Category: সারাদেশ

  • হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    জেলার হরিণাকুণ্ডুতে সাহেব আলী নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে (কসাই) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এ জরিমানা করা হয়।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    ‎‎
    ‎ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া বাজারে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট বা ভেটেরিনারি ছাড়পত্র ছাড়াই পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছিলেন ওই ব্যবসায়ী।

    খবর পেয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
    ‎‎
    ‎এ সময় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে সাহেব আলীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ‎অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার কুণ্ডু উপস্থিত ছিলেন।

    ‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন বাসসকে জানান, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস ও খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

    পশু চিকিৎসকের ছাড়পত্র ছাড়া পশু জবাই ও মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার

    পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার

    রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, ধৈর্য এবং জনবান্ধব আচরণ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং সততা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের সুস্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতা পেশাগত দক্ষতার অন্যতম ভিত্তি।’

    মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আরপিএমপি’র মাসিক কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা বলেন।

    আরপিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (এস্টেট ও উন্নয়ন) মো. আবদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজ নিজ মতামত, দায়িত্ব পালনের প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা তুলে ধরেন।

    আরপিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশ নিতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি ও পোশাকবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং একটি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

    যেকোনো মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত যে কারো বিরুদ্ধে আইন ও বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতার ওপর জোর দেন এবং বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সবার অনলাইন জুয়া, অনৈতিক ডিজিটাল কার্যকলাপ এবং মোবাইল ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

    পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের সাথে মানসিক সহায়তা প্রদান করা উচিত, যাতে কর্মক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।

    তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ সদস্যদের একে অপরের কাছ থেকে টাকা ধার করা বা অনুপযুক্ত আর্থিক লেনদেনে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে পেশাগত সম্পর্ক ও শৃঙ্খলা অটুট থাকে।

    আরপিএমপি কমিশনার সভায় উপস্থিত সব পুলিশ সদস্যের সর্বসম্মত সম্মতিতে আরপিএমপি পুলিশ কল্যাণ তহবিল পুনরায় চালু করতে সম্মত হন।

  • হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

    হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

    মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও  শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সহজ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্ত করণে ১৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্রগ্রাম এবং মোংলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে। এতে পণ্য পরিবহনসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দুয়ার খুলবে।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর ব্রীজ থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একনেকে পাশ হওয়া প্রায় ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সদর উপজেলার মুক্তারপুর থেকে হাতিমারা পর্যন্ত ৩.৪৬ কিলোমিটার রাস্তা করা হবে ৪ লেইনের। হাতিমারা থেকে পরবর্তী ছনবাড়ী পর্যন্ত ২০.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা হবে ২ লেনের ১০.৩ মিটার প্রশস্তের।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রকল্পটি একনেকে পাশ হবার পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগসহ প্রাথমিক জরিপ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আগামী ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, মুক্তারপুর থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন রাজধানী ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে চট্রগ্রাম থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলোর যাতায়াতে সময় এবং খরচ দুটিই বাচবে। চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে এসে মদনপুর হয়ে শীতলক্ষা- ২ সেতু এবং মুক্তারপুর সেতু হয়ে হাতিমারা-ছনবাড়ী হয়ে পদ্মাসেতু দিয়ে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে চলে যেতে পারবে।

    এছাড়াও সড়ক প্রশস্তকরণে ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মৎস্য ও উৎপাদিত শিল্পপণ্য দ্রুততম সময়ে চট্রগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে পরিবহন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

    মুন্সীগঞ্জ নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং এ সব এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হবে এবং বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। এছাড়া সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এবং এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি গতিশীল হবে। মহাসড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শেষ হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্রগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে।

    দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন দ্রততম  সময়ে চট্রগ্রামমুখী সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে। আর এতে পণ্য পরিবহন আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দক্ষিণাঞ্চল ও চট্রগ্রামের মধ্যে পণ্য পরিবহনের একটি কার্যকর করিডোর হিসেবে গড়ে উঠবে হাতিমারা ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণের ফলে মুন্সীগঞ্জের শিল্প ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    মুন্সীগঞ্জ-বেতকা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। মুন্সীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে।

  • বরিশালে মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশালে মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশাল নগরীতে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. জিহাদ সরদার (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়|

    গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ˆবদ্যপাড়া সি অ্যান্ড বি রোডে সোমালিয়া নামীয় ভবনের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়|

    ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালালে মো. জিহাদ সরদার নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়| পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়|

    গ্রেপ্তার জিহাদ সরদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধোনা গ্রামের বাসিন্দা সবুজ সরদারের ছেলে|

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বাসস’কে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে| উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে|

  • আজও সমুদ্র বন্দরে ৩, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

    আজও সমুদ্র বন্দরে ৩, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

    আজ শনিবার দেশের সমুদ্রবন্দর সমূহের জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, ‘উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এল–কার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

    এতে আরও বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, অপর একটি বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন

    সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন

    দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরে নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে-ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান-প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।’

    মাহদী আমিন আরও বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক।

    সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’

    বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের পথচলা শুরু হয় এবং কোনো বাকস্বাধীনতা করা হয়নি।

    ডিআরইউ-এর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংগঠনটির নতুন ভবনের জন্য দ্রুত জায়গা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।

    তিনি বলেন, ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেনি।

    ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিবছর ডিআরইউ এই আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ফলগুলোকে পরিচিত করানো।

    এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।