Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

    ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়ে। তিনি বলেছেন, ইরান যেন তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা ইসরাইলের। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার ছয় মাস পর এ হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

    জেরুজালেমে মোসাদের গোয়েন্দা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বার্নিয়ে বলেন, ইসরাইলের ধ্বংসে শপথ নেওয়া একটি দেশ হিসেবে ইরান এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই—সামরিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য ছাড়া। সুযোগ পেলেই তারা দ্রুত সেই পথে এগোবে।’

    তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রকল্প আর কখনো সক্রিয় না হয় তা নিশ্চিত করা।’এ সময় মোসাদ প্রধান ইসরাইলের আকস্মিক সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। তার মতে, এই অভিযান ইরানের ভেতরে ইসরাইলি  গোয়েন্দাদের বিস্তৃত অনুপ্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

    বার্নিয়ে আরও বলেন, ইরান পুরোপুরি উন্মুক্ত ও অনুপ্রবেশযোগ্য তা এক মুহূর্তেই আয়াতুল্লাহদের শাসন বুঝতে পেরেছে। তবু তারা ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য ত্যাগ করেনি।ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরান আবারও বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে একটি খারাপ পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা এমন কোনো খারাপ চুক্তি হতে দেব না।

    পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। ইরান তা অস্বীকার করলেও, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বাইরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ইসরাইল দবি করে ইরান অস্ত্রায়নের দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছিল।

    ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত জুন মাসের যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় তাদের এক হাজারের বেশি নাগরিক নিহত হন। জবাবে ইরান ইসরাইলের দিকে ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোন ছোড়ে। ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৩২ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।

  • বন্ডি বন্দুকধারীদের ফিলিপাইনে ‘সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের’ প্রমাণ নেই : ফিলিপাইন

    বন্ডি বন্দুকধারীদের ফিলিপাইনে ‘সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের’ প্রমাণ নেই : ফিলিপাইন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে সংঘটিত গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি ফিলিপাইনে অবস্থানকালে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন— এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

    বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোসের মুখপাত্র ক্লেয়ার কাস্ত্রো বলেন, ‘ফিলিপাইনকে আইএসআইএস-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার মতো বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য প্রেসিডেন্ট দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।’

    তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি পাঠ করে বলেন, ‘দেশটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।’

    তিনি আরও জানান, ‘বন্ডি বিচ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ফিলিপাইনে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন— এমন কোনো যাচাইকৃত প্রতিবেদন বা নিশ্চিত তথ্য নেই।’

    এর আগে মঙ্গলবার ফিলিপাইনের অভিবাসন দপ্তর নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে সজিদ আকরাম ও তার ছেলে নাভিদ ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় দাভাও প্রদেশে যান।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এই দু’জনই সিডনির বন্ডি বিচে একটি হানুক্কা উদ্যাপনে গুলি চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা ও আর আরও বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে।

    দাভাও যে দ্বীপে অবস্থিত, সেই মিনদানাওতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামপন্থী বিদ্রোহের ইতিহাস রয়েছে। এই সফরে ওই দুই হামলাকারী কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি-না, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে তদন্ত করছে ।

    তবে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মারাউই অবরোধের পর থেকে মিনদানাওয়ে সক্রিয় সশস্ত্র মুসলিম গোষ্ঠীগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    তারা আরও জানায়, প্রো-ইসলামিক স্টেটের মাউতে ও আবু সায়্যাফ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের যুদ্ধে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। এছাড়াও ভয়াবহ ওই যুদ্ধে আরও কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

    ফিলিপাইন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল ফ্রান্সেল পাডিলা বুধবার সকালে বলেন, ‘২০২৪ সালের শুরু থেকে বড় কোনো সন্ত্রাসী অভিযান বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের রেকর্ড নেই।’

    তিনি আরও বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ‘বিচ্ছিন্ন’ এবং ‘নেতৃত্বহীন’ অবস্থায় রয়েছে।

    কর্নেল জার্কসেস ত্রিনিদাদ জানান, বাবা-ছেলের নভেম্বরের সফরে উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তিনি বলেন, ‘মাত্র ৩০ দিনে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব নয়, বিশেষ করে অস্ত্রচালনা (মার্কসম্যানশিপ) প্রশিক্ষণ।’

    তবে ম্যানিলাভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রোমেল বানলাওই এএফপিকে বলেন, অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘পালিয়ে’ থাকলেও তারা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

    তার ভাষ্য মতে, ‘কেন্দ্রীয় মিনদানাওতে এখনো সক্রিয় অনেক প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে। সেগুলো বিলুপ্ত করা হয়নি।’
    তিনি আরও বলেন, দুর্বল হলেও এখনও এ সব গোষ্ঠীর ‘স্থানীয় ও বৈশ্বিক অনলাইন যোগাযোগ’ বজায় আছে।

  • হংকংয়ের জিমি লাইকে মুক্তি দিতে শি জিনপিংকে অনুরোধ ট্রাম্পের

    হংকংয়ের জিমি লাইকে মুক্তি দিতে শি জিনপিংকে অনুরোধ ট্রাম্পের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  হংকংয়ের কারাবন্দি গণমাধ্যম ব্যবসায়ী জিমি লাই-এর সাজায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাইকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে (জিমি লাই) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছি।’ তবে ঠিক কবে তিনি শি’র কাছে এই অনুরোধ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি একজন বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ। তাই আমি অনুরোধটি জানিয়েছি। এখন দেখা যাক কী হয়।’

    হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি জিমি লাই-কে মুক্ত করতে চান। লাই একজন সফল ব্যবসায়ী এবং গণতন্ত্রপন্থী সংবাদপত্র ‘অ্যাপল ডেইলি’র প্রতিষ্ঠাতা।

    গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই তিনি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট দেন।

    তিনি বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে যারা বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে চায়, চীন তাদের কণ্ঠরোধ করে।

    তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৯৭ সালে বৃটিশদের কাছ থেকে হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে চীন সেখানে পৃথক বিচারব্যবস্থা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

    এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ হাজার ৮০০ দিনেরও বেশি সময় কারাগারে থাকায় জিমি লাইয়ের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যেন মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাকে মুক্তি দিয়ে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হয়।’

    জিমি লাই একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক। যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা কর্মীদের পাশাপাশি খ্রিস্টান অধিকারকর্মীদের একটি গোষ্ঠীও তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, এই গোষ্ঠীটি ট্রাম্পের একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

    ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৭৮ বছর বয়সি লাই-এর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আনা তিনটি অভিযোগে সোমবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাবন্দি আছেন। এই রায়ের ফলে তাকে হয়তো আমৃত্যু জেলেই কাটাতে হতে পারে।

    ২০১৯ সালে হংকংয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর চীনের কঠোর দমনপীড়নের অংশ হিসেবেই জিমি লাইকে এই সাজা দেওয়া হলো।

  • ইসরাইলি হামলার মধ্যেই গাজায় ভারি বৃষ্টিপাত, ১০ জনের প্রাণহানি

    ইসরাইলি হামলার মধ্যেই গাজায় ভারি বৃষ্টিপাত, ১০ জনের প্রাণহানি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে একদিনে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুসের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড

    গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, খোলা পরিবেশে বসবাস, অপর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস ও ডায়রিয়াজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি জানান, গাজায় পরীক্ষাগার সংক্রান্ত রাসায়নিক উপকরণ ও রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি পাঠাতে ডব্লিউএইচও এখনো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছে।

    এছাড়া ইসরাইল অনেক জরুরি সরঞ্জামকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    টেড্রোস জরুরি ভিত্তিতে এসব অপরিহার্য সামগ্রী গাজায় প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্ত করা, কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানো এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া এ সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও এই সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে  ইসরাইলি সেনাবাহিনী একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।  এতে অন্তত ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন।

  • সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    অনলাইন ডেস্ক:   সৌদি আরবের অধিকাংশ এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ও ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। শিগগিরই যদি আবহওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, সেক্ষেত্রে অনেক এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)।

    গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির মক্কা, মদিনায়, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এছাড়া মৃদু থেকে মাঝারি বর্ষণ চলছে হাইল, তাবুক, আল জৌফ এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে চলছে ব্যাপক কুয়াশা।

    মরু আবহাওয়ার দেশ সৌদিতে ঝড়-বৃষ্টি বেশ বিরল। গত দু’তিন বছরে অবশ্য বেশ কয়েকবার ঝড় ও ভারি বর্ষণ হয়েছে দেশটিতে।

    এনসিএমের তথ্য অনুসারে, সৌদির এমন আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য দায়ী লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। এক বিবৃতিতে এনসিএম জানিয়েছে, লোহিত সাগর থেকে সৌদির বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বয়ে যাচ্ছে ঝেড়ো হওয়া। বাতাসের এই গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে পারস্য উপসাগরেও। বর্তমানে সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হওয়া বয়ে যাচ্ছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুধবার বিশ্বব্যাপী প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সসহ জনপ্রিয় বহু অ্যাপ ও ওয়েবসাইটকে ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীদের সরিয়ে না ফেললে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে।

    দেশটি জানায়, প্রযুক্তি জায়ান্টদের কাছ থেকে ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার’ এখনই সময়। সিডনি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধেও এভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া বিশ্বের প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি হল অস্ট্রেলিয়া—যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আরো অনেক দেশ।

    ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

    তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলোর একটি। আমরা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেব।’

    সরকার জানায়, শিশুদের ফোন স্ক্রিনে বুলিং, যৌনতা আর সহিংসতার ভিডিও-এর দিকে ঠেলে দেওয়া ‘শিকারী অ্যালগরিদম” থেকে রক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

    আইনটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    এর ফলে লাখো কিশোর-তরুণ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেছে তারা আর আগের মতো অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারছে না।

    মাত্র ১০ বছর বয়সী বিআঙ্কা নাভারো এখন থেকে কত বছর পর ইউটিউবে ফিরতে পারবে, সেকথাই ভাবছে।

    সে এএফপিকে বলেছে, ‘অনেক খারাপ লাগবে, কারণ আমাকে ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে,’ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বা ধরে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও টুইচও সরকারের কালো তালিকায়। একই তালিকায় রয়েছে থ্রেডস ও এক্স।

    ফোনে বুঁদ হয়ে থাকা সন্তানদের দেখে ক্লান্ত অভিভাবকদের কাছে এ নিষেধাজ্ঞা যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

    মিয়া ব্যানিস্টার জানান, অনলাইন বুলিংয়ের কারণে তার কিশোর ছেলে অলির মৃত্যু হয় গত বছর। তিনি বলেন, ওজন কমানোর ভিডিওর অন্তহীন স্রোতও তার সন্তানের খাদ্যাভ্যাসে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।

    অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অনলাইন সময় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোন ব্যবহারের প্রভাবকে অন্যান্য জীবনযাত্রার কারণ থেকে আলাদা করা কঠিন।

    পাঁচ সন্তানের বাবা দানি এলাচি বলেন, এ সীমাবদ্ধতা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লাগাম টানার সময় এখনই।