Category: আন্তর্জাতিক

  • তুষারপাতের কারণে প্যারিসে ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল

    তুষারপাতের কারণে প্যারিসে ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল

    অনলাইন ডেস্ক:     তুষারপাত ও তীব্র শীতের কারণে বুধবার সকালে প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    পাশাপাশি ফ্রান্সের রাজধানীর অরলি বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে আরো ৪০টি ফ্লাইট। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মঙ্গলবার গভীর রাতেই এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো সিএনিউজ টেলিভিশনকে বলেন, বুধবার বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।

    সড়ক বরফে ঢেকে যাওয়ার কারণে প্যারিস ও আশপাশের উপশহরে বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে পরিবহন কর্মকর্তারা জানান। তবে, মেট্রো ও শহরতলির রেলব্যবস্থার বেশিরভাগই সচল রয়েছে।

    ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৩৮টি ভারী তুষারপাত ও বরফ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে তিন থেকে সাত সেন্টিমিটার তুষার জমেছে।

    সংস্থাটি জানায়, এই শৈত্যপ্রবাহ মৌসুমের তুলনায় ‘অস্বাভাবিকভাবে তীব্র।’ এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বুধবার প্যারিসের জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে ও সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করতে আগেই সতর্ক করেছে।

    চলতি মৌসুমে ইউরোপজুড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র এই শৈত্যপ্রবাহে ফ্রান্সে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে

    মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে

    অনলাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুরের ইনস্টিটিউট জান্তুং নেগারা (আইজেএন)-এ ভর্তি করা হয়।  ড. মাহাথিরের প্রেস সচিব সুফি ইউসুফ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপের ‘ড. এম মিডিয়া আপডেটস’ নামের সরকারি মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, ১০০ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আইজেএনে নেওয়া হয়।

    সুফি ইউসুফ বলেন, ‘আজ ভোরে তিনি পড়ে যান। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতালে এনে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। জানা গেছে, বাড়ির বারান্দার এক অংশ থেকে বসার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি পড়ে যান।’

    তিনি আরও জানান, আইজেএনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ড. মাহাথিরের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার চতুর্থ ও সপ্তম প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ গত বছরের ১৩ জুলাই অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে আইজেএনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

  • পা খুঁড়িয়ে চলা মাদুরোকে হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়

    পা খুঁড়িয়ে চলা মাদুরোকে হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়

    অনলাইন ডেস্ক:    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় আদালতে নেওয়া হয়েছে। তাকে এরআগে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টার থেকে হেলিকপ্টারে করে আনা হয়। এরপর তোলা হয় একটি সাঁজোয়া যানে। সেটিতে করেই সশস্ত্রীক আদালতে তোলা হয় তাদের।

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে মাদুরোক হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হচ্ছে। ওই সময় তার হাতে হাতকড়া ছিল। ফলে তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামতে পারছিলেন না। ফলে তাকে অনেকটা টেনে নামানো হয়।

    সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার করবেন ৯২ বছর বয়সি বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টেইন।

    এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছিলেন, মাদক সন্ত্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার দায়ে তার বিচার করা হবে।

    তিনি ওইদিন বলেন, নিউইয়র্কের দক্ষিণ ডিস্ট্রিক আদালতে ইতোমধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    পাম বোন্ডি এক্সে বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম (ডিভাইস) রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    বোন্ডি আরও বলেন, খুব শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, মার্কিন আদালতে আমেরিকান কঠোর বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

    তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

  • ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আবারও আলোচনায় এনেছে—কোন কোন বিশ্বনেতাকে সরাসরি বন্দি করেছে ওয়াশিংটন। অতীতেও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র; তবে প্রতিটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    মাদুরোর এই ঘটনা তাকে এমন একটি তালিকায় যুক্ত করেছে, যেখানে আগে থেকেই আছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং পানামার সাবেক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার মতো নেতারা; যাদের গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেন যে, নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ব্যাপক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

    ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষমতাসীন বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি আটক করেছে। তবে সেগুলোর প্রতিটিই সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দিয়েছে।

    ম্যানুয়েল নরিয়েগা: এক সময়ের মিত্র থেকে বন্দি

    যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আগ্রাসন চালায়। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখায়— পানামায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা।

