Blog

  • ময়মনসিংহ সদর ভূমি অফিসে রাজস্ব আদায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ

    ময়মনসিংহ সদর ভূমি অফিসে রাজস্ব আদায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ

    অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৫১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল ভূমি সেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের পাশাপাশি সাধারণ মহলেও প্রশংসিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।

    আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় সরেজমিনে ভূমি সেবার মান পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য জানা যায়।

    ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন কর থেকে ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৬২ টাকা। অনলাইনে আদায়কৃত নামজারি ফি থেকে ২ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার ১৭০ টাকা। চলনাদিত্ব (মিউটেশন) নবায়ন বাবদ ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৫৬ টাকা। ডিপি লিজ মানি থেকে ৫ লাখ ১ হাজার ৯৬৪ টাকা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

    এই পরিসংখানে গত ৩ বছরের মধ্যে এবার রাজস্ব আদায় রেকর্ড পরিমাণ। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মূল ভূমিকা হিসাবে কাজ করেছে।

    প্রশাসনের এধরনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে বলেও জানান সেবাপ্রার্থী ও নগরীর কাচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা মো. আইনল হকসহ আরো অনেকেই।

    তবে প্রশংসনীয় এ কাজটি জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতনতার জন্যই সম্ভব হয়েছে বলে জানান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।

    তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিত করে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এলক্ষ্যে ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা দ্রুত, সহজও হয়রানিমুক্ত ভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল সেবার প্রসারেও কাজ চলছে।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আজিমুদ্দিন বলেন, বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় প্রশংসনীয়। একজন কর্মকর্তা তার আত্মরিকতা এবং পরিশ্রম দিয়ে দায়িত্ব কর্তব্য পালন করলে দেশ ও মানুষ উপকৃত হয়।

  • জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের পর জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে রাজধানী হারারের কিছু এলাকায় এখনও সংযোগ পুনরায় চালুর কাজ চলছে।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংস্থা এ তথ্য জানায়।

    জিম্বাবুয়ে ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অথরিটি (জেসা) জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    বুলাওয়েও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জেসা জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার এসকমসহ চারটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রাত ১০টার মধ্যে দেশের অধিকাংশ প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে সফলভাবে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।’

    কম বৃষ্টিপাত এবং খরার কারণে জলাধারে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

  • চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে মঙ্গলবার ভূমিধসে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনও নিখোঁজ থাকা ১২ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গানসু প্রদেশের লংনান শহরের কাছে একটি গ্রামের এ ভূমিধসের ঘটনায় শুরুতে অন্তত ৩৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

    বেইজিং  থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, ‘উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ২১ জনকে খুঁজে বের করেছে। তাদের মধ্যে

    পাঁচজন জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও মারা গেছেন।’

  • সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

    সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন।

    দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।

    তিনি আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। এরপর পুরো মহড়া এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

    তিনি জানান, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন।

    প্রধানমন্ত্রী একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (Verbal Order) মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ (Raid) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

    এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন বলেও জানান জাহিদুল ইসলাম রনি।

    একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, পরে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

    সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।’

    জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • কবরে নেমপ্লেট লাগানো— ইসলাম কী বলে

    কবরে নেমপ্লেট লাগানো— ইসলাম কী বলে

    বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবর সহজে শনাক্ত করার জন্য নাম, পরিচয় বা ঠিকানাসংবলিত ছোট একটি ফলক বা নেমপ্লেট লাগানো দেখা যায়। অনেকেই জানতে চান, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন নামফলক ব্যবহার করা বৈধ কি না। এটি কি সুন্নাহসম্মত, নাকি শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ? এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহবিদদের বক্তব্য থেকে বিষয়টি সহজেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কবর চিহ্নিত করার জন্য নামফলক ব্যবহার

    ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কেবল কবরটি চিনে রাখার বা সহজে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ নামফলক, পাথর বা অন্য কোনো সহজ চিহ্ন ব্যবহার করা জায়েজ। এর উদ্দেশ্য যেন শুধু কবর শনাক্ত করা হয়, প্রদর্শন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়।

    এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল থেকেই সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর দাফনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি পাথর এনে তার কবরের মাথার পাশে স্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন—

    أَتَعَلَّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي، وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِي

    ‘এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের কবরটি চিহ্নিত করে রাখলাম এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে এর পাশে দাফন করব।’ (আবু দাউদ ৩২০৬)

    এই হাদিস থেকে আলেমরা দলিল গ্রহণ করেছেন যে, কবর চিহ্নিত করার জন্য একটি সাধারণ পাথর বা নামফলক ব্যবহার করা বৈধ।

    তবে কবরে বড় বড় কবিতা, স্তুতিবাক্য, কবিতা, আয়াত বা হাদিসের বাণী লিখে রাখা নিষিদ্ধ। কবর পাকা করাও নিষিদ্ধ। হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) কবর পাকা করা, তার উপর লেখা, কবরের উপর বাড়ি নির্মাণ করা এবং তা পদদলিত করা থেকে নিষেধ করেছেন। (তিরমিজি)

    আল্লাহর রাসুলের (সা.) ও সাহাবিদের যুগে কবর তো পাকা করা হতোই না বরং কবর অতিরিক্ত উঁচু করাও তারা অপছন্দ করতেন।

    ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তার সঙ্কলিত কিতাবুল আসারে লিখেছেন, আমরা কবরকে চুনকাম করা, পাকা করা, অথবা কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ করা, ঝান্ডা টানানো, কোনো কিছু লেখা ইত্যাদি কাজ মাকরুহ মনে করি। (কিতাবুল আসার লিমুহাম্মদ: ২/১৯১)

    যা থেকে বিরত থাকা উচিত

    যদিও কবর শনাক্ত করার জন্য সাধারণ চিহ্ন ব্যবহার করা অনুমোদিত, তবে কবরকে জাঁকজমকপূর্ণ করা, দামি মার্বেল, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা বা আভিজাত্য প্রকাশের উপকরণে সাজানো ইসলামের শিক্ষা নয়। কবর মানুষের শেষ ঠিকানা; তাই এখানে অহংকার, প্রতিযোগিতা বা বিলাসিতার কোনো স্থান নেই।

    একজন মুসলমানের উচিত কবরকে সরল ও সাধারণ রাখা এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, যা অপচয়, লোকদেখানো বা অহংকারের প্রকাশ ঘটায়।

    মৃত্যুর পর কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্য মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না। বরং তার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো জীবিতদের আন্তরিক দোয়া, ইস্তিগফার, সদকা এবং ইসালে সওয়াব। এসব আমলই আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও উপকারের কারণ হতে পারে।

    ইসলাম ভারসাম্য ও সহজতার ধর্ম। তাই কবরকে শনাক্ত করার প্রয়োজনে একটি সাধারণ নামফলক বা চিহ্ন ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত। তবে সেটি যেন কখনো প্রদর্শন, আভিজাত্য বা অপচয়ের মাধ্যম না হয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, একজন মৃত মুসলিমের প্রকৃত সম্মান কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়; বরং তার জন্য করা দোয়া, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের সওয়াব পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত।

  • অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করার প্রবণতায় লাগাম টানতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডেলিভারি রুম স্থাপন করতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

    আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণি অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    তিনি বলেন , একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো  নরমাল ডেলিভারি মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’- এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো এই ফাঁদে পা দেয়।

    তিনি বলেন, কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান করাতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

    ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানান,  কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজারই নারী এবং তাদের অধিকাংশই মিডওয়াইফারি কর্মী হবেন।