Category: আন্তর্জাতিক

  • সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত চীন

    সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত চীন

    নিজ দেশে ইতোমধ্যেই নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। এবার তার দেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী হয়ে উঠতেও আগ্রহী। নতুন বছরের বার্তায় বেশ স্পষ্ট করেই সে কথা জানালেন শি জিন পিং। যেখানে নতুন বছরে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

    স্থানীয় সময় সোমবার সকালে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য। শি বলেছেন, ‘‘একটা দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে চীনের কিছু বলার আছে।’’ যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে চীনের কথা শুনতে হবে গোটা বিশ্বকে, চীনকে অবজ্ঞা করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না— এই বার্তাই এদিন দিতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিন পিং।

    তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ যাতে আরও দ্রুত এগোয়, তা নিশ্চিত করতেও বেইজিং সক্রিয়তা বাড়াবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    জাতিসংঘের কর্তৃত্ব এবং মর্যাদাকে চীন দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করবে বলে নিজের ভাষণে এদিন মন্তব্য করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। চীনের যেসব আন্তর্জাতিক দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, সেসব পূরণ করার লক্ষ্যেও বেইজিং নতুন বছরে অনেক বেশি সক্রিয় হবে বলে চীনা প্রেসিডেন্ট বার্তা দিয়েছেন।

  • পাকিস্তান সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসাচ্ছে ভারত

    পাকিস্তান সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসাচ্ছে ভারত

    বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সামরিক শক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলছে ভারত। আর তারই জের ধরে এবার রাশিয়া খুব শিগগিরই ভারতকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ সরবরাহ করবে। সম্প্রতি ভারত সফরে এসে এমনটাই জানিয়েছেন রুশ উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন। জানা গেছে, এই অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন করা হবে।

    এর আগে নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার উপর-প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভারত সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে রাশিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়া ভারতকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হয়। আর সেই মতো মনে করা হচ্ছে শিগগিরই ভারতের হাতে এস-৪০০ চলে আসবে বলে দাবি তার।

    জানা গেছে, শত্রুর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যবস্থা থেকে একই সময়ে ৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে। যেকোনো ট্যাকটিক্যাল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে দুই থেকে ২৭ কিলোমিটার উচ্চতায় ধ্বংস করে ফেলতে পারবে এস-৪০০ ব্যবস্থা।

  • জেরুজালেম নিয়ে মুসলমানরা কোন আপোস করবে না: এরদোগান

    জেরুজালেম নিয়ে মুসলমানরা কোন আপোস করবে না: এরদোগান

    পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহর জেরুজালেমকে নিয়ে মুসলমানরা আপোস করবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত ষোড়শ ইসলামী সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা-মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এসময় তিনি বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে মুসলমানদের কাছে ‘রেড লাইন’। তাদের কাছে পবিত্র এ শহরের অনেক মূল্য রয়েছে। এসময় তিনি নৃতাত্ত্বিক, সাম্প্রদায়িক কিংবা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে কাউকে বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ না দেয়ার জন্যও আহ্বান জানান।

    গত ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইল-মার্কিন বিরোধী প্রস্তাব পাসের প্রশংসা করে এরদোগান বলেন, “বায়তুল মুকাদ্দাসকে কেন্দ্র করে আমাদের যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা থেকে প্রমাণ হয়- আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি জাতিসংঘের ওই ভোটাভুটির মধ্যদিয়ে একথাও পরিষ্কার হয়েছে যে, এমন কিছু মূল্যবোধ রয়েছে যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।”

  • নিউইয়র্কে বর্ষবরণ উৎসবে ১০ লাখ মানুষ

    নিউইয়র্কে বর্ষবরণ উৎসবে ১০ লাখ মানুষ

    আমেজ ও হৃদয়ের উষ্ণতায় নতুন বছর ২০১৮ সালকে বরণ করে নিয়েছে আমেরিকাবাসী। এজন্য নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে জমকালো বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় সময় রাত ১২ বাজতে এক মিনিট আগে (বাংলাদেশ সময় বেলা ১০টা ৫৯ মিনিট) চোখ ধাঁধানো ওয়াটারফোর্ড ক্রিস্টাল (Waterford crystal) বল ড্রপ-এর মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আমেরিকাবাসী।

    নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ এর অনলাইনে বলা হয়েছে, এ বছর ইংরেজি বছরকে বরণ করে নিতে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে তারা নতুন বছরকে বরণ করতে সেখানে উপস্থিত হয়। খবরে আরও বলা হয়, বর্ষবরণের জন্য মার্কিনিরা সন্ধ্যা থেকে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়। এ সময় তাদের বিনোদিত করার জন্য সন্ধ্যা থেকে রাত ১২.১৫ মিনিট পর্যন্ত চলে জনপ্রিয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা।

  • ৩১ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এইদিনে

    ৩১ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এইদিনে

    আজ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭, রোববার। ১৭ পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরি। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩৬৫ তম (অধিবর্ষে ৩৬৬ তম) দিন।

    এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

    ঘটনাবলি

    ১৬০০- ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেন।

    ১৮০২- পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ব্রিটিশ সরকারের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

    ১৮২৭ – ইংরেজ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার প্রথম দিয়াশলাই আবিষ্কার করেন।

    ১৮৩১ – কৃষ্ণধন মিত্রে সম্পাদনায় শিশুপাঠ্য মাসিক পত্রিকা ‘জ্ঞানোদয়’ প্রকাশিত হয়।

    ১৯০৬- চীনের থুংমেং হুই দলের সদস্য লিউ তাওই চীনের ছাংশা শহরে গ্রেফতার হয়ে নিহত হন।

    ১৯১৬- রাশিয়ার যাজক রাসপুটিন নিহত হন।

    ১৯২৫- রুমানিয়ার রাজা দ্বিতীয় ক্যারোল পুত্রের স্বপক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।

    ১৯২৯ – জওহরলাল নেহরু ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ভারতীয় কংগ্রেসে ঘোষণা করেন ‘পূর্ণ স্বাধীনতাই ভারতের লক্ষ্য’।

    ১৯৪২- স্টালিনগ্রাদের লড়াইয়ে জার্মান বাহিনী পরাজয় বরণ করে।

    ১৯৪৮ – কার্জন হলে পূর্ব-পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষার পক্ষে তথ্যপূর্ণ হৃদয়স্পর্শী ভাষণ প্রদান করেন।

    ১৯৮৩– ব্রুনাই এর স্বাধীনতা ঘোষণা হয়।

    ১৯৮৭- চীনের নৌবাহিনীর পারমাণবিক ডুবু জাহাজের প্রথম নৌযাত্রা সাফল্যের সংগে সমাপ্ত হয় ।

    ১৯৮৮- পরমাণু, অনাক্রমণ, বিমান পরিবহন ও সংস্কৃতি বিষয়ে ভারত-পাকিস্তান চুক্তি স্বাক্ষর।

    ১৯৮৯- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত প্রজাতন্ত্রগুলোতে জাতীয়তাবাদী চেতনা চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে আযারবাইজান প্রজাতন্ত্রের জনগণ ইরানের সাথে একত্রিত হবার জন্যে আন্দোলন শুরু করে।

    ১৯৯৩- হাংচৌ শহরে চীনের প্রথম ইলেক্ট্রোনিক সংবাদপত্রের জন্ম হয় ।

    ১৯৯৬- ৭৪ বছর বয়স্ক বুট্রোস ঘালি ছিলেন প্রথম আফ্রিকা ব্যক্তি যিনি জাতিসংঘের মহসচিবের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ১৯৯৯- আমেরিকা কর্তৃক পানামা খাল পানামার কাছে হস্তান্তর।

    ১৯৯৯ – রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিন পদত্যাগ করেন এবং ভ্লাদিমির পুতিন তার স্থলাভিষিক্ত হন।

    ২০০২- জার্মানিতে বিশ্বের প্রথম ম্যাগনেটিক দ্রুততম ট্রেনের (ঘণ্টায় ২৭০ মাইল গতি) যাত্রা শুরু।

    ২০০৯ – এ দিনে সুপার মুন ও চন্দ্রগ্রহণ একই সঙ্গে ঘটেছিল।

    ২০১৪ – চিনের সাংহাই এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আতঙ্কবাদীদের হামলায় ৩৬ লোক নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়।

    জন্ম

    ১৪৯১ – ফরাসি অভিযাত্রী জাক কার্তিয়ে জন্মগ্রহন করেন।

    ১৫১৪- প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং এ্যানাটমিস্ট ড: এন্ড্রিয়াস ভেসালিয়াস বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৭৩৮- ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৩০- মিসরের শাসনকর্তা ইসমাইল পাশা জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৬৯ – ফরাসি চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর আঁরি মাতিস জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৭৫ – প্রাচ্যবিদ আর্থার ক্রিস্টেসেন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগে জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৮৮- বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন শাস্ত্রের গবেষক বেণীমাধব বড়ুয়া জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯৩৮ – লেখক আল কামাল আবদুল ওহাব জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯১১- চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও মানবহিতৈষী ড. মোহম্মদ ইব্রাহিম জন্মগ্রহন করেন।

