Category: আন্তর্জাতিক

  • আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    অনলাইন ডেস্ক:   নিজ দেশে দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের আশ্রয় দিয়ে আসা পাকিস্তান ও ইরান সম্প্রতি নির্বাসন জোরদার করেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা তাদের ভরণপোষণ দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। কাবুল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা একা—যেভাবেই তারা সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত  কোনো এক দেশে।

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা মানুষদের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে এএফপি।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।

    আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

    শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তাদের অনেকেই কয়েক দশক কাটিয়েছেন বিদেশে।

    মাসকুন বলেন, এত বিপুল মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের পক্ষেই কঠিন।

    আইওএমের এক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নেই। ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর জরিপটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসা মানুষের উপর চালানো হয়।

    তারা বাধ্য হয়ে পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।

    এর পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফেরা আফগানদের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে।

    ১ হাজার ৬৫৮ জন প্রত্যাবাসনকারীর ওপর করা ওই জরিপে দেখা যায়, ভাড়াটিয়াদের চার ভাগের তিন ভাগই ভাড়া পরিশোধে অক্ষম। একই সঙ্গে অধিকাংশ পরিবারকে এক কক্ষে চার জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

    আইওএমের জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে।

    ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে যারা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

    আইওএম জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত।

    সংস্থাটি আরও জানায়, নারীপ্রধান পরিবারগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধেকই নিরাপদ পানির যোগান পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

    আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।

    আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড ও সামান্য অর্থ সহায়তা পান।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ একটি নৌ-বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ইরানও সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দেবে।

    তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতেই বেশি আগ্রহী হবে।

    তেহরানও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যদি আলোচনার সূচিতে না থাকে, তবে তারা পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

    এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ‘মিডিয়ায় যুদ্ধের প্রচারণা সত্ত্বেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

    এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুরা কোনো ভুল করলে তা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নবাদী শাসনের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

    উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইরানের বন্দরনগরী আব্বাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস একে গ্যাস লিকেজ বললেও নাশকতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।

    এদিকে, রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের কোনো স্থাপনায় হামলার খবর নাকচ করেছে। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার গুজবও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালাবে আইআরজিসি।

    এক বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর আশপাশে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

    এর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ লিখেন, ‘আমাদের উপকূলে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হুকুম দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে।’

    ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

    এর আগে গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি বলে দাবি করেছে।

    সরকারি তথ্যমতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায়, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

    শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাস্উদ পেজেশকিয়ান সরকারকে জনগণের কথা শোনার ও জনসেবা করার আহ্বান জানান।

    তুরস্ক সীমান্তে থাকা অনেক ইরানি বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসন থেকে মুক্তি চান। শবনম ছদ্মনাম ব্যবহার করে এক নারী বলেন, ‘আমরাও মুক্তি চাই, তুরস্কের মতো পর্যটক দেখতে চাই। সবাই আমাদের সন্ত্রাসী ভাবে। মোল্লাদের শাসনে আমরা একশ বছর পিছিয়ে গেছি।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের পিঠে গুলি করেছে, এমনকি জানালা দিয়ে লক্ষ্য করেও আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সবাই প্রিয়জন ও বন্ধুদের হারিয়েছে।’

    রোজালিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমেরিকার চাপ যথেষ্ট নয়। আমেরিকা সাধারণ মানুষের জন্য নয় বরং নিজেদের স্বার্থে তেলের জন্য আসবে।

    শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে যান। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন। এ সময় ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের উৎসব শুরু হয়।

  • পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘সমন্বিত’ হামলা

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘সমন্বিত’ হামলা

    অনলাইন ডেস্ক:   পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান জুড়ে শনিবার ‘সমন্বিত’ হামলা চালিয়েছে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

    কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বিদ্রোহ-কবলিত এই অঞ্চলে সবশেষ এই সহিংসতায় অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।

    কোয়েটা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় অবস্থানরত একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপি’কে বলেন, ‘বেলুচিস্তানজুড়ে সমন্বিত বন্দুক ও আত্মঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে। যার মূল কেন্দ্রবিন্দু কোয়েটা, পাসনি, মাস্তুং, নুশকি এবং গোয়াদর জেলা।’

  • মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    অনলাইন ডেস্ক:   মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ফুটবল ম্যাচে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়।

    বুধবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেক্সিকো সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গত রোববার গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছুটির বিকেলে সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিবারের উপস্থিতিতে শৌখিন ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলার শেষ দিকে একদল বন্দুকধারী মাঠে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

    গুয়ানাজুয়াতোর নিরাপত্তা সচিবালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, বেশ কয়েকটি সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট অভিযানের পর এই তিন জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    তবে তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

    নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন ওই ফুটবল মাঠের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন। তবে তারা সবাই নিরস্ত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিরাপত্তা প্রহরীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হতে পারে। কারণ তারা এমন একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন, যার সাথে প্রভাবশালী ‘জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হামলাকারীরা ‘সান্তা রোসা ডি লিমা’ কার্টেলের সদস্য।

    গুয়ানাজুয়াতো ভিত্তিক এই মাদক চক্রটির সঙ্গে সিজেএনজি-র দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

  • ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধরত সেনাদের পরিদর্শনে রাশিয়ার সেনা প্রধান

    ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধরত সেনাদের পরিদর্শনে রাশিয়ার সেনা প্রধান

    অনলাইন ডেস্ক:   রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর  প্রধান (চীফ অব স্টাফ) ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধরত সেনাদের পরিদর্শন করেছেন।

    মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, গেরাসিমভ ‘জাপাদ (পশ্চিম) বাহিনী গোষ্ঠীর’ বিভিন্ন ইউনিট ও গঠনের পরিচালিত যুদ্ধাভিযানের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন।

    তবে সফরটি কবে ও কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাপাদ-এর আভিধানিক অর্থ পশ্চিম। এটি ছিল ২০২৫ সালে রাশিয়ান-বেলারুশিয়ান-এর যৌথ কৌশলগত সামরিক মহড়া। এই মহড়া ২০২৫ সালের ১২-১৬ সেপ্টেম্বর তারিখে বেলারুশে অনুষ্ঠিত হয়।

    মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কয়েক দিন পর, এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হলো।

    প্রায় চার বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সফরের একটি ভিডিওতে গেরাসিমভ বলেন, রুশ সেনারা ‘সব ফ্রন্টে আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’

    তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে রুশ বাহিনী ১৭টি এলাকা দখলে নিয়েছে। ইউক্রেনের ‘৫০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি’ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

    বাহিনীটি এখন জাপোরিঝিয়া নগরীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • দক্ষিণ ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে ১৮ জন নিহত, ২৪ জন নিখোঁজ

    দক্ষিণ ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে ১৮ জন নিহত, ২৪ জন নিখোঁজ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ ফিলিপাইনের  উপকূলে উত্তাল সমুদ্রে সোমবার ভোরে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।

    কোস্টগার্ডের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ম্যানিলা থেকে এএফপি জানায়, ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন-৩’ নামের ফেরিটি স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিপৎসংকেত পাঠায়। এর প্রায় চার ঘণ্টা আগে এটি মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণুপশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জাম্বোয়াঙ্গা সিটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

    বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, খালি পায়ে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের কম্বলে মুড়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, মৃতদের মরদেহ বডি ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    তিনতলা বিশিষ্ট এই ফেরিটি প্রায় একই রুটে ডুবে যায়, যেখানে ২০২৩ সালে ‘লেডি মেরি জয়-৩’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছিলেন। উভয় জাহাজই স্থানীয় মালিকানাধীন অ্যালেসন শিপিং লাইন্সের ছিল।

    ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে ১৮ জন এবং চলমান উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানের মধ্যে ২৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    ইসাবেলা সিটির এক উদ্ধারকর্মী শেরিল বালোনদো বলেন, উদ্বিগ্ন স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দপ্তরে ১০০টির বেশি ফোনকল এসেছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ফোন ধরার সময় আমাদের হৃদয়ে একটা টান লাগে। তাদের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারছি যে এখনো নামের চূড়ান্ত তালিকা নেই, কারণ উদ্ধার ও মরদেহ উদ্ধারের অভিযান চলছে।’

    ৪৪ মিটার (১৪৪ ফুট) দীর্ঘ ফেরিটি জাম্বোয়াঙ্গা উপদ্বীপের কাছাকাছি বাসিলান প্রদেশের দ্বীপমালার অংশ বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ডুবে যায়।

    ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোএমি কায়াবিয়াব টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বেঁচে যাওয়া কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই এলাকার সমুদ্র খুবই উত্তাল ছিল।’

    বাসিলানের জরুরি উদ্ধারকর্মী রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেন, বিপুল সংখ্যক আহত ও উদ্ধারপ্রাপ্তকে সামলাতে উদ্ধারকারীরা হিমশিম খাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, ‘মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একসঙ্গে অনেক রোগী আসছে, অথচ এই মুহূর্তে আমাদের জনবল কম।’ তিনি জানান, অন্তত ১৮ জনকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    ফিলিপাইন কোস্টগার্ড প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে ভুক্তভোগীদের তুলে এনে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

    ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারে অন্ধকারে কিছু মানুষকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতেও শোনা যায়।

    দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ডুবে যাওয়ার কারণ বলা যাচ্ছে না। কারণ নির্ধারণে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত আমাদের মূল মনোযোগ উদ্ধার অভিযানে।’

    তিনি জানান, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের জাম্বোয়াঙ্গা ও ইসাবেলা সিটির কোস্টগার্ড স্টেশনগুলোতে নেওয়া হচ্ছে।

    কোস্টগার্ড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না।

    অ্যালেসন শিপিং লাইন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাহাজে থাকা সবার জন্য আমাদের চিন্তা ও হৃদয় ভারাক্রান্ত।’ তারা আরও জানায়, কোস্টগার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে তারা ‘নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে’।

    ১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে আন্তঃদ্বীপ ফেরি দুর্ঘটনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

    দেশটির সাত হাজারের বেশি দ্বীপের মধ্যে যাতায়াতে অনেক মানুষ সস্তা ও দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত নৌযান ও জাহাজের ওপর নির্ভর করে, যদিও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

    ২০১৫ সালে লেইটে দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে একটি ফেরি উল্টে গিয়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

    আর ১৯৮৭ সালে বড়দিনের আগমুহূর্তে ‘ডোনা পাজ’ ফেরির সঙ্গে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এটি শান্তিকালে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।