Category: আন্তর্জাতিক

  • টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে এক ব্যক্তির ২৪ বছর জেল

    টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে এক ব্যক্তির ২৪ বছর জেল

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে বুধবার এক ব্যক্তিকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে সে এ জঘন্য কাজ করে বলে প্রসিকিউটররা জানান। খবর এএফপি’র।
    ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে টেক্সাসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার পুড়িয়ে দিয়ে জঘন্য অপরাধ করায় জুলাই মাসে মার্ক পেরেজ নামের এ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
    আদালতের রায়ের বরাত দিয়ে বিচার বিভাগের (ডিওজে) এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগুন দিয়ে পোড়ানোর এক সপ্তাহ আগে ২৬ বছর বয়সী এ ব্যক্তি মসজিদের অবকাঠামো ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে তা দেখে আসে।
    ডিওজের বিবৃতিতে বলা হয়, এ অপরাধ সংঘটনের দিন পেরেজ কাগজপত্র জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিতে লাইটার ব্যবহার করে বলে এক সাক্ষী জানান। তিনি আরো জানান, এ সময় পেরেজকে অনেক উত্তেজিত দেখাচ্ছিল।
    এফবিআই এজেন্ট অ্যাডওয়ার্ড মাইকেল এক বিবৃতিতে বলেন, এমন ঘটনা ঘটিয়ে ‘পেরেজ আতংক ছড়াতে চেয়েছিল।
    তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশের কেউ প্রকাশ্যে তাদের নিজ ধর্মপালনে এবং নিজস্ব বিশ্বাস প্রকাশে ভীত থাকবে না।’
  • ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিদিন ১৮শ’ জনের মৃত্যু

    ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিদিন ১৮শ’ জনের মৃত্যু

    ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু বিশ্বব্যাপী পরিচিত সাধারণ রোগ। কিন্তু এ রোগে বছরে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন ১৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।

    এমনকি এটি মাঝে মাঝে মহামারী আকার ধারণ করে। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের শীত ঋতুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ রোগ প্রতিকারের জন্য টিকা জরুরি। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৮ সালকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়মূলক জনস্বাস্থ্য সংকটের শততম বার্ষিকী চিহ্নিত করেছে। কারণ ঠিক ১০০ বছর আগে ১৯১৮ সালে পৃথিবীব্যপী ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকার ধারণ করেছিল। যা স্প্যানিশ ‘ফ্লু’ নামে পরিচিত। সেই ফ্লুতে ৫০ মিলিয়ন লোকের প্রাণহানি ঘটে। তখন প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন লোক আক্রান্ত হয়।

    ১৯৫৭ সালেও বিশ্বে ফ্লুর মহামারী লক্ষ্য করা গেছে। তখন এক মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। ১৯৬৮ সালে আরেকটি ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন আনুমানিক ১-৩ মিলিয়ন জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ২০০৩ সালে (এইচ৫এন১) বা তথাকথিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকার ধারণ করে। যা প্রাণী এবং মানুষ উভয়কেই আক্রান্ত করে।

    ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার শুরু মেক্সিকোতে। এটি ২১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ৩ লাখ ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ স্থান বা পাবলিক প্লেস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিস্তারের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে বিমান বা বিমানের মতো স্থানগুলো, যেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা অনেক মানুষ একত্রে অবস্থান করেন। এসব স্থানে খুব সহজেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। অপরিহার্যভাবে তারা কখনও পরিবর্তনশীল ছদ্মবেশ ধারণ করে। এর কারণ মানুষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এন্টিবডিকে প্রতিহত করা। যখন একটি নতুন ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হয়, সেটি দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্বব্যাপী মানুষের গুরুতর অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা। মাথাব্যথা, নাক ফুলে ওঠা, কাশি হওয়া এবং পেশিব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো ঋতুভিত্তিক। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতি বছর সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

    এ কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে নিরাপদ থাকতে টিকা গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার উত্তর গোলার্ধের শীতকালে এবং একবার দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবল ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রোগ্রামের ম্যানেজার ড. ওয়েনকিং ঝাং বলেন, নতুন ভাইরাস দ্বারা কোন ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি হলে সেটি মহামারী আকার ধারণ করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত ঘটনা আলোচনা করা হল- ১. বেশিরভাগ মানুষ মনে করে ইনফ্লুয়েঞ্জা গুরুতর কোনো রোগ নয়, তাই টিকা নেয়ার দরকার নেই। অথচ এ রোগে বছরে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

    ২. অনেকেই মনে করেন ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা থেকেও ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ফ্লুর টিকায় একটি নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থাকে। তবে সেটি ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করতে পারে না। টিকা গ্রহণের পর যদি সামান্য জ্বর হয়, তবে সেটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাধারণ প্রতিক্রিয়া। ৩. অনেকেই মনে করেন ফ্লুর টিকায় গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