    ১৯১৮- শিক্ষাবিদ ও গবেষক আজিজুর রহমান মল্লিক জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯৪৫ – তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানী লেনার্ড এডলম্যান জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯৪৮ – কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯৫২ – কবি ত্রিদিব দস্তিদার জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৯৮৬ – বাংলাদেশী ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।

    মৃত্যু

    ১৯৪০- চীনা সঙ্গীতজ্ঞ সিও ইয়ৌমেই এর চীনের শাংহাইয়ে মুত্যু হয়।

    ১৯৫২- স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তাবলিগ নেতা কিফায়েতুল্লাহ এর মুফতির মুত্যু হয়।

    ১৯৮৩ – বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ সুলতান এর মুত্যু হয়।

    ১৯৯০- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মণি এর সিংহ মুত্যু হয়।

    দিবস

    আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস (আজারবাইজান), নভি গড ইভ (রাশিয়া), অমিসোকা (জাপান), খাঞ্জা উৎসব এর ষষ্ঠ দিন (আমেরিকা)।

  • ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

    ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

    দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরান, কেরমানশাহ, রাশত, ইস্পাহান এবং কোমাসহ ১৩টি শহরে সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখরিত ছিল কয়েক হাজার মানুষ।

    দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল শহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মাশহাদে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিভিন্ন শহরে শহরে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে ইরান সরকার। বিক্ষোভ চলাকালে ‘কটু স্লোগান’ দেয়ায় ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরান সরকার ‘অবৈধ সমাবেশ’ এড়িয়ে চলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।

    উচ্চ দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজন শুক্রবার মাশহাদের রাস্তায় নেমে এসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। পরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে রাজবন্দিদের মুক্তি ও পুলিশি নির্যাতন বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে।

    প্রথমদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারি নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের বড় বড় শহরগুলোতে আন্দোলন বিস্তৃত হয়।

    শুক্রবার রাজধানী তেহরানেও বিক্ষোভ হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা ফুটেজে বিক্ষোভ ঘিরে প্রচুর পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের উদ্দেশে রাজধানীর সিটি স্কয়ারে জড়ো হওয়া অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন তেহরানের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর জেনারেল।

    বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা ইরানের জনগণ এবং তাদের মৌলিক অধিকারের দাবি ও দুর্নীতি বন্ধে সমর্থন দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত ইরান সরকারের, যা ঘটছে তা বিশ্ব দেখছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতি এবং জনগণের সম্পদ দিয়ে সন্ত্রাসীদের অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ইরানিরা। সে কারণেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাজপথে নেমেছে সাধারণ মানুষ।

    ২০০৯ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পরে হওয়া বিক্ষোভের চেয়ে এবারের বিক্ষোভকেই জনরোশের সবচেয়ে গুরুতর ও ব্যাপক অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিক্ষোভের শুরুর দিকে অর্থনৈতিক অবস্থা ও দুর্নীতি আন্দোলনকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকলেও পরে তা রাজনৈতিক দিকে মোড় নেয়।

    দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্য আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে অবৈধ সমাবেশের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

    কেবল প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিই নন, আন্দোলনকারীদের স্লোগানের তীর বিস্তৃত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির বিরুদ্ধেও।

    বিক্ষোভ হয়েছে ধর্মীয় নেতাদের আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত কোম শহরেও। বিক্ষোভকারীদের ‘জনগণ ভিক্ষা করছে, মোল্লারা ঈশ্বরের মতো আচরণ করছে’ জাতীয় স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

    সরকারের সমর্থনে পাল্টা শোভাযাত্রা : শুক্রবার ইরানে হাজার হাজার মানুষ সরকারের নীতিবিরোধী বিক্ষোভ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের রাস্তায় একটি শোভাযাত্রার ছবি দেখানো হয়।

    আর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাসাদে সমর্থকরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির ছবিসহ ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছেন। খবর রয়টার্সের।

    বৃহস্পতিবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছিলেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। শুক্রবার তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খেরমানসাহ শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।