Category: আন্তর্জাতিক

  • হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের আলোচনা

    হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের আলোচনা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

    শনিবার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জাহাজ চলাচলের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘চীন, জাপান ও পাকিস্তানসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের পর আজ আমরা তথ্য পেয়েছি যে ইউরোপীয়রাও প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেতে রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’

    তবে কোন কোন দেশ এ আলোচনায় রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশ বন্ধ করে দেয় ইরান।

    গত ৮ এপ্রিল থেকে সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

    এই জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়িয়েছে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

    স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। এছাড়া আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এ রুট ব্যবহার করে।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরান চীনের জাহাজসহ কয়েক ডজন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

    রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে জানায়, ’ইরানের প্রণালী ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ নিয়ে সমঝোতার পর, এসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বারবার বলছে, এই প্রণালীতে নৌ চলাচল আর ‘যুদ্ধপূর্ব অবস্থায়’ ফিরবে না।

    গত মাসে তেহরান জানায়, জলপথ ব্যবহারের জন্য আরোপ করা টোল থেকে তারা প্রথমবারের মতো আয় করেছে।

    শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান ‘পেশাদার ব্যবস্থা’ প্রস্তুত করেছে।

    তিনি বলেন, এটি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

    আজিজি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ ও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারীরাই সুবিধা পাবে।’
    তিনি জানান, বিশেষায়িত সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফিও নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘তথাকথিত ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’-এর পরিচালকদের জন্য এই পথ বন্ধই থাকবে।’

    এতে তিনি হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেন।

  • কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব : ৮০ জনেরও বেশি মৃত্যু

    কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব : ৮০ জনেরও বেশি মৃত্যু

    ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

    পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি আফ্রিকা) শনিবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সংক্রামক এই রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৩৩৬টি সন্দেহজনক সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত  করা হয়েছে।

    জেনেভাভিত্তিক ডব্লিউএইচও রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনের কারণে ঘটছে এবং এটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার অধীনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরের জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে সংস্থাটি এটিকে মহামারী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও সংক্রমণের বিস্তার এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে সংস্থাটি ২০২৪ সালে চালু হওয়া সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘মহামারি অবস্থা’ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

    আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা বড় পরিসরে জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
    সংস্থাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।

    ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা বলেছেন, ‘এই ভাইরাসের কোনো টিকা নেই এবং নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাও নেই। এই ধরনের ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।’

    ২০০৭ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ধরনের ইবোলায় প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজন কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

    বর্তমানে শুধু ‘জাইর’ ধরনের ইবোলার টিকা রয়েছে। ১৯৭৬ সালে শনাক্ত হওয়া এই ধরনটির মৃত্যুহার ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

    সিডিসি আফ্রিকার তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুক্রবার উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্ব ডিআরসি’র ইতুরি প্রদেশে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধি আইজ্যাক নিয়াকুলিন্দা এএফপিকে ফোনে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে মানুষকে মরতে দেখছি।’

    তিনি বলেন, আক্রান্তদের আলাদা করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা বাড়িতেই মারা যাচ্ছে আর পরিবারের সদস্যরাই লাশ স্পর্শ করছেন।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাম্বা জানান, প্রথম শনাক্ত রোগী ছিলেন একজন নার্স। তিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলাসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আসেন।

    ইবোলার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, রক্তক্ষরণ ও বমি।

    সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

    এটি ডিআর কঙ্গোতে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

    ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, প্রাথমিক নমুনায় উচ্চ সংক্রমণ হার, দুই দেশে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সব মিলিয়ে বর্তমানে শনাক্ত সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    টিকা ও চিকিৎসার উন্নতির পরও গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলার কারণে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত আগস্টে দেশটির মধ্যাঞ্চলে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।

    ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিআর কঙ্গোর সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

    বাদুড় থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা ইবোলা ভাইরাসে তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হতে পারে।

    ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, গত অর্ধশতকে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ছিল ২৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে।

    সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ বা রক্তের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়।
    উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন। ভাইরাসটির সুপ্তিকাল সর্বোচ্চ ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

  • ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে পশ্চিম তীরে নিহত ১

    ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে পশ্চিম তীরে নিহত ১

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে জেনিন শরণার্থী শিবিরের উপকণ্ঠে শনিবার ইসরাইলি বাহিনী গুলি করে এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রামাল্লাহর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম নুর আল-দিন কামাল হাসান ফায়াদ।

    তার বয়স ৩৪ বছর বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জেনিন শিবিরে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ওই ব্যক্তি।

    ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, জেনিনে তাদের দল এমন এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে, যার শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন ছিল না। তার উরুতে গুলির আঘাত ছিল।

    ইসরাইল জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে উত্তর ফিলিস্তিনের একাধিক শরণার্থী শিবিরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

    ‘আয়রন ওয়াল’ নামে পরিচিত এই অভিযান জেনিন ও তুলকারেম শিবিরকে লক্ষ্য করেছে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

    ইসরাইলি সেনারা জেনিন শিবিরকে ঘিরে রেখেছে, ফলে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা কেবল সীমিতভাবে তাদের বাড়িঘর ও সম্পদ দেখতে যেতে পারছেন।

    শরণার্থী শিবিরগুলো ১৯৪৮ সালের প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর গঠিত হয়, যখন বহু ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বা বিতাড়িত হতে বাধ্য হন।

  • ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর নিজেকে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

    ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর নিজেকে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

    তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ান একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ’।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটি এ ঘোষণা দেয়।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীন নয়।’

    ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর, মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।

    তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্ত্র বিক্রয় শুধুমাত্র ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করে।

    এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিং সফর শেষে দেশে ফেরেন।

    ওই সফরে সি চিনপিং ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন যেন তিনি স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে সমর্থন না দেন।

    তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখন্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন।

  • জাতিসংঘে নারী মহাসচিব প্রার্থী ইকুয়েডরের এসপিনোসার প্রচারণা শুরু

    জাতিসংঘে নারী মহাসচিব প্রার্থী ইকুয়েডরের এসপিনোসার প্রচারণা শুরু

    ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন।

    জাতিসংঘের শীর্ষ পদে একজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া ‘ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের’ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন এসপিনোসা

    জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    বর্তমানে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার জন। তাদের মধ্যে আরও দুজন নারী রয়েছেন।

    এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসপিনোসা বলেন, জাতিসংঘের প্রতি তার ‘গভীর ভালোবাসা’ রয়েছে।

    তিনি বলেন, অনেকে বলেন, এখন সময় এসেছে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একজন নারী আসার। আর আমি মনে করি, এটি ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

    এসপিনোসা আরও বলেন, তবে আমি এটিকে যোগ্যতার বিষয় হিসেবেও দেখি। জাতিসংঘের সেবায় অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

    এসপিনোসার ভাষায়, ‘বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে এই সম্ভাবনার বাইরে রাখা যায় না।’

    তিনি আরও বলেন, বিপজ্জনক সময়ে ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির’ প্রয়োজন রয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত বেড়ে যাওয়ার মধ্যে জাতিসংঘের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকটে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে।

    এসপিনোসা বলেন, ‘জাতিসংঘকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। উল্টোটা নয়।’

    বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঘোষিত সংস্কারের চেয়েও আরও উচ্চাভিলাষী পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের আগাম সংকেত শনাক্ত ও সতর্ক করতে একটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সমর্থনে জমা দেওয়া তার ‘ভিশন’ নথিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

    এসপিনোসা বলেন, ‘এটি কঠিন দায়িত্ব। তবে যদি আপনি কাজটি করতে জানেন ও নিজের নেতৃত্বের ধরনে আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে জাতিসংঘ একবিংশ শতাব্দীকে আরও আশাবাদ ও সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখতে পারবে।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তন কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। বরং ‘দৃঢ় নেতৃত্বের’ অধীনে ‘রাজনৈতিক গতি’ তৈরি করেই তা সম্ভব।

    হুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেও এসপিনোসা মনে করেন, ‘মানবজাতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘই একমাত্র সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম।’

    নিজের প্রার্থিতা প্রচারে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।

    এ পদে দায়িত্ব পালন করা মাত্র পাঁচ জন নারীর একজন তিনি।

    তবে প্রতিদ্বন্দ্বী চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান ও সেনেগালের ম্যাকি সালের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাননি এসপিনোসা।

  • কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

    কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   কাতারের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

    রোববার ভোরে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কাতারের রাজধানী দোহার উত্তর-পূর্বে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে  ‘অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র’ জাহাজটিকে আঘাত হানে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    সংস্থাটি আরও জানায়, অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজের কোনো ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি।

    সংস্থাটি জানায়, ঘটনাটির পেছনে কে বা কী জড়িত তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।