Category: বিনোদন

  • আমার স্বপ্ন পূরণ হলো না: টয়া

    আমার স্বপ্ন পূরণ হলো না: টয়া

    টেলিভিশনে ‘সিনেমা হল’ ১০০ পর্ব পার করল। ভ্রমণটা কেমন ছিল?
    ভালো–মন্দ মিলিয়েই ছিল। একটা নাটকের ১০০ তম পর্ব প্রচারিত হচ্ছে, এটাই আনন্দের কথা। এই নাটকের কারণে অনেক দিন পর মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয় করলাম। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করলে অনেক কিছু শেখা যায়। শুটিংটা খুব উপভোগ করেছি।

    ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’–এর মতো আপনার অভিনীত ‘বেঙ্গলি বিউটি’ ছবিটি মুক্তি হয়েও হলো না, রহস্য কী?
    এটার ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। ছবিটির প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা রাহশান নূর ভালো বলতে পারবেন। আমার আসলে দুঃখ একটাই, ছবিটি দুই দফা মুক্তি পেয়ে মাত্র তিনটা হলে তিনটা শো চলল। পরিচিত দু–একজন যাঁরাই ছবিটি দেখেছেন, তাঁরা খুব প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমার স্বপ্ন পূরণ হলো না।

    এখন ছবিটি নিয়ে পরিকল্পনা কী? কিছু জানেন?
    যতটুকু জানি, এটি বেশ কয়েকটি দেশে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এসব নিয়ে আমি ঠিকঠাক বলতে পারব না।

    এটার পরে নতুন সিনেমার প্রস্তাব পাননি?
    পেয়েছি, কিন্তু এফডিসি ঘরানার বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করব না। বেঙ্গলি বিউটির মতো বা গল্পপ্রধান সিনেমা হলে আমি করব।

    কদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাতির সঙ্গে ছবি দিয়েছিলেন আপনি…
    এটা একটা মিউজিক ভিডিওর শুটিং ছিল। বেশ ভালো ছিল কাজটা। নতুন শিল্পী, কিন্তু গানটা খুব সুন্দর। আমার সঙ্গে ছিলেন মাহিম করিম।

    নাটক ও ওয়েব সিরিজ তো করছেন?
    হ্যাঁ, সেটা তো করছিই। কিছুদিন হলো বিটিভির শেষ ভালো যার নামে একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করছি। এটি পরিচালনা করেছেন রাকেশ বসু। খুবই সুন্দর গল্প। পরিবারকেন্দ্রিক গল্পটা সবাই পছন্দ করবেন।

  • শারীরিক নয়, সম্পর্কটা আত্মিক: অনুপ জালোটা

    শারীরিক নয়, সম্পর্কটা আত্মিক: অনুপ জালোটা

    অনুপ জালোটা আর জশলিন মাথারু সত্যিকার অর্থেই এক বিচিত্র জুটি। বলিউড তারকা সালমান খানের বিতর্কিত টিভি রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ১২’ থেকে বাদ পড়ার পর এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে আবারও কথা উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বরেণ্য সংগীতশিল্পী অনুপ জালোটা বলেছেন, ‘শারীরিক নয়, জশলিনের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আত্মিক।’

    ‘বিগ বস ১২’ থেকে বাদ পড়ার পর অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন অনুপ জালোটা। এই খেলায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ফিরে যাওয়া এবং খেলার সঙ্গী জশলিনকে নিয়ে তিনি কথা বলেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা দারুণ। সেখানে গিয়ে আমি শারীরিকভাবেও উপকৃত হয়েছি। মনে পড়ছে না শেষ কবে টানা আট ঘণ্টা একটা জায়গায় থেকেছি। টানা ছয় সপ্তাহ সেখানে সময় মতো খেয়েছি, ঘুমিয়েছি, হাঁটাহাঁটি করেছি। এমনকি চার কেজি ওজনও কমিয়েছি।’ হাসতে হাসতে এই শিল্পী বলেছেন, ‘আর যদি কয়েকটা দিন থাকতে পারতাম, সালমানকে বদলে আয়োজকেরা উপস্থাপক হিসেবে আমাকেই নিয়ে নিত।’

