Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানকে যুদ্ধ অবসানের জন্য পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানকে যুদ্ধ অবসানের জন্য পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ১৫ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    এই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    নিউইয়র্ক টাইমস দু’জন অজ্ঞাত কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।

    ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে, যার সময় এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার প্রক্রিয়া চলবে।

    চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা উপাদান হস্তান্তর করতে হবে—যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    এতে বলা হয়েছে যে, ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরানের আংশিক প্রতিশোধমূলক অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে।

    এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বুশেহর স্থানে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। এই স্থাপনাটিকে ইরান সম্প্রতি ইসরাইল হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে।

    হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তর এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একযোগে চালানো বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। এর আগে ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকার ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

  • ইরানি গ্যাসক্ষেত্রে হামলা, উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত তেহরানের

    ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশটি আরও বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছে।

    এতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিব নিহত হওয়ার পর এই সতর্কবার্তা দিলো তেহরান।

    যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, গত তিন সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একের পর এক অবসান ঘটছে। খাতিব হত্যা সেই তালিকার সর্বশেষ ঘটনা।

    নিজেদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের জ্বালানি খাতে আর কোনো ধরনের আঘাত আসলে তারা কঠোর জবাব দেবে।

    ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রেভল্যুশনারি গার্ডসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আবারও সতর্ক করছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তোমরা বড় ভুল করেছ। যদি এটা আবার হয়, তবে তোমাদের ও তোমাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চলতেই থাকবে, যতক্ষণ না তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়।’

    সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।

    তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানায়, ওয়াশিংটন বিষয়টি জানলেও এই হামলায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

    এদিকে, কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। এই ঘটনার পর দোহা দুই জন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।

    সৌদি আরবও জানিয়েছে, তারা তাদের পূর্বাঞ্চলীয় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আসা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া রিয়াদের দক্ষিণে একটি শোধনাগারের কাছে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম আগে থেকেই চড়া ছিল। বৃহস্পতিবার নতুন করে এই উত্তেজনায় তেলের দাম আরও ৩ শতাংশ বেড়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক উত্তেজনা পরিহার করা জরুরি।’

    আলি লারিজানির পর ইসমাইল খাতিবের মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা। ইসরাইল বর্তমানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্মূল করার অভিযান চালাচ্ছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খাতিব হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।

    অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

    এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, ‘রক্তের প্রতিটি ফোঁটার মূল্য দিতে হবে।’

    পিতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করলেও মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লারিজানিকে পবিত্র নগরী কোমের একটি মাজারে দাফন করা হবে।

    ওয়াশিংটনে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরান সরকার টিকে থাকলেও, তাদের সক্ষমতা অনেক কমে গেছে।

    তবে তেহরান এখনও পরমাণু সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি বলেও জানান তিনি।

    ইরান ও তাদের মিত্রদের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক লক্ষ্য বানাচ্ছে ইসরাইল।

    এর আগে ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ ও গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়।

    এতসব ক্ষতির মুখেও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    এ নিয়ে ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

    রাতভর তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

    এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে শত শত মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বুধবার দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

    আলি খামেনির মৃত্যুর জেরে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা শুরু করলে লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় দক্ষিণ লেবানন থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সিডন শহরের দিকে পালাচ্ছে।

    ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো বৃহস্পতিবার লেবানন সফরে যাচ্ছেন।

    ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর লেবাননের জনগণের প্রতি ফ্রান্সের সংহতি প্রকাশের অংশ, যারা তাদের অজান্তেই একটি যুদ্ধের শিকলবন্দি হয়েছে।

    ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা আগামী পাঁচ দিন মার্কিন দূতাবাসে হামলা বন্ধ রাখবে। তবে এর বিনিময়ে তারা বৈরুত ও ইরাকের আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি হামলা বন্ধের শর্ত দিয়েছে।

    এএফপি জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে কোনো ড্রোন বা রকেট হামলা হয়নি।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে আইএমও’র বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে আইএমও’র বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)’র কাউন্সিলের ৩৬তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ এ কথা জানায়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি ও বিশ্বজুড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য আইএমও এই জরুরি সভার আয়োজন করে।

    লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার ড. নজরুল ইসলাম।

    আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশী নাবিকসহ বিশ্বের সকল সমুদ্রকর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

    আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (আনক্লজ) অনুযায়ী সব ধরনের নৌযানের অবাধ ও বৈধ চলাচলের প্রতি বাংলাদেশ তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

    অধিবেশনে প্রতিনিধি দলটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চলমান এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানায়।

  • ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ২০০

    ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ২০০

    ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আহতদের বড় অংশই সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮০ জন এরইমধ্যে তাদের দায়িত্বে ফিরেছেন। আর ১০ জনের আঘাত গুরুতর। এই সেনারা কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক ও ইসরাইলে আহত হন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে ইরান। সংঘাত শুরুর পর থেকে হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সোমবার মার্কিন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক ডজন এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার সেন্টকম ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল।

    গত ১ মার্চ যুদ্ধ শুরুর মাত্র একদিনের মাথায় ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। সেন্ট্রাল কমান্ড তখন জানায়, তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভুলবশত কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত হয়।

  • ট্রাম্পের কথা শুনবে না ন্যাটো

    ট্রাম্পের কথা শুনবে না ন্যাটো

    বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর চাপ বেড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাই মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু তারা উল্টো অবস্থান নিয়েছে। ন্যাটোও এই যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে জার্মান সরকার জানিয়ে দিয়েছে বার্লিন এই যুদ্ধে জড়াবে না। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, এই যুদ্ধে ন্যাটোর কোনো ভূমিকা থাকবে না।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক মের্ৎসের মুখপাত্র স্টিফেন কর্নলিয়াস সোমবার (১৬ মার্চ) বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার কাজ নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষা করা।’

    এর আগে রোববার ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় সহায়তা না করলে তাদের জন্য ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

    তবে জার্মানি জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে তারা এ ধরনের কোনো সামরিক উদ্যোগে অংশ নেবে না। কর্নেলিয়াস বলেন, যতদিন এই যুদ্ধ চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার জন্য সামরিকভাবে কোনো উদ্যোগে আমরা অংশ নেব না।

    তিনি আরও জানান, এ ধরনের কোনো মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জার্মানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে—এমন তথ্য তার জানা নেই।

    তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। বরং শুরুতেই ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছিল যে ইউরোপের সহায়তা প্রয়োজন নেই।

    শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার প্রতি অনেক ইউরোপীয় নেতার তুলনায় বেশি সমর্থন জানিয়েছিলেন। যেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোসহ অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারা এসব হামলাকে অবৈধ বলে নিন্দা জানান। সেখানে মের্ৎস ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘একই অবস্থানে’ থাকার কথা বলেছিলেন।

    তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির ওপর এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করায় মের্ৎস এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলার সমালোচনায় আরও সরব হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পারস্য উপসাগরের এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার জন্য ট্রাম্পের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ সোমবার জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিপদ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, দেশের আকাশসীমা লক্ষ্য করে আসা এ সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    দুবাই কর্তৃপক্ষ এর আগে, ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের কাছে অগ্নিকাণ্ড ও ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টিকে নিশ্চিত করেছে।