Category: Uncategorized

  • বিশ্বে প্রথমবার এইচআইভি পজিটিভ দাতার ফুসফুস সফলভাবে প্রতিস্থাপন

    বিশ্বে প্রথমবার এইচআইভি পজিটিভ দাতার ফুসফুস সফলভাবে প্রতিস্থাপন

    অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের সার্জনরা। এই প্রথম একজন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর শরীরে অপর একজন এইচআইভি পজিটিভ মৃত ব্যক্তির ফুসফুস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
    চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিশাল অগ্রগতি। এর ফলে শেষ ধাপের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের জন্য অঙ্গ পাওয়ার একটি নতুন পথ উন্মোচন হলো। এতদিন পর্যন্ত এইচআইভি পজিটিভ রোগীরা কেবল এইচআইভি নেগেটিভ দাতাদের কাছ থেকেই অঙ্গ পেয়ে আসছিলেন।

    এইচআইভি পজিটিভ দাতার ফুসফুস ব্যবহারের এই সফল প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে অঙ্গের তীব্র সংকট দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘হোপ অ্যাক্ট’ কাঠামোর আওতায় এই জটিল অস্ত্রোপচারটি করা হয়। এই আইনের অধীনে অত্যন্ত সতর্ক পর্যবেক্ষণে রেখে এইচআইভি পজিটিভ দাতার অঙ্গ অন্য একজন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

    গবেষকদের বিশ্বাস, এই সফলতা বিশ্বজুড়ে এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।

    নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথ জানিয়েছে, ফুসফুস গ্রহণকারী ৫৬ বছর বয়সি বার্ট্রান্ড নেলসন গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। তিনি ‘সারকোইডোসিস’ নামক একটি মারাত্মক প্রদাহজনিত রোগে ভুগছিলেন, যা তার ফুসফুস ও লিভারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ২০২১ সালে গুরুতর লিজিয়েনিয়ার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং তাকে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সাপোর্টে থাকতে হতো।

    নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ড. সপ্না মেহতা বলেন, ‘এটি এইচআইভি পজিটিভ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।’

    কেন এই সাফল্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। আধুনিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির কল্যাণে এখন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও সাধারণ মানুষের মতোই দীর্ঘায়ু পাচ্ছেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার জন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে।

    দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গের ঘাটতি চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এইচআইভি পজিটিভ দাতাদের অঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি মেলায় এখন অঙ্গের প্রাপ্যতা অনেক বাড়বে এবং রোগীদের অপেক্ষার সময় কমে আসবে। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন যে, কেবল এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার কারণে কোনো অঙ্গকে বাতিল করে দেওয়া জীবন বাঁচানোর সুযোগকে সংকীর্ণ করে দেয়।

    ‘হোপ অ্যাক্ট’ এর ভূমিকা

    ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হওয়া ‘হোপ অ্যাক্ট’ দশকের পর দশক ধরে চলে আসা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, যা এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর শরীরে ব্যবহারে বাধা দিত। এরপর থেকে এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনে দারুণ সাফল্য পাওয়া গেছে।

    ‘আমেরিকান জার্নাল অব ট্রান্সপ্লান্টেশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এইচআইভি পজিটিভ দাতার লিভার প্রতিস্থাপনের ফলাফল এবং এইচআইভি নেগেটিভ দাতার লিভার প্রতিস্থাপনের ফলাফলের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এই গবেষণাই মূলত চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস জোগায়।

    তবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা ছিল সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ ফুসফুস সরাসরি বাইরের বাতাস ও জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, যার ফলে অস্ত্রোপচারের পর ইনফেকশন বা শরীর দ্বারা অঙ্গটি প্রত্যাখ্যান হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আর এই কারণেই ফুসফুস প্রতিস্থাপনের এই সাফল্যকে এত বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য ফুসফুস প্রতিস্থাপন কতটা নিরাপদ?

    অতীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ইনফেকশনের আশঙ্কায় এইচআইভি আক্রান্তদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুপযুক্ত মনে করা হতো। কিন্তু অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার অভাবনীয় উন্নতি সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

    ‘ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রসিডিংস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, যেসব এইচআইভি রোগীর ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ফলাফল একদম সাধারণ রোগীদের মতোই ইতিবাচক হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, সফল প্রতিস্থাপনের মূল চাবিকাঠি হলো ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওষুধের সঠিক সমন্বয় এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণ।

    ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সফলতার পর বিশ্বের অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও এখন এই পদ্ধতি অনুসরণে এগিয়ে আসবে। এর ফলে অঙ্গের ঘাটতি কমে আসবে এবং রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাবেন। এই অর্জন গত তিন দশকে এইচআইভি চিকিৎসার অভূতপূর্ব অগ্রগতিকেই প্রমাণ করে—যে রোগটিকে একসময় নিশ্চিত মৃত্যু বলে ভাবা হতো, তা আজ একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা এবং এর মাধ্যমে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচারও সফলভাবে করা সম্ভব।

