Category: আন্তর্জাতিক

  • সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    অনলাইন ডেস্ক:     সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে একটি ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

    শুক্রবার ত্রাণবহরটি এল-ওবেইদের নিকটবর্তী এলাকায় যাচ্ছিল।

    সুদানের পোর্ট সুদান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এল-ওবেইদ বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটিকে ঘেরাও করে রেখেছে।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

    এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

    সুদানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, এল-ওবেইদ সফর শেষে তিনি হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখেছেন। হামলার পর ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো জ্বলছিল।

    তিনি এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক কর্মী, সম্পদ ও সহায়তা সামগ্রীগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানান।

    সুদানে যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী স্বাধীন সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওই ত্রাণবহরটি হামলার শিকার হয় এবং এর জন্য তারা আরএসএফকে দায়ী করে।

    স্থানীয় বেসামরিক সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে।

    সংগঠনটি জানায়, এই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

    তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    সুদান ডক্টরস নেটওয়াক আরও জানায়, এ ধরনের হামলা যুদ্ধকবলিত বেসামরিক জনগণের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর মানবিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থাকা এই মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

    দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফ-এর হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে করদোফান অঞ্চলেই মূলত সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত।

    এল-ওবেইদ শহরটি দারফুর ও রাজধানী খার্তুমের সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত।

  • মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    অনলাইন ডেস্ক:    মার্কিন বিচার বিভাগ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সফরের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ওহাইওর টলেডোর বাসিন্দা শ্যানন ম্যাথ্রেকে ‘ভাইস প্রেসিডেন্টের জীবন নেওয়ার এবং শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাথ্রে বলেছেন যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কোথায় থাকবেন, তা খুঁজে বের করবেন এবং এম১৪ স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে তাকে হত্যা করবেন।

    তবে, তিনি কোথায় এই মন্তব্যটি করেছিলেন, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

    গতকাল শুক্রবার মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ম্যাথরেকে গ্রেফতার করেছে।

    ভ্যান্স জানুয়ারির শুরুতে বলেছেন, ‘মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তি’ জানালায় হাতুড়ি দিয়ে তার ওহাইওর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না এবং ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    বিচার বিভাগ শুক্রবার জানিয়েছে, ভ্যান্সকে  হুমকির বিষয়টি তদন্ত করার সময় ম্যাথ্রেরের কাছ থেকে ‘শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক ডিজিটাল ফাইল’ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ওহাইওর উত্তর জেলার একজন মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকের সামনে ম্যাথ্রে আদালতে হাজির হন।

  • ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি তিন শিশুসহ নিহত ৯, আহত ৩১

    ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি তিন শিশুসহ নিহত ৯, আহত ৩১

    অনলাইন ডেস্ক:   গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আজ বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তিনজন শিশুসহ মোট নয়জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর তারা হামলা চালিয়েছে।
    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গত মাসে মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল এবং হামাস একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে।
    গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার কয়েকদিন পর সর্বশেষ রক্তপাত ঘটে। এটি গাজাবাসীদের জন্য একমাত্র বাহির হওয়ার পথ যা ইসরাইলের মধ্য দিয়ে যায় না।

    হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে উদ্ধারকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করা বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩১ জন আহত হয়েছে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ খান ইউনিস এলাকায় তাঁবু এবং বাড়িঘরে ইসরাইলি হামলার পর তিন জনের মৃতদেহ নাসের হাসপাতালে আনা হয়েছে।

    গাজা শহরের বৃহত্তম নগর কেন্দ্র গাজা শহরে একই ধরণের হামলার পর আরও ছয় জনের মৃতদেহ আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসীরা সেনাদের ওপর গুলি চালানোর’ পর তারা হামলা চালিয়েছে, এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তারা  এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে মনে করছে।

    তারা বলেছে, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এর কাছে সৈন্যরা আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার ওপারে গাজায় ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে।

    যুদ্ধবিরতি বারবার রক্তপাতের রক্তপাতের মাধ্যমে কলুষিত হয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৫২৩ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে একই সময়ে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে।

    বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত শনিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে একটি। ওই দিন  ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামাসের অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে চালানো হয়।

    গাজায় গণমাধ্যমের বিধিনিষেধ এবং সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করতে বা অবাধে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে পারছে না।

  • জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

    জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

    অনলাইন ডেস্ক:     ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা দেশের ‘জাতীয় স্বার্থের’ কাঠামোর মধ্যেই এগোবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে মুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক আলোচনার পথে এগোনোর জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

    কোনো চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটতে পারে’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

    গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠায়।

    ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের সঙ্গে ‘কোনো একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব’ বলে আশা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’।

    তেহরান একদিকে কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইরান বারবার জানিয়েছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা তারা নাকচ করেছে।

    সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব।

    তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক চুক্তির কথা বলেছেন, মার্কিন আলোচক দল যদি সেই পথে এগোয় তবে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আরাঘচি বলেন, সে ক্ষেত্রে একটি চুক্তি অর্জনে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

    এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে।

  • গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার

    গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার

    অনলাইন ডেস্ক:     দুই বছরের কাছাকাছি সময় ধরে প্রায় বন্ধ থাকার পর সোমবার গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পথচারীদের চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নেওয়ার পর থেকে ক্রসিংটি কার্যত অচল ছিল।

    জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবিতে এই পুনরায় খোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কায়রো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার—

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয় সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ক্রসিংটি শুধু উভয় দিকের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য খোলা হবে।

    এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, সীমান্তের মিসরীয় অংশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসাজনিত কারণে যাদের সরিয়ে নেওয়া হবে, তাদেরই প্রথম বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

    মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত রাফাহ ক্রসিংকে অনেক সময় গাজার ‘প্রাণরেখা’ বলা হয়। এটি একমাত্র সীমান্তপথ, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাওয়ার পর ক্রসিংটি এখন ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়েছে।

    ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে থাকা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাইরে যাওয়ার অনুমোদিত প্রধান পথ হিসেবে দীর্ঘদিন রাফাহ ক্রসিং ব্যবহৃত হতো।

    ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রথম সীমান্ত টার্মিনাল। পরে হামাস গাজায় ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে ওঠে।

    ২০২৪ সালের ৭ মে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্রসিংটির ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের দাবি ছিল, এটি ‘সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।’

    এরপর থেকে জাতিসংঘ ব্যবহৃত পথসহ অনেক প্রবেশপথ প্রায় বন্ধই রয়েছে।

    গত বছরের জানুয়ারিতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সময় অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য অল্প সময়ের জন্য রাফাহ খুলেছিল।

    ইসরাইল জানায়, তারা গাজায় যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ‘নিরাপত্তা যাচাই’ করবে। এই প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি সংস্থার।

    ইসরাইলের অনুমোদনের পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার জাতীয় কমিটিও ভূখণ্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
    কতজন ফিলিস্তিনিকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, ইসরাইল যাদের যেতে অনুমতি দেবে, মিসর তাদের সবাইকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

    কায়রোতে ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছে, গাজায় ফিরতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিরা সীমিত লাগেজ নিতে পারবেন। ধাতব বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী নেওয়া যাবে না। ওষুধও নেওয়া যাবে সীমিত পরিমাণে।

    কোগাট জানিয়েছে, রোববার ‘প্রাথমিক পাইলট ধাপ’ শুরু হয়েছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমান্ত সহায়তা মিশন (ইউবাম), মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

    সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলে উভয় দিকের বাসিন্দাদের প্রকৃত চলাচল শুরু হবে। রাফাহর ফিলিস্তিনি অংশ পরিচালনার কথা ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধিদলের।

    ২০০৫ সালে রাফাহ ক্রসিং পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বেসামরিক মিশন গঠন করেছিল। কিন্তু দুই বছর পর হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তা স্থগিত হয়।

    ইউরোপীয় এই মিশনের লক্ষ্য ছিল করে সীমান্তে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এতে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের পুলিশ সদস্যরা যুক্ত এতে যুক্ত করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য এটি পুনরায় মোতায়েন হলেও মার্চে আবার স্থগিত করা হয়।

    সূত্র জানায়, ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সীমান্তে পৌঁছেছে।

    ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে থাকা ট্রাম্পের পরিকল্পনায় রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা এবং প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

    তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো জানায়,  ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গড়িমসি করছে। জীবনরক্ষাকারী সহায়তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    সাধারণত আন্তর্জাতিক ত্রাণ মিসর থেকে রাফাহ দিয়ে আসে। এরপর ট্রাকগুলো পাঠানো হয় নিকটবর্তী ইসরাইলি ক্রসিং কেরেম শালোমে। বর্তমানে গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এই পথ দিয়ে যায়।

    চালকেরা ট্রাক থেকে নেমে যান। যানবাহনগুলো কঠোর ইসর্ইালি তল্লাশির মধ্য দিয়ে যায়। পরে পণ্য নামিয়ে গাজায় প্রবেশের অনুমোদন পাওয়া অন্য যানবাহনে তোলা হয়।

    মিসরীয় অংশে থাকা দুইটি ত্রাণ সূত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছে, ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে বাধা অব্যাহত রেখেছে। পণ্য খালাস না করেই “ডজনখানেক” ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    অতীতে আরও কিছু প্রবেশপথ চালু ছিল। তবে সেগুলো পুনরায় খোলা হবে কি না, সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য দেয়নি।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ

    অনলাইন ডেস্ক:    রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার আঞ্চলিক গভর্নর এ তথ্য জানান।

    গভর্নর ভিয়াচেসলাভ গ্লাদকভ টেলিগ্রামে বলেন, রাতে চালানো ওই হামলায় ইউক্রেন সীমান্তের উত্তরে স্টারি ওস্কোল শহরের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত লাগে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় ও আংশিকভাবে ধসে পড়ে।

    মস্কো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গ্লাদকভ লিখেছেন, ‘ঘটনাস্থলে কাজ করা উদ্ধারকারীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।’

    প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে মস্কোর প্রায় প্রতিদিনের বোমাবর্ষণের জবাবে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। মূলত জ্বালানি খাত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু।

    ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বহু এলাকা অন্ধকার ও তীব্র শীতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

    রোববার ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে খনি শ্রমিক বাহি একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন।