Category: আন্তর্জাতিক

  • অর্থ পেতে আমরা মরিয়া: ইমরান খান

    অর্থ পেতে আমরা মরিয়া: ইমরান খান

    অর্থের জন্য তাঁর সরকার বেপরোয়া বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সৌদি আরবের রিয়াদ সফরে গিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি এ কথা জানান।

    পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, আমরা অর্থের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছি। যদি না আমরা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে ঋণ সেবা না পাই, তবে বৈদেশিক বিনিময় হবে না অথবা পণ্য আমদানির জন্য অর্থ দিতে পারব না। সুতরাং ঋণ না পেলে অথবা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ না আসলে আমরা সত্যি-সত্যিই সমস্যায় পড়ব।

    দুই মাস আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দিলেন ইমরান খান। ‘ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে রিয়াদে গেছেন তিনি। সৌদি সাংবাদিক খাসোগি হত্যার পর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী অনেক ফোরাম সম্মেলনটি বর্জন করেছে। আর কেন তিনি সৌদি আরব সফর করছেন সেই কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। ইমরান জানান, তাঁর দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটে। তাঁদের সৌদি সরকারের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। যে কারণে অন্যদের পথ অনুসরণ না করে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।

    ইমরান খান বলেন, ‘২১ কোটি জনগণের দেশ আমাদের। আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সময় মধ্যে আছি।’ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্মেলনে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

  • স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

    স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। রোববার তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখ্য উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বার্নিকাটের দক্ষ নেতৃত্বের জন্য এ সম্মাননা দিয়েছে। সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে গণ্য করা হয়।
    এদিকে, রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সম্মাননা প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়- এটি রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের প্রাপ্য ছিল।
    উল্লেখ্য, চারদিনের সফরে এখন বাংলাদেশে রয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন মুখ্য উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ মতবিনিময় করছেন তিনি। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ছাড়াও আজ কূটনীতিক এবং সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক-ভোজের আয়োজন রয়েছে। রাতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হবেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী

  • পাকিস্তানে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১৯

    পাকিস্তানে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১৯

    পাকিস্তানে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ যাত্রী।

    স্থানীয় সময় রোববার রাতে পাঞ্জাবপ্রদেশের ডেরা গাজী খান শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পাকিস্তান টুডের খবরে বলা হয়েছে, দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি বাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নিহতদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। বাস কেটে তাদের মরদেহ বের করা হয়েছে।

    জানা গেছে, হতাহতরা সবাই ডিজি খান থেকে মুলতানে ফিরছিলেন।

    এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে তিনি আহতদের সুচিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সরদার উসমান আহমাদ খান বুজদার মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