    কিন্তু এটি প্রমাণিত যে ফ্লুর টিকায় গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল। ৪. অনেকের ধারণা, টিকা গ্রহণের পরও ফ্লু হয়েছে অর্থাৎ টিকা কাজ করে না। প্রকৃত বিষয় হল, বেশিরভাগ ফ্লু ভাইরাসগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় টিকা গ্রহণ সত্ত্বেও ফ্লুতে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

    টিকা হচ্ছে ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়ার উন্নত ব্যবস্থা। ৫. অনেকেই মনে করেন গর্ভবতী নারীদের টিকা গ্রহণের দরকার নেই। এ ধারণা ভুল।

  • খাসোগি হত্যাকালীন অডিও চায় যুক্তরাষ্ট্র

    খাসোগি হত্যাকালীন অডিও চায় যুক্তরাষ্ট্র

    তুরস্কের কাছে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার সময় ধারণ করা অডিও রেকর্ড চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অডিও রেকর্ড থাকলে তাঁরা তা চেয়েছেন। বলা হচ্ছে, খাসোগিকে হত্যা করার সময় তাঁর অ্যাপল ওয়াচে ওই সময়ের কথাবার্তা রেকর্ড হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অডিও রেকর্ড যদি থাকে, তাহলে আমরা তা চাই।’

    আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি ও সিএনএনের খবরে জানানো হয়, ট্রাম্প বলেছেন, এমন কোনো অডিও থাকার বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এ রকম অডিও থাকতেও পারে। এই সপ্তাহের শেষে আসল সত্য জানা যাবে। সৌদি আরবের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন কথা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি শুধু কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

    গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তুরস্কের একজন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দাবি করেন, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যার পর খাসোগির দেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। এর আগে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একই দাবি করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। গত সোমবার স্থানীয় সময় রাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালান।

    তুরস্কের সরকারপন্থী সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক দাবি করেছে, খাসোগির অ্যাপল ওয়াচে হওয়া অডিও রেকর্ড তারা শুনেছে। এর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময় খাসোগির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁকে হত্যার কথা অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।

    নিখোঁজ হওয়ার আগে জামাল খাসোগির লেখা শেষ কলাম প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে খাসোগি আরব বিশ্বে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছিলেন। খাসোগি আরব বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতেন। শেষ কলামে তিনি লিখেছিলেন, পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আরব বিশ্বে নতুন ধারার সংবাদ মাধ্যম প্রয়োজন। যাতে দেশের ভেতরে ও বাইরে কী ঘটছে নাগরিকেরা তা জানতে পারেন।

    ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। খাসোগি ইস্যুতে সৌদি আরবকে চাপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ধোঁয়া, মেলানিয়ার বিমানের জরুরি অবতরণ

    ধোঁয়া, মেলানিয়ার বিমানের জরুরি অবতরণ

    মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে বহনকারী একটি বিমান উড়ার ১০ মিনিট পরেই আবার অবতরণ করেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেবিনে ধোঁয়া দেখা যাওয়ায় পর উড়োজাহাজটি বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

    সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটি থেকে মেলানিয়া ট্রাম্প নিয়ে উড়ে যায় একটি বিমান। উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর কেবিনে ধোয়া দেখা যাওয়ায় আবার অবতরণ করে। বিমানঘাঁটিতে বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সেটিতে থাকা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানের দিকে ছুটে যান। তারা ঢুকে দেখতে পান ভেতরে ধোঁয়া। বিমানে থাকা সাংবাদিকেরা জানান, পোড়ার মতো গন্ধ, তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল। বিমান অবতরণের পর অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটিতে মেলানিয়াকে নামতে দেখা যায়। এ সময় তাকে স্বাচ্ছন্দ্যই দেখা গেছে।
    এদিকে নতুন আরেকটি বিমান প্রস্তুত করা হলে মেলানিয়া ট্রাম্প আবারও যাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিসাম সাংবাদিকদের বলেন, বিমানে ছোট যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সবকিছুই ভালো আছে এবং সবাই নিরাপদে আছেন।

    মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া অ্যান্ড্রুস থেকে ফিলাডেলফিয়া যাচ্ছিলেন। সেখানকার থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিভিন্ন রোগীদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। এরপরে সেখানে একটি কনফারেন্সে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

  • পাকিস্তানে শিশু জয়নাবের ধর্ষক-খুনির ফাঁসি কার্যকর

    পাকিস্তানে শিশু জয়নাবের ধর্ষক-খুনির ফাঁসি কার্যকর

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ছয় বছরের শিশু জয়নাব আনসারি ধর্ষণ ও হত্যায় একজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আজ বুধবার লাহোরের কোট লাখপাট কারাগারে ইমরান আলী নামের ওই হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ফাঁসি কার্যকরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জয়নাবের বাবা আমিন আনসারি। চোখের সামনে মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর হতে দেখেছেন তিনি।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বাড়ির পাশে থেকে নিখোঁজ হয় ছোট্ট জয়নাব। কোরআন শিখতে যাচ্ছিল সে। ৯ জানুয়ারি একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার আগে ধর্ষণ করা শিশুটিকে। তার নিথর মুখে তীব্র যন্ত্রণার ছাপ ছিল। এ ঘটনার পর ‘জাস্টিস ফর জয়নাব’দাবিতে ১০ জানুয়ারি থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সেখানকার মানুষ। ‘হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর জয়নাব’ লিখে প্রতিক্রিয়া জানান জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট তারকারাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ।

