Category: আন্তর্জাতিক

  • নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

    নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির তরুণ মুখ জোহরান মামদানি বুধবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি নেন। তাঁর মেয়াদকাল জুড়ে  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাতে পৌঁছালে (গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার ০৫:০০ টায়), ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামদানি শপথ নেওয়ার কথা। পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে হবে শপথ অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্ব নেবেন তিনি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হচ্ছেন মামদানি।

    তাঁর দপ্তর জানায়, শপথের জন্য এই সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয় কর্মজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

    বুধবার এক্সে মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কের মানুষের কথা শোনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রচারণা গড়ে উঠেছে। আমরা সেভাবেই শাসন করব। আগামীকাল থেকেই কাজে নেমে পড়ছি।’

    তবে এক বছর আগেও প্রায় অপরিচিত থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মসূচিতে ভাড়া স্থগিত, সবার জন্য শিশুযত্ন এবং বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন বাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

    নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকী বিষয়গুলোর গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। ফলাফল তখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

    মামদানির সিটি হলে আগমনকে ট্রাম্প কীভাবে নেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্কের এই রিপাবলিকান বারবার মামদানিকে সমালোচনা করেছেন। তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়।

    কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল বলেন, ওই বৈঠক ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে এর চেয়ে ভালো হতে পারত না।’ তবে তিনি সম্পর্ক দ্রুতই তিক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

    একটি সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যখন কঠোর অভিযান জোরদার করছেন, মামদানি তখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

    মধ্যরাতে চার বছরের মেয়াদ শুরু করতে মামদানির ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

    বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হবে। সেখানে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী মিত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ।

    সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার টিকিটধারী অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

    নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, শহরের ইতিহাসে এই প্রথম একাধিক কোরআন ব্যবহার করে মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন মামদানি। এর মধ্যে দুটি তাঁর পরিবারের ও একটি পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ লেখক আর্তুরো শোমবার্গের ব্যবহৃত কোরআন।

    নতুন দায়িত্বের সঙ্গে ঠিকানাও বদলাচ্ছেন তিনি। কুইন্সে নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে ম্যানহাটনের বিলাসবহুল মেয়র ভবনে উঠছেন। সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার পক্ষে প্রচারণা চালানোয় তিনি সেখানে উঠবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মামদানি বলেন, মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি সরকারি বাসভবনে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। অভিজাত পরিবেশে বড় হলেও রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন।

    অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি আগের মেয়র প্রশাসন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের অভিজ্ঞ সহকারীদের নিয়ে দল গড়েছেন।

    তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন।

  • ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

    ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

    অনলাইন ডেস্ক:   বুলগেরিয়া আজ বুধবার রাতে ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশটি ২১তম ইউরোজোন সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপের ফলে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বলকান দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    আজ বুধবার মধ্যরাতে বুলগেরিয়া ২০২৫ সাল এবং তার লেভ মুদ্রা উভয়কেই বিদায় জানাবে। লেভ মুদ্রা ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    ৬৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির একাধিক সরকার ইউরো মুদ্রায় যোগদানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে এই আশায় যে, এটি ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র সদস্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং রাশিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, কেউ কেউ এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

    গত ২০০৭ সালে ইইউতে যোগদানকারী বুলগেরিয়া অন্যান্য চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ, যা সম্প্রতি একটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে দেশটি পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টম নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

    বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি মনে করেন তার মন্ত্রিসভা একটি মাইলফলক অর্জন করেছে।

    তিনি একটি সরকারি সভার আগে বলেন, ‘বুলগেরিয়া বছর শেষ করছে ১১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং তিন শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে, যা আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশটির প্রায় ৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি মুদ্রাস্ফীতি, যা, ‘বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা’ এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিতএবং এটি ইউরোর প্রবর্তনের সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়।’

  • বিশ্ব নেতাদের মানুষ ও পৃথিবীর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের

    বিশ্ব নেতাদের মানুষ ও পৃথিবীর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের

    অনলাইন ডেস্ক:    বিশ্বব্যাপী বিরাজমান চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ২০২৬ সালকে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নতুন বছর উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিভেদ ও সংঘাত ভুলে মানুষ এবং পৃথিবীর সুরক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গুতেরেস বলেন, ‘নতুন বছরে বিশ্ব এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমাদের চারপাশে কেবল বিশৃঙ্খলা আর অনিশ্চয়তা। বিভাজন, সহিংসতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন আমাদের ঘিরে ধরেছে।’

    ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিশ্বনেতাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত— মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা।বিশ্বনেতাদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘এখনই সময় সচেতন হওয়ার। সংঘাতের বদলে মানুষ ও পৃথিবীকে বেছে নিন।’

    বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন সহায়তার তুলনায় সামরিক খাতে অত্যধিক ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
    গুতেরেস জানান, এ বছর বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অঙ্কটি উন্নয়ন খাতে বিশ্বের মোট ব্যয়ের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি এবং পুরো আফ্রিকার মোট জিডিপির সমান।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের যে ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।গুতেরেস বলেন, ‘আসুন নতুন বছরে আমরা আমাদের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করি। যুদ্ধ জয়ের চেয়ে দারিদ্র্য জয়ের পেছনে বিনিয়োগ বাড়ালেই পৃথিবী নিরাপদ হবে। যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’২০২৬ সাল হবে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে আন্তোনিও গুতেরেসের শেষ বছর।