     
  • ভারতে দুই ট্রেনের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২

    ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরের চৌরি বাজার এলাকায় দশেরার রাবন পোড়ানোর উৎসবে ট্রেন চাপার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ হয়েছে। গতকাল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রেল লাইনের পাশে দশেরার রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো হচ্ছিল। সেই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন কয়েকশ’ মানুষ। পুতুল পোড়ানোর সময়ে ছিটকে আসা আগুন থেকে বাঁচতে দর্শকদের একাংশ রেল লাইনের ওপরে উঠে আসে। আর তখনই ওই লাইন ধরে দ্রুত গতির ট্রেন চলে আসলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বিপরীত দিক থেকে আলাদা লাইনে দুটি ট্রেন এক সঙ্গে চলে আসায় কোনও দিকেই দর্শকেরা সরতে পারেনি। একারণেই প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। সাব ডিভিশনার ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ শর্মা বলেন, নারী ও শিশুসহ ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৭২ জনকে আহত অবস্থায় অমৃতসর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
    ৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমার নির্দেশ
    চার সপ্তাহের মধ্যে অমৃতসরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অমৃতসরে ট্রেনে পিষে ৬২ জনের মৃত্যুর একাধিক কারণ উঠে আসছে বিভিন্ন মহলে। রাবণ পোড়ানোর বাজির শব্দে শোনা যায়নি ট্রেনের হর্ন। লেভেল ক্রসিংয়ের কর্মীরাও সতর্ক ছিলেন না বলে অভিযোগ। শেষমুহূর্তে গতি কমাতে পারেননি ট্রেনচালকও। অভিযোগ থেকে রেহাই পাননি উদ্যোক্তারাও।
    গতকাল থেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী সিং। সঙ্গে ছিলেন ক্যাবিনেটের অন্য মন্ত্রী ও সরকারি অফিসাররা। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫২ জনের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’ দুর্ঘটনায় মোট ৫৭ জন আহত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
    উত্তর রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপক কুমার জানিয়েছেন, সকাল থেকে অমৃতসর-মানাওয়ালা শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। গতকাল দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
    বাতিল ৩৭ ট্রেন, ঘুরপথে চলবে ১৬টি
    অমৃতসরের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে মোট ৩৭টি ট্রেন বাতিল করা হল। অমৃতসর-মানাওয়ালা শাখায় মোট ১০টি মেইল এক্সপ্রেস এবং ২৭টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬টি ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। ১০টি মেইল এক্সপ্রেস ও ২টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে ‘শর্ট টার্মিনেট’ করা হয়েছে এবং ৬টি মেইল এক্সপ্রেসকে ‘অরিজিনেট’ করা হয়েছে। উত্তর রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপক কুমার জানিয়েছেন, সকাল থেকে অমৃতসর-মানাওয়ালা শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। রেল লাইনের পাশে দশেরা উদযাপনের কথা জানতই না রেল কর্তৃপক্ষ
    মৃতেদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্যের অমরিন্দর সিং সরকার। কেন্দ্রের তরফেও মৃতদের পরিবার পিছু ২ লাখ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
    এদিকে, এই দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রেস বিবৃতি দিয়ে বিজেপি এর দায় চাপিয়েছে রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের উপর। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, রেল লাইনের উপর এমনভাবে মানুষের জমায়েত হবে তা রেল জানত না। এদিকে, পুলিশের অনুমতি নেওয়া হলেও স্থানীয় পৌরসভা এবং দমকলের অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী সিধু জানিয়েছেন, এটা রাজনীতি করার সময় নয়, প্রতি বছরই ওই এলাকায় দশেরা অনুষ্ঠিত হয়
    ট্রেনের চালক স্টেশনমাস্টারকে খবর দেন
    দশেরার দিনে রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো দেখার সময় ডিএমইউ জলন্ধর-অমৃতসর প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ৬০ জন লোককে চাপা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রেনের চালক পরবর্তী স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে খবরটা দেন। রেলের এক পদস্থ কর্তা জানান, বহু মানুষের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লেগেছে বুঝতে পারার ঠিক পরেই অমৃতসর স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে খবর দেন ট্রেনটির চালক। ওই পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ট্রেন চালকের বয়ানও রেকর্ড করা হবে, ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল তার তদন্তের জন্য। তিনি আরও জানান, জলন্ধর-অমৃতসর বিভাগের মধ্যে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
    এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল
    সূত্রের খবর, ট্রেন চালক দাবি করেছেন যে তাকে সব ক্লিয়ার আছে জানিয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। ক্রিসিংয়ের কাছে রেললাইনের উপর শতাধিক মানুষ আছে বলে তার কোনও ধারণাই ছিল না। অমৃতসরে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে ৬২ জনের মৃত্যুর পর আটক করা হয়েছে ট্রেনের চালককে। পাঞ্জাব ও রেল পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে তাঁকে। পাঞ্জাব পুলিশের এক আধিকারিক জানান, লুধিয়ানা স্টেশন থেকে আটক করা হয়েছে ওই ডিজেল মাল্টিপল ইউনিট ডেমু চালককে। অমৃতসর শহরের ধোবি ঘাটে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে তাঁকে।
    সূত্রের খবর, ট্রেন চালক দাবি করেছেন যে তাঁকে সব ক্লিয়ার আছে জানিয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। ক্রিসিংয়ের কাছে রেললাইনের উপর শতাধিক মানুষ আছে বলে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। তবে দশেরায় রাবন বধের আয়োজকারীদের কারও বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্যোক্তারা গা ঢাকা দিয়েছে।
    দুর্ঘটনার সময় সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল মানুষ
    অতগুলো মানুষ ট্রেনের তলায় চাপা পড়ার পরেও অন্যরা নিজেদের মোবাইল থেকে দশেরার রাবণ বধের ভিডিও করতে ব্যস্ত। মানাওয়ালা এবং ফিরোজপুর স্টেশনের মধ্যে ঘটা এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, অতগুলো মানুষ ট্রেনের তলায় চাপা পড়ার পরেও অন্যরা নিজেদের মোবাইল থেকে দশেরার রাবণ বধের ভিডিও করতে ব্যস্ত। ওই ঘটনার মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা নভজ্যোত কৌর সিধু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, কেউই জানে না কীভাবে আচমকা ঘটে গেল পুরো ঘটনাটা। সকলে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল। বহু বিশিষ্ট নাগরিক সহ রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে টুইট করেছেন।
    জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট করেন, ‘কী ভয়ঙ্কর নির্বোধের মতো একটি ঘটনা এটা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটির ভিডিও দেখলেই তা মালুম হয়। এতগুলো মানুষের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে, অথচ কী উদাসীনভাবে আরও কত মানুষ তার ভিডিও করে যাচ্ছিল! ভাবা যায় না’! সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দি হিন্দু, ইন্ডিয়ান টাইমস,

  • মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ৯

    মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ৯

    মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন।

    টুইন হিলস এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সাইটে নির্মাণস্থলে এ দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন।