    ‘বিগ বস ১২’ অনুষ্ঠানে অনুপ জালোটাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় থমকে দাঁড়ান সালমান খানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল, এ অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন ক্ষণিকের জন্য। পুরোটা সময় লড়ার জন্য নয়। কেননা, কনসার্টের জন্য তাঁকে চলে যেতে হতোই। সে জন্য তিনি খেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব ভিত্তিহীন কথা। আমি একেবারে ফ্রি। বিশ্বাস না করলে যে–কেউ যেকোনো দিন আমার সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দিতে পারেন। আগামী ১০ দিন আমি কোথাও যাচ্ছি না। এমনকি আগামী ১০৫ দিন আমার কোথাও যাওয়ার কথা নেই।’

    ‘বিগ বস ১২’-তে দারুণ খেলেছেন এই ভজনসম্রাট। তারপরও কেন তাঁকে চলে যেতে হলো? অনুপ জালোটা বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতে পারব, এমনটা তো নাও হতে পারে। “বিগ বস” সবার জন্য। আয়োজকেরা বিনোদনের জন্য প্রতিযোগীদের দিয়ে সস্তা খেলা খেলিয়ে নিলে আমি তো শুরু থেকেই থাকতাম না।’

    জশলিন মাথারু ও অনুপ জালোটাকথিত প্রেমিকা জশলিনকে নিয়ে জানতে চাইলে অনুপ জালোটা জানান, তাঁদের মধ্যে ভালোবাসাবাসির কোনো ব্যাপার ছিল না। বললেন, ‘আমাদের সম্পর্কটা বিশুদ্ধ এবং সাংগীতিক। সেটা প্রেমের ঊর্ধ্বে। সম্পর্কটা শারীরিক নয়, আত্মিক। অনুষ্ঠানের বাইরেও আমরা অনেক সময় কাটিয়েছি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, এতে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সেটা সারা জীবন আরও হবে।’

    অনুপ জালোটা ও জশলিন মাথারুগত মাসে ‘বিগ বস’ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যায় অনুপ জালোটা আর তাঁর ছাত্রী জশলিন মাথারুকে। বিতর্কিত এই রিয়্যালিটি শোর এবারের বিষয় ছিল ‘বিচিত্র জুটি’। অনুষ্ঠানের ১২তম এ আয়োজনের প্রথম দিন প্রতিযোগীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সঞ্চালক সালমান খান। কিন্তু অনুপ জালোটাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় থমকে দাঁড়ান তিনি। তাঁর প্রেমিকাকে দেখে বিস্মিত হন সালমান। কারণ, অনুপ জালোটা আর জশলিন মাথারুর বয়সের পার্থক্য ৩৭ বছর!

    ‘বিগ বস ১২’ অনুষ্ঠানে অনুপ জালোটা ও জশলিন মাথারুএ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার অনেক দিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, ছাত্রী জশলিন মাথারুর সঙ্গে প্রেম চলছে অনুপ জালোটার। সবাই ভেবেছিল, এই তো এবার প্রেমিকাকে নিয়ে সামনে এসে পড়েছেন ভজনগুরু। কিন্তু হায়, এ যে বানোয়াট এক প্রেমকাহিনি! ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

