Blog

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি।

    আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানিয়েছেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ব্রেক সাঈদ আল-সামিখ উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

    যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

    যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    বঙ্গভবনের প্রেস উইং এ কথা জানায়।

    বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস (অষরংড়হ ঔ ঈৎড়ংং) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

    চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে যুক্তরাজ্যে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

    গত ১২ মে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়।

    এ সময় হৃদযন্ত্রে একটি গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং সফলভাবে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

    বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

    যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণকালেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সামারি ও নথি ডিজিটালি অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন ।

    এছাড়া, সফরকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সাথে রাষ্ট্রপতির একটি অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

  • এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

    এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভায় সভাপতিত্ব করছেন।

    আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

    সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

    সভা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত।  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভা শেষে ‘সংবাদ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

  • নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন

    নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মোঃ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ‘নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ নিম্নরূপে পুনর্গঠন করেছে।

    কমিটির সভাপতি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সহ-সভাপতি হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা।

    কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ মহাপরিদর্শক,  প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এর মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) এর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এর মহাপরিচালক, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর মহাপরিচালক, এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ অব পুলিশ (এসবি) এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।

    সহায়তাদানকারী কর্মকর্তাগণ হলেন, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা, তবে তিনি কমিটি কর্তৃক আহবান করা হলে যোগদান করবেন এবং কমিটির চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    সহায়তাকারী আরও সদস্য হলেন , মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

    কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি, ক্ষেত্র ও পরিধি নির্ধারণ করবে।

    নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের ওপর একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

    দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতঃ এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকিকরণ করাও কমিটির কার্য পরিধির অন্তর্ভুক্ত।

    নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাসমূহের কার্যপরিধি এবং ক্ষেত্র নির্ধারণ করবে।

    নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করতঃ প্রয়োজনে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়নে সুপারিশকরণ  এবং নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সকল ধরনের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র, সংস্থা ও অনলাইন প্লাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদনুযায়ী গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন ও নির্দেশনা প্রদান করবে কমিটি।

    মন্ত্রী পরিষদের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে,  কমিটির সভা প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটি প্রয়োজন ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

    কমিটির সচিবালয়
    জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) কর্তৃক কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করা হবে।

    তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার

    বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার

    বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।

    আজ (সোমবার) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসায় ড. আলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান আরিফুল হক।

    মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকে দু’দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

    আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।

    ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর দোহা কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী নেবে।

    কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য দেশটির শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সফররত শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

    এসময় ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।

    তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নেওয়ার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    তিনি আরও বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে ২টি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    এছাড়াও বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

    যৌথ কমিটির এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেয়ারা আলী মাহদি সাঈদ আল কাহতানি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম সংক্রমণ

    হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম সংক্রমণ

    সরকারের দ্রুত হামের টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম সংক্রমণ ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ প্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

    হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া সারাদেশেই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই প্রবণতা ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে, কারণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে জানান, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাসস সংবাদদাতা জানান, জানুয়ারিতে দুই এবং ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হলেও মার্চে হঠাৎ করেই হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এপ্রিলে পরিস্থিতি অনেকটা মহামারীর রূপ নেয়। প্রতিদিন প্রায় শত রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিদিন আট থেকে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বাসস’কে জানান, জেলায় হাম রোগের প্রকোপ অনেকটা কমে এসেছে।

    জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, সম্প্রতি ভর্তি সংখ্যা দেখে বলা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ কমে আসছে।

    নাটোর থেকে বাসস সংবাদদাতা জানান, জেলার সদর উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে কোনো মৃত্যু বা জটিলতার খবর নেই।

    নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বাসস’কে বলেন, নাটোর সদর উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেড়েছে এবং হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ বাসস’কে জানান, এখনও শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে। মার্চে প্রতিদিন ১৯ থেকে ২১ জন হাম রোগী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হতো। বর্তমানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।