Category: আন্তর্জাতিক

  • পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবেন : রানা সানাউল্লাহ

    পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবেন : রানা সানাউল্লাহ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন,  পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে চান।শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামা টিভির অনুষ্ঠান ‘মেরে সওয়াল উইথ আবসার আলম (আবসার আলমের সঙ্গে আমার প্রশ্ন)’- তে সানাউল্লাহ বলেন, ‘পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা সবসময়ই লং মার্চ এবং অস্থিরতা বাড়ানোর ডাক দিয়ে এসেছেন।’

    ইমরান খানকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি চার বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন কোনো সংলাপে যেতে চাননি। এখনো তিনি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আছেন।’সানাউল্লাহ জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো।

    পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বেসরকারিকরণ ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার পিআইএ বেসরকারিকরণে মনোযোগী। প্রধানমন্ত্রী কঠোর পরিশ্রম করছেন। পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসবে।’

    এদিকে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে।তারা দাবি করেছে, তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং কঠোরভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে।  পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সাথে তার কোনো অর্থবহ যোগাযোগ নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

  • শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৩১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে

    শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৩১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে

    অনলাইন ডেস্ক:     টানা প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এ সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় কমপক্ষে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ১৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে অ্যাসোসিয়েট প্রেস।

    এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও টানা ভূমিধসে দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে পাহাড়ি জেলা বাদুল্লায়। সেখানে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশের জেলা নুয়ারা এলিয়াতে একইভাবে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বাড়িঘর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। ১৭টি জেলার ৪ হাজারের বেশি মানুষ এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশজুড়ে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে সরকার।আটটি পাহাড়ি জেলায় রেড অ্যালার্ট ভূমিধস সতর্কবার্তা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকায় খাঁড়া ঢাল, পাহাড়ি বসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বৃষ্টি চলছে, তবে দ্বীপের পূর্ব দিকে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় বর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে।

    আজ দেশব্যাপী ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতিবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে বাত্তিকালোয়া জেলায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।গত বছরের জুনের পর এই সপ্তাহে এশিয়ার দেশটিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। সে সময় ভারী বর্ষণে ২৬ জন নিহত হয়েছিল। গত ডিসেম্বরেও বন্যা ও ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগের হার বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৪৪, নিখোঁজ শতাধিক

    হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৪৪, নিখোঁজ শতাধিক

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হংকংয়ের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সের একাধিক বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যাও কম নয়। পাওয়া তথ্য অনুযায়, ২৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    গতকাল বুধবার এই ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

    ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সের অন্তত তিনটি আবাসিক ভবনের বাঁশের মাচায় প্রথমে আগুন ধরে যায়। এরপর তা ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আটটি ব্লক নিয়ে গঠিত ওই কমপ্লেক্সে প্রায় ২ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে।”

    সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, “ফায়ার সার্ভিস ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। এরমধ্যে ৪০ জন ঘটনাস্থলে এবং চারজন হাসপাতালে মারা গেছেন। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় আছেন আরও ৪৫ জন। আগুনের মাত্রা এত ভয়াবহ যে কমপ্লেক্সটিতে ১৫ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে।”

    এর আগের আপডেটে ৩৬ জনের মৃত্যু এবং ২৭৯ জন নিখোঁজ ছিলেন। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কর্মকর্তা। এরমধ্যে দুজন কোম্পানিটির পরিচালক। অন্যজন পরামর্শক।

  • ভারতের ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    ভারতের ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    ভারতে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া ও ঐতিহ্য ধ্বংসের বিষয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভারতের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় নির্মিত রাম মন্দিরে পতাকা উত্তোলন নিয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছ। খবর- পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডন নিউজের।

    বিবৃতিতে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি বলেন, এটি ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টির বিস্তৃত প্রবণতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি বলেন, নানা ঐতিহাসিক মসজিদ এখন অপবিত্র করা বা ভেঙে ফেলার হুমকির মুখে রয়েছে। আর ভারতীয় মুসলিমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকায়নের শিকার হচ্ছেন।

    মুখপাত্র আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ঘৃণাপ্রসূত হামলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়।

    জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য সুরক্ষায় এবং সকল সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের নিরাপত্তায় তাদের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের সরকারকে আহ্বান জানায় যে, তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার আলোকে মুসলিমসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং তাদের উপাসনালয়গুলো রক্ষা করবে।

    বাবরি মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন উপাসনালয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এই মসজিদ ধ্বংস করে উগ্রবাদী জনতা। ভারতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় দায়ীদের খালাস দেওয়া হয়। ভাঙা মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। এই অবস্থান ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পরিচায়ক বলে পাকিস্তান মন্তব্য করেছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পবিত্র অনুষ্ঠানে’ ওই ‘মন্দিরের’ শীর্ষে একটি গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন, যা এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার সংকেত বহন করে।

  • পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ১০ জন নিহত

    পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ১০ জন নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র এ তথ্য জানান। পাকিস্তানের পেশাওয়ার শহরের নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের একদিন পর এ ঘটনা ঘটে। কাবুল থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের আগ্রাসী বাহিনী খোস্ত প্রদেশের এক বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে নয় শিশু (পাঁচ ছেলে, চার মেয়ে) ও এক নারী শহীদ হয়েছেন।

    সীমান্তবর্তী কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে দুদফা বিমান হামলায় আরও চারজন নাগরিক আহত হন। যদিও পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি।

    এর আগে পর পেশাওয়ারের আধা-সামরিক বাহিনী ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলায় তিন কর্মকর্তা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়। কোনো গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।

    তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল পিটিভি জানিয়েছে, হামলাকারীরা আফগান নাগরিক।  অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির হামলার দায় চাপিয়েছেন ‘বিদেশি সমর্থনপুষ্ট ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর ওপর। ইসলামাবাদে এই নামের মাধ্যমে তেহরীক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা (টিটিপি) কে বোঝানো হয়।

    পাকিস্তান সরকারে ধারণা, ওই গোষ্ঠী আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থান করে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলা বা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। চলতি মাসে ইসলামাবাদে আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হন। সেসময় পাকিস্তান তালেবানে একাংশ ওই হামলার দায় স্বীকার করে। তারা মূলত আফগান তালেবানের মতই কাজ করে।

    ইসলামাবাদের ধারণা, এই হামলা চালানোর পেছনে একটি সশস্ত্র সেল রয়েছে এবং তারা আফগানিস্তানে থাকা শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে কাজটি করেছে।

    তালেবানরা ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। গত অক্টোবরের সীমান্ত সংঘর্ষে দুদেশের প্রায় ৭০ জন নিহত হয়। এরপর সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।

    কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইস্তানবুলে আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। নিরাপত্তা বিষয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল টিটিপি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ বিষয়ে বিতর্ক হয়েছে।

    পাকিস্তানের আরও অভিযোগ করে, তালেবান সরকার বিশেষ করে টিটিপির মত বিদ্রোহীদের আশ্রয় দিচ্ছে। সংগঠনটি বছরের পর বছর পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।

    তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের শত্রু গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব মানছে না।

    এদিকে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠন পাকিস্তান-আফগানিস্তান জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সতর্ক করেছে যে এ সপ্তাহে সীমান্তে হাজার হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। প্রতিটি কনটেইনারের জন্য দৈনিক ১৫০-২০০ ডলার চার্জ দিতে হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এটিকে “অসহনীয়” বলে মন্তব্য করেছে চেম্বার।

  • পাকিস্তানে এফসি সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৬

    পাকিস্তানে এফসি সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৬

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ফেডারেল কন্সটাবুলারির (এফসি) সদরদপ্তরে সোমবার (২৪ নভেম্বর) বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলা স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে সাদ্দার-কোহাট সড়কে এফসির সদরদপ্তরের প্রধান প্রবেশপথে ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে গেটের কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তিনজন এফসি সদস্য নিহত হন, আর পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজন এফসির কর্মী, তাদের সবাইকে পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “সেনাবাহিনী ও পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে, কিছু সন্ত্রাসী এখনো সদরদপ্তরের ভেতরে থাকতে পারে।”

    এই সদরদপ্তর পেশোয়ারের জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত এবং কাছেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একটি ক্যান্টনমেন্ট আছে। স্থানীয় বাসিন্দা সফদার খান জানান, “সাদ্দার-কোহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।”

    রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আহরার, যা তালেবান-সমর্থিত নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অংশ, হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, “নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপ বড় ধরনের ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করেছে।”

    এফসির সদরদপ্তরে এই হামলা চলতি বছর পেশোয়ারে নিরাপত্তা স্থাপনায় দ্বিতীয় বড় সন্ত্রাসী হামলা। ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ পেশোয়ারের পুলিশ লাইন্সে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৮৪ জন নিহত হয়। খাইবার পাখতুনখওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার মাত্রা সাম্প্রতিক মাসে বেড়েছে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষের পর।

    প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফরিদি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের কাপুরুষ হামলা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না। সন্ত্রাসীদের ন্যায় বিচারে আনা হবে।”

    বামপন্থী দল পাকিস্তান পিপিপি’র শেরী রেহমানও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।