Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা চীনের

    ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা চীনের

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা করেছে চীন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

    বেইজিং থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এর আগে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ওই হুমকির পর সোমবার বেইজিং এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে সহায়ক এমন কাজ আরও বেশি করে করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন ৬৫ বছর বয়সি পাহলভি। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন পাহলভি। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করবো।

    পাহলভির ইরানে জনসমর্থন আছে?

    ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।

    তবে বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নির্দিষ্ট কোনো নেতার পক্ষে নন। তারা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে।

    উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সি আজাদেহ নামে এক তরুণী এক বার্তায় বলেন, রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের দেখেছি, এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের।

    ক্ষমতা গ্রহণে নিজেকে প্রস্তুত দাবি

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি একক কণ্ঠে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতৃত্ব নেই। এই শূন্যতায় পাহলভি নিজেকে একজন ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে সামনে আনছেন।

    ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবার রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহের শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন ও গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সেই সঙ্গে শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতিও জনগণের ক্ষোভ বাড়ায়।

    পাহলভি ইরান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি  ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকেও সমর্থন করেছিলেন।

    তবে পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও জানিয়েছেন, পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এখন ‘উপযুক্ত না-ও হতে পারে’।

  • ইরানে আবারও রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী

    ইরানে আবারও রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী

    অনলাইন ডেস্ক:    ইরানে টানা দুই রাতের বিক্ষোভের রেশ না কাটতেই শনিবার রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।

    লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের হেরাভি এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের পূর্বাঞ্চলীয় চিতগার এলাকাতেও, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

    বিক্ষোভের ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা নির্বাসিত শাহ শাসনের বিরোধিতার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধেও কড়া স্লোগান দিচ্ছেন। বিশেষ করে ‘গাজা নয়, লেবানন নয় আমার জীবন কেবল ইরানের জন্য’ এমন স্লোগান পুরো বিক্ষোভ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

    আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের চরম অর্থনৈতিক সংকট। তারা অভিযোগ করছেন, গাজার হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার, অথচ দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিদেশের লড়াইয়ে অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে সরকারের উচিত দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতির সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধানে মনোযোগী হওয়া। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, পশ্চিমা বিশ্ব একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তেহরানের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি আরোপ করায় পুরো ইরান জুড়ে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

  • যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প

    যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প

    অনলাইন ডেস্ক:  শুরুর দিকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে চাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন দ্বীপ অঞ্চলটি দখলের হুঁমকি দিয়েছেন। সহজ হোক বা কঠিন কোনো উপায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা আমেরিকার হোক। খবর বিবিসি’র

    শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, কিছু দেশের মালিকানা থাকতে হয় এবং মালিকানাই রক্ষা করা যায়—লিজ নয়। গ্রিনল্যান্ড আমাদের রক্ষা করতেই হবে।ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ খুব প্রয়োজন।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ‘সহজ উপায়ে’ অথবা ‘কঠিন উপায়ে’ বাস্তবায়ন করতে পারে।

    হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে। এমনকি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়নি।

    তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—দুই পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের অবসান ডেকে আনতে পারে।

    তবে শুক্রবার রাতে গ্রিনল্যান্ডের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিশও হতে চাই না—আমরা গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করবে।’

    বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নজরদারিতে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

    ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি বাড়ছে, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

    ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ট্রাম্প চান মালিকানা, ‘নয় বছর বা এমনকি ১০০ বছরের চুক্তিও যথেষ্ট নয়—মালিকানা থাকতে হবে।’ন্যাটোকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন ও রাশিয়ার জনগণকে আমি ভালোবাসি, কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে আমি তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না। ন্যাটোর বিষয়টি বুঝতে হবে।’

    ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা—ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ—ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। তারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তা মিত্রদের সম্মিলিত উদ্যোগেই করতে হবে এবং জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অমোঘতা নীতিকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।

  • ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বুধবার ঘোষণা করেছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

    দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্তৃত্বের ঘোষণার পরও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, কারাকাসে কোনো বিদেশি শক্তি শাসন করছে না।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে আগে কখনো এমন সম্পর্কের কলঙ্ক দেখা যায়নি।’

    মাদুরোকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    গত শনিবার এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার শুরু হয়েছে।

    এ ঘটনাকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অঞ্চলে আধিপত্যের নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এই নীতিকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে উল্লেখ করেছেন।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করে দেবে।’
    ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুদের অধিকারী ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘পরিচালনা করবে’। যদিও দেশটিতে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন নেই।

    নৌ অবরোধ ও ভবিষ্যৎ সামরিক হুমকির মাধ্যমেই এটি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

    এদিকে কারাকাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং প্রায় একই সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, আহতদের মধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও রয়েছেন।

    তবে নিউইয়র্কে আদালতে হাজিরার সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে।

    হাভানার তথ্য মতে, নিহতদের মধ্যে কিউবার সেনাবাহিনীর ৩২ সদস্য রয়েছেন।

    সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের মতো মাদুরোও কিউবার বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈন্যদের দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করতেন।

    মাদুরো-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযথা এই পরিকল্পনা করছে না।’

    এ পর্যন্ত পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তি, যার আওতায় ভেনেজুয়েলা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র তা বিক্রি করবে।

    ট্রাম্প বলেন, এই তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনবে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে থাকবে কৃষিপণ্য, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি খাতের উপকরণ।

    রুবিও জানান, দ্বিতীয় ধাপের ‘পুনরুদ্ধার’ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করবে এবং একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, বিদ্যমান বাণিজ্যিক কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ চাইছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে মজুত থাকা তেল বাজারজাত করব এবং এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার উৎপাদিত তেল বিক্রি করব।’

    শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলার ভগ্নপ্রায় তেল অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ‘বিরাট সুযোগ’ রয়েছে, যদিও এখনো কোনো কোম্পানি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে উত্তর আটলান্টিক পর্যন্ত ধাওয়া করে একটি রুশ-সম্পৃক্ত ট্যাংকারসহ দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

    মস্কো এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

    হোয়াইট হাউস বলেছে, জাহাজটি ভুয়া পতাকা বহন করায় সেটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।  খবর বিবিসি’র।গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।  অভিযানের আগে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজটি দখল করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।  এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটি থামানোর সংকেত দিলেও সেটির ক্রুরা তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

    রাশিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।  রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং অন্য দেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই।

    তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।  মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত এই ট্যাঙ্কারটি মূলত ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিল যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিহত করা হবে।

    মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট এই অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও দাবি করেছেন, জাহাজটি ভেনিজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অবৈধভাবে তেল আনা-নেয়া করত।  নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ভেনিজুয়েলার জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসায় জাহাজটির ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি জানান।

    ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারের ওপর মার্কিন কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এই অভিযান মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।