Category: আন্তর্জাতিক

  • আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

    আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

    যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

    এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এ হামলার সময়ই যুদ্ধ বন্ধে সর্বশেষ দফার আলোচনায় অংশ নিতে শীর্ষ ইরানি আলোচকরা কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

    মার্কিন হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

    সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষায় দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।’

    তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযানও ছিল।

    হামলার পরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সমঝোতার পথ এখনও খোলা আছে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

    ভারত সফরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। প্রাথমিক নথির ভাষা নিয়ে এখনও অনেক আলোচনা চলছে। তাই আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’

    হামলার প্রভাব নিয়ে মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যেকোনোভাবেই উন্মুক্ত রাখা উচিত।

    সেখানে যা হচ্ছে, তা বেআইনি, অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বের জন্য টেকসই নয়।’

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের দিকে বন্দর আব্বাসের আশপাশে কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই বন্দর নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধ অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে নতুন হামলায় যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেলেও তা ১শ’ ডলারের নিচেই ছিল। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে।

    এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    কারণ ইরান আগেই জানিয়েছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধ যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় থাকতে হবে।

    -পারমাণবিক জ্বালানি ধ্বংসের দাবি—

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানেই তা ধ্বংস করা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি ‘অবিলম্বে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। অন্যথায় আন্তর্জাতিক তদারকিতে ইরানেই তা ধ্বংস করতে হবে।’

    তবে এটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ কি না, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি যে ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের’ কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ১৯৭৪ সালে বিলুপ্ত হয়।

    এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, বাহরাইন ও জর্ডানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবেই তিনি এ প্রস্তাব দেন।

    ২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও সুদান এ চুক্তিতে সই করেছে।

    তবে মধ্যপ্রাচ্যের বহু অঞ্চলে এখনও আব্রাহাম চুক্তিটি তেমনভাবে জনসমর্থন পায়নি। বিশেষ করে, এতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের বিষয়টি না থাকায় সমালোচনা রয়েছে।

    সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না।

    -তাৎক্ষণিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই-

    ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের আনা জ্যাকবস বলেন, ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা উপসাগরীয় দেশগুলোর কম।

    তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে।

    এরপরও তিনি আশা করছেন আরব দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ দেবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তা করবে না।

    ইরানে হামলার আগে রুবিও ইঙ্গিত দেন, সোমবারের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘বেশিরভাগ বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।’ তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘খুব শিগগিরই’ চুক্তি হচ্ছে।

    এদিকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার পর লেবাননে ইসরাইলি অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

    তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ‘পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে।’ ওয়াশিংটনও একই অবস্থান নিয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দীর্ঘদিনের মার্কিন দাবি থাকলেও, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক সমঝোতার পরের ধাপে করা হবে।

  • ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

    ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সত্ত্বেও মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মার্কিন তেলের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২ টা ৩০ দিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫.৪৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৩৩ ডলারে নেমে আসে।

    তবে উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ায় তেলের দাম ১শ ডলারের নিচে নেমে আসে।

    যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর বাজারে এই প্রত্যাশা তৈরি হয়।

    কিন্তু যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ আলোচকরা দোহায় পৌঁছানোর পরপরই ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনোর কাজে নিয়োজিত নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতে এসব হামলা ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে চালানো হয়েছে।

    কিন্তু এই হামলাগুলো গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে  হুমকির মুখে ফেলেছে।

  • সোমবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি : আশাবাদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    সোমবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি : আশাবাদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আজই (সোমবার) চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে।

    সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘গত রাতে খবর আসার কথা ছিল, সেটি আজও আসতে পারে। তবে এ নিয়ে অতিরিক্ত কিছু ভাবার প্রয়োজন নেই।’

    নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রণালী খুলে দেওয়া এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট জোরালো প্রস্তাব রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে সেই প্রস্তাবের পক্ষে ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, তারা সবাই বুঝেছে এটি শুধু যৌক্তিকই নয়, বিশ্বের স্বার্থে প্রয়োজনীয়ও।

    পারমাণবিক ইস্যুতেও ইরান একটি ‘বাস্তব, গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক’ আলোচনায় অংশ নেবে বলেও রুবিও আশা প্রকাশ করেন।

    এখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগ্রা যাচ্ছেন। উত্তর ভারতের এই শহরটি তাজমহলের জন্য বিখ্যাত।

    এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রত্যাশা কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার কথা জানান। তিনি আলোচকদের তাড়াহুড়া না করতে নির্দেশ দেন।

    এ প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, ‘তিনি তাড়াহুড়ায় নেই। তিনি খারাপ কোনো চুক্তি করবেন না। খারাপ কোনো সমঝোতাও করবেন না।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হয়। জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। গত ৮ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

