Blog

  • ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

    আজ বুধবার সকালে সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন’ সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্বের জন্যে ৪০ মিনিট নির্ধারিত ছিলো।  প্রধানমন্ত্রীর জন্য বুধবার ৮টি প্রশ্ন ছিলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদদের ২টি প্রশ্ন ও সম্পুরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

    ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং  গ্রীন সিটি’ করতে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল/সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ হতে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর হতে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নীচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে জানান, ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রিন সিটি’ রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
    এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সেগুলো হচ্ছে:

    ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

    বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

    ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঢাকা ও আশেপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫ শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।

    ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকার সহায়তা দেবে।

    আজ সকালে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    কলিম উদ্দিন জরুরি জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কৃষকরা মাঠে নেমে কষ্ট করে ধান কাটছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

    উত্তরে কলিম উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত তিনদিন আগে আবহাওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমি সুনামগঞ্জসহ হাওড় অঞ্চলের তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বৃষ্টিপাত হলে তারা যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’

    হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশা ও ক্ষতিকে খুবই বেদনাদায়ক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে এই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেও আমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছি। তাকে নির্দেশনা দিয়ে এসেছি যে হাওড়ের এই তিনটি জেলাসহ ময়মনসিংহের কিছু অঞ্চল প্রবল বর্ষণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।  এই এলাকাগুলোতে যে সকল কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের খুঁজে বের করে আগামী তিন মাস সহায়তা দেয়া হবে।

  • সন্ধ্যার মধ্যে ২০ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    সন্ধ্যার মধ্যে ২০ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    দেশের ২০ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা এ তথ্য জানান।

    সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কালবৈশাখীর সময় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • সিরিজ জয়ের ম্যাচে যেমন হতে পারে বাংলাদেশ একাদশ

    সিরিজ জয়ের ম্যাচে যেমন হতে পারে বাংলাদেশ একাদশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ভালো ছন্দে থাকা বাংলাদেশ আজকের ম্যাচ জিতে আগেভাগেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চাইবে। অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে আজকের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কিউইরা।

    তিন ম্যাচের এই সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ (বুধবার) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। আগের ম্যাচে জয় পাওয়া দলটিই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে শক্তির বিচারে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে তারা চতুর্থ স্থানে, তাদের রেটিং পয়েন্ট ২৪৮। অন্যদিকে ২২৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে নিচের অবস্থানে। দুই দলের মুখোমুখি ২১ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টিতে, হেরেছে ১৫টিতে, আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

    তবে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে স্বাগতিকরা কিছুটা এগিয়ে। কারণ তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড এই সফরে এসেছে।

    একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

    বাংলাদেশ: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, শরিফুল ইসলাম, রিপন মণ্ডল।

    নিউজিল্যান্ড: নিক কেলি (অধিনায়ক), টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি/জেডন লেনক্স, বেন লিস্টার, ম্যাট ফিশার।

  • ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প

    ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যাতে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজা চার্লস আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। একই দিন হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    হোয়াইট হাউসের এ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজা চার্লস তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তার প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানকার অবস্থা ‘খুবই ইতিবাচক’ দিকে যাচ্ছে।

    বক্তব্যে ইরানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সামরিকভাবে ওই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি। আমরা কখনোই তাদের পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে দেব না।’

    এদিকে কংগ্রেসে ভাষণে চার্লস বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।

    রাজা আরও বলেন, তিনি তাদের রাজপরিবারের ১৯তম শাসক, যিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়গুলো নিয়ে খোঁজখবর রাখেন।

    তিনি বলেন, ‘তাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি গভীর সম্মান নিয়ে আমি আজ এখানে এসেছি। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব মানুষের কথা তুলে ধরা হয় এবং তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়।’

  • ৯ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

    ৯ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

    ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগেই উপহার দিল এক রোমাঞ্চকর লড়াই। পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল ফরাসি ক্লাবটি। একই সঙ্গে সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়ে এই দুই দল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের গতি। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে বায়ার্ন শুরুতে এগিয়ে গেলেও পিএসজি এক পর্যায়ে ৫-২ ব্যবধানে লিড নেয়। তবে বায়ার্ন দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান ৫-৪ এ নামিয়ে আনলে পরের সপ্তাহের মিউনিখ লেগের রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে।

    খেলার শুরুতেই বায়ার্নের আলফনসো ডেভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করার পর পাল্টা আক্রমণে লুইস দিয়াজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। গোলরক্ষক সাফোনভকে ভুল পথে পাঠিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। এর মাধ্যমে রবার্ট লেভানদোভস্কির পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বায়ার্নের হয়ে টানা ৫টি নকআউট ম্যাচে গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করেন ইংলিশ অধিনায়ক।

    পিএসজি সমতায় ফেরে ২৪ মিনিটে। উসমান ডেম্বেলে সহজ সুযোগ মিস করার পর খভিচা কভারাস্খেলিয়া দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন। এরপর জোয়াও নেভেসের হেডে লিড নেয় পিএসজি। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসে একক প্রচেষ্টায় বায়ার্নকে সমতায় ফেরান (২-২)। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ কিকে বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে ডেম্বেলে গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিএসজির তাণ্ডব শুরু হয়। আশরাফ হাকিমির পাস থেকে কভারাস্খেলিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এবং এর দুই মিনিট পর ডেম্বেলে অসাধারণ এক শটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলেন। কিন্তু বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। জোশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে দায়ো উপামেকানো হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর কেইনের পাস থেকে লুইস দিয়াজ লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৪। শেষ দিকে সেনি মায়ুলু পিএসজির হয়ে এবং কিমিখ বায়ার্নের হয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করলে ব্যবধান আর বাড়েনি।  গত মৌসুমে বার্সেলোনা বনাম ইন্টার মিলানের সেই মহাকাব্যিক লড়াইকেও ছাপিয়ে গেল এই ম্যাচ। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আয়াক্সের কাছে ৫-২ গোলে হারার পর এই প্রথম ইউরোপীয় কোনো আসরে ৫ গোল হজম করল বায়ার্ন মিউনিখ।

    অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে পিএসজি চারবার কোনো এক ম্যাচে ৫ বা তার বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখাল, যা ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলের গড়া রেকর্ডের সমান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭ গোল হয়েছিল, যা আজ ৯ গোলে গিয়ে ঠেকল। বিস্ময়কর তথ্য হলো, ম্যাচে মোট ২২টি শটের মধ্যে ৪০.১ শতাংশই গোলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা বিশ্বমানের ফিনিশিংয়ের প্রমাণ দেয়।

    আগামী সপ্তাহে বায়ার্নের ঘরের মাঠ মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কার হাতে উঠবে ফাইনালের টিকিট। তবে প্রথম লেগের এই নয় গোলের থ্রিলার ফুটবল প্রেমীদের মনে অনেক দিন গেঁথে থাকবে।