    পানামায় হামলার আগেই, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ামিতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা করে। ঠিক যেমনটি তারা নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রেও করেছে।

    নরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন এবং অভিযানের আগে দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবকে সমর্থন দেন।

    পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান সে সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হয়।

    জেনারেল নরিয়েগা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলের প্রতি আগের মতো অনুগত না থাকার লক্ষণ দেখাতে শুরু করলে ওয়াশিংটন তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরে অভিযানে চালিয়ে তাকের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে মিয়ামিতে দায়ের করা মামলায় বিচার করা হয়। তিনি সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে আরেকটি মামলার বিচারের জন্য ফ্রান্সে প্রত্যর্পণ করা হয়। এক বছর পর ফ্রান্স তাকে আবার পানামায় পাঠিয়ে দেয়। পানামার কারাগারেই ২০১৭ সালে নরিয়েগার মৃত্যু হয়।

    সাদ্দাম হোসেন: যুদ্ধের পরিণতি ও ফাঁসি

    ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা গ্রেফতার করে। এর ঠিক নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব শুরু হয়; যার পেছনে যুক্তি হিসেবে বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) থাকার অভিযোগ তোলা হয়। যে অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

    নরিয়েগার মতোই সাদ্দামও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮০– এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়; যে যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় তিনি ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছিলেন।

    ২০০৩ সালের যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করে— সাদ্দাম আল-কায়েদার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতেন। যদিও এই অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি ছিলো না।

    মার্কিন আগ্রাসনের নয় মাস পর ধরা পড়েন সাদ্দাম হোসেন। তিনি নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হন। পরবর্তীতে তাকে ইরাকের একটি আদালতে বিচার করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

    হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ: গ্রেফতার থেকে ক্ষমা

    হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতামূলক আচরণের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক পর্যবেক্ষক।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় রাজধানী তেগুসিগালপায় নিজ বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট ও হন্ডুরাসের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে হার্নান্দেজকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাকে দুর্নীতি ও অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। একই বছরের জুনে একটি মার্কিন আদালত তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে নাটকীয়ভাবে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন।

    এর কয়েক দিনের মধ্যেই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সাবেক এই নেতাকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে ওঠে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন

    যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাকে কারাকাসে আটক করার পর নিউইয়র্ক সিটিতে  স্থানান্তরিত করা হয়।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মার্কিন সরকারি বিমান থেকে নামার সময় এফবিআই এজেন্টরা মাদুরোকে ঘিরে ফেলে এবং ধীরে ধীরে নিউইয়র্ক রাজ্যের একটি ন্যাশনাল গার্ড রানওয়ে দিয়ে তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।

    এএফপির প্রকাশিত একটি ছবিতে  নিকোলাস মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

    সেখানে বিপুল সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য তার জন্য অপেক্ষা করছিল।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সী এই নেতা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর তাকে  ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল সুবিধা মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে।

    ডিটেনশন সেন্টারটি সেই একই কারাগার, যেখানে র‌্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকে গত বছর তার বিচারকালীন সময়ে রাখা হয়েছিল।

    মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউ ইয়র্কের একজন বিচারকের সামনে হাজির করা হবে।

    তাদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন আমদানি করেছেন।

    এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে স্বাধীন করার ঘোষণা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে স্বাধীন করার ঘোষণা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শুক্রবার দুই বছরের মধ্যে স্বাধীন করার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

    তবে একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ইয়েমেনজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযানের লাগাম টানতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্র জানায়, দুটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো বিমান হামলায় ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসময় একটি বিমানবন্দর ও আরও কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।

    এই বোমাবর্ষণ ও আকস্মিক স্বাধীনতা ঘোষণার পেছনে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। বিশেষ করে, দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সাম্প্রতিক ভূখণ্ড দখল অভিযানকে কেন্দ্র করেই দুই মিত্র দেশের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠেছে।

    ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অংশে বিভক্ত ছিল।

    এসটিসি’র স্বাধীনতা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই বছরের মধ্যেই দেশটি আবার বিভক্ত হতে পারে। নতুন রাষ্ট্রের নাম হবে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’।