  • ইকুয়েডরের সমুদ্র সৈকতের পাশে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬

    ইকুয়েডরের সমুদ্র সৈকতের পাশে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইকুয়েডরের দক্ষিণ-পশ্চিম সমুদ সৈকত সংলগ্ন এলাকায় একটি বোর্ডওয়াকে একাধিক বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণে ছয় জন নিহত এবং আরও তিন জন আহত হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির পুলিশ গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    দেশটির জনপ্রিয় তিমি পর্যবেক্ষণ পর্যটন কেন্দ্র পুয়ের্তো লোপেজে ওই হামলা হয়। একটি ভ্যান এবং দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ব্যক্তিরা বোর্ডওয়াকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গুলিবর্ষণে ৬ ব্যক্তি নিহত এবং আরও ৩ জন আহত হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এটি ছিল সপ্তাহান্তে শহরটিতে তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলা, যেখানে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জন।

    পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীদের অবস্থান এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এ হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

    ইকুয়েডর বিশ্বের কোকেনের শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থিত এবং মেক্সিকান ও কলম্বিয়ান কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংগুলোর সহিংসতা সেখানে বেড়ে গেছে।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার প্রণীত কঠোর নীতিগুলো সহিংসতার ঢেউ থামাতে এ পর্যন্ত খুব একটা কার্যকর হয়নি।

    জেনেভাভিত্তিক অর্গানাইজড ক্রাইম অবজারভেটরির তথ্যমতে, পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দেশটি বছর শেষে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যে হার সর্বোচ্চ রেকর্ড।

  • সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু : ইসরাইলি কর্মকর্তা

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু : ইসরাইলি কর্মকর্তা

    অনলাইন ডেস্ক:    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং পরদিন ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জেরুজালেমে এএফপিকে জানিয়েছেন।চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে এটি হবে নেতানিয়াহুর পঞ্চম বৈঠক।

    ট্রাম্প প্রশাসন ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা যখন গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তখনই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বড়দিনের ছুটিতে নেতানিয়াহু সম্ভবত ফ্লোরিডায় তার সঙ্গে দেখা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সময় নির্ধারিত হয়নি, তবে তিনি দেখা করতে আগ্রহী।’

    ইসরাইলের দৈনিক ইদিয়োথ আহরোনোথ বুধবার জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান, ইসরাইল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপসহ নানা আঞ্চলিক বিষয় উঠে আসতে পারে।

    ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যস্থতায় অক্টোবর মাসে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, তার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি এখনো ধীরগতির। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, আর মধ্যস্থতাকারীরা আশঙ্কা করছেন—ইসরাইল ও হামাস দু’পক্ষই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে।চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী, ইসরাইলকে গাজায় অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, হামাসের পরিবর্তে একটি অন্তর্র্বতী কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড শাসন করবে এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিধানও রয়েছে, যা বড় ধরনের জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকটি চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব গাজার জন্য প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ ঘোষণার আগ্রহ দেখাচ্ছে।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ‘নাজুক যুদ্ধবিরতি দুর্বল করা এবং শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির করার পদক্ষেপ নেওয়ায়’ নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।ইদিয়োথ আহরোনোথ জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে- এ আশঙ্কা নেতানিয়াহুর আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকতে পারে।

  • তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক

    তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক

    অনলাইন ডেস্ক:    দক্ষিণ কোরিয়ার ই-কমার্স কোম্পানি কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক আজ রোববার তথ্য ফাঁসের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তথ্য ফাঁসের এই ঘটনা ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহকের আস্থা কমেছে।কুপাং-এর গ্রাহকের তথ্য একজন প্রাক্তন কর্মচারী কর্তৃক ফাঁস হওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর, ক্ষমা চান কিম বম-সুক। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এই ঘটনার পর চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোম্পানিটিতে তল্লাশি চালানো হয়, আর সমালোচকদের মতে ঘটনাটি হালকা করে দেখানোর চেষ্টার কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদীয় শুনানিতে হাজির হতে কিমের বারবার অস্বীকৃতি জনমনে আরও হতাশা বাড়িয়েছে দেয়।

    ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এতে ক্ষতি হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।তবে কুপাং দাবি করেছে, মাত্র ৩ হাজার গ্রাহক এতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যদিও এই সংখ্যাটি এখনও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

    রোববার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম বলেন, ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কারণে আমরা আমাদের গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ ও ভোগান্তি সৃষ্টি করেছি। আমি সকলের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

    এক মাস আগে, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এটাই ছিল এ নিয়ে তার প্রথম সরাসরি মন্তব্য।কুপাং সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় সব ফাঁস হওয়া গ্রাহক তথ্য পুনরুদ্ধার সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।সিউল পুলিশ জানিয়েছে,  তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি জুন ২৪ থেকে নভেম্বর ৮ পর্যন্ত কুপাং-এর বিদেশী সার্ভারের মাধ্যমে ঘটেছে।