  • পাঁচ বছর পর চলচ্চিত্রে শাকিবা

    পাঁচ বছর পর চলচ্চিত্রে শাকিবা

    একসময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা শাকিবা পাঁচ বছর পর চলচ্চিত্রে ফিরেছেন। আবারো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন চিত্রনায়িকা শাকিবা। স¤প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত রোহিঙ্গা সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটিতে একজন টিভি সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে শাকিবাকে। শাকিবা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর অভিনয়ে ফিরলাম। টেকনাফে টানা ১০ দিন এ সিনেমার কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরেছি। যেহেতু একজন টিভি সাংবাদিকের চরিত্রে কাজ করেছি তাই অনেক কষ্টও করতে হয়েছে। কাজ করে ভীষণ ভালো লাগলো। আশা করি, দর্শকরাও আমার কাজটি পছন্দ করবেন। শাকিবা অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা শাহ আলম কিরণের ‘মাটির ঠিকানা’ মুক্তি পেয়েছিলো ২০১১ সালে। এরপর ২০১৩ সালে সরকারি অনুদানের ছবি ‘নমুনা’তে কাজ করলেও সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি। এনামুল করিম নির্ঝর পরিচালিত এ সিনেমায় শাকিবার বিপরীতে ছিলেন আরেফিন শুভ। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ভন্ড নেতা সিনেমা দিয়ে চিত্রপাড়ায় অভিষেক ঘটলেও শাকিবার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা জীবনের গ্যারান্টি নাই। এটিও পরিচালনা করেন মনতাজুর রহমান আকবর।

  • কত টাকার মালিক রাখি?

    কত টাকার মালিক রাখি?

    নানা কারণে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আলোচনায় থাকেন বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকার সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন অনেকেই।

    ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সে সময় নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া সম্পত্তির তথ্য দিয়ে সবাইকে চমকে দেন এই অভিনেত্রী।

    এবেলা জানায়, সেই হালনাগাদ তথ্যে রাখি ১৪ কোটি ৭০ লাখ কোটি রুপির সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িটির মূল্য দেখিয়েছিলেন ২১ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এছাড়া তার ব্যবহৃত অলংকারের মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি। এছাড়া ব্যাংকে ৫৩ লাখ রুপি থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এদিকে মুম্বাইতে ১১ লাখ রুপির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার। মজার বিষয় হল, সেই সময় নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া তথ্যে রাখি নিজেকে নিরক্ষর বলে উল্লেখ করেন।

  • ধর্ষণ দৃশ্য : অভিযোগ থেকে বাঁচতে যা করছেন এই অভিনেতা

    ধর্ষণ দৃশ্য : অভিযোগ থেকে বাঁচতে যা করছেন এই অভিনেতা

    যৌন হেনস্থা নিয়ে ‘মি টু’ আন্দোলন বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর বড় ধাক্কা চলছে বলিউডেও। আসছে নতুন নতুন অভিযোগ। বিখ্যাত মুখগুলোর বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে অভিযোগ। এবার এই বিতর্কে মুখ খুললেন বলিউডের পরিচিত মুখ ও অভিনেতা দলীপ তাহিল।

    ভিলেনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত তাহিলের বলেন, ‘সিনেমায় ধর্ষণের দৃশ্যের আগে অভিনেত্রীর সম্মতি ফোনে রেকর্ড করে রাখি।’

    ‘আপনি যেই পেশাতেই থাকুন না কেন, দুর্বলের সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। সিনিয়র অভিনেতা হিসেবে আমি যেমন, আগে প্রোডাকশন কোম্পানির কাছে চিঠি চেয়ে নিতাম। পরে হঠাৎ খেয়াল হল, সাথে তো ফোন রয়েছে। তাই ধর্ষণের দৃশ্যের আগে অভিনেত্রীর সম্মতি ফোনে রেকর্ড করে নিই’, এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন অভিনেতা দলীপ তাহিল।

    তার মতে আজ নয়, ২৫ বছর আগে থেকেই এই ‘সম্মতি’ নিয়েই ধর্ষণ দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে, দু’দশক আগের এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তাহিল। বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে, একই ধরনের এক দৃশ্যের আগে পরিচালকের সাথে কথা বলছিলাম। নাম বলব না, তবে ওই পরিচালক সেদিন আমায় বলেছিলেন, নতুন মেয়ে আছে। ওই দৃশ্যে অভিনয়ের সময়ে ওর পোশাক দু’হাত দিয়ে ছিঁড়ে দিতে। আর এই বিষয়টা দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের আগে ওই অভিনেত্রীকে জানানো হবে না।’ পরিচালকের ‘প্ল্যান’ অভিনেত্রীকে সেদিন জানিয়ে দিয়েছিলেন দলীপ তাহিল। জানালেন, সেদিন মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল।

    পরে ওই নবাগতা অভিনেত্রীকে ধর্ষণ দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি করেছিলেন বলে জানান তাহিল। ‘ওকে আমি বলেছিলাম, এমন কিছু হবে না যা আগে থেকে জানানো হচ্ছে না।’

    হলিউডেও শ্যুটিং শুরুর আগে অভিনেত্রীরা ‘চুক্তিতে সব স্পষ্ট’ করে নেন বলেও মনে করিয়ে দেন দলীপ তাহিল। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

    নন্দিতা দাস ও মল্লিকা দুয়া। প্রথমজন ভারতের নামী অভিনেত্রী ও পরিচালক, আর দ্বিতীয়জন দেশের সেরা স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানদের একজন। অভিনয়ও করেন সিনেমাতে।

    দুজনের আর একটা মিল, নারীদের অধিকার আন্দোলনের লড়াইতে তারা আগাগোড়াই সরব, পরিচিত মুখ। সাহসী ও বলিষ্ঠ মতামতের জন্য দুজনকেই মানুষ স্পষ্টভাষী বলে চেনে। কিন্তু এই মুহুর্তে তারা দুজনেই কিছুটা অস্বস্তিতে – কারণ ভারতে মি টু আন্দোলনের সুনামিতে ভেসে এসেছে তাদের দুজনেরই বাবার নাম। তারা যথাক্রমে শিল্পী যতীন দাস ও সাংবাদিক বিনোদ দুয়া।

    ‘পদ্মভূষণ’ খেতাবে ভূষিত যতীন দাস ভারতের জীবিত শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত বললেও সম্ভবত ভুল হবে না। তিনি একাধারে চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর, বহু স্মরণীয় শিল্পকর্মের স্রষ্টা।

    আর বিনোদ দুয়া গত প্রায় চার দশক ধরে ভারতের হিন্দি সাংবাদিকতার জগতের একজন দিকপাল, বিখ্যাত টিভি অ্যাঙ্কর। এই মুহুর্তে তিনি ‘জন গণ মন কি বাত’ বলে একটি সাপ্তাহিক ভিডিও বার্তা পরিবেশন করে থাকেন, সেটিও তুমুল জনপ্রিয়।

    গত ১৬ অক্টোবর নিশা বোরা নামে একজন মহিলা প্রথম টুইটারে যতীন দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, চোদ্দ বছর আগে তিনি ওই শিল্পীর হাতে যৌন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন।

    যতীন দাসকে ‘মাই মলেস্টর’ বলে অভিহিত করে নিশা বোরা বিশদে বর্ণনা দিয়েছেন, কীভাবে দিল্লিতে নিজের স্টুডিওতে ডেকে পাঠিয়ে শিল্পী তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন।

    তার ওই বিবরণ প্রকাশিত হওয়ার পর গারুশা কাটোচ, মালবিকা কুন্ডু ও অনুশ্রী মজুমদারের মতো আরও অনেক মহিলা প্রকাশ্যে এগিয়ে এসে যতীন দাসের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, জানিয়েছেন শিল্পী কীভাবে তাদেরও বিভিন্ন সময়ে যৌন নিগ্রহ করেছিলেন।

    এদিকে পদ্মশ্রী খেতাবপ্রাপ্ত বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে ‘স্টকিং’ ও যৌন লাঞ্ছনার অভিযোগ এনেছেন নিষ্ঠা জৈন নামে আর এক চিত্রনির্মাতা ও সাংবাদিক।

    ১৯৮৯ সালে চাকরির ইন্টারভিউতে ডেকে ও পরে নিজের গাড়িতে বসিয়ে কীভাবে বিনোদ দুয়া তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন, প্রায় তিরিশ বছর বাদে সে ঘটনোরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন নিষ্ঠা। এরই মধ্যে যতীন দাস ও বিনোদ দুয়া দুজনেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

    কিন্তু এই সব অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের মেয়েরা, যথাক্রমে নন্দিতা দাস ও মল্লিকা দুয়া, কী ধরনের অবস্থান নেন সে দিকে অনেকেরই সাগ্রহ নজর ছিল।

