Category: আন্তর্জাতিক

  • ভেনেজুয়েলার তেল খাত সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলার তেল খাত সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:    ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা মঙ্গলবার আরও শিথিল করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রের এই শিথিলতার পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটির তেল খাতে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর অংশ গ্রহণের সুযোগকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বিশেষ করে তখন, যখন দেশটির রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ একটি লাইসেন্স জারি করেছে, যা ভেনেজুয়েলার সরকার ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোলিওস ডি ভেনেজুয়েলা, এসএ-এর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন অনুমোদন করে, যাতে তেল বা গ্যাস অনুসন্ধান উন্নয়ন বা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য, প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সরবরাহ করা যায়।

    আরেকটি লাইসেন্স বন্দর ও বিমানবন্দর কার্যক্রম সম্পর্কিত কিছু লেনদেনও অনুমোদন করে, আর তৃতীয় একটি ডকুমেন্ট ভেনেজুয়েলা উৎসের তেলের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রমকে যথাযথভাবে অনুমোদিত করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাকাসে তার সমাজতান্ত্রিক বিরোধী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করার পর থেকে, ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলোতে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ খুলতে দেশটির সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন।

    তিনি ডেলসি রড্রিগেজকে মার্কিন শর্তে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, যাতে ওয়াশিংটন বিশ্বে বৃহত্তম প্রমাণিত এই তেল মজুদে প্রবেশাধিকার পায়।

    ট্রেজারির এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন মার্কিন শক্তি সচিব ক্রিস রাইট অজানা একটি তারিখে তেল সংক্রান্ত কথাবার্তা চালাতে ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে মার্কিন মিডিয়া জানিয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ভেনেজুয়েলায় বিশ্ব মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় এক-পঞ্চম অংশ রয়েছে এবং এক সময় এই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্রুড তেল সরবরাহকারী ছিল।

  • নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে কূটনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাবের সতর্কতা ইরানের

    নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে কূটনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাবের সতর্কতা ইরানের

    অনলাইন ডেস্ক:   ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের আগে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের আলোচনাই নেতানিয়াহুর ওই সফরের মূল আলোচ্য হওয়ার কথা।

    তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘আমাদের আলোচনার পক্ষ হলো যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর চাপ ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রেরই।’

    ‘তিনি বলেন, ‘জায়নবাদী সরকার বারবার, একটি নাশকতাকারী হিসেবে, দেখিয়েছে যে তারা আমাদের অঞ্চলে শান্তির দিকে পরিচালিত করে এমন যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে।’

  • মিথ্যা, আতঙ্ক আর ট্রমা, জোরপূর্বক রুশ সেনায় নিয়োগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বললেন কেনিয়রা

    মিথ্যা, আতঙ্ক আর ট্রমা, জোরপূর্বক রুশ সেনায় নিয়োগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বললেন কেনিয়রা

    অনলাইন ডেস্ক:    ভিক্টরের হাতের আগায় থাকা ক্ষতচিহ্ন তাকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় সেই দিনের কথা, যেই দিন ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় তিনি আহত হন।

    রুশ সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ পাওয়ার পর, শত শত তরুণ কেনিয়ানের মতো তিনিও এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই ছিল না।

    ভয়াবহ ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা ছিল তার জন্য এক এক ব্যতিক্রমী সৌভাগ্য।

    কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ভিক্টর, মার্ক, এরিক ও মোজেস— এই চার কেনিয় এএফপিকে জানিয়েছেন, কীভাবে প্রতারণার জাল তাদেরকে ইউক্রেনের সেই ভয়াবহ রণক্ষেত্রে নিয়ে যায়।

    প্রতিশোধের আশঙ্কায় এখন তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

    নাইরোবি ভিত্তিক একটি নিয়োগকারী সংস্থা রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে দেশটির নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের এই প্রক্রিয়া শুরু করে।

    ২৮ বছর বয়সী ভিক্টরকে বলা হয়েছিল যে তিনি হবেন বিক্রয় কর্মী।

    ৩২ বছরের মার্ক ও ২৭ বছরের মোজেস ভেবেছিলেন যে তারা নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করবেন।

    ৩৭ বছর বয়সী এরিকের ধারণা ছিল যে তিনি উচ্চমানের ক্রীড়া জগতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

    প্রতিশ্রুতি ছিল, তাকে মাসে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ডলার বেতন দেওয়া হবে, আর কেনিয়ার বাস্তবতায় এটা বড় ধরনের একটি অঙ্ক।

    কেনিয়ায় কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট এবং সরকার রেমিট্যান্স বাড়াতে দেশটির নাগরিকদের বিদেশে কাজ করতে উৎসাহ দেয়।

    ভুক্তভোগীদের সবাইকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়, যেখানে অন্যান্য কেনিয়রা সোয়াহিলি ভাষায় আশ্বাস দিচ্ছিলেন যে তাদের সামনে ভালো বেতন আর রোমাঞ্চকর নতুন জীবন অপেক্ষা করছে।
    কিন্তু, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    ভিক্টরের প্রথম দিন কাটে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে তিন ঘণ্টা দূরের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। পরদিন তাকে একটি রুশ সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, আর সেখানে রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিপত্র তার সামনে দেওয়া হয়। তিনি রুশ ভাষার লেখা পড়তেই পারতেন না।

    ভিক্টর এএফপিকে তার রুশ সামরিক নথি ও যুদ্ধ পদক দেখিয়ে বলেন, ওরা বলেছিল যে স্বাক্ষর না করলে তোমাকে মেরে ফেলব।

    পরে সামরিক হাসপাতালে ভিক্টর তার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কিছু কেনিয়কে দেখতে পান।

    ভিক্তর বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ওই সব কেনিয়দের কারও পা নেই, কারও হাত নেই। তারা আমাকে জানিয়েছে, গ্রুপে নেতিবাচক কিছু লিখলে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হতো।

    মার্ক বলেন, প্রায় চার হাজার ডলার দিলে নতুন নিয়োগ প্রাপ্তদের দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগার করা তখন, তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

    তিনি আরও বলেন, ‘তাই, চুক্তিতে সই করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।’

    এরিকের প্রথম দিন কেটেছিল একটি বাস্কেটবল দলের সঙ্গে অনুশীলনে।

    তখন এরিক ভেবেছিলেন যে তিনি পেশাদার ক্লাবে খেলবেন।

    কিন্তু তিনি জানতেন না, তিনি যে চুক্তিতে সই করেছেন, সেটি আসলে একটি সামরিক চুক্তি ছিল।

    এর পরদিনই তাকে একটি সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

    মার্ক ও মোজেস জানান, সেখানে এক বছরের সেবার বিনিময়ে তারা খুব সামান্যই অর্থ পেয়েছেন।

    আর ভিক্টর ও এরিকের দাবি, তারা কোনো অর্থই পাননি।

    চার জনই রাশিয়ায় গিয়েছিলেন ‘গ্লোবাল ফেস হিউম্যান রিসোর্সেস’ নামের একটি কেনিয়ান নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে।
    সংস্থাটির ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে: ‘আমাদের এইচআর জাদুকরদের আপনার জন্য রোমাঞ্চকর সুযোগ খুঁজে দিতে দিন।’

    এএফপি সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তারা নাইরোবিতে একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

    সংস্থাটির এক কর্মী এডওয়ার্ড গিতুকুর বিরুদ্ধে ‘মানব পাচার’-এর অভিযোগে মামলা চলছে।

    গত সেপ্টেম্বরে নাইরোবির উপকণ্ঠে তার ভাড়া নেওয়া একটি ফ্ল্যাটে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২১ তরুণকে উদ্ধার করে।

    এই তরুণরা রাশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    জামিনে মুক্ত গিতুকু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে তার আইনজীবী জানান।

    চার জনই বলেছেন, তারা গিতুকুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তিনি এই প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

    এরিক ও মোজেসের দাবি, গিতুকুরই তাদের নাইরোবি বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন।

    গিতুকুর সাবেক আইনজীবী গত সেপ্টেম্বরে এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, সংস্থাটি ‘১ হাজারের বেশি মানুষকে’ রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। তবে তারা সবাই নাকি সাবেক কেনিয়ান সৈনিক, যারা স্বেচ্ছায় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন।

    এ সময়েই রুশ নাগরিক মিখাইল লিয়াপিনকে রাশিয়ার অনুরোধে কেনিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়।
    রুশ দূতাবাস দাবি করেছে, মিখাইল লিয়াপিন স্বেচ্ছায় কেনিয়া ছেড়েছেন এবং তিনি কখনোই রুশ সরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন না।

    ডিসেম্বরে কেনিয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ২০০ কেনিয়ান ইউক্রেনে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে এবং ২৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    রাশিয়া যাওয়ার আগে সম্ভাব্য অভিবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হতো।

    নাইরোবির একটি ক্লিনিক জানিয়েছে, মাত্র এক মাসের একটু বেশি সময়ে তারা ১৫৭ জনকে পরীক্ষা করেছে।

    ক্লিনিকটির এক কর্মীর দাবি, এদের অধিকাংশই সাবেক কেনিয়ান সৈনিক ছিলেন।

    ভিক্টর ও মোজেস অন্য একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা দেন, যেটি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

    এএফপি আরও দুটি নিয়োগ সংস্থার সন্ধান পেয়েছে, যারা কেনিয়দের রাশিয়ায় পাঠাচ্ছিল।

    গ্লোবাল ফেস হিউম্যান রিসোর্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ফেস্টাস ওমওয়াম্বা গত বছর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় রুশ দূতাবাসে
    একাধিকবার যান বলে একটি সূত্র জানায়।

    তিনি এএফপির ফোন ধরেননি।

    ইউক্রেনে আগ্রাসনের শুরুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা নিজেদের জাতিগত সংখ্যালঘুদের ‘ব্যয়যোগ্য বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করছে

    পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মতে, রাশিয়ার বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ইউক্রেনের দ্বিগুণ।
    এই বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহতের কারণে মস্কো আরও দূরে গিয়ে সেনা সংগ্রহ করছে।

    কেনিয়ায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইউরি টোকার বলেন, প্রথমে মধ্য এশিয়া, পরে ভারত ও নেপাল, এখন আফ্রিকা তাদের লক্ষ্য ছিল।

    চার কেনিয় জানান, প্রশিক্ষণ শিবির ও যুদ্ধক্ষেত্রে তারা নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, মিসর ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের দেখেছেন।

    টোকার বলেন, তারা যেখানে সম্ভব, সেখানেই ‘কামানের খাদ্য’ হয়েছে।

    ডনবাসের ভোভচানস্কের কাছে ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দেন ভিক্টর।

    তিনি বলেন, ‘আমাকে দুটি নদী পার হতে হয়েছিল। নদী দুটি ভাসমান লাশে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর একটি বিশাল মাঠ ছিল। মাঠটি শত শত লাশে ঢাকা। ড্রোনের মাঝখানে জীবন হাতে নিতে দৌড়ে পার হতে হতো।’

    তার ইউনিটের ২৭ জনের মধ্যে মাত্র দুই জন বেঁচে ছিলেন।

    ভিক্টর একটি লাশের নিচে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন, তবে ড্রোন হামলায় তার ডান হাত আহত হয়।

    এরিককেও একই স্থানে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ২৪ জনের মধ্য থেকে মাত্র তিন জন প্রাণ নিয়ে ফেরেন।

    মার্ক ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেডে কাঁধে গুরুতর আহত হন। শেষ পর্যন্ত তিন জন মস্কোর একটি হাসপাতালে পৌঁছে কেনিয় দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

    মোজেস পালিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

    শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও মোজেস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উড়ন্ত পাখিকে দেখেও এখন তিনি
    আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের নির্মম ভয়াবহতায় তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    অনেকে আরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    এদের মধ্যে একজন গ্রেস গাথোনি।

    তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী মার্টিন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি রাশিয়ায় চালক হতে গিয়েছিলেন।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মস্কো আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।’

    ৭২ বছর বয়সী চার্লস ওজিয়াম্বো মুটোকা জানুয়ারিতে জানতে পারেন যে তার ছেলে অস্কার গত আগস্টে রাশিয়ায়

    নিহত হয়েছেন। তার লাশটি রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডনে রয়েছে।

    তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘রুশ কর্তৃপক্ষের লজ্জা পাওয়া উচিত।’

    চার্লস একটি প্রশ্ন রেখে যান, ‘আমরা আমাদের যুদ্ধ নিজেরাই লড়ি। আমরা কখনো রুশদের এনে আমাদের হয়ে
    যুদ্ধ করাই না। তাহলে কেন তারা আমাদের মানুষদের নিয়ে যাচ্ছে?’

  • ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের কৃষির জন্য ঝুঁকি

    ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের কৃষির জন্য ঝুঁকি

    অনলাইন ডেস্ক:    নতুন এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কৃষকেরা।

    মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, শনিবার প্রকাশিত দুই দেশের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্য’ এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক ‘বাতিল বা হ্রাস’ করবে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ হারে সমমুখী শুল্ক আরোপ করবে। এর আওতায় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, চামড়া ও জুতা, প্লাস্টিক ও রাবার, জৈব রাসায়নিক এবং কিছু যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং কর্মসংস্থান বাড়াবে।

    তবে ভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলো এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা এ চুক্তিকে মার্কিন কৃষি করপোরেশনগুলোর কাছে ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    একাধিক কৃষক ইউনিয়নের জোট সংযুক্ত কিষান মোর্চা (এসকেএম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সস্তা আমদানির ফলে ভারতীয় শিল্প ও কৃষি এখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে এবং এসব পণ্য ভারতীয় বাজারে ঢেলে দেওয়া হবে।’

    সংগঠনটি ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী কৃষক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পরিসরের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের’ ওপর শুল্ক ‘বাতিল বা হ্রাস’ করবে।

    এর মধ্যে গাছজাত বাদাম, কিছু তাজা ফল, সয়াবিন তেল, মদ এবং আরও কিছু ‘অতিরিক্ত পণ্য’ রয়েছে, যেগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

    ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা সিরাজ হোসেন বলেন, ভারতীয় ভোক্তাদের মধ্যে বাদামের চাহিদা বাড়ছে, ফলে আমদানি স্থানীয় উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে না; বরং উচ্চ চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

    তবে আপেলের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে সস্তা আমদানির প্রভাব নিয়ে দেশীয় উৎপাদকরা উদ্বিগ্ন।

    এসকেএম জানায়, ‘আপেলের মতো তাজা ফল আমদানি কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

    কর্মকর্তারা আশা করছেন, আপেলের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি কোটা বা ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদেশি প্রতিযোগিতার প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।

    এ ছাড়া পশুখাদ্যের জন্য শুকনো ডিস্টিলারস গ্রেইন এবং লাল সরগমের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতির ফলে দেশীয় সয়াবিন মিলের চাহিদা কমতে পারে।

    বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা জয়ারাম রমেশ বলেন, শুকনো ডিস্টিলারস গ্রেইন ও সয়াবিন তেল আমদানির বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের ‘লাখ লাখ সয়াবিন চাষির’ ক্ষতি করবে।

    কৃষকদের উদ্বেগ কমাতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে এবং নয়াদিল্লি যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা’ নির্ধারণ করেছিল, তা অতিক্রম করা হয়নি।

    তিনি বলেন, শস্য, মসলা, দুগ্ধ, হাঁস-মুরগি, মাংস এবং আলু, কমলা ও স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন সবজি ও ফলের মতো ‘সংবেদনশীল খাতে’ কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) ফসলও এই চুক্তির অংশ নয়। এর মধ্যে জিএম সয়াবিনও রয়েছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাজার খুঁজছে।

    ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১৬ শতাংশ কৃষি খাত থেকে এলেও ৪৫ শতাংশের বেশি মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল।

    ফলে এই খাতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক এবং রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই কৃষকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে। অতীতে কৃষক সংগঠনগুলো বারবার শক্তিশালী জনআন্দোলন গড়ে তোলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

    ২০২১ সালে দীর্ঘমেয়াদি তীব্র বিক্ষোভের মুখে সরকার কৃষি সংস্কার পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। সেই বিক্ষোভে জাতীয় রাজধানীর মহাসড়ক অবরোধ করা হয় এবং ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা হয়।

    সাবেক কর্মকর্তা সিরাজ হোসেন বলেন, ‘ভারতের খামারগুলো খুবই ছোট, ফলে তারা উচ্চ ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষির সঙ্গে বাস্তবে প্রতিযোগিতা করতে পারে না।’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত, যখন নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিল, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

    শীর্ষ আমদানির মধ্যে ছিল তুলা, সয়াবিন তেল, ইথানল এবং বাদামের মতো বিভিন্ন পণ্য। চুক্তি হওয়ার আগেই এই বৃদ্ধি ঘটে, যদিও কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর ভারত শুল্ক কমানোর ফলে আংশিকভাবে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যৌথ বিবৃতিতে ঘোষিত সয়াবিন তেলের মতো পণ্যের ওপর শুল্ক আরও কমালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

  • দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    অনলাইন ডেস্ক:    দুই বছরে তিনজন সরকারপ্রধান পরিবর্তনের পর থাইল্যান্ডে রোববার জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আগেরবার জয়ী জনপ্রিয় সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেই রক্ষণশীল শিবির, যাদের নেতা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন। এদিকে সাবেক নেতা থাকসিন শিনাওয়াত্রা কারাগারে থাকলেও রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বড় একটি বিষয় হয়ে রয়েছে।

    ব্যাংকক থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির পরবর্তী সরকারকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলা করতে হবে, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বহু বিলিয়ন ডলারের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সাইবার জালিয়াতি নেটওয়ার্কের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

    দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল, আর পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আগত পর্যটকের সংখ্যা এখনো কোভিড-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসেনি।

    কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং ফল ঘোষণার পর জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভোটের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি শুধু নির্বাচন নয়, বরং দল ভেঙে দেওয়া বা বিলুপ্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।’

    তিন বছর আগে সর্বশেষ নির্বাচনে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির আগের রূপ ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তাদের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে দলটিকেও বিলুপ্ত করা হয়।

    ব্যাংককে পিপলস পার্টির শেষ নির্বাচনী সমাবেশে ৬৪ বছর বয়সী সমর্থক কিত্তি সাট্টানুওয়াত বলেন, ‘আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করতাম? যখন ব্যবস্থা আমাদের সরকার গঠন করতে দেয় না, তখন আমরা পারি না। তবু আমরা আবার লড়ব। আশা আছে, মানুষকে আশা নিয়েই বাঁচতে হয়।’

    ২০২৩ সালের নির্বাচনে থাকসিনপন্থী ফেউ থাই পার্টি দ্বিতীয় হয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে। কিন্তু পরে আদালতের আদেশে তাদের প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হন।

    এরপর থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তাকেও আদালতের রায়ে অপসারণ করা হয়। পরে সংসদ গত সেপ্টেম্বরে ভুমজাইথাই নেতা আনুতিন চানভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে—যা দুই বছরে দেশটির তৃতীয় সরকারপ্রধান।

    থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী সড়ক বিক্ষোভ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বারবার ঘটেছে।

    ২০১৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর সামরিক শাসন চলে এবং সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের ফলে অনির্বাচিত সিনেট-নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাপোন জাতুস্রিপিটাক বলেন, ‘নির্বাচিত ব্যক্তিরা অনির্বাচিতদের দ্বারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা যেখানে অস্থির, সে দেশের জন্য এটি অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়।’

    সংবিধান আদালত রাজতন্ত্র অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইন সংস্কারের অঙ্গীকারকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে রায় দেওয়ার পর ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ দলটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে এবারের প্রচারণায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

    জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, গাঁজা বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এ রক্ষণশীল নেতা আবারও ফেউ থাইয়ের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

    আধুনিক থাইল্যান্ডের অন্যতম সফল রাজনৈতিক দল ফেউ থাই এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কম্বোডিয়া ইস্যু সামলানোর কারণে পেতংতার্ন আদালতের রায়ে অপসারিত হন এবং দুর্নীতির মামলায় থাকসিন কারাগারে রয়েছেন।

    থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত পরিবারটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে জরিপ সংস্থা নিডা তাদের সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশের কাছাকাছি দেখাচ্ছে, যা আগের জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।

    ভুমজাইথাই জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কথা বলছে, বিশেষ করে গত বছরের কম্বোডিয়া সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে। অন্যদিকে পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তিনটি প্রধান দলই বিভিন্ন জনতুষ্টিমূলক আর্থসামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ফেউ থাই প্রতিদিন ১০ লাখ বাত (প্রায় ৩১ হাজার মার্কিন ডলার) করে নয়টি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে।

    রোববারের ব্যালটে একটি গণভোটও রয়েছে, যেখানে ভোটাররা নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কার চান কি না সে বিষয়ে মত দিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব সেখানে নেই।

  • ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

     অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার অঙ্গিকার করেছে ভারত।’

    আদেশটিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন রূপরেখাতেও সম্মত হয়েছে ভারত।

    ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হবে।

    কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে এই শুল্ক কমানোর বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো শুরু হয়নি।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলী তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কোল (কয়লা) কেনার পরিকল্পনা করছে।

    গত বছরের শেষের দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ। নতুন এই চুক্তির ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেলের টাকা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটল।

    একই সঙ্গে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক আবারও জোরালো হলো। ট্রাম্প প্রায়ই ভারতের ডানপন্থী এই নেতাকে তার অন্যতম ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

    এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার চলতি সপ্তাহে জানান, শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে রয়েছে।