Category: বিনোদন

  • দাম বেড়েছে শহীদের, তবে বেশি না

    দাম বেড়েছে শহীদের, তবে বেশি না

    কবির সিং’ পেল অপ্রত্যাশিত সাফল্য। তেলেগু ছবি ‘অর্জুন রেড্ডি’র এই রিমেক যে বলিউড তারকা শহীদ কাপুরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। ভাবতে পারেননি শহীদ কাপুর নিজেও। তিনি নাকি ‘ফ্রেম টু ফ্রেম’ নকল করে বানানো এই ছবি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন না। আবার পরিচালকও একই, সন্দীপ ভাঙা। তাই ভেবেছিলেন, ‘না’ বলে দেবেন প্রযোজকদের।

    কিন্তু বাদ সাধলেন স্ত্রী মীরা রাজপুত। অনুরোধ করলেন ছবিটি করতে। সেই ছবিই ৩৭৯ কোটি রুপি আয় করে গড়েছে ইতিহাস। কেবল ভারত থেকেই তুলে এনেছে ২৭৮ কোটি রুপি। দীর্ঘদিন ধরে রাখল বছরের সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী ছবির মুকুট। গতকাল বৃহস্পতিবার হৃতিক রোশন আর টাইগার শ্রফ অভিনীত ‘ওয়ার’ ছবিটি ছিনিয়ে নিয়েছে সেই মুকুট। আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশের ভেতরে ‘ওয়ার’ আয় করেছে ২৯০ কোটি রুপি।

    সে যা-ই হোক, ‘কবির সিং’ এখন পর্যন্ত শহীদ কাপুরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। কারণ এই ছবি মাইলফলক গড়ার পরই তিনি দাবি করলেন, তাঁর পারিশ্রমিক এখন থেকে ৩৫ কোটি রুপি। চারপাশে শোরগোল পড়ে গেল। সবাই বলাবলি করল, দাম বাড়াবে, ঠিক আছে। তাই বলে এত? এই পরিমাণ অর্থ যদি শহীদ কাপুরকে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের একজন হবেন।

    শহীদ কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াকিন্তু চাইলেই কি আর পাওয়া যায়? শহীদ কাপুরের পরবর্তী ছবি হবে আরেকটি তেলেগু ছবির রিমেক। শোনা যাচ্ছে, এই ছবির জন্য নাকি ৩৫ কোটি রুপিই পারিশ্রমিক নেবেন। কিন্তু সেসব খবর যে ভুয়া, তা নিশ্চিত করেছে এই ছবির এক সূত্র। সেই ছবির নাম ‘জার্সি’, মুক্তি পেয়েছে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল। তাই রেশ কাটতে না কাটতেই এই ছবি নিয়ে বলিউডের বড় পর্দায় হাজির হবেন শহীদ কাপুর।

    আর ডেকান ক্রনিকলকে এই ছবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ছবির জন্য শহীদ কাপুরকে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ায় কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা একদম বাজে কথা। এমনকি এই ছবিতে শহীদ কাপুরের পারিশ্রমিক ৩৫ কোটির আশপাশেও না।

    ওই সূত্র আরও জানায়, ছবির গল্পটা একজন ব্যর্থ ক্রিকেটার বাবার। সেই বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নানী। আর দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির এই তারকার পারিশ্রমিক ধরে ছবিটি বানাতে প্রযোজকদের খরচ পড়েছে ১৮ কোটি রুপি। আর ছবিটি আয় করেছে ৫১ কোটি ৭০ লাখ রুপি। তাই শহীদ যা দাবি করেছেন, তা মূল ছবির মোট বাজেটের দ্বিগুণের সমান। প্রযোজক এত টাকা কোত্থেকে দেবেন?

    তবে ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে, দাম বেড়েছে শহীদ কাপুরের। ‘কবির সিং’ ছবিতে যে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। তবে তা ৩৫ কোটি নয়।

  • আবেগে কাঁদলেন শ্রদ্ধা কাপুর

    আবেগে কাঁদলেন শ্রদ্ধা কাপুর

    ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের খুনসুটির সম্পর্ক। ভাইয়ের থেকে দূরে গিয়ে একদমই থাকতে পারেন না শ্রদ্ধা। ফোন করে হলেও রোজ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা চাই–ই চাই। এবার প্রিয় ভাইয়ের জন্য আবেগে শ্রদ্ধার দুচোখ ভরে গেল জলে।

    মুক্তি পেতে চলেছে সিদ্ধান্তের ছবি ‘ইয়ারম’। সে ছবিতেই গাইছেন তিনি। সম্প্রতি সিদ্ধান্তের ‘ইয়ারম’ ছবির ‘কাশ ফির সে’ গানটির লিংক টুইটারে শেয়ার করেন শ্রদ্ধা। এই গানটি গেয়েছেন সিদ্ধান্ত, সংগীত পরিচালনা করেছেন জিৎ গাঙ্গুলী। শ্রদ্ধা তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি যখন ভাইকে গান গাইতে দেখি, তখন আমার দুচোখ জলে ভরে আসে। আর আমার সারা শরীরে শিহরণ জাগে’।

    ইয়ারম ছবিতে সিদ্ধান্তের সংগে প্রতীক বব্বরকেও দেখা যাবে। বিজয় মুলচান্দি নির্মিত এই ছবিটি আজ ভারতে মুক্তি পাচ্ছে।

  • চাহিদা আছে, তবু সিনেমায় নেই

    চাহিদা আছে, তবু সিনেমায় নেই

    সিনেমা হল কমছেই। এর অন্যতম একটি কারণ, সিনেমা তৈরি না হওয়া। শাকিব খানের সিনেমা ছাড়া অন্য সিনেমাতে খুব একটা ভরসা পান না হলমালিকেরা। এদিকে ছোট পর্দার বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর সিনেমাতে চাহিদা থাকলেও এখনো চুপ তাঁরা। কেন? সে উত্তর খোঁজা হলো এবার।

    ছোট পর্দায় জনপ্রিয় মুখ অপূর্ব, আফরান নিশো, মেহ্জাবীন চৌধুরী ও তানজিন তিশা। তাঁদের ঘিরে বড় পর্দার প্রযোজক-পরিচালকদের আগ্রহ অনেকদিন ধরে। বড় পর্দায় তাঁদেরকে দেখার আগ্রহের কমতি নেই দর্শকদেরও। নিয়মিত কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন তাঁরা। কাজের ইচ্ছা তাঁদেরও, কিন্তু সিনেমাতে কাজ না করার নানা কারণ তুলে ধরলেন এই শিল্পী চতুষ্টয়।

    ২০১১ সালে গ্যাংস্টার রিটার্নস নামে প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন অপূর্ব। শেষ ছবিও এটি। এ পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়টি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন, কিন্তু একটিতেও রাজি হননি তিনি। অপূর্ব বলেন, ‘একটি সিনেমার গল্প শুনে যদি কাজের লোভই তৈরি না হয়, তাহলে সেখানে কীভাবে কাজ করি! অনেক সময় গল্প শুনতে বসে টের পেয়েছি অন্য ছবির কপি। যখন ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় কাজ করব, নিশ্চয়ই আমাকে গুছিয়েই কাজটি করতে হবে। সিনেমা একটি টিমওয়ার্ক। পুরো বিষয়টি ঠিকঠাক না হলে কাজ করা উচিত না।’

    আফরান নিশোর কাছেও প্রস্তাব এসেছে বারকয়েক। তিনিও ফিরিয়ে দিয়েছেন। নিশো বললেন, ‘সিনেমায় পেশাদারত্ব বজায় রেখে কাজ করতে চাই, শখের বসে নয়। একটা করলাম, মুক্তির পর কী হয়, তা দেখে পরবর্তী ছবি করব, এমনটি নয়। আমি ছোট পর্দায় ভালো আছি। এখন বড় পর্দায় গিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে একটি–দুইটি কাজ করে ছন্দপতন করতে চাই না। তা ছাড়া সিনেমাতে অবশ্যই পারিশ্রমিক ভালো হতে হবে। তা নিয়েও ঝামেলা আছে।’

    নিশো আরও বলেন, ‘এখন বছরে ৩০ থেকে ৩৫টি ছবি তৈরি হয়। ভালো ছবি আসে হাতেগোনা ৪ থেকে ৫টি। এখন সিনেমাতে পাঁচজন নায়ক আছেন, সবাই ভালো কাজ করতে চাইলে একটি করে ভাগে পড়বে। বছরে এক-দুইটি ছবি করে একজন নায়কের চলবে না।’

    ২০০৯ সালে লাক্স চ্যালেন আই সুপার স্টার হওয়ার পর থেকেই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে আসছেন মেহ্জাবীন চৌধুরী। চলচ্চিত্রের প্রথম সারির অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও রাজি হননি তিনি। মেহ্জাবীন বলেন, ‘অনেক বাণিজ্যিক ঘরানার ছবিতে কাজের প্রস্তাব এসেছে। এ ধরনের ছবিতে নাচ–গানে অনেকটা ফোকাস থাকে। এ ধরনের কাজ করার ইচ্ছা নেই আমার। কিছু গল্প পেয়েছি, প্রায় সব কটিই নায়ককেন্দ্রিক। এসব ছবিতে অভিনয় করতে চাই না। ভালো গল্প, ভালো পরিচালক, ভালো চিত্রগ্রাহক ও ভালো সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা। সেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকে।’

    চার বছর আগেই সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন তানজিন তিশা। বিজ্ঞাপন, ফটোশুটের কাজ করছেন। তখনো ছোট পর্দায় নামেননি। পরবর্তী সময়ে নাটকে জনপ্রিয় হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। এখন নিয়মিতই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছেন। তিশা বলেন, ‘ছোট পর্দায় দর্শকেরা আমাকে পছন্দ করেছেন। আমার কাজকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। চলচ্চিত্রেও আমাকে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ আছে, কিন্তু আমি ভক্তদের ঠকাতে চাই না। দর্শকেরা এখন গল্প বোঝেন। সিনেমায় তাঁরা একটি ভালো গল্প দেখতে চান। যেসব প্রস্তাব পেয়েছি, সেখানে ভালো গল্প পাইনি। তাই এখনই সিনেমা করা হচ্ছে না। তবে বড় পর্দায় কাজ করতে দারুণভাবে আগ্রহী আমি। এখন শুধু অপেক্ষায় আছি।’

  • বিচ্ছেদের পথে সারা-কার্তিক?

    বিচ্ছেদের পথে সারা-কার্তিক?

    সারা আলি খান, বলিউডের উঠতি তারকাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় তিনি। প্রেম করছিলেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে। তবে তাদের ব্রেক আপ হয়ে যাচ্ছে বলে বলিপাড়ায় এখন গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছে।

    বিভিন্ন সূত্র বলছে, বর্তমানে দু’জনেই নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। এ কারণে নিজেদের জন্য সময় মিলছে না একেবারেই। তাই বিচ্ছেদের পথেই হাঁটতে চলেছেন তারা।
    ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত ‘লাভ আজ কাল ২’-এর শুটিংয়ের সময় থেকেই তাদের প্রেম গাঢ় হতে থাকে। কিছু দিন আগেও জিম থেকে শুরু করে রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া— সব জায়গাতেই প্রায় একসঙ্গে দেখা যেত তাদের। জানা গেছে, শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকেই সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করে। কার্তিক ব্যস্ত হয়ে পড়েন ‘ভুল ভুলাইয়া ২’-এর শুটিংয়ে। সারা-ও বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে ‘কুলি নম্বর ১’-এর শুটিংয়ে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন।

    ফলে ঘুরতে যাওয়া তো দূরের কথা, ঠিক করে দেখাই হয় না তাদের। ‘আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড’ প্রবচনটাই কি তবে খেটে গেল ওঁদের জন্য?

  • এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী কে এই বেলা হাদিদ?

    এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী কে এই বেলা হাদিদ?

    এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী বেলা হাদিদ। গণিতের হিসাব-নিকাশ অনুসারে তথ্যটি জানা যায়। প্রাচীন গ্রিক গণিত অনুসারে সৌন্দর্যের পরিমাপ করা হয় ‘গোল্ডেন রেশিও অব বিউটি পাই স্ট্যান্ডার্ড’ দিয়ে। এ পরিমাপে সবচেয়ে বেশি ৯৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী সুপার মডেল বেলা।

    বিশেষজ্ঞরা মূলত তারকাদের মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাপ নিয়ে এই ফলাফল ঘোষণা করেছেন। তার প্রায় সব অঙ্গ নিখুঁত অবস্থানে আছে। আর এজন্য গড় পরিমাপ হয়েছে ৯৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    এই জরিপে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন পপ গায়িকা ডিভা বিয়ন্সে। তার চেহারা ৯২ দশমিক ৪৪ শতাংশ নিখুঁত। তৃতীয়  অবস্থানে আছেন অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড। তার স্কোর ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর ৯১ দশমিক ৮১ শতাংশ নম্বর নিয়ে পপ তারকা অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে।

    এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন লন্ডনের প্রসিদ্ধ ফেসিয়াল কসমেটিকস সার্জন জুলিয়ান ডি সিলভা। তিনি বলেন, বেলা তার নিখুঁত মুখের জন্যে সবার চেয়ে এগিয়ে। সবচেয়ে নিখুঁত চোখ স্কারলেট জোহানসনের। শারীরিক গঠনে বিয়ন্সে অনেক এগিয়ে থাকলেও কপাল ও ঠোঁটের কারণে পিছিয়ে গেছেন। সার্বিকভাবে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন বেলা।