    জয়নাবকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে লাহোরে বিক্ষোভ মিছিল করে শিশুরা। ছবি: রয়টার্সঅপরাধীর খোঁজ পেতে এক কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জয়নাবের লাশ যেখানে পাওয়া যায়, সেখানে একটি খালি বাক্স পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ফরেনসিক পরীক্ষার সূত্র ধরে ২৪ জানুয়ারি ইমরান আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে দোষী সাব্যস্ত হন ২৩ বছরের ইমরান আলী। ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তা নাকচ হয়। আজ তাঁর ফাঁসি কার্যকর করল লাহোর। এ সময় জয়নাবের বাবাসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

    ভয়ংকর এক হত্যাকারী ইমরান আলী। জয়নাবকে হত্যার আগে বিভিন্ন সময় আরও ছয় শিশুকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।

    জয়নাবের হত্যাকারী ইমরান আলী।মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জয়নাবের বাবা আমিন আনসারি। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে তাঁর ভয়ংকর পরিণতি দেখেছি। তাঁকে ফাঁসি কাষ্ঠে নেওয়া হয়। এক ঘণ্টা ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।’ আমিন আনসারি এর আগে জনসম্মুখে এই ফাঁসি কার্যকরের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে লাহোর হাইকোর্টে তা নাকচ হয়ে যায়।

    আমিন আনসারি জানান, বেঁচে থাকলে এখন জয়নাবের বয়স হতো সাত বছর দুই মাস।

  • জেরুজালেমকে কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

    জেরুজালেমকে কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে গত সোমবার মত প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তেল আবিবে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার ব্যাপারেও কথা বলেন তিনি। মরিসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ভোটের রাজনীতি।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনী পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মরিসন। নির্বাচনী পরিস্থিতিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলের একজন প্রধান হিসেবে মরিসন কেমন ভূমিকা রাখবেন, তার নজির মিলবে আগামী শনিবার।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ওয়েন্টওর্থ নির্বাচনী এলাকায় এদিন উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন করবেন ইসরায়েলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা। আসনটি টার্নবুলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হলেও তাঁর অবর্তমানে লিবারেল পার্টির জন্য সেটি এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লিবারেল পার্টির পক্ষ হয়ে এই আসনে ডেভ শর্মা যদি হেরে যান, তবে অস্ট্রেলিয়ার হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মরিসন। এই শঙ্কা থেকেই মরিসন ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাটিতে ভোট পেতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নাটক করছেন। তাই তাঁর সমালোচনায় সরব দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি। সমালোচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

    গত বছরের ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করেছেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নিন্দিত হয়েছেন। এখন ট্রাম্পের পথই অনুসরণ করতে যাচ্ছেন মরিসন।

    এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সংবাদপত্র সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সম্পাদক পিটার হার্টচার এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, মাত্র কয়েকটা ভোটের জন্য জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’

    পিটার বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে একমত পোষণ করে মরিসন যদি ওয়েন্টওর্থের ইহুদি বাসিন্দাদের ভোট পাওয়ার আশা করেন, তবে সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ ডেভ শর্মার সঙ্গে ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে। অধিকাংশ ইহুদিরা তাঁকে এমনিতেই ভোট দেবেন। মরিসনের এই সিদ্ধান্ত লিবারেল পার্টির জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ভোটারের জোগান দেবে না।’

    ওয়েন্টওয়ার্থের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ ইহুদি। তাঁদের একটা বড় অংশ ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত। আর মরিসনের সিদ্ধান্ত ওয়েন্টওর্থের ইহুদি বাসিন্দাদের জন্য মোটেও সুখকর হবে না বলে মনে করছেন পিটার। তিনি বলেন, ‘তাঁদের মোটেও খুশি হওয়া উচিত না। বরং তাঁরা অপমানিতবোধ করবেন। কেন, না মরিসন তাঁদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছেন।’

    মরিসনের জেরুজালেম সমর্থন ইস্যু নিয়ে নাখোশ অন্যান্য ধর্মীয় কমিউনিটির ব্যক্তিরা। তাঁদের অনেকে বলেছেন, আজ যিনি সংখ্যালঘু ভোটারের সমর্থনের জন্য একটি জাতিগত ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছেন, কাল তিনি অন্য জনগোষ্ঠীর পেছনে যে লাগবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    মাত্র একটি আসনে নির্বাচনের জন্য যেখানে মরিসন জাতিগত ও ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করতে চাইছেন, সেখানে আগামী নির্বাচনে আধ ডজনের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভোটারদের সমর্থন পেতে তিনি কী করবেন, তা নিয়ে শঙ্কিত সিডনির মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা।