Blog

  • লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

    লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

    জেলার সীমান্ত থেকে ২ হাজার ৫০০টি ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ২৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    আজ রোববার দুপুরে ১৫ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন মাছানকুড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে থামার সংকেত দিলে তারা মোটরসাইকেল ও মাদক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২ হাজার ৫০০টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ২৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বাসস’কে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন সামনে রেখে  রোববার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ বিদায়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় তেহরানে লাখো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

    আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন।
    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম জাফর সোবহানি। ৯৭ বছর বয়সী এই আলেম পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান করেন।
    ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। জানাজার নামাজেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
    তবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অন্য তিন ছেলে মাসুদ, মোস্তফা ও মেইসাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
    রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনের শেষ দিকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স থেকে খামেনির মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।

    এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রোববার সকালে বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স এবং আশপাশের সড়ক শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

    তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যে ইরানের পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে যাওয়া শোকাহত মানুষদের খাবার ও পানীয় দেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার ও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

    ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এবং তার কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনের পাশে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। তাদের মধ্যে তার এক শিশু নাতনিও ছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, তেহরানে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ১ কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে তারা আশা করছেন।

    মিত্রদের উপস্থিতি-
    টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো সময় আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

    জানুয়ারিতে যুদ্ধের আগে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কঠোর দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো মানুষ নিহত হন। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনির শেষকৃত্যকে সরকার কতটা জনসমর্থন পাচ্ছে, তারও একটি পরীক্ষা হিসেবে ইরানের বাইরে দেখা হচ্ছে।

    শনিবার দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আজ বিভিন্ন স্থানে মানুষের আবেগ, অশ্রু এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ইরানি জাতি ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে তার অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।’

    তিনি বিশেষ করে ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ বলে অভিযোগ করেন।
    তিনি আরও বলেন, ‘মুসলমানরা প্রমাণ করেছে, তারা নিপীড়ন ও দাদাগিরির কাছে মাথা নত করবে না।’

    খামেনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের নীতি অনুসরণ করেছেন। তেহরান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহও রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করেছে। শেষকৃত্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং হামাসের মিত্র ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সোমবারের শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার খামেনির কফিন কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

    রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

    আগামী কয়েক দিনে তেহরানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এ কারণে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে আয়োজকরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। শনিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে উপস্থিত জনতার ওপর পানি ছিটিয়ে তাদের শীতল রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

  • পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর

    পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন ।

    তিনি আজ সকালে ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিটের পাশাপাশি একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটাকার্ডও প্রকাশ করা হয়েছে।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতিবছর বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড প্রকাশ করে। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং দিবসটির গুরুত্ব জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা।

  • কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    তিনি আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

    এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

    এ সময় তারেক রহমান কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

    সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

    উল্লেখ্য, কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে একটি বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা। এতে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ করে। কেউ নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নিঃসরণ করলে তাকে বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। আর যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমায় বা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। পরে এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর  আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই।  সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি  জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।  সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম।   আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা  আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের  আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা  সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে  কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে  তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি  প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল।  পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের  ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।’

    পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে  চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের  গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি।’

    তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য  একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

    অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ( পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।

    পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।

  • কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার:  সফিকুর রহমান কিরণ এমপি

    কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি

    শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরণ বলেছেন, কৃষিকে সমৃদ্ধশালী করতে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল উদ্ধার ও খনন করে কৃষির অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যার অংশ হিসেবে শরীয়তপুরে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা তরান্বিত করে কৃষির অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলায় অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এর আওতায় সেলাই মেশিন ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় তিনি কৃষি কাজ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, ওসি আবুল বাশার, সখিপুর থানার ওসি মো. মোফাজ্জল হোসাইনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, আজ ১২০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম করে শাকসবজির বীজ, ৬৩০ জন কৃষককে ১০ গ্রাম করে মরিচ বীজ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ জন কৃষকের মাঝে পিয়াজ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে শীতকালীন পিয়াজ বীজ উৎপাদনে চাষের আওতায় আসবে ৪ একর জমি।

    অনুষ্ঠানে জনপ্রতি ডিএপি ১০ কেজি ও এমওপি ১০ কেজি সহ ৫ কেজি করে ১১৪৫ জন কৃষককে রোপা আমন ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। এর ফলে রোপা আমন চাষের আওতায় ৬৪ হেক্টর জমি বাড়বে।

    এ ছাড়া ৭ শ ১৬ জনকে ৫ টি করে মোট ৩ হাজার ৫শ ৮০টি ফলের চারা বিতরণ করা হয়।

    নারীদের স্বাবলম্বী করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৮ জন দুস্থ নারীর মাঝে ১৮ সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।