    রুবিও বলেন, ‘ইসরাইলের সবসময় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি তাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বা চালানোর প্রস্তুতি নেয়, তাহলে ইসরাইলের পাল্টা জবাব দেওয়া বা তা প্রতিহত করার পূর্ণ অধিকার আছে।’

    রুবিও বলেন, ‘এ বিষয়টি সবসময়ই স্বীকৃত ছিল। যুদ্ধবিরতির সময়ও তা বহাল রয়েছে।’

  • দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের

    দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের

    যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রোববার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রোববার ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক হেলথ কমিটির এক প্যারামেডিকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

    এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সির আল-গারবিয়েহ এলাকায় এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    রোববার মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলের সির আল-গারবিয়াহতে এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরাইলি সেনাদের পাশাপাশি সীমান্তের ওপারের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপরও হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার রকেট, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে চালানো ২০টিরও বেশি হামলার কথা তারা স্বীকার করেছে।

    ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে, যার কয়েকটিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকরা।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার এক ডজনেরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।

    লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাতের ইসরাইলি হামলায় নাবাতিয়েহ অঞ্চলে তাদের একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।

    এএফপির এক আলোকচিত্রী বলেন, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করছেন।

    এএফপি’র জেরুজালেম ব্যুরোর প্রশ্নের জবাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • যুদ্ধ অবসানে চুক্তি চূড়ান্তের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    যুদ্ধ অবসানে চুক্তি চূড়ান্তের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান রোববার একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা একটি প্রস্তাবের ‘বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন’ হয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তিটি এখনও ‘চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়’ রয়েছে।

    একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পরই কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    শনিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও আরও কয়েকটি দেশের মধ্যে
    চুক্তির বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মত অন্যান্য বহু বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও খুলে দেওয়া হবে।’
    মাসের পর মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, প্রণালীটি খুলে দিলে তা থেকে স্বস্তি মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা ছাড়াও তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা শনিবার তার সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেন।

    সেখানে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

    এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান খুব শিগগিরই আরেক দফা আলোচনার আয়োজন করতে চায় বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

    তিনি বলেন, শুক্রবার তেহরান সফর করা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ওই ফোনালাপে অংশ নেন। এটি চলমান শান্তি প্রচেষ্টা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

    ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার আলাদা ফোনালাপও ‘খুব ভালো’ হয়েছে।
    ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয়গুলো এখন আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেগুলো ঘোষণা করা হবে।’

    নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তেহরানের ‘সম্ভাব্য অঙ্গীকারের’ বিস্তারিত বিষয় প্রাথমিক চুক্তির পর আলোচনা হবে।
    ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানের হাতে এমন মজুত তারা মেনে নেবে না।

    ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ প্রাথমিক আলোচনার অংশ হবে না বলেও তারা জানান।

    নতুন করে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।

    তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের এমনভাবে পুনর্গঠন করেছে যে ট্রাম্প যদি আরেকটি বোকামি করে যুদ্ধ আবার শুরু করেন, তবে তা যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ভয়াবহ ও তিক্ত হবে।’

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধের আরেকটি প্রধান ক্ষেত্র লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। যদিও সেখানে ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

    লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে তাদের একটি ব্যারাকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে ইসরাইল জানায়, সীমান্তের কাছে শুক্রবার তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

    হিজবুল্লাহ শনিবার জানায়, তাদের প্রধান নাঈম কাসেম ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন।
    সেখানে বলা হয়েছে, লেবাননের এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে না তেহরান ।

  • ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১০

    ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১০

    লেবাননে ইসরাইলের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

    গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার ভোরের দিকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, মধ্যরাতের কিছু আগে ব্রিটালের উপকণ্ঠে পাহাড়ি এলাকা নাবি শ্রেইজে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এলাকাটি হামলার বাইরে ছিল।

    দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে অবস্থানরত এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। প্রথমে শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে হামলা হয়। পরে শহরের ভেতরে আরেকটি হামলা চালানো হয়। এতে এলাকায় ঘনকালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

    এর আগে বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধারকারী দল ও পৌর পুলিশের সদস্যরা এলাকাবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করেন। তারা মাইকিং করে স্থানীয়দের দ্রুত এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাইয়ের মাধ্যমে দুটি উচ্ছেদ সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যে একটি ছিল লেবাননের বুর্জ রাহাল গ্রামকে ঘিরে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

    আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, টাইরের দুটি এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ ওই এলাকাগুলো ‘হিজবুল্লাহর স্থাপনার কাছে অবস্থিত’ এবং সেখানে অভিযান চালাতে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।