলেই একটি নালিশনির্ভর দল। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিএনপির মতো অমন ব্যর্থ রাজনৈতিক দল আর আসেনি। দলটি আন্দোলনে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, নির্বাচনেও তেমনিভাবে ব্যর্থ। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় দেখে বিএনপি নেতারা এখন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছেন।

    নির্বাচনে সবার জন্য সমতল (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) ভূমি নেই বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির অভিযোগ হাওয়ার ওপরে। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। পারলে তারা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে আসুক। মনগড়া কথা না বলে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মনগড়া কথা বললে তো হবে না। তারা সবসময় অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে। বিএনপির সব নেতাই নির্বাচনী প্রচারে কাজ করে চলেছেন। আমরা তো নির্বাচন কমিশনের আইনের কারণে প্রচারে নামতেই পারছি না।

    সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হবে।

  • ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করবে আওয়ামী লীগ :  ওবায়দুল কাদের

    ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করবে আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষে ট্র্যাডিশনের সঙ্গে টেকনোলজি, আইডিয়ালিজমের সঙ্গে রিয়েলিজমের সুন্দর সমন্বয় করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিমুখে আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যেতে চাই।

    শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টুঙ্গিপাড়ায় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় সম্মেলনের পর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ ও জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় এসেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আওয়ামী লীগকে সময়, যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন মডেলে আমরা ঢেলে সাজাবো। সাংগঠনিক কাঠামোকেও শুদ্ধ করবো, সুশৃঙ্খল করবো। সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত এই লক্ষ্য ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ ও অঙ্গীকার নিতেই আমরা আজ এখানে এসেছি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সোনার বাংলা বিনির্মাণ একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। আমাদের টার্গেট আছে, ভিশন আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান রয়েছে, আমরা এই তিনটিকে সামনে রেখে আমাদের এজেন্ডা ঠিক করেছি। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।