Category: আন্তর্জাতিক

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী যাবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়!

    মালয়েশিয়ায় কর্মী যাবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়!

    বায়ো রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতিতে বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে বায়রার দেয়া প্রস্তাব বিবেচনা এবং দ্রুততম সময়ে কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, ওই বিষয়ে গঠিত কমিটিকে পদক্ষেপ নিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন পদ্ধতিতে চালু হতে যাওয়া মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলেও বায়রার প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

    শুধু মালয়েশিয়া নয়, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আবুধাবি, ওমান, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, ইরাক, মরিশাসসহ শ্রমবান্ধব দেশভেদে সর্বোচ্চ কত টাকায় একজন কর্মী যেতে পারবেন তারও একটি পরিসংখ্যান প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে। বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের দেয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে বিদেশে কর্মী পাঠাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, বিদেশগামী শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যে যন্ত্রণা পোহাচ্ছেন, তা আস্তে আস্তে দূর হবে।

    প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহানের নেতৃত্বে ‘বিদেশে শ্রমিক প্রেরণে অভিবাসন ব্যয় কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা, বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ, মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানসহ বায়রার অন্য নেতারা।

    ওই বৈঠকে বায়রার পক্ষ থেকে ৮ মাস আগে দেয়া ‘বায়ো রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতির প্রস্তাব ছাড়াও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠাতে ঢাকার দূতাবাসে পাসপোর্ট, ভিসা জমা দেয়া এবং ওঠাতে ‘ড্রপবক্স’ পদ্ধতি চালুর ব্যাপারে কোনো আলোচনাই হয়নি বলে মন্ত্রণালয় ও বায়রা সূত্রে জানা গেছে। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে নতুন পদ্ধতিতে চালু হলে তখন যাতে কম টাকায় এবং বিশৃঙ্খলা ছাড়া শ্রমিকরা যেতে পারেন, সে জন্য গঠিত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সচিব জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কিভাবে কোন পদ্ধতিতে খোলা যেতে পারে, তা নির্ধারণে ২৬ অক্টোবর কুয়ালালামপুর থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের কথা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

    অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান ৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএমইটির ডিজি ও বায়রা নেতাদের উপস্থিতিতে যৌথসভার আলোচনা প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে ‘বায়ো রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতি কিভাবে হবে তা সাবমিট করেছি। মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব দেখার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর ডিজিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটিতে মন্ত্রণালয়, বিএমইটি ও বায়রার দুইজন সদস্য থাকবেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মহোদয়ও তাদের দেয়া প্রস্তাবটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে বায়রা নেতাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এত দিন তারা যে ধরনের চিন্তা করছিলেন তার সাথে বায়রার দেয়া প্রস্তাবটির ৯৫ শতাংশ মিল রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে অথবা তারও আগে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের জন্য একই পদ্ধতিতে অভিবাসন ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গঠিত কমিটিকে বলা হয়েছে।

    মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে কত টাকা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, জানতে চাইলে বায়রা মহাসচিব নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই একজন শ্রমিককে পাঠাতে পারব বলে উল্লেখ করেছি। এ টাকায় কর্মী যাওয়ার পরও সব খরচ বাদ দিয়ে আমাদের ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। তা ছাড়া প্রস্তাব মোতাবেক যদি ‘বায়ো রিক্রুটমেন্ট’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হয় তাহলে কর্মীরা যেমন কম টাকায় বিদেশ যেতে পারবেন, তেমনি দালালদের উৎপাতও কমে আসবে। এসব শুনে কমিটি বায়ো রিক্রুটমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কোন পদ্ধতিতে কর্মী যাবে; তা নির্ধারণ করতে চলতি মাসের শেষের দিকে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকা আসার কথা রয়েছে। দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসে ভিসা কাগজপত্র জমা ও উত্তোলনসংক্রান্ত কোনো এজেন্ডাই ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি, ড্রপবক্স নামে যদি নতুন সিস্টেম চালু করতে হয়, তাহলে বায়রার মাধ্যমে করতে হবে। এমন প্রস্তাব আমরা বায়রা নেতারা তিনবার ঢাকার সৌদি দূতাবাসের কাউন্সিলর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে অনুরোধ জানিয়ে এসেছি। প্রবাসী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বোয়ো রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি হচ্ছে, একজন বিদেশগামী কর্মী জেলা জনশক্তি অফিসে অনলাইন পদ্ধতিতে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করবেন। তিনি যে দেশে যেতে ইচ্ছুক ওই দেশের অভিবাসন ব্যয় কত আছে, তা তিনি নিজেই স্ক্রিনে দেখতে পাবেন। সেই মোতাবেক নিজে তার টাকা তিনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে জমা করতে পারবেন। এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মেডিক্যাল, ভিসাসহ অন্যান্য প্রসেসিং শেষ হলেই গন্তব্যর উদ্দেশ পাড়ি জমাবেন। মোট কথা দালাল ছাড়াই কর্মীর বিদেশ যেতে কোনো বাধা থাকছে না।

  • কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    পাহাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ বেয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। সোনার তৈরি ধাপটিতে পৌঁছাতে সিঁড়ির আর মাত্র ১৮টি ধাপ বাকি ছিল। দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। এই সোনালি ধাপটুকু পেরোতে পারলেই তাঁরা পৌঁছে যেতেন পবিত্র মন্দিরটিতে। গড়তে পারতেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ভঙ্গের ইতিহাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় উন্মাদনার কাছে হার মানতেই হলো তাঁদের। আইনও তাঁদের এই পবর্তসম ধর্মান্ধতাকে চিরে আলো পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দিতে পারল না।

    ভারতের কেরালা রাজ্যে সাবারিমালায় পাহাড়ের ওপর আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে দুই নারীকে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পুরোহিতেরা। নারীদের মাসিকের সময় বিবেচনায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।

    পুরোহিতদের এই বাধার মধ্য দিয়ে যেন আরেকবার প্রমাণ হলো, পুরুষেরাই ধর্মীয় ব্যাপারে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকবেন। নারীরা শুধুই পালন করে যাবেন। তা–ও পালন করতে হবে পুরুষের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বেষ্টনীর মধ্যে থেকে। ধর্ম নিয়ে নারীরও যে আবেগ প্রকাশের অধিকার আছে, তা যেন উপেক্ষিতই থেকে যাবে। ধর্মপ্রাণ নারীদের যেন তা–ই করতে হবে, যা পুরুষ চায়।
    যে দুই নারী রীতি ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, মন্দিরে পৌঁছানোর আইনি প্রবেশাধিকার তাঁরা সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু আইন তাঁদের রক্ষাকবচ হতে পারেনি।

    এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, শুক্রবার পুলিশি পাহারায় একজন সাংবাদিকসহ দুজন নারী লক্ষ্যে পৌঁছানোর সময় শেষ ধাপে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মন্দিরের পুরোহিতরা। নারী দুজন শেষ আধা কিলোমিটারের সোনালি ধাপ পেরোতে চাইলে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। সব ধরনের ধর্মীয় প্রথা ও প্রার্থনা বন্ধ করে মন্দির বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
    সাবারিমালা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কানদারারু রাজিভারু বলেন, ‘আমরা মন্দির বন্ধ করে চাবি হস্তান্তর করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ভক্তদের পাশে আছি। আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই।’আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দিতে পথ অবরোধ করে রেখেছেন ভক্তরা। ছবি: এএফপি পুলিশ দুই নারীকে এই বার্তা জানানোর পর তাঁরা ফিরে আসতে রাজি হন। ঘটনাস্থলে পুলিশের দলের নেতৃত্বে থাকা মহাপরিদর্শক (আইজি) এস শ্রিজাত বলেন, ‘আমরা নারীভক্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছি, তাঁরা ফিরে যেতে রাজি হয়েছেন। তাই আমরা ফিরে যাচ্ছি। তাঁরা আবার ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন।’

    সকালে বিক্ষোভরত ভক্তদের উদ্দেশে শ্রিজাত বলেন, ‘আমিও একজন আয়াপ্পাভক্ত। এখানে এসেছি সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালনে। আমি মনে করি, নারীদের মন্দিরের ভেতর প্রবেশের অধিকার রয়েছে।’
    কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। তাঁরা দুই নারীর মন্দিরে প্রবেশের মুখে বাধা দেন।

    গত মাসে দেবতা আয়াপ্পার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক নির্দেশের পর তিন দিন আগে মন্দিরটির খোলা হয়। অন্য ভক্তদের মতে, আদালত সে ক্ষেত্রে আবেগ ও ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। তাঁদের ভাষায়, আয়াপ্পা একজন কুমার দেবতা এবং নারীদের ঋতুকালীন বয়স ‘বিশুদ্ধ নয়’।