    বেলা হাদিদ, যুক্তরাষ্ট্রের সুপার মডেল। তার পুরো নাম ইসাবেলা খায়ের হাদিদ। তিনি ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের লজ আঞ্জেলসে জন্ম গ্রহণ করেন।

    বেলা হাদিদ ফিলিস্তন-ডাচ বংশোদ্ভূত। তার বাবা মোহাম্মদ আনোয়ার হাদিদ ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত জর্ডানের নাগরিক। তিনি পেশায় একজন রিয়েল ইস্টেট ব্যবসায়ী। তার মায়ের নাম ইয়োলান্ডা। তিনি ডাচ (নেদারল্যান্ডস) বংশোদ্ভূত।

    বেলা হাদিদের আরও কয়েকজন ভাই-বোন রয়েছে। তাদের মধ্যে আপন এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। বেলার আপন বড় বোনের নাম গিগি। আর ছোট ভাইয়ের নাম আনোয়ার।

    বেলা হাদিদের মা তার বাবাকে বিয়ে করার আগে ২০১১ সালে আমেরিকার মিউজিক প্রডিউসার ডেভিড ফসটারকে বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসার থেকে বেলার রয়েছে আরও ৫ বোন।

  • ‘সাপলুডু’র সাপ কতটা বিষাক্ত

    ‘সাপলুডু’র সাপ কতটা বিষাক্ত

    সিনেমা দেখবো, এই ভাবনা আসার সাথে সাথে স্বভাবতই কতগুলো প্রশ্ন আসে। কি সিনেমা, কীসের কথা বলবে, কেনো দেখবো? এটা কি প্রয়োজনীয় সিনেমা নাকি অপ্রয়োজনীয়, সিনেমা দেখার পর নতুন কোন চিন্তায় আমাকে আলোড়িত করবে কি না?

    ইদানিং সিনেমায় কিছু থাকুক না থাকুক, পেশাদার প্রমোশনালিরা এমন ভাবে সিনেমার প্রমোশন করেন, যাতে দর্শক দেখে, দেখার পর দর্শকদের মাঝে মাঝে ভালো লাগে, কখনো কখনো উপকৃত হয়, আর বেশিরভাগ সময় হয় প্রতারিত। সাপলুডু: ভালোলাগা, উপকৃত হওয়া, না প্রতারিত হওয়া! কোনটি?
    সাপলুডু থ্রিলারধর্মী সিনেমা। থ্রিল আছে, ভরপুর থ্রিল আছে। বুঝলাম থ্রিল আছে, আর কি আছে? আর কী দরকার? নারকেলের কাছেতো নারকেলই চাইবো, ডাবের কাছে ডাব। এমনতো নয় যে, নারকেলের কাছে নারকেল এবং ডাব দুটোই চাইবো। যদিও একই জিনিস, সময়ের প্রবাহে ডাব থেকে নারকেল হয়। আবার অকালের পতিত ডাব, না হয় ডাব না হবে নারকেল।

    নিমার্ণের দিকে বলা যায়, কম টাকায় সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম। আর এই মুভিতে পরিচালক যে আছেন, তা বোঝা যায় প্রতি দৃশ্যে দৃশ্যে। অনেক দৃশ্যেই পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুলের চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে প্রতিটি চরিত্রের আবির্ভাবের ভিন্নতাই পরিচালকে আলাদা করে খুঁজতে হয় না। সিনেমা নির্মাণে চিন্তার পাশাপাশি যত্নের ছাপ আছে, আছে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল।

    প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় সুন্দর আর রাজু রাজের চরিত্রায়ণ খুবই চমৎকার। যে যার স্থানে ভালো করেছে বিশেষ সালাউদ্দিন লাভলু, জাহিদ হাসান, তারেক আনাম, সুষমা সরকার, আরেফিন শুভ, বিদ্যা সিনহা মীম, কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যে খুব প্রভাব রেখেছে, তারমধ্যে রুনা খান, শতাব্দি ওয়াদুদ, শাহেদ সুজন বেশি ভালো করেছে।

    নির্মাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে বোঝা যায়, কিছু কিছু দৃশ্যে ছাড় দিতে হয়েছে পরিচালককে। যেখানে বড় আয়োজন দেখানোর কথা ছিল, সেখানে ছোট ছোট শটে দৃশ্য শেষ করতে হয়েছে। বিশেষ করে জাহিদ হাসানের সমাবেশ, শুভর রাতের বন অতিক্রম, মাটির তলে শতাব্দির ঘর, সংখালঘুদের বাড়িঘর পোড়ানো, চোলাচাল। এসব দৃশ্য সংক্ষেপ করার মূল কারণ হতে পারে, অর্থ, সময়। সিনেমা যেহেতু একবারের জন্য নয়, তাই এসব দৃশ্য যথাযথভাবে দেখালে নিঃসন্দেহে সিনেমার মান বাড়তো। আবার কিছু দৃশ্যে প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ আয়োজন ছিল, বিশেষ করে হাসপাতালে বোম্বব্লাস্ট ছোট্ট করে দেখালেও ঠিকঠাক মতো আমাদের মন ছুঁতে পেরেছিল।