    বিশেষত নন্দিতা দাসের ওপর, কারণ বলিউডের যে ১১জন নারী চিত্রনির্মাতা একসাখে মিলে অঙ্গীকার করেছেন ‘মি টু’-তে অভিযুক্ত কারও সঙ্গে কোনও কাজ করবেন না নন্দিতা তাদেরও একজন।

    নন্দিতা দাস অবশ্য বেশিক্ষণ চুপ থাকেননি। নিশা বোরা টুইটারে তার অভিযোগ প্রকাশ করার পর দিনই নন্দিতা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘মি টু আন্দোলনের প্রতি আমি আমার সমর্থন চালিয়ে যাব’।

    ‘মি টু আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে আমি আবারও বলতে চাই, যদিও আমার বাবার বিরুদ্ধে কিছু বিচলিত করার মতো অভিযোগ উঠেছে ও সেগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন, আমি এই আন্দোলনের পক্ষে সরব থাকব।’

    ‘প্রথম থেকেই আমি বলে আসছি এটা এমন একটা সময় যখন আমাদের শোনাটা খুব প্রয়োজন, যাতে নারীরা (ও পুরুষরা) মুখ খুলতে ভরসা পায়। পাশাপাশি অভিযোগগুলো নিয়ে নিশ্চিত হওয়াটাও কিন্তু জরুরি, যাতে এই আন্দোলনে বেনোজল না-ঢুকে যায়!’

    ‘আমি অভিভূত যে চেনা-অচেনা বহু লোক বিষয়টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আমার সততার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সত্যিটা একদিন সামনে আসবেই – আর এই মুহুর্তে আমার এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।’

    কমেডিয়ান মল্লিকা দুয়াও নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, তার বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে ‘তা সত্যি হলে’ কিছুতেই মেনে নেওযা যায় না।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লেখেন :

    ‘নিষ্ঠা জৈনের প্রতি : আপনি যা বর্ণনা করেছেন, আমার বাবা যদি সত্যিই সেই অপরাধে দোষী হন, তাহলে সেটা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য, যন্ত্রণাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।’

    ‘মি টু আন্দোলনের প্রতি আমার সহমর্মিতা অটুট থাকবে, এই কন্ঠস্বরগুলোকেও আমি সমর্থন করে যাব। কিন্তু অভিযোগ করতে গিয়ে যেভাবে আপনি আমার নামকেও টেনে এনেছেন সেটা অত্যন্ত কুরুচিকর।’

    ‘বাকি সবার প্রতি: এই লড়াইটা কিন্তু আমার নয়। এটা আমার কোনও দায় নয়, লজ্জা নয় – বা আমার কোনও বোঝাও নয়।’

    ‘এটা পুরোপুরি আমার বাবারই লড়াই। আমি তাকে তার লড়াই লড়তে দেব, এবং অবশ্যই তার পাশে থাকব।’

    মল্লিকা দুয়া যে নিজের অভিযুক্ত বাবার পাশেই আছেন, সম্ভবত সেটা বোঝাতেই কিছুক্ষণ পর ইনস্টাগ্রামে আর একটি পোস্ট করেন তিনি – যাতে দেখা যাচ্ছে স্কুল বা কলেজজীবনে জেতা কোনও ট্রফি তার হাতে, আর গর্বিত বাবা বিনোদ দুয়া সস্নেহে তার কাঁধে হাত রেখে আছেন।

    মল্লিকা ছবিটির নিচে ক্যাপশন দেন, ‘হিরোদের রাতারাতি গড়াও যায় না, আবার ভাঙাও যায় না। # পাপাজি।’

    এই সব অভিযোগ নিয়ে যখন তুলকালাম চলছে, তখন মল্লিকা দুয়া যেভাবে নিজের বাবাকে ‘হিরো’ বলে বর্ণনা করেছেন, তারও অনেকে তীব্র সমালোচনা করছেন।

    কলামনিস্ট স্নেহা বেনগানি যেমন লিখেছেন, ‘বাবার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না-হওয়া পর্যন্ত মেয়ের তার পাশে দাঁড়ানোটা এক জিনিস।’ ‘কিন্ত বাবা যখন গুরুতর যৌন অসদাচরণে অভিযুক্ত, তখন তাকে হিরো বলে ডাকাটা আর এক জিনিস। এটা শুধু মুশকিলের নয় – চরম ভন্ডামিরও পরিচয়!’

    ফলে ভারতে ‘মি টু’ ক্যাম্পেনারদের কারও কারও বাবার বিরুদ্ধেই যখন অভিযোগের তীর – তখন তাদের মেয়েরাও যে না-চাইলেও সেই বিতর্কের ঝড়ের ভেতর পড়ে যাচ্ছেন, সেটাও দেখা যাচ্ছে।

  • ‘বিগ বস’ বিজয়ী আবার বিগ বসে

    ‘বিগ বস’ বিজয়ী আবার বিগ বসে

    বিগ বস ১১’ আয়োজনে জয়ী হয়েছিলেন শিল্পা শিন্দে। জানা গেছে, এবার ‘বিগ বস ১২’ আয়োজনেও যুক্ত হচ্ছেন তিনি। তবে এবার তিনি অতিথি প্রতিযোগী। কিছুদিন তাঁকে থাকতে হবে ‘বিগ বস’ বাড়িতে, অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে। ‘নির্মাতারা এবার শোটিকে আরও রোমাঞ্চকর করতে চান।’ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তেমনটাই জানিয়েছেন বিতর্কিত এই রিয়েলিটি শোর সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র। এই সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এরই মধ্যে মারাঠি ‘বিগ বস’ আয়োজনের বিজয়ী মেঘা ধাড়ে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হিসেবে হিন্দি ‘বিগ বস ১২’তে যুক্ত হয়েছেন। এরপর অনুষ্ঠানটির নির্মাতারা এই শোর গত সিজনের বিজয়ীকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। সবার ধারণা, শিল্পা শিন্দে ‘বিগ বস’ বাড়িতে ঢোকার পর এই শোর বিনোদনের মাত্রা আরও বাড়বে।

    শিল্পা শিন্দেগত বছরের আয়োজনে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মতে শিল্পা শিন্দে সৎ। তাঁর চমৎকার ঘরোয়া আচরণ আর বিনোদনের জন্য ‘বিগ বস ১১’তে জনপ্রিয় হন তিনি। অভিনেত্রী শিল্পা শিন্দের সঙ্গে প্রযোজক বিকাশ গুপ্তার শত্রুতা ‘বিগ বস’ বাড়িতে প্রথম দিনেই রীতিমতো আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এবারও তাঁরা দুজনই থাকছেন।

    শিল্পা শিন্দে ১০৫ দিন ‘বিগ বস’ বাড়িতে থেকে বাকি ১৮ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হন। জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘ভাবি জি ঘর পে হ্যায়’-এর ‘ভাবিজি’ নামে তিনি বেশি পরিচিত। গত ১৪ জানুয়ারি ‘বিগ বস ১১’ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পা শিন্দের হাতে ট্রফি তুলে দেন এই প্রতিযোগিতার সঞ্চালক বলিউড তারকা সালমান খান। পুরস্কার হিসেবে শিল্পা পেয়েছেন ৪৪ লাখ রুপি।

    শিল্পা শিন্দেএরপর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘দারুণ লাগছে। এত দিন সবাই আমাকে টিভি সিরিয়াল “ভাবি জি ঘর পে হ্যায়”-এর ভাবি হিসেবে জেনেছে। এখন আমার নিজের নামে চেনে। “বিগ বস ১১” চলার সময় একবার আমাদের মলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে সবাই “শিল্পা” “শিল্পা” বলে চিৎকার করেছে। দারুণ লেগেছিল। ফিরে এসে আনন্দে কেঁদেছি। এত দিন যেন আমি সিরিয়ালের চরিত্রের মধ্যে বন্দী ছিলাম। আমার নামে কেউ আমাকে জানত না। “বিগ বস” হাউসে এসে যেন আমার পুনর্জন্ম হয়েছে।’