Category: আন্তর্জাতিক

  • নাইজেরিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৫৫

    নাইজেরিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৫৫

    নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যের একটি বাজারে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

    শনিবার রাজ্যটির কাসুয়ান মাগানি শহরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

    শহরটির একটি বাজারে ঠেলাগাড়ি চালকদের মধ্যে ঝগড়ার পরিণতিতে মুসলিম ও খ্রিস্টান তরুণরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাদুনা রাজ্য পুলিশের কমিশনার। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে কারফিউ জারি করেছে।

    প্রেসিডেন্ট বুহারির দাপ্তরিক মুখপাত্র গার্বা শেহু এক টুইটে জানিয়েছেন, এ ধরনের বিরোধের ঘটনায় ঘন ঘন সহিংসতার ব্যবহারে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন বুহারি।

    বুহারি বলেছেন, “জীবনের পবিত্রতার প্রতি এই উপেক্ষা কোনো সংস্কৃতি ও ধর্মই সমর্থন করে না। যে কোনো সমাজের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জরুরি।

    “বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্ক ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন উদ্দেশ্য সাধনও অসম্ভব হবে।”

    তিনি সহনশীলতাকে উৎসাহিত করতে এবং এ ধরনের মতভেদ সহিংসতায় পর্যবসিত হওয়ার আগেই থামানোর জন্য সমাজের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা

  • আজ ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    আজ ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ রবিবার ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা করবে।

    এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্র জানায়, আজ রবিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে নামকরণকৃত ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন।

    সূত্র আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) কমপ্লেক্সে একটি মাল্টিস্পোর্টস ইনডোর কমপ্লেক্স এবং ৬ জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও উদ্বোধন করবেন।

    মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অনুযায়ী এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৩১টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পটি ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাভ করে।

    সূত্র আরে জানায়, দেশের খেলাধুলার উত্তরোত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি উপজেলায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

  • রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি বাতিলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

    রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি বাতিলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

    রাশিয়ার সঙ্গে করা পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্স (আইএনএফ) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। সেজন্যই তারা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।

    ওই চুক্তি অনুযায়ী, স্থল থেকে উৎক্ষেপিত মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত আনা সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে দেবে না, যার অনুমতি তাদের নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেন এটা নিয়ে আলোচনা করেননি বা সরে আসেননি। রাশিয়া অনকেদিন ধরেই এই চুক্তির লঙ্ঘন করে আসছে।’

    ২০১৪ সালে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নোভাটের-৯এম৭২৯ নামে মধ্যপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে তারা।

    অবশ্য শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সামরিক আগ্রাসন থামাতেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ওই চুক্তি থেকে বের করে আনতে চাইছে।

    স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন এসএস-২০ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। মার্কিন মিত্ররা তখন যুক্তরাষ্ট্রের পারসিং ও ক্রুজ মিসাইল নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এই ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে আইএনএফ চুক্তির মাধ্যমেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।

    পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কখনোই এই চুক্তি থেকে সরে আসতে চাননি। তিনি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে আসলে আবারও বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে।

  • আমেরিকার নির্বাচনে ইরানের হস্তক্ষেপ!

    আমেরিকার নির্বাচনে ইরানের হস্তক্ষেপ!

    ইরান আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে বলে ওয়াশিংটন যে অভিযোগ করেছে তাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, অলীক কল্পনা থেকে আমেরিকা এ ধরনের অভিযোগ করেছে।

    তিনি আরো বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ইরানের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

    বাহরাম কাসেমি বলেন, মার্কিন সরকার আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশকে নিজের শত্রুতে পরিণত করছে।

    ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছেন তিনি ক্ষমতায় আসার পর ইরান নিজেকে নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, আঞ্চলিক বিষয়ের দিকেও আর নজর দিতে পারছে না। তাহলে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা ইরান কীভাবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমেরিকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

    আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, বিচার মন্ত্রণালয় ও ফেডারেল পুলিশ বাহিনী- এফবিআই গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে কোনো ধরনের দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করে, ইরান, রাশিয়া ও চীন আমেরিকার আসন্ন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।

    নির্বাচনের আগে চালানো জরিপের ফলাফলগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল মারাত্মক ভরাডুবির শিকার হবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জনগণের সহানুভূতি আদায় করে আসন্ন নির্বাচনের অবশ্যম্ভাবী এ পরাজয় রোধ করার লক্ষ্যে তেহরান, বেইজিং ও মস্কোর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।