    মন্দিরটি পরিচালনায় থাকা দেবাসম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাদাকামপালি সুরেনদ্রান এনডিটিভিকে বলেছেন, যে দুজন নারী মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা ভক্ত নন, অধিকারকর্মী। সত্যিকারের কোনো ভক্ত সেখানে যেতে চাইলে সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো অধিকারকর্মীকে সাবারিমালাকে তাঁদের জায়গা হিসেবে প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    হায়দরাবাদের মোজো টিভির সাংবাদিক কবিতা জাক্কাল হলুদ হেলমেট মাথায় বিক্ষোভের মধ্যে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। তাঁকে ঘেরাও করে রেখেছিল পুলিশ। ৩০০ পুলিশ ঘেরাও করে নিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে। আরেক নারী কালো শাড়ি পরে, দেবতা আয়াপ্পার জন্য রীতি অনুসারে প্রার্থনার সরঞ্জাম মাথায় নিয়ে আলাদাভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী নারী ম্যারি সুইটি ফিরে আসতে রাজি ছিলেন না। তিনি জানান, তিনি গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে গেছেন, আয়াপ্পাও দেখতে চান। সে সময় পুলিশ তাঁকে নিজ দায়িত্বে যেতে বলেন। পাম্বা থেকে তাঁরা ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠেছিলেন।
    বিক্ষোভকারী ভক্তদের দুই দিন ধরে মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিলাক্কাল ও পাম্বা বেজ ক্যাম্পে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে । সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্রমাগত হুমকির মুখে নারীরা ফিরে আসতে বাধ্য হন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও দুজন সাংবাদিক যাঁর একজন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এর ভারতীয় সাংবাদিক মন্দিরের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে ফিরে আসেন।

  • দুর্গাপূজায় পশুবলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীর অবস্থান

    দুর্গাপূজায় পশুবলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীর অবস্থান

    দুর্গাপূজায় পশুবলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন আসামের কাছাড় জেলার শিলচরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এনআইটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র কল্পনার্ব শর্মা। সপ্তমী পূজার দিন ব্যানার টাঙিয়ে কাছার জেলার কাঁচাকান্তি মন্দিরের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন তিনি।

    ভারতে সপ্তমী পূজার দিন বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তিনি ওই মন্দিরের সামনে অবস্থানে বসেন। অষ্টমীর পর নবমীর দিন শিলচর শহরের শ্যামানন্দ আশ্রমের পূজামণ্ডপের কাছে অবস্থান ধর্মঘট করেন। সেখানে তখন পশুবলি চলছিল।

    আশ্রম কর্তৃপক্ষ এনআইটির ওই ছাত্রের অবস্থান কর্মসূচি দেখে এগিয়ে আসে। তারা জানায়, এই আশ্রমের দেয়াল ঘেঁষে বসা চলবে না। এরপর কল্পনার্ব ব্যানার নিয়ে বসে পড়েন আশ্রমের মন্দিরের কাছে এক বাড়ির সামনে।

    সেখানে পশুর রক্তে ভেজা পোশাক পরা কয়েকজন গিয়ে ওই ছাত্রকে হুমকি দেন। এরপর ব্যানার গুটিয়ে কল্পনার্ব ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

    কল্পনার্ব বলেন, পশুবলির বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন চলবে। পশুবলি অমানবিক প্রথা। ধর্মের নাম দিয়ে হত্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। মন্দিরে বলি দেওয়ায় শিশুমনে প্রভাব পড়ে।

  • ভারতে ট্রেনচাপায় নিহত অন্তত ৬০

    ভারতে ট্রেনচাপায় নিহত অন্তত ৬০

    ভারতের অমৃতসরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের সময় ট্রেনে চাপা পড়ে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব রাজ্যের দোবি ঘাট এলাকায় রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহের অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছিল। স্থানটি জুরা পাটক রেললাইন–সংলগ্ন। কুশপুত্তলিকা দাহের সময় আতশবাজি ফোটানো হচ্ছিল। এ কারণে দর্শনার্থীরা ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি।

    এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সেখানে ৭০০ জনের মতো দর্শনার্থী ছিলেন। আতশবাজির স্ফুলিঙ্গ থেকে বাঁচার জন্য কিছু মানুষ রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। আর সে সময়ই ওই ট্রেন চলে আসে। স্থানীয় পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাখবির সিংহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে কোনো বেষ্টনী দেওয়া ছিল না। এটি রেললাইন থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং হতাহতের বিষয়ে শোক জানিয়েছেন।

    পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং উদ্ধার দ্রুত তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য উঠছে নিরাপত্তা পরিষদে

    জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য উঠছে নিরাপত্তা পরিষদে

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য তুলে ধরা হবে। তদন্ত টিমের বক্তব্য নিরাপত্তা পরিষদে তুলে ধরার আবেদন করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ ৯টি সদস্য দেশ।

    তাই চীন ও রাশিয়ার বিপরীত অবস্থান থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদে তদন্ত টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হবে। এই তদন্ত টিমই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার শামিল বলে অভিহিত করেছে। রয়টার্স।

    গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

    হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরা হলে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কূটনীতিকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার মালিক চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া ঠেকাবে। তবে তারা নিরাপত্তা পরিষদের এই উদ্যোগ ঠেকাতে পারেননি।

    কারণ ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ন্যূনতম ৯ সদস্য এই প্রস্তাবটি সমর্থন করেছে। তাই বিষয়টিতে ভেটো দেয়া যাবে না। কূটনীতিকরা বলেছেন, চীন ও রাশিয়া মনে করে, এই প্রতিবেদন প্রথমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটির কাছে পাঠানো উচিত।

    ওই কমিটি মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করে থাকে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, পোল্যান্ড, পেরু, কুয়েত, আইভরিকোস্ট ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে এক চিঠিতে এই আবেদন জানায়। ফলে এখন তদন্ত দলের প্রধান নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করতে পারবেন।

    জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছেন।

    সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন ঘৃণ্য অপরাধের নীলনকশা করার দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেনারেলকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

    এবার ওই তদন্ত কমিটির প্রধানকেই হাজির করা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে। তিনি সবার সামনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

    তবে মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা একটি চিঠিতে এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এটা রাখাইনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও মেরুকরণই শুধু বাড়াবে। অন্যান্য ইতিবাচক উন্নয়ন বাদ দিয়ে সবার ওপরে জবাবদিহিতাকে স্থান দেয়া একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা যা ভবিষ্যতে ব্যর্থ হতে পারে।’

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার চিন্তা করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্যিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

    এছাড়া মিয়ানমারের চারজন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত আগস্ট মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও সেনাবাহিনী পরিচালিত কমপক্ষে দুটি ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে দেশটি।

    মিয়ানমারের কূটনীতিক সুয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে লিখেছেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাহ্যিক চাপ বিদ্যমান সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতাকে নষ্ট করবে।’

  • খাশোগির এক হত্যাকারী গাড়িচাপায় নিহত

    খাশোগির এক হত্যাকারী গাড়িচাপায় নিহত

    সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে নিখোঁজের ঘটনায় সম্পৃক্ত এক ঘাতককে গাড়িচাপায় হত্যা করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে তুর্কি দৈনিক ইয়ানি শাফাক।

    খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের যে দলটি তুরস্কে গিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম সদস্য ছিলেন মাল আল সাদ আল বাসতানি। তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর লেফট্যানেন্ট।

    ইয়ানি শাফাকের খবরে বলা হয়েছে, সাজানো সড়ক দুর্ঘটনায় মাল আল সাদ আল বাসতানিকে হত্যার মাধ্যমে খাশোগি হত্যার তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘাতক টিমের অন্য ১৪ সদস্যের মুখ চিরতরে বন্ধ রাখতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে।

    পত্রিকাটি বলছে, গত ২ অক্টোবর বিশেষ বিমানে করে যে ১৫ জন ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে এসেছিলেন তাদের মধ্যে সাদ আল বাসতানিও ছিলেন।

    বাসতানি সেদিন কনস্যুলেট ভবনে না গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ইস্তাম্বুলের উইন্ডহাম গ্র্যান্ড হোটেলে অবস্থান করেন এবং হোটেল থেকে বের হয়েই তুরস্ক ত্যাগ করেন। ১৫ সদস্যের ঘাতক টিমে তার দায়িত্ব কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন।