Blog

  • তাপপ্রবাহের মধ্যে যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে

    তাপপ্রবাহের মধ্যে যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে

    দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয় এ তথ্য।

    বর্তমানে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী দুই দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তৃতীয় দিন (১৪ এপ্রিল) থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ঢাকায় বর্তমানে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে।

  • হরমুজে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা, ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

    হরমুজে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা, ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

    ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।

    এর আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানে বৈঠকের খবরের মধ্যে জুনে সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল।

    এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহও আটকে দিতে পারে।

    এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধ শেষ করার কোনো সমাধান না আসা এবং দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম বেশি থাকতে পারে। ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি ইঙ্গিত দেন।

    এদিকে, ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে ক্ষতির মূল্যায়নের কয়েকদিন পর সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে।

  • পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে পটুয়াখালীর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

    পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে পটুয়াখালীর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বর্ষবরণ আয়োজনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎশিল্পীদের। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

    বর্ষবরণ উপলক্ষে তারা তৈরি করছেন পান্তা খাওয়ার থালা-বাসন, মগ, মিষ্টির পাতিল, ফুলদানি, ডিনার সেট, কাপ-পিরিচসহ নানা ধরনের মাটির পণ্য।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে পালপাড়া এ অঞ্চলের মাটির পণ্যের জন্য পরিচিত। একসময় এখানকার মাটির খেলনা বৈশাখী মেলায় বিক্রি হতো পটুয়াখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার, নকশার আধুনিকতা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ায় এই শিল্পের বাজার এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে শুধু খেলনা নয়, বরং নান্দনিক শোপিস, ফুলদানি, ডিনার সেট, মগ, কাপ-পিরিচ ও গৃহসজ্জার নানা উপকরণও তৈরি হচ্ছে এখানে।

    পালপাড়ার তৈরি মাটির পণ্য এখন ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন বড় বিপণিবিতানে বিক্রি হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, গত কয়েক বছর ধরে এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা পূরণ করে আরও উন্নতমানের মৃৎপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

    নববর্ষকে সামনে রেখে পালপাড়ার কারিগররা অর্ডারকৃত পণ্য তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। কেউ ব্যস্ত রঙের কাজে, কেউ পণ্য শুকানো ও পোড়ানোর কাজে, আবার কেউ বাজারজাতকরণ এবং সরবরাহের প্রস্তুতিতে সময় পার করছেন। তবে কাজের চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তাও কম নয় কারিগরদের।

    মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর অভিযোগ, এ বছর মাটি, জ্বালানি ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    পালপাড়ার মৃৎশিল্পের অন্যতম রূপকার ছিলেন প্রয়াত রাজেশ্বর পাল। একসময় তিনি বৈশাখী মেলায় ঘুরে ঘুরে মাটির খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতেন। তিনি আজ বেঁচে না থাকলেও তার প্রতিষ্ঠিত কারখানার পণ্য এখনও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আড়ংসহ বিভিন্ন বড় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার হাত ধরেই পালপাড়ার মৃৎশিল্প আজ নতুন পরিচিতি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

    বর্তমানে পালপাড়ার এই মৃৎশিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে অর্ধশত পরিবার। একসময় এখানে ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৫০ জনে। তবুও যারা এই শিল্পে টিকে আছেন, তারা আশা ছাড়েননি।

    বাউফল পালপাড়া মৃৎশিল্প সমিতির সভাপতি বিশ্বেশ্বর পাল বাসসকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ক্রেতা ও পাইকারদের ভিড় বেড়েছে। আমাদের পণ্য ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে বিক্রি হয়। দেশের বাইরেও আমাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। সরকারি আর্থিক সহায়তা ও কাঁচামাল সহজলভ্য হলে আমরা আরও বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারতাম। বর্তমানে ভালো মানের মাটির সংকট রয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় সমস্যা।’

    এ বিষয়ে বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বাসসকে বলেন, ‘পালপাড়ার মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এই শিল্পের যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তবে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে মৃৎশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ শিল্প ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে বিকশিত হতে পারবে।’

    শুধু বর্ষবরণ নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান, এমনকি ঘরের শোভা বাড়াতেও দিন দিন পালপাড়ার মাটির পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ঐতিহ্য আর নান্দনিকতার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত সহায়তা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পটুয়াখালীর পালপাড়ার মৃৎশিল্প দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

    এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বাসসকে বলেন, ‘পালপাড়ার মৃৎশিল্প আমাদের এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় শিল্প। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে এখানকার মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ শিল্প আরও বিকশিত হয়ে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’

  • ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করায় এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু

    ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করায় এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্যের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শনিবার তিনি এ সমালোচনা করেন।

    একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইসরাইল।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এমন ‘সম্ভাব্য উসকানি ও নাশকতা’ হতে পারে যা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কারা চুক্তি ভঙ্গের চেষ্টা করতে পারে তা উল্লেখ করেননি।

    গতকাল শনিবার এরদোগানের এই মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু তুর্কি নেতার সমালোচনা করেন।

    তিনি এক্স-এ এক বার্তায় জানান, ‘আমার নেতৃত্বে ইসরাইল ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান ইরানকে ‘সহযোগিতা’ করছেন কুর্দি নাগরিকদের হত্যা করেছেন।’

    এরদোয়ান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘যে কোনো পরিস্থিতিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়’ এবং তুরস্ক এটি বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন দেবে।’

    তুরস্ক ইসরাইলের কড়া সমালোচক হলেও মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে এই সংঘাতে যুদ্ধবিরতি আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেয়।

    পরে শনিবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও এক্স-এ বার্তায় এরদোগানের সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেন।

    তিনি বলেন, এরদোগান ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় তুর্কি ভূখণ্ডে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি এবং এখন নিজেকে কাগুজে বাঘ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তিনি এখন ইহুদি বিদ্বেষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এবং তুরস্কে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তথাকথিত বিচার প্রক্রিয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এটা হাস্যকর। মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন ব্যক্তি, যিনি কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন, এখন ইসরাইলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন, যখন ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় লড়ছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইসরাইল শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে আত্মরক্ষা চালিয়ে যাবে এবং তার (এরদোগানের) উচিত চুপ থাকা।’

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পর রোববার তিনি বলেন, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

    ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়,ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক অঙ্গীকার’ চাইছিল—যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব-এর পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকেও এমন অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।

    তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সময় দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে।

    আলোচনার আয়োজক পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে এবং উভয় পক্ষকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এক বৈঠকেই চুক্তি হবে—এমন আশা কেউই করেনি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে।

    আলোচনায় দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়ে অংশ নেয়। হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়েও চাপ তৈরি হয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাঝেই দাবি করেন, ইরানি নেতাদের হত্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না—কারণ আমরা জিতেছি।’

    প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেন, এখনো কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি।

    ‘আমরা একটি সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি—এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়,’ বলেন তিনি।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ ভবিষ্যতেও সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা জরুরি।

    আলোচনায় ইরানের ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মার্কিন দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

    চুক্তির পথে প্রধান বাধা

    যুদ্ধ শেষের যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, ইসলামাবাদে এসব বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

    শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালীতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে এবং সতর্ক করে দিয়েছে, এমন কিছু হলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ড জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা কেবল ‘নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক জাহাজের’ জন্য প্রযোজ্য।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিজেরা ব্যবহার না করলেও প্রণালী খুলে দেব, কারণ অনেক দেশ এটি ব্যবহার করে—তারা হয় ভীত, নয় দুর্বল, নয়তো কৃপণ।’

    লেবানন ইস্যুতে জটিলতা

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা সবসময়ই ‘ব্যর্থতা ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে চিহ্নিত।

    অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরান সদিচ্ছা দেখালে যুক্তরাষ্ট্রও আন্তরিকভাবে আলোচনা করবে, তবে ‘খেলতে চাইলে’ তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

    ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পৃথক আলোচনা করবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এমন একটি শান্তিচুক্তি চান, যা ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে’।

    তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বরং বৈরুতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।

  • কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    ভারতের কিংবদন্তি  সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (রোববার) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় বুকের সংক্রমণ ও শারীরিক অবসাদের কারণে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে।

    ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছে।

    আশা ভোসলের বহুমুখী প্রতিভার কারণে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ আট দশকের কর্মজীবনে তিনি হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন।

    ভারতীয় সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    এছাড়াও দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ এবং ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।

    ১৯৩৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। চার বোনের মধ্যে লতা, উষা ও আশা প্লেব্যাক শিল্পী হয়েছিলেন, মীনা হয়েছিলেন সুরকার। ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরও সংগীতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়েছিলেন।