     

  • ইয়েমেনে কে জিতবে : সৌদি আরব না ইরান

    ইয়েমেনে কে জিতবে : সৌদি আরব না ইরান

    ইয়েমেন সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান কোন পথে

    উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সম্প্রতি ইয়েমেনের যুদ্ধ ও সঙ্ঘাত অবসানে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য নিউ ইয়র্কে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। কিন্তু উভয় পক্ষ একটি চুক্তি বা সমাঝোতায় না পৌঁছার কারণে সম্মেলনটি সফল হয়নি। সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের অনমনীয়তাকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু একটি পক্ষের ওপর দায় চাপালেই কি চলবে? যুদ্ধ ও বিরোধ নিরসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশা ভরসারস্থল জাতিসঙ্ঘ কী এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে?

    হুতি বিদ্রোহীরা তাদের ঘানা দখলের চতুর্থবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে উচ্চপর্যায়ের এক সমাবেশের আয়োজন করে ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। তারা সেখানে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো কিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়, সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। তাদের এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে সেখানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

    ইয়েমেনে যে অস্বাভাবিক যুদ্ধ চলছে- প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ব্যাপারে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি মতৈক্য রয়েছে। ২০১১ সালে জিসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছিল সে ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে মতৈক্য তৈরি হয়েছিল। ২০১৩-২০১৪ সালে ইয়েমেনের জাতীয় সংলাপ সম্মেলন এবং ২০১৫ সালের জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাবের ফলাফল কী? ওই সমঝোতা বা মতানৈক্য সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হয়নি কেন?

    দুই কোটি ৭৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ ইয়মেনের প্রাচীন শিকড় আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার সংযোগস্থলে হলেও আধুনিক ইয়মেন প্রজাতন্ত্র একটি নতুন রাষ্ট্র। কয়েক বছরের বিরোধ ও দ্বন্দ্বের পর ১৯৯০ সালে কমিউনিস্ট দক্ষিণ ইয়েমেন এবং ঐতিহ্যবাহী উত্তর ইয়মেন একীভূত হয়। কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ ইয়মেনের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকে। ১৯৯৪ সালে স্বল্প সময় স্থায়ী এক গৃহযুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে পরাজিত করা হয়। ২০০৯ সালে সরকারি সৈন্য এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে সঙ্ঘাত শুরু হলে ইয়েমেনে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত লোক নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে।

    তিউনিসিয়া ও মিসরে আরব বসন্ত শুরু হলে তার প্রভাব পড়ে ইয়েমেনে। ফলে ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এক সময়ে ইয়েমেনে আলকায়েদা এবং আইএসের মতো উগ্রপন্থীদের তৎপরতাও বেড়ে যায় এবং দেশে অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপর ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্পিল গতিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। শান্তি উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশটিতে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, হুতি বিদ্রোহীরা প্রধানত শিয়া এবং ইরান তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করাসহ নানাভাবে সহযোগিতা ও উসকানি দিয়ে আসছে। আলী আবদুল্লাহ সালেহকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর ২০১২ সালে মনসুর হাদী ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর তিনি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরবর্তীকালে তিনি এডেন শহরে অস্থায়ী রাজধানী গঠন করেন। সৌদি আরব তাকে সহায়তা দিয়ে আসছে। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং জিসিসি হুতিদের বিরুদ্ধে হাদি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধে দেশটিতে বহু লোক নিহত হয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের হামলায় অনেক বেসামরিক লোকও নিহত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে দুর্ভিক্ষসহ নানা রোগব্যাধি দেখা দিয়েছে।

    ২০১৬ সালের আগস্টে হুতি এবং সরকারি আলোচকেরা একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার জন্য বিস্তারিত একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিলেন। জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে কুয়েতে পাঁচ মাস আলাপ-আলোচনার পর রাজনৈতিক সমাধানের ওই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হুতি নেতৃত্ব এই সমঝোতা উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর আলাপ-আলোচনার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং জাতিসঙ্ঘও সঙ্কট সমাধানে সফল হতে পারেনি। জাতিসঙ্ঘের তিনজন বিশেষ দূত চেষ্টা চালানোর পরও ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধান সফল না হওয়ার কারণ কী?