    এসটিসি’র প্রেসিডেন্ট আইদারোস আলজুবাইদি বলেন, এই রূপান্তরকালীন পর্যায়ে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংলাপ হবে, যা বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটেরও আয়োজন করা হবে।

    তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সংলাপ না হয় বা আবার দক্ষিণ ইয়েমেনে হামলা চালানো হয়, তাহলে এসটিসি ‘অবিলম্বে’ স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।

    টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আলজুবাইদি বলেন, ‘দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে কাউন্সিল।’

    গত মাসে এসটিসি বাহিনী তেমন কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সৌদি আরব সীমান্তঘেঁষা সম্পদ সমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশের বড় অংশ ও ওমান সীমান্তবর্তী মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে এসটিসি’র সাম্প্রতিক অভিযান রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দুই শক্তিকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করায়।

    টানা সতর্কতাবার্তা ও চলতি সপ্তাহে একটি কথিত ইউএই অস্ত্রবাহী চালানে বিমান হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শুক্রবার ব্যাপক হামলা শুরু করে।

    হাদরামাউত উপত্যকা ও মরুভূমি অঞ্চলে এসটিসি’র প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিক বলেন, আল-খাশা সামরিক শিবিরে সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

    এ ছাড়া ওই অঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনা এবং সাইয়ুন শহরের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে বলে এসটিসি’র সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছে।

    আল-খাশার কাছে একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস বলেন, ‘সৌদি বিমানগুলো এসটিসি যোদ্ধাদের তাড়া করছে। আমরা জানি না যে এগুলো কী ধরনের বিমান। শুধু আগুনের ঝলকানি আর বিস্ফোরণ দেখি। এগুলো চেকপয়েন্টে আঘাত করছে এবং (সৌদি-সমর্থিত) বাহিনীর অগ্রযাত্রার পথ পরিষ্কার করছে।’

    এসটিসি’র অভিযান শুরুর পর এটিই প্রথম সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা।

    বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তারা একটি ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ জড়িত।
    তিনি এটিকে উগ্র ইসলামবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন, আর এই উগ্র ইসলামবাদ দীর্ঘদিন ধরেই ইউএই’র একটি প্রধান উদ্বেগ।

    এই বিমান হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হয়, যখন সৌদি-সমর্থিত বাহিনী হাদরামাউতে সামরিক স্থাপনার ‘শান্তিপূর্ণ’ দখল নিতে অভিযান শুরু করে।

    হাদরামাউতের গভর্নর এবং ওই প্রদেশের সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর প্রধান সালেম আল-খানবাশি বলেন, ‘এই অভিযান যুদ্ধ ঘোষণা নয়, কিংবা উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো চেষ্টা নয়।’

    সাবা নেট সংবাদ সংস্থার বরাতে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, সৌদি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে হামলাগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটই চালিয়েছে।

    এই জোট ২০১৫ সালে ইয়েমেনের উত্তরে হুতি বিদ্রোহীদের হটানোর লক্ষ্যে গঠিত হয়। যদিও সেই প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি।

    সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সতর্ক করে জানায়, ‘দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুটি প্রদেশ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত, হামলা বন্ধ করা হবে না।’

    ইরান-সমর্থিত হুতিদের উৎখাতের লক্ষ্যে গঠিত সামরিক জোটের মূল ভিত্তি ছিল উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলো।
    হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা দখল করে সরকারকে উৎখাত করে।

    তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পরও হুতিরা ক্ষমতায় টিকে আছে।

    অন্যদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

    ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর জোট, যার মধ্যে এসটিসিও রয়েছে।

    এরা সবাই হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধিতায় একত্রিত হলেও, নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

    ২০১৯ সালে ইয়েমেন থেকে অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহার করে নেয় ইউএই।

    চলতি সপ্তাহে মুকাল্লা বন্দরে কথিত অস্ত্রবাহী চালানে জোটের বিমান হামলার পর যদিও ইউএই এই চালানে অস্ত্র থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বাকি সেনাও প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

    শুক্রবার ইউএই সরকারের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, সব সেনা ইয়েমেন ছেড়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আবুধাবি ‘সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন ও আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শান্তির টেকসই পথ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’