  • নকলমুক্ত পরীক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার: কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভা

    নকলমুক্ত পরীক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার: কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভা

    ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা’—এই প্রত্যয় নিয়ে কুমিল্লায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এই সভার আয়োজন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষায় নকল বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। একটি মেধাবী জাতি গঠনে কেন্দ্র সচিবদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
    কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: শামসুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীমউদ্দীন।
    সভায় বক্তারা আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট তিন বোর্ডের কেন্দ্র সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্র সচিবগণ একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা উপহার দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • কাজল-টুইঙ্কেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহরুখ

    কাজল-টুইঙ্কেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহরুখ

    বিনোদন ডেস্ক: বলিউডে হইচই ফেলে দিলেন শাহরুখ খান। কাজল-টুইঙ্কেলের জনপ্রিয় টকশো ‘টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কেল’-এ এখনও দেখা যায়নি তাকে। আর তার এই অনুপস্থিতি নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছিল প্রশ্নের ঝড়। শেষমেশ নীরবতা ভেঙে স্বয়ং কিং খান জানালেন অনুপস্থিতির কারণ, সেই সঙ্গে রসিকতার ছলে কাজল-টুইঙ্কেলের কাছে চাইলেন ক্ষমা। যে দৃশ্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় নেট দুনিয়ায়। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল-টুইঙ্কেলের টকশোতে অনুস্থিত থাকার কারণ জানতে চাওয়া হয় শাহরুখের কাছে। উত্তরে বলিউড বাদশাহ বলেন, টকশোয়ে যেতে না পারায় আমার খারাপ লেগেছে। তবে আমি বর্তমানে নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর শুটিংয়ে খুবই ব্যস্ত। এর পাশাপাশি মাঝখানে হাতে চোট পাওয়ায় আমি আর সময় বের করতে পারিনি। এরপর মজা করে শাহরুখ আরও বলেন, ‘আমি যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওই খাবার খাওয়ার ঝামেলা আছে ওখানে; কারণ ওদের শোয়ে প্রচুর খাবার থাকে।’

    সবশেষে কাজল-টুইঙ্কেলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘না যাওয়ার জন্য কাজল-টুইঙ্কেলের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার সত্যিই যাওয়া উচিত ছিল। তবে নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য আমি প্রতিটা পর্ব দেখেছি।’ সম্প্রতি লন্ডনে শাহরুখ-কাজল অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র রাজ-সিমরানের আদলে ব্রোঞ্জের মূর্তি উদ্বোধন হয়। আর সেই কারণেই বর্তমানে শাহরুখ-কাজল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

  • আজ পর্দা উঠছে সৌদিতে চলচ্চিত্র উৎসবের

    আজ পর্দা উঠছে সৌদিতে চলচ্চিত্র উৎসবের

    বিনোদন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলচ্চিত্র শিল্প ক্রমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। বিশ্বের কাছে এই অঞ্চলের গল্প ও সিনেমার শক্তি তুলে ধরতে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজন করছে দেশগুলো।

    সেই ধারায় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত আয়োজনগুলোর একটি-রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। সৌদি আরবের বন্দর নগরী জেদ্দার ঐতিহ্যমণ্ডিত এলাকা আল-বালাদে চার বছর ধরে বসছে বিশ্ব সিনেমার এই মহাযজ্ঞ। আজ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এর পঞ্চম আসর শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে থাকছে রোয়ান আথালের জায়ান্ট। ব্রিটিশ-ইয়েমেনি বক্সিং তারকা প্রিন্স নাসিম হামেদের অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমির এল মাসরি (হামেদ) এবং পিয়ার্স ব্রসনান (তার আইরিশ ট্রেইনার ব্রেন্ডান ইংল)।

    এই দুই চরিত্রের সম্পর্কই উৎসবের মূল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে বলে মনে করেন রেড সি ফিল্ম ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিবানি পান্ডিয়া মালহোত্রা। ২০২১ সালে প্রথম আসর থেকে শুরু করে উৎসবটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এই অভিজ্ঞ আয়োজক, যিনি এর আগে দুবাই ও গাল্ফ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল পরিচালনা করেছেন। বিশেষত, এ বছর তার সিনেমা দিয়েই শুরু হচ্ছে উদ্বোধনী আয়োজন।এবার মোট ১১১টি চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে উৎসবে।

    মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে রয়েছে ১৬টি ছবি-এর অর্ধেক আন্তর্জাতিক এবং অর্ধেক মধ্যপ্রাচ্যের। এর মধ্যে আছে সৌদি আরবের অস্কার-প্রেরিত হিজরা এবং চেরিয়েন দাবিসের অল দ্যাটস লেফট অব ইউ, যেখানে তিন প্রজন্মের এক ফিলিস্তিনি পরিবারের সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। মূল প্রতিযোগিতার জুরি সভাপতি হিসেবে থাকছেন অস্কারজয়ী পরিচালক শন বেকার। বিশেষ প্রদর্শনীতে থাকছে তিউনিসিয়ার অস্কার-মনোনীত দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজাব এবং স্পেনের অলিভিয়ের ল্যাক্সের সিরাত। আন্তর্জাতিক স্পেকট্যাকুলার বিভাগে দেখা যাবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত ক্যুচার এবং জুড ল-পল ডানো অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র দ্য উইজার্ড অব দ্য ক্রেমলিন। আরব স্পেকট্যাকুলার বিভাগে রয়েছে আনেমারি জাসির প্যালেস্টাইন ৩৬ এবং হাইফা আল মানসুরের আনআইডেন্টিফায়েড। এ ছাড়া ফেস্টিভ্যাল ফেভারিটস বিভাগে থাকবে আন্তর্জাতিক উৎসবে আলোচিত ১২টি ছবি, যেম-সুইজারল্যান্ডের অস্কার মনোনীত এন্ট্রি লেট শিফট এবং কান উৎসবে অংশ নেওয়া দ্য সিক্রেট এজেন্ট। এবারও নতুন সৌদি সিনেমা, শিশুতোষ চলচ্চিত্র এবং ক্লাসিক সিনেমার জন্য আলাদা বিভাগ থাকছে।

  • মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে বাঁচানো গেল না

    মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে বাঁচানো গেল না

    নিজস্ব প্রতিবেদক : মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের শিশু বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।
    শিশুটির চিকিৎসা চলাকালীন বৃহস্পতিবার সকালে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃদস্পন্দন বন্ধ) হয়। প্রথম দুইবার তাকে স্থিতিশীল করা গেলেও তৃতীয়বার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সিএমএইচ-এর সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
    ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ মার্চ, যখন শিশুটি তার বোনের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে গভীর রাতে সে ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গত ৮ মার্চ সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়।
    ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে রয়েছেন শিশুটির ভগ্নিপতি সজিব (১৮), সজিবের ভাই রাতুল (১৭), তাদের বাবা হিটু মিয়া (৪২) এবং মা জাবেদা বেগম (৪০)।
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এক বিবৃতিতে তারা শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে।
    এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা আবারও উন্মোচিত করেছে। শিশুটির মৃত্যু সকলের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।

  • অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চেয়ারম্যান লিটুসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা

    অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চেয়ারম্যান লিটুসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা

    নিজস্ব প্রতিনিধি : যশোর উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটুসহ আটজনের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে মামলা হয়েছে। অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মুজিবার রহমান নামে এক ব্যক্তি এ মামলাটি করেছেন। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত মহর আলী শেখের ছেলে। বর্তমানে যশোর উপশহরের বসবাস করেন।

    সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি যশোর জোনের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন উপশহর এ-ব্লকের মৃত এতিম উন হকের ছেলে ইউপি মেম্বার জসিম উদ্দিন, সি-ব্লকের মোহাম্মদ খলিল ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন মিনু, মৃত মঞ্জুরুলের ছেলে সৈয়দ মুনসুর আলম, ১ নম্বর সেক্টরের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে শাহিন, মৃত মশিয়ার ড্রাইভারের ছেলে সজল ও একই এলাকার অনিক।

    মুজিবার রহমান মামলায় উল্লেখ করেছেন, আসামি রাবেয়া খাতুন মিনু তার পূর্ব পরিচিত। দুইজনের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। এ কারণে তারা উভয়ের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে কোনো একটি বিষয় নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হলে মুজিবার রহমানকে ক্ষতি করার জন্য চক্রান্ত করতে থাকেন মিনু। ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবার রহমান নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাবেয়া খাতুন মিনুর বাড়ির সামনে যান। এ সময় আসামি রাবেয়া খাতুন মিনুর ইন্ধনে অপর আসামিরা মুজিবার রহমানকে সেখান থেকে অপহরণ করেন।
    আসামিরা বাদীকে মোহাম্মদ খলিল ও রাবেয়া খাতুন মিনুর বাসায় নিয়ে আটকে রাখেন। এরপর আসামি সৈয়দ মুনসুর আলম ও এহসানুর রহমান লিটু তার মুখের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ধরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেন আসামিরা। টাকা না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন। টাকা পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সেসময় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন।