Category: আন্তর্জাতিক

  • উত্তর সিরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াল সিরীয় সেনাবাহিনী

    উত্তর সিরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াল সিরীয় সেনাবাহিনী

    অনলাইন ডেস্ক:    সিরিয়ার সেনাবাহিনী দেশটির উত্তরাঞ্চলে এক দশকের বেশি সময় ধরে কার্যত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসা ভূখণ্ড থেকে কুর্দি বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে।

    সিরিয়ার দেইর হাফের থেকে এএফপি এখবর জানায়।

    প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা কুর্দি ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’ ঘোষণা করে এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করার পর সরকার কুর্দি-শাসিত এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    কুর্দিরা বলেছেন, শুক্রবারের ঘোষণা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় কম; পাশাপাশি মার্চে হওয়া একটি চুক্তির বাস্তবায়ন স্থিমিত  হয়ে পড়েছে, যার লক্ষ্য ছিল কুর্দি বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা।

    গত সপ্তাহে সরকারি সেনারা আলেপ্পোর দুটি পাড়া থেকে কুর্দি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় এবং শনিবার শহরের পূর্বদিকে একটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    রোববার সরকার রাক্কার পশ্চিমে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার (৩৪ মাইল) দূরে অবস্থিত তাবকা দখলের ঘোষণা দেয়।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা’কে দেওয়া তথ্যে তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা বলেন, ‘সিরীয় সেনাবাহিনী রাক্কা জেলার কৌশলগত শহর তাবকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যার মধ্যে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বাঁধ ইউফ্রেটিস বাঁধও রয়েছে।’

    তবে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানিয়েছে, তারা তাবকায় ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিয়েছে।

    আলেপ্পো শহরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে দেইর হাফেরে এএফপির এক সংবাদদাতা দেখেন, এসডিএফের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা শহর ছেড়ে যাচ্ছেন এবং ভারী সেনা উপস্থিতির মধ্যে বাসিন্দারা ফিরে আসছেন।

    সিরীয় সেনাবাহিনী জানায়, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন; অন্যদিকে কুর্দি বাহিনীও বেশ কয়েকজন যোদ্ধার মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। প্রত্যাহার চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।

    কুর্দি কর্তৃপক্ষ রাক্কা অঞ্চলে কারফিউ জারি করে, সেনাবাহিনী ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করার পর; একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে যে, তাদের ভাষ্যমতে সেখানে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালাবে।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা রোববার জানায়, এসডিএফ রাক্কা শহরে ইউফ্রেটিসের ওপর থাকা দুটি সেতু ধ্বংস করেছে; শহরটি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত।

    রাক্কার মিডিয়া অধিদপ্তর আলাদাভাবে এসডিএফকে প্রধান পানির পাইপ উড়িয়ে দিয়ে রাক্কা শহরের পানির সরবরাহ বন্ধ করার অভিযোগ তোলে।

    দেইর ইজ্জরের গভর্নর গাসসান আলসায়েদ আহমদ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, এসডিএফ দেইর ইজ্জর শহরের কেন্দ্র, আল-মায়াদিন এবং অন্যান্য সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত পাড়াগুলোতে ‘রকেট নিক্ষেপ’ করেছে।

    এসডিএফ জানায়, ‘দামেস্ক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো আমাদের বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালিয়েছে’ এবং ইউফ্রেটিসের পূর্ব তীরের একাধিক শহরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে—যেগুলো আল-মায়াদিনের বিপরীতে এবং দেইর ইজ্জর ও ইরাকি সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

    শুক্রবার সিরীয় কুর্দি নেতা ও এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি আলেপ্পোর বাইরে থাকা তাঁর বাহিনীকে ইউফ্রেটিসের পূর্বে পুনর্নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    কিন্তু শনিবার এসডিএফ জানায়, দামেস্ক ‘সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের বাহিনীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’; তাবকার দক্ষিণে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সেনাবাহিনী এসডিএফকে ‘অবিলম্বে ঘোষিত অঙ্গীকার পূরণ করে নদীর পূর্বে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে’ আহ্বান জানায়।

    এসডিএফ সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যে অঞ্চলগুলো গত এক দশকে গৃহযুদ্ধ ও ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় দখল করা হয়েছিল।

    ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম ব্যারাক শনিবার এরবিলে আবদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

    ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন করে এলেও সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষকেও সমর্থন দিয়েছে।

    শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সিরীয় সরকারি বাহিনীকে ‘আলেপ্পো ও আল-তাবকার মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে যেকোনো আক্রমণাত্মক তৎপরতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানায়।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানিও উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

    শুক্রবার শারার ঘোষণাটি ১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কুর্দি অধিকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার নজির স্থাপন করে।

    ডিক্রিতে বলা হয়, কুর্দিরা সিরিয়ার ‘অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ’, যে দেশে তারা কয়েক দশক ধরে প্রান্তিকতার শিকার হয়েছে।

    এতে কুর্দি ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’ করা হয় এবং সব কুর্দিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়—যাদের প্রায় ২০ শতাংশকে ১৯৬২ সালের একটি বিতর্কিত আদমশুমারির সময় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

    সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি প্রশাসন জানায়, ডিক্রিটি ‘একটি প্রথম পদক্ষেপ’, তবে এটি ‘সিরীয় জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণ করে না।’

    দেশটির উত্তর-পূর্বের প্রধান কুর্দি শহর কামিশলিতে ৩৫ বছর বয়সী শেবাল আলী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কুর্দি জনগণের অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই।’

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র সিরিয়া বিশ্লেষক নানার হাওয়াচ বলেন, ডিক্রিটি ‘সাংস্কৃতিক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করে।’

    তিনি বলেন, ‘এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বায়ত্ত-শাসনের দাবি সমাধান করে না।’

    এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় চালানো এক হামলায় এমন এক জঙ্গি নিহত হয়েছে, যে গত মাসে তিনজন মার্কিন নাগরিকের প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

  • আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান

    আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান

    অনলাইন ডেস্ক:      আন্তর্জাতিক সিভিল ফ্লাইটের উঠা-নামা ব্যতীত সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে প্রকাশিত এক সরকারি এভিয়েশন নোটিশে এ তথ্য জানা যায়। তবে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

    ‘নোটিশ টু এয়ার মিশনস’ (এনওটিএএম)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পূর্বানুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানে প্রবেশকারী বা ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অন্যান্য সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে।ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বর্তমানে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি বারবার সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নিতে পারে।

    এছাড়া, জি-৭ এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত সহিংসতার’ নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    বিক্ষোভ নিয়ে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

  • উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ : আইনি পদক্ষেপের অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার

    উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ : আইনি পদক্ষেপের অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার

    অনলাইন ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় সাম্প্রতিক একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় যাকে বা যাদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে।

    সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহান্তে অভিযোগ করেছে যে, চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে কায়েসং শহরে একটি ড্রোন পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তারা সেটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।

    এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ ঘটনার জন্য দায়ী ‘শত্রু রাষ্ট্রের গুন্ডাদের’ কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেন।

    সিউল এ ঘটনায় কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও বেসামরিক কেউ ড্রোনটি উড়াতে পারে— এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-ল্যাক বুধবার আব রো এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জাপানের নারা শহরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের উই বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের বোঝাপড়া অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী বা সরকার— কেউই এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

    তিনি আরো বলেন, এতে আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে— বেসামরিক খাতের কেউ এটি করেছে কি না, তা তদন্ত করা। যদি শাস্তিযোগ্য কোনো বিষয় থাকে, তবে শাস্তি অবশ্যই হতে হবে।

    ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তি নয়, বরং অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া এখনো কারিগরি অর্থে যুদ্ধে রয়েছে।

    উই আরো বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনা ও ক্ষমা দাবির পরও উত্তর কোরিয়া নিজেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছে। ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে তাদের ড্রোন ব্লু হাউসের কাছাকাছি পড়ে গেছে, আবার কিছু ড্রোন ইয়ংসান পর্যন্ত পৌঁছেছে,’ বলেন তিনি। ব্লু হাউস ও ইয়ংসান— উভয়ই বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের অবস্থান।

    তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাও অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ড্রোনের ঘটনাটি তদন্তে সামরিক ও পুলিশের যৌথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বেসামরিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা হবে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ একটি গুরুতর অপরাধ।

  • ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত

    অনলাইন ডেস্ক:     ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির একজন কর্মকর্তা এই তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। তবে এসময় আটক বা আহত হয়েছেন কতজন তা জানাননি।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের  মৃত্যুর জন্য দায়ী সন্ত্রাসীরা।

    তবে নিহতদের মধ্যে কারা বিক্ষোভকারী আর কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষকেও দোষ দেননি।

    মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে এখনকার অবস্থা তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

    গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    অনলাইন ডেস্ক:    সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালালে এতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

    পোর্ট সুদান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি খবর জানায়।

    সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা, খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। জাতীয় রাজধানীকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশলগত সড়কের পাশে নগরীটির অবস্থান।

    পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানের যুদ্ধকালীন ঘাঁটি থেকে প্রায় তিন বছর কার্যক্রম চালানোর পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা ঘটে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী এলাকা পুনর্দখল করার পর সিনজা দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের বাইরে ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনর্দখলে নেয় সেনাবাহিনী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতর লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

    সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময় সেনাবাহিনীর সদর দফতর লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়।

    রাজ্যের যোগাযোগ দফতর জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। দফতরটি জানায়, তাঁর দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধানও এতে নিহত হয়েছেন।

    সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন।

    সিন্নার অঞ্চলটি সর্বশেষ গত অক্টোবরে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাস্তুচ্যুত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ । এই সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন।

    তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।

    যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ।

    গত বছর সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।

    পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখন দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

    তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

    অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক হবে—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।

    একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় কোরদোফানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।

    জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।

  • ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে কোনো এবং সব বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক (আমদানি কর) দিতে হবে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এ ঘোষণার কথা জানান। খবর আলজাজিরার।

    তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই শুল্ক ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’। তবে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

    সোমবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সব ধরনের ব্যবসার ওপর ২৫% শুল্ক দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই আদেশ চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।’

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে দেশটি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

    সোমবার আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে। তবে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তার ভাষায়, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় ইরান এখন আগের চেয়ে কিছুটা শক্ত অবস্থানে আছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রধান জামাল আবদি জানান, ইরান এখন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বড় কোনো ছাড় দিতে রাজি নাও হতে পারে। তার মতে, সরকার রাস্তায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

    তবে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি। বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় সামনে আরও শোকানুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    আবদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মূল বিষয় হতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি (পরমাণু জ্বালানির প্রস্তুতি)। পাশাপাশি ইসরাইল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, সামরিক হামলা হলে এসব স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপ, হুমকি ও আলোচনার সম্ভাবনা—সবই একসঙ্গে চলছে। পরিস্থিতি কোন পথে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।