    দুইপক্ষের রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে পৌঁছতে না পারার বড় কারণ হলো ইরান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বৃদ্ধির জন্য হুতিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইরান হিজবুল্লাহর মতো হুতিদেরও শক্তিশালী হিসেবে দেখতে চায়। হুতি মিলিশিয়াদের প্রতি ইরান সমর্থন বৃদ্ধি করেছে এবং সমঝোতায় না পৌঁছার জন্য হুতিদের উৎসাহিত করছে। জাতিসঙ্ঘও হুতিদের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ। কারণ, কুয়েত আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছার ব্যাপারে একটি সম্মত কাঠামোয় পৌঁছার পর হুতিরা তা থেকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সরে গেছে। কুয়েতে আলোচনার পর হুতিরা জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবিত কাঠামো মেনে নিয়েছিল। হুতিরা ওই কাঠামো প্রত্যাখ্যান করার পর জাতিসঙ্ঘ তাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছে না। হুতিরা একটি ডি-এসকেলেশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (ডিসিসি) গঠনের ব্যাপারে প্রথমে সম্মত হয় এবং সাতটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, কিন্তু পরে তারা ওই চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়।

    শিগগির বা যেকোনো সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল না হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে- যেসব হুতি যুবকের হাতে এখন অস্ত্র আছে, তারা কোনো সঙ্কটে নেই। আর্থিক দৈন্যতায় নেই। তারা মনে করছে- গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে তারা আরো লাভবান হবে। যুদ্ধ নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে যে তারা আরো লাভবান হবে- এটি তাদের উপলব্ধিতে আসতে হবে। তাই তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্যও কাজ করতে হবে।

    মানবিক পরিস্থিতি অবশ্য গত বছরের চেয়ে ভালো। তবে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন কাজ চলছে খুব ধীরে। যেসব এলাকা থেকে মিলিশিয়াদের বের করে দেয়া হয়েছে- যেখানেও ধীরগতিতে পুনর্গঠন কাজ চলছে। জিসিসি দেশগুলো ইয়েমেনের জন্য ২২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইয়েমেনের সহায়তা ও পুনর্গঠনে এগিয়ে আসছে না। ইয়েমেনে হুতিদের গোষ্ঠীগত ভিশন কী সে সম্পর্কে পশ্চিমারা জনে না। তাই কিছু কিছু পশ্চিমা গ্রুপও হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে কিছু পশ্চিমা গ্রুপের এ অবস্থান অনাকাক্সিক্ষত।

    প্রকৃতপক্ষে হুতি প্রকল্প হচ্ছে ইয়েমেনকে ধ্বংস করার প্রয়াস। তারা যে শুধু জাতিসঙ্ঘ নীতির বিরোধিতা করছে তা নয়, বরং তারা দেশটির সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করে দিয়ে থিওক্রেসি-ভিত্তিক জাতিপ্রথা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইয়েমেনে শত শত বছর ধরে যে ব্যবস্থা চালু ছিল- হুতিরা তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা একটি ছোট জাতিসত্তার পারিবারিক শাসন পুরো জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, অথচ ইয়েমেনিরা ১৯৬২ সালেই ওই ব্যবস্থাকে চিরতরে কবর দিয়েছিল।

  • ইসরাইলি সেনাদের মুহুর্মূহু গুলি : ১৩০ ফিলিস্তিনি আহত

    ইসরাইলি সেনাদের মুহুর্মূহু গুলি : ১৩০ ফিলিস্তিনি আহত

    ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে শুক্রবার ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা সীমান্তে আয়োজিত সমাবেশের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে অন্তত ১৩০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫টি শিশু রয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কিদরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চারজন ডাক্তার ও সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে ইসরাইলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, তেল আবিবের এ অবস্থানের কারণে আরো বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যু হতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, ইসরাইলের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে মারাত্মকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হবে যার ফলে অবৈধ হত্যা ও রক্তপাত বেড়ে যাবে।

    ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল অপ্রয়োজনীয় ও বাড়াবাড়ি রকমের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লজ্জানক লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি।

    গত ৩০ মার্চ থেকে গাজাবাসী ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানের বিরুদ্ধে প্রতি শুক্রবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছে। এসব বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশ নেয়া নিরস্ত্র লোকজনের বিরুদ্ধে ইসরাইল তাদের সেনা লেলিয়ে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলের বর্বরতায় অন্তত ১৯০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও ২০ হাজার আহত হয়েছেন।
    পার্স টুডে