Blog

  • গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    পিরোজপুরের কাউখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কাউখালী থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের শাজাহান হাওলাদারের ছেলে বাবু হাওলাদার (২৫) দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়ির পশ্চিম পাশে গাঁজা গাছ রোপণ করে তা পরিচর্যা করছিলেন। পরবর্তীতে ওই গাঁজা প্রক্রিয়াজাত করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার এসআই মহিউদ্দিন ও এসআই মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাবু হাওলাদারকে গাঁজা গাছসহ আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কাউখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

    গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ

    রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর অভিজাত এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন হয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনায় ব্যস্ত থাকা এই সরকারি দপ্তরকে ঘিরে এবার উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ।

    অভিযোগ রয়েছে, অফিসের এক নকল নবীশ কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অনিয়মের চক্র। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদমর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও অফিসের কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি শতাংশ কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো হয় এবং কাজ বিলম্বিত করা হয়। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

    একজন দলিল লেখক বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিলের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে কাজ শেষ করতে হয়।”

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    অভিযোগকারীদের দাবি, গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব শুধু অফিসের কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁর জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন? এর পেছনে কোনো শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

    গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি সেবা খাতে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

    গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব ও অভিযোগের নেপথ্যে কারা— তা জানতে চলছে অনুসন্ধান। বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে।

  • ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের

    ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

    প্যারাগুয়ের লুকে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবার দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট মার্কোসুরের নেতাদের বৈঠকে তিনি বলেন, এ চুক্তি তার কাছে ‘তিক্ত অনুভূতি’রেখে গেছে।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দফায় দফায় চলা আলোচনা শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।

    আসুনসিওনের উপকণ্ঠে অনুষ্ঠিত মার্কোসুর শীর্ষ সম্মেলনে পেনার বক্তব্যে চুক্তিতে নির্ধারিত রপ্তানি কোটার বণ্টন নিয়ে প্যারাগুয়ে অসন্তুষ্টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দেশটির ধারণা, এ ব্যবস্থায় জোটের অন্য সদস্যরা বেশি সুবিধা পেয়েছে।

    পেনা বলেন, ‘সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।’

    বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুল্ক-সুবিধাসহ মার্কোসুরের জন্য আমদানি কোটা নির্ধারণ করবে। এরপর সেই কোটা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা ঠিক করবে মার্কোসুর।

    ইইউ চুক্তিটি অনুমোদনের আগে মার্কোসুরের সব অংশীদারের মধ্যে সমানভাবে কোটা বণ্টনের আহ্বান জানান পেনা। তিনি একে ‘ন্যায়বিচারের প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, ‘মার্কোসুর যদি বাইরের বিশ্বের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে চায়, তাহলে আগে নিজেদের ন্যায়সঙ্গত হতে হবে।’

    বৈঠকে মার্কোসুরভুক্ত অন্য দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এবং উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সহযোগী সদস্য দেশ চিলি ও ইকুয়েডরের নেতারাও এতে অংশ নেন।

    মার্কোসুরের সদস্য দেশ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেয়ি অবশ্য বৈঠকে যোগ দেননি। সরকারের শীর্ষ এক সহকারীর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সফর বাতিল করেন।

  • তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    অনলাইন ডেস্ক: তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’।

    নতুন উপজেলা তিনটি হলো চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। নতুন থানাটি হলো চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

    আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

    নিকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে গঠন করা হয়েছে ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা। আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।

    এছাড়া চট্টগ্রারের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা’ থানা।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া

    কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া

    শিক্ষাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব মো. মোস্তাক মিয়া।

    সম্প্রতি তিনি কুমিল্লা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, অজিতগুহ কলেজ, কুমিল্লা জিলা স্কুল এবং পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড হাইস্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত কম্পিউটার ল্যাব সংস্কার, নতুন কম্পিউটার সরবরাহ এবং স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ গড়ে তুলতে ইন্টারেক্টিভ প্যানেল স্থাপনের চলমান কাজ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

    পরিদর্শনকালে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের মান এবং নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবায়নাধীন প্রতিটি কাজ সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অপরিহার্য। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল পাঠদান নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও ইন্টারেক্টিভ প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও কার্যকরভাবে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে এবং শিক্ষকদের পাঠদান হবে আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।
    পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, পাঠদানের মান উন্নত হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

    এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. গোলাম জাকারিয়া, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    জেলা পরিষদের এ উন্নয়ন কার্যক্রম কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, উদ্ভাবনী ও স্মার্ট নাগরিক গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে কুমিল্লার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশে এগিয়ে যাবে।

  • ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ

    ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ

    দীর্ঘ ২৫ বছর পর টেস্ট ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় সিরিজের একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হারের লজ্জা পেল সফরকারী বাংলাদেশ।

    ২০০১ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ইনিংস ও ৩২ রানে হার বরণ করেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ২০১৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম টেস্ট হারল বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংস ব্যবধান বিবেচনায় এটিই সবচেয়ে বড় জয় জিম্বাবুয়ের। এর আগে ২০২৫ সালে হারারেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ও ৭৩ রানে জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

    হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রান করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২৩০ রান প্রয়োজন ছিল টাইগারদের।

    তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২১ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ২ চারে ২৩ রান করেন জয়।

    ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ৯ রানে অপরাজিত থাকা মোমিনুল হক। মুজারাবানির বলে স্লিপে ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন ২টি চারে ১৩ রান করা মোমিনুল।

    ৪৬ রানে ৩ উইকেট পতনের পর ৬১ রানের জুটিতে দলের রান ১শ পার করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান জিম্বাবুয়ের পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি। ফুলটস ডেলিভারিতে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন শান্ত। ৩০ রানের ইনিংস খেলার পথে চারবার বলকে সীমানা ছাড়া করেছেন টাইগার দলনেতা।

    মধ্যাহ্ন বিরতির আগ মুর্হূতে উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন মুশফিক। মুজারাবানির লেগ সাইডের বলে ফ্লিক করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশি। ৬২ বল খেলে উইকেটে থিতু হয়ে ৪টি চারে ৩৪ রান করেন তিনি।

    ১১৭ রানে পঞ্চম উইকেট পতনে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। দলকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল দুই অভিষিক্ত ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ও অমিত হাসানের। কিন্তু এই ইনিংসেও ব্যর্থ হন তারা। হৃদয় ৯ রানে থামলেও ৫টি চারে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন অমিত।

    দলীয় ১৬২ রানের মধ্যে নবম উইকেট পতনের পর শেষ উইকেট জুটিতে ২৩ রান যোগ করে বাংলাদেশের হারের ব্যবধান কমান হাসান ও এবাদত। শেষ ব্যাটার হিসেবে হাসান ১৫ রানে আউট হলে ১৮৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত।

    এর মাধ্যমে টানা চার টেস্ট জয়ের পর অবশেষে হারের দেখা পেল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে কলম্বোতে শ্রীলংকার কাছে ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা।

    মুজারাবানি ৪টি এবং এনগারাভা ৩টি উইকেট নেন।

    প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানের সুবাদে ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পান জিম্বাবুয়ের ইনোসেন্ট কাইয়া।

    আগামী ৬ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। এরপর ১৫ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দু’দল।