    শাহজাহান সৌরভ এবং গোলাম সোহরাব দোদুলের গল্পের জায়গায় প্রায়ই ঠিক ঠাক থাকলেও, গল্পের একটি বড়ত্রুটি মনে হয়েছে, তা হলো- থ্রিলারধর্মী গল্পে কখনো কোন চরিত্র দিয়ে দর্শকদের গল্প বুঝিয়ে দিতে নেই। বিরতির পর বনের ধারে সাপলুডুতে যখন মেজর আর ডিবি অফিসার শুভকে পক্ষান্তরে দর্শকদের পুরো গল্প বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তখন গল্পের দুর্বলতা প্রকট আকারে প্রকাশ পেলে। কোন সিনেমাতেই দর্শকদের গল্প বুঝিয়ে দিতে নেই, সিনেমা দেখে দর্শকদের গল্প বুঝে নিতে হয়, বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। গল্প যদি দর্শকরা বুঝে নিতো, তাহলে এই সিনেমার আলোচনা আরও বেশি হতে পারতো। হাতির ছবি এঁকে নিচে যদি লেখা হয় এটি হাতি, তাহলে বুঝতে হবে, হয় হাতি আঁকা হয়নি, অথবা হাতি লেখার প্রয়োজন ছিল না।

    আবার এই সিনেমার বড় শক্তি কিন্তু গল্পই। শুরু থেকে এই গল্পই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত, এখানেই পরিচালক এবং লেখকের বড় সক্ষমতা। তবে সাধারণ দর্শকের কথা মাথায় রাখতে গিয়ে সিনেমাটাকে আরো উন্নত হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। পরিচালককে মাথায় রাখতে হবে, সিনেমা বার বার দেখার বিষয়, বছরের পর বছর দেখার বিষয়, বিশ পঞ্চাশ বছর পরও আলোচনা করার বিষয়, সেই সম্ভাবনা পরিচালক রাখেনি। নগদ দেখবেন, নগদ আনন্দ পাবেন-এই ধারণাকে সামনে রেখেই এগিয়েছেন। বিশেষভাবে বলা যায়, ছবিটি হলে দর্শক টানতে পেরেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিনও দেখেছি, হল ভর্তি দর্শক, যা সিনেমা বাণিজ্যের জন্য সুখবর।

    সাপলুডুর কারিগরি দিক ভালো হয়েছে। সাউন্ড, কালার, গান, চিত্রায়ণ, বাকগ্রাউন্ড সাউন্ড। এই সিনেমার আরেকটি ভালোদিক হলো, কোন অপ্রয়োজনীয় সংলাপ নেই, অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য নেই, কোন ভাঁড়ামো নেই। মেদহীন সিনেমা দর্শকদের জন্য খুবই উপভোগ্য। একটি দৃশ্যের কথা আলাদা করে বলা যায়, শুভ আর মিমের কবুতরের সাথে রোমান্টিক বিষয়টা ছিল অভিনব এবং উপভোগ্য। দর্শকদের দারুণভাবে স্পর্শ করেছে। সংলাপগুলো ছিল খুই শ্রুতিমধুর, আর চরিত্রায়ণ ছিল খুব দৃষ্টিনন্দন।
    একজন পরিচালককে জানার প্রথম উপায় হলো, তার সিনেমার বিষয়বস্তু। যেখানে পরিচালক তার মেধার প্রকাশ আর চিন্তার সক্ষমতা প্রকাশ করেন। এই সিনেমাটি হলো রাজনৈতিক পেক্ষাপটে। রাজনীতির অপরদিকটা দেখানো হয়েছে। যেখানে ক্ষমতার লোভ, দ্বন্দ্ব, হিংসা। অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, যার বলি হতে হয় অনেক নিরীহ জনগণের। সাপলুডু নামের স্বার্থকতা এখানেই। লুডুর উল্টাপিঠে যেমন সাপলুডু, তেমন রাজনীতির উল্টা পিঠে এই সব অন্ধকার হিংস্রতা এবং বিষেভরা। এক একটি ব্যক্তি যেনো বিষেভরা সাপ, যার কাজ সাধারণ মানুষদের দংশন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।