Category: আন্তর্জাতিক

  • রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬

    রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬

    রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায়  ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ওই হামলায়  ছয় ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার হামলার ফলে সারা দেশে বিমান সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। দেশটির কর্মকর্তারা  আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব খারকিভ অঞ্চলে একটি খারকিভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘রাশিয়ার আক্রমণের পর খারকিভের কিয়েভস্কি জেলার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের কিছু অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কাছাকাছি একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

    খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ বলেছেন, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় এবং ১১ বছর বয়সী দুই কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে।

    ডিনিপ্রোপেত্রোভস্কে, আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকজান্ডার গাঞ্জা বলেছেন,নিকোপোল জেলায় রাশিয়ার হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    গাঞ্জা বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ড্রোন, কামান এবং রকেট ব্যবহার করে প্রায় ২০ বার এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ বলেছেন, দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ায়, রাশিয়ান ড্রোন হামলায় এক শিশু আহত হয়েছে।

    খারকিভ অঞ্চলের চুগুইভে, মেয়র হালিনা মিনায়েভা বলেছেন যে শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়িতে ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন।

    রাশিয়ার অভিযানের কারণে রাতে সমগ্র ইউক্রেন জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    পোলিশ বিমান বাহিনী এক্সে-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের আকাশসীমা রক্ষা করার জন্য সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে।

  • কেবলমাত্র ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে : ট্রাম্প

    কেবলমাত্র ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে : ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামবে না।

    এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    লেবাননে ইসরাইলের হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানেও বড় ধরনের আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে মাত্র এক সপ্তাহেই তিন হাজারের বেশি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে।

    এই সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন অন্য দেশগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে টেনে এনেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতকে অস্থিতিশীল করেছে এবং সাধারণত শান্তিপ্রিয় উপসাগরীয় অঞ্চলেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলছেন যে, এখনই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা না গেলে, পরিস্থিতি এত খারাপ হতে পারে যে আর কেউ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

    ক্রেমলিন জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ওই ফোনালাপের সময় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    এই কথোপকথনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

    ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু করার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে  যে কোনো নতুন আলোচনা বা চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে আর কোনো সমঝোতা হবে না।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, যখন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো হুমকি নয় এবং অভিযানের লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে, তখন ‘ইরান কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তারা সেটা নিজে স্বীকার করুক বা না করুক।’

    ট্রাম্প আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তেহরান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার কাছে ‘গ্রহণযোগ্য’ কাউকে নিয়োগ করে, তাহলে তিনি ইরানের  অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবেন।

    উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আগেই বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সেই দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    এই উল্লম্ফন তেলের দামে সাপ্তাহিক প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

    মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

    জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান।

    তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন।

    এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’

    জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’

    ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’

    যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের বিক্ষোভ, সেনাদের প্রতি সমর্থন

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের বিক্ষোভ, সেনাদের প্রতি সমর্থন

    সীমান্ত প্রদেশগুলোতে শত শত আফগান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান ও সীমান্তে লড়াইরত নিজেদের সেনাদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

    আফগানিস্তানের গারদেজ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

    বিক্ষোভকারীরা সেনাদের গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে দেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার মানুষ।

    পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজে বাসিন্দারা জড়ো হন। তাদের কেউ কেউ তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়ান।

    একজন বিক্ষোভকারী গামাই বলেন, ‘আজ আমরা পাকতিয়ার কেন্দ্র গারদেজে জড়ো হয়েছি। আফগান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানের নির্মম হামলার প্রতিবাদ জানাতে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি রক্ষার জন্য এখানে এসেছি।’

    আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন।

    ইসলামাবাদ বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তারা জানিয়েছে, তাদের সেনারা ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে।

    অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে দুই পক্ষের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

    পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর পর সংঘর্ষ শুরু হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, ওই হামলায় তারা জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

    খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলাতেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাটি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিক্ষোভকারী ওবায়দুল্লাহ গুরবাজ বলেন, ‘আজকের এই প্রতিবাদ শুধু দেখানোর জন্য নয়। কুনারে নিহত ১৭ জন শহীদের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। তাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষও রয়েছেন।’

    ৭০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, গত সাত-আট দিন ধরে আমাদের পেছনে সেনারা দাঁড়িয়ে আছেন। তারা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, তবু দৃঢ়ভাবে দেশ রক্ষা করছেন।’

    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ২৫ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

    সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

    সংস্থাটি জানায়, নানগারহার প্রদেশে তাদের অন্তত একটি কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতির শিকার হয়েছে।

    সংঘর্ষের কারণে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জরুরি খাদ্য সহায়তাও স্থগিত হয়েছে।

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশটি আগেই তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছিল।

    নানগারহারের এক বাসিন্দা বলেন, আগে জাতিসংঘের সংস্থা তাদের অনেক সহায়তা করত। এখন তিনি নিজের খাওয়ার রুটির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

    শুধু এক নাম ব্যবহার করে ফারহাদ বলেন, ‘কখনো পেট ভরে, কখনো আধা পেট নিয়ে আমরা দিন কাটাই।’

    তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমি প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কাছে ১ হাজার আফগানি (১৬ ডলার) ধার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে দেয়নি।’

  • যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

    যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর ফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে সৃষ্টি হয় শূন্যতা এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে শুরু হয় তীব্র জল্পনা-কল্পনা।

    সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    বুধবার (৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বা ‘বিপ্লবী গার্ড’-এর সরাসরি চাপে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

    এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদ-এ সমাহিত করা হবে। তিনি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরের সন্তান ছিলেন। সেখানকার ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার-এ তার বাবার কবরের পাশেই তাকে শায়িত করার কথা রয়েছে।


    কে এই মোজতবা খামেনি?

    ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কিন্তু আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে ওঠেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি-র রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সময়ে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবারের অবস্থান পাল্টে গেলে তিনি তেহরানে চলে আসেন এবং এলিট আলাভি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তেহরান ও কুমে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। রক্ষণশীল আলেম মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদি-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে পড়াশোনা করেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইউএএনআই জানায়।

    মোজতবা একজন মধ্যম-স্তরের আলেম, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ নন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে আড়ালের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। বিশ্লেষকেরা তার ভূমিকাকে আহমদ খোমেনি-র সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি তার বাবা রুহুল্লাহ খোমেনি-র শাসনামলে প্রধান আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেছিলেন।


    প্রভাব ও বিতর্ক

    মোজতবার প্রভাবের পেছনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

    বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি সরকারগুলো তাকে নির্বাচন রাজনীতি ও নিরাপত্তা দমনপীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলী খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।


    সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট

    ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার হতে হলে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম এবং স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। মোজতবা বর্তমানে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা ধারণ করেন না। তাছাড়া, বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল বিষয়।

    সংবিধান অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসই পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে থাকে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থারও অনুমতি রয়েছে, যাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী কর্তৃত্ব অব্যাহত থাকে।

    তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, আইআরজিসি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শক্ত অবস্থান তার প্রার্থিতা জোরদার করতে পারে—বিশেষ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো তার পক্ষে একত্রিত হলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ধর্মীয় মর্যাদা বাড়াতে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণার কথাও শোনা গেছে, যদিও আলেম সমাজের একটি অংশ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করল ইরান

    নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করল ইরান

    ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

    সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবাকে নতুন লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ইরানিদের কাছে এটি একটি পবিত্র শহর।

    বুধবার বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ৮৬ বছর বয়সি খামেনিকে লক্ষ্য করে গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন।

    খামেনির জন্মও হয়েছিল মাশহাদ শহরে। সেখানকার ইমাম রেজা মাজারে পিতাকে সমাহিত করা হবে। তবে কবে তাকে দাফন করা হবে সেটি জানায়নি ফার্স নিউজ।

    জানা গেছে, খামেনি মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে শেষ নিদ্রায় শায়িত করা হয়।