    শুক্রবার পেনাং রাজ্যের জালান বেরকামবার পায়া টেরাবোং রিলাউর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন- যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩০), পানিসারা ইউনিয়নের মোহিনিকাটি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রাহাতজান আলী (২৫) এবং ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামের মোজাহারুল ইসলামের ছেলে আখতারুজ্জামান (৩৫)।

    নিহতরা একে অপরের খালাতো ভাই। একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    নিহত অন্যদের মধ্য ইন্দোনেশিয়ার তিনজন পুরুষ ও দুইজন নারী এবং মিয়ানমারের একজন নারী রয়েছেন।

    দেশটির উত্তর-পূর্ব জেলা পুলিশ সহকারী কমিশনার চে জামান জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন। তাদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

    নিখোঁজ ব্যক্তিরা মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করছে উদ্ধারকারী দল।

     
  • দ্বিতীয়বার গণভোটের দাবিতে লন্ডনের রাজপথে লাখো মানুষ

    দ্বিতীয়বার গণভোটের দাবিতে লন্ডনের রাজপথে লাখো মানুষ

    ব্রেক্সিটের দ্বিতীয়বার গণভোটের দাবিতে লন্ডনের রাজপথে আন্দোলনে নেমেছিল লাখ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক। ব্রেক্সিট নিয়ে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমাবেশ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।

    শনিবার (২০ অক্টোবর) লন্ডনে আন্দোলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নীল ও সোনালি পতাকা। ব্যানারগুলোতে লেখা ছিলো আরেকটি গণভোটের দাবির কথা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, এ আন্দোলনের কারণে আবারও চাপের মুখে পড়বেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ব্রেক্সিট আলোচনায় ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

    জানা যায়, আগামী বছরের মার্চ মাসেই ইইউ ত্যাগ করছে যুক্তরাজ্য। কয়েক মাস আলোচনার পর দেশটির প্রধান দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিভেদ দেখা দিয়েছে। কনজারভেটিভরা নিজেদের মধ্যে কোন্দল শুরু করা ছাড়াও কীভাবে ইইউ ছাড়া হবে তা নিয়ে দ্বিধান্বিত হয়ে আছে লেবার পার্টি। তবে দুই দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দ্বিতীয়বার গণভোট করার সময় পর্যাপ্ত সময় কি আসলেই আছে?

    মিছিলের আয়োজকদের একজন জেমস ম্যাকগ্ররি বলেন, ভোটারদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া উচিৎ। কারণ এ সিদ্ধান্তে পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে। সবাই মনে করছে ব্রেক্সিট আলোচনায় জট পাকিয়ে গেছে। সরকারের ওপর কোনও আস্থা নেই তাদের।

    আয়োজকদের দাবি, মিছিলে সাত লাখ ব্রিটিশ নাগরিক অংশ নেয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতার ঘটনার পর এটাই যুক্তরাজ্যে এটাই সবচেয়ে বড় মিছিল।

    দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, যে পরিমাণ লোক ছিল তার সঠিক সংখ্যা জানানো সম্ভব না।

    লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, যিনি মূল রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা নিয়ে পার্লামেন্ট স্কয়ার এলাকা থেকে এ সমাবেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলো জনপ্রিয় বক্তা স্টিভ কোগান, ডেলিয়া স্মিথ এবং দেবোরাহ মেডেন।

    সাদিক খান বলেন, কোনটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ যে, ভোটটি আনডেমোক্রেটিক, আনপ্যাট্রিয়োটিক। তবে এটা বোঝা যাচ্ছে সঠিক বিরোধীরাই যা বলছে তা সত্য। তাহলে আরও ডেমোক্রেটিক বিষয়টি কি বা আরো ব্রিটিশ নাগরিকে পরিণত হওয়া মানে কি? এক্ষেত্রে ব্রিটিশ সাধারণ নাগরিকদের বিচার মেনে নিতে হবে।

    হ্যারোগেট এলাকায় প্রো-ব্রেক্সিট এলাকায় যখন সমাবেশ শুরু হয়েছিল তখনই যাত্রাটি শুরু হয়েছিল। যার মূল আয়োজক ছিল ইউকেআইপি’র সাবেক নেতা নিগেল ফারাজ।

    গত জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের চেকার্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্রেক্সিটের জন্য থেরেসা মে যেসব শর্তের খসড়া লিপিবদ্ধ করেছিলেন সেগুলোর বিষয়ে ইইউ নেতারা অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে বৈঠকে বসেছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর সেখানে থেরাসে মের অনুপস্থিতিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার পরিকল্পনা সফল হবে না।

    মূল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড অংশের মধ্যে বাণিজ্যের শর্ত নির্ধারণ নিয়ে। আইরিশ সীমান্তের বিষয়ে ইইউয়ের পরামর্শ হচ্ছে- নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় বাজারের অংশ হিসেবে থাকবে। আর বাকি যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যুক্তরাজ্যকে বিভক্ত করে ফেলবে।