Category: আন্তর্জাতিক

  • দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ, একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার

    দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ, একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার

    এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আজ সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন হামলার শিকার হচ্ছে এবং ইরান এই অঞ্চল জুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ব্যাপক প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করার পর থেকে দোহা ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

    এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে  এগিয়ে আসা দুটি ড্রোন প্রতিহত এবং ধ্বংস করা হয়েছে।

    কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা আজ সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে।

    কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গতকাল রোববার উপসাগরীয় এই দেশটি সাতটি মিসাইল ও পাঁচটি ড্রোনের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপে ইরানের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এএফপির সাংবাদিকরা দুটি বিকট বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গতকাল রোববার জানিয়েছে, ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তারা সৌদি আরব থেকে তাদের দূতাবাসের কিছু কর্মীকে সৌদি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জরুরি দায়িত্বে নেই-এমন  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মচারীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গত সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোনের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো অনেকটাই ভুগছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি কোনো হামলা চালানো হয় বা ইরানের ওপর আক্রমণ হয়, তাহলে তেহরান প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের

    বেইজিং সোমবার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের বিশেষ দূত। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এতে চীনের তেল সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    বেইজিং তেহরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে চীন। তবে সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের ওপর ইরানের হামলারও সমালোচনা করেছে তারা।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষ দূত ঝাই জুন রোববার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, ‘চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উত্তেজনা আরও বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আঞ্চলিক দেশের জনগণের আরও ক্ষতি এড়াতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখা, নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক নয় এমন লক্ষ্যবস্তুতে যেকোনো হামলার নিন্দা করা উচিত।’

    গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউইয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ঝাই জুন দ্রুত আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।’
    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত হয়নি।

  • প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক বোট সন্দেহে মার্কিন হামলায় ৬ জনের প্রাণহানি

    প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক বোট সন্দেহে মার্কিন হামলায় ৬ জনের প্রাণহানি

    পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারে জড়িত বলে সন্দেহে একটি বোটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ওয়াশিংটনের দাবি, বোটটি মাদক পাচারকারীদের পরিচালিত ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা প্রকাশ করেনি। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ ধরনের অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

    মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী নৌকাটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

    তবে এসব হামলা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকের মতে, এগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল। নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ জেলে ছিলেন বলে তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো দাবি করেছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় যাদের তারা ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ চলছে।

    গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মাদক আনা নৌকাগুলো খুঁজে বের করার অভিযান এতটাই সফল হয়েছে যে এখন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

  • উদ্ধার হওয়া ২২ ইরানি নাবিককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিল শ্রীলঙ্কা

    উদ্ধার হওয়া ২২ ইরানি নাবিককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিল শ্রীলঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের হামলায় একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর লাইফ র‌্যাফট থেকে উদ্ধার হওয়া ২২ ইরানি নাবিককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    কলম্বো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গলের কারাপিটিয়া হাসপাতালে বুধবার থেকে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক বাইরে আইআরআইএস ডেনা টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়ার পর তাদের সেখানে নেওয়া হয়।

    হাসপাতালের এক চিকিৎসা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ‘আরও ১০ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা ৮৪ ইরানির মরদেহও ওই হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

    রাতেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া নাবিকদের একই জেলার একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে নেওয়া হয়েছে।

    শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেনা জাহাজের জীবিত নাবিকদের আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় দেখভাল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সহায়তার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    দ্বীপ রাষ্ট্রটি দ্বিতীয় একটি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর-এর আরও ২১৯ ইরানি নাবিককেও নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। ডেনা ডুবে যাওয়ার একদিন পর জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়।

    বুশেহর জাহাজের নাবিকদের রাজধানী কলম্বোর ঠিক উত্তরে ওয়েলিসারা এলাকায় শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর একটি শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

    শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, বুশেহর জাহাজটিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিনকোমালি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। তবে ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে বলে নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান।

    ইরানিদের দেশে ফিরতে না দিতে ওয়াশিংটনের চাপ রয়েছে—এমন দাবি অস্বীকার করেছে শ্রীলঙ্কা। তারা বলেছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কলম্বো আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ আইন মেনেই এগোবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, বুশেহর জাহাজের নাবিক এবং সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার ওপর নির্ভর করছে।

    ওয়াশিংটনে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সম্মান ও স্বীকৃতি দেয়।’

    এদিকে ভারত শনিবার জানিয়েছে, মানবিক কারণে তৃতীয় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস লাভানকে তাদের একটি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজটিও ইঞ্জিন সমস্যার কথা জানিয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গত সপ্তাহে ভারতের আয়োজিত একটি বহুজাতিক নৌবহর পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এই তিনটি জাহাজ অংশ নিয়েছিল।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শনিবার বলেন, ‘আমি মনে করি, এটিই মানবিক কাজ ছিল এবং আমরা সেই নীতিতেই পরিচালিত হয়েছি।’

    লাভান জাহাজটি বুধবার ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোচি বন্দরে নোঙর করে।

    জয়শঙ্কর বলেন, ‘জাহাজে থাকা অনেকেই তরুণ ক্যাডেট ছিলেন। তারা জাহাজ থেকে নেমে কাছাকাছি একটি স্থাপনায় অবস্থান করছেন।’

  • তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

    তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করার দাবি করেছে ইরান। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

    শনিবার রাতে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী শহর কারাজসহ একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ইরানের তেল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের কয়েকটি তেলের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে, এসব জ্বালানি মজুত কেন্দ্র ইরানি সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাই সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ তেহরানের শাহর রেই এলাকায় একটি তেল ডিপোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ডিপোর কাছেই রয়েছে শহরের প্রধান তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা গেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার প্রভাবে আশপাশের বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক, পানির পাইপলাইন এমনকি কিছু হাসপাতাল ও স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে শনিবার ভোরে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দর ও তেল ডিপো এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা গেছে।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কাছে খবর এসেছে যে কয়েকজন আমেরিকান সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছে।”

    তবে এই দাবি নাকচ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ভিত্তিহীন গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোই এখন ইরানি প্রশাসনের প্রধান কৌশল।” আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও ইরানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি দিয়ে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না।” বিবিসি জানিয়েছে, তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একাধিক শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহত করছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

    এই সংঘাতের আরেকটি ঘটনায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইডিএফ বলছে, ইরানের কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের কমান্ডারদের লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন শিশুসহ ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই যুদ্ধে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

  • হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড

    হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড

    ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড শনিবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের পাহারায় থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে।

    বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ চলায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মার্কিন জ্বালানি সচিব ঘোষণা করেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এই ঘোষণার পরই রেভোল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি।’

    ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী নাইনি বলেন, ‘আমরা মার্কিনিদের পরামর্শ দিচ্ছি, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যেন ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটন’-এ লাগা আগুনের কথা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে।’