Category: বিনোদন

  • তারকারাও খুলছেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল

    তারকারাও খুলছেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল

    এ বছর মার্চের ঘটনা। ২৮ মার্চ ছিল চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খানের জন্মদিন। এ দিনই তিনি উদ্বোধন করেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘোষণার পরপরই অপেক্ষায় আছেন ভক্তরা। ‘শাকিব খান অফিশিয়াল’ নামের এই চ্যানেলটি নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শাকিব খান। সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু ইউটিউব চ্যানেল নয়, পুরো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়েই আমার পরিকল্পনা আছে। আমি নিজের অফিসটা গোছানো শুরু করেছি। সেটা ঠিকঠাক হলেই পুরোদমে কাজ শুরু করব।’ বর্তমানে শাকিব খান অফিশিয়াল চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় ৬০ হাজার। এখানে আটটি প্রচারণামূলক ভিডিও আছে।

    শুধু শাকিব খানই নন, বেশ কয়েকজন টেলিভিশন তারকাও অনেক আগ থেকে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল চালু করেছেন। সম্প্রতি চালু করেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী মেহজাবীন। ‘মেহজাবীন চৌধুরী’ নামের এই চ্যানেলটিতে এখন সাবস্ক্রাইবার ৪০ হাজারের ওপরে। ‘র‍্যাপিড ফায়ার উইথ মেহজাবীন’ শিরোনামের একটা অনুষ্ঠানও শুরু করেছেন সেই চ্যানেলে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক মেহজাবীনই। তাঁর ১০টি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন তারকারা। এখন পর্যন্ত জোভান, আফরান নিশো ও মাহফুজ আহমেদকে অতিথির চেয়ারে বসে মেহজাবীনের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে।

    নিজের চ্যানেল নিয়ে মেহজাবীন বললেন, ‘চ্যানেলটি অনেক দিন ধরে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কনটেন্ট আপ করিনি। তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা করা দরকার। মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে পরিচালনায় এলে এটা কাজে লাগবে।’

    শুধু এককভাবে নয়, যৌথভাবেও ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন তারকারা। কয়ে কয়েক মাস আগে অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া ও সাফা কবির মিলে চালু করেছেন ‘হলো স্টার’ নামের একটি চ্যানেল। এটাতে প্রায় ৭০ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছেন। তাঁরা এখানে নিয়মিত ভ্রমণ, আড্ডার মজার মজার ভিডিও আপলোড করেন। টয়া বললেন, ‘চ্যানেলটি নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করব।’

    তবে ইউটিউবে নিজের পরিচালনায় ও অভিনয়ে বেশ কিছু নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আপলোড করেছেন অভিনেতা নিলয় আলমগীর। ‘নিলয় আলমগীর ফিল্মস’ নামের চ্যানেলটির এখন সাবস্ক্রাইবার ২ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আপলোড করেছেন নিজের অভিনীত নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

    এসব তারকার মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনেক তারকাই এখন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খোলার পরিকল্পনা করছেন। জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তিনি। এখন প্রস্তুতি চলছে।

    প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তারকাদের ইউটিউব চ্যানেল বিনোদনের আরেকটা মাধ্যম হিসেবে মনে করছেন অনেকে। নিয়মিত ইউটিউবারদের পাশাপাশি তারকাদের পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় এসব চ্যানেলের কনটেন্ট ভালো হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • আরিকাতো গুজাইমাছ

    লোকাল ট্রেনে নারিতা ট্রেন স্টেশন থেকে ফুনাবাসী স্টেশনে নামলাম। উদ্দেশ্য সেখানে এক বাংলাদেশি ছেলে থাকে তার সঙ্গে দেখা করা ও আমাদের ঢাকা মেডিকেলের এক ব্যাচমেটের সঙ্গে দেখা করা।

    মানসিক রোগ বিষয়ে কনফারেন্সে যোগ দিতে সুদূর বাংলাদেশ থেকে জাপান এসেছি, আর যদি নিজ দেশের পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করে না যাই তাহলে কেমন হবে? তাই দুজনেই সিদ্ধান্ত নিলাম সেশন ও প্রেজেন্টেসন শেষে যত দ্রুত পারি বের হয়ে প্রথমে তাদের সঙ্গে দেখা করবো পরে টোকিও শহরটাকে এক নজর একটু দেখবো।

    গত দুদিন জাপান ঘুরতে আমরা কোন গাইড নেইনি। আমি ও ডা. যুবায়ের ভাই একাই ঘুরছি। এখানে চলতে ফিরতে সবাই গুগল ম্যাপ বা যে শহরে ঘুরবেন তার একট ছাপানো ম্যাপ ব্যবহার করে।

    কারো কাছে যদি মোবাইল থাকে তাহলে সে গুগল ম্যাপে দেখে নেবে নাহলে রাস্তার মোড়ে বাস স্ট্যান্ড, পুলিশ বা শপগুলোতে ছাপানো ম্যাপ থাকে। ওটা দেখেই আপনি চলতে পারবেন। ম্যাপে প্রতিটি স্থাপনা, অলিগলি নির্দেশিত এবং কোন পথে, কোন বাহনে যাবেন, যেতে কত সময় লাগবে তাও বলা আছে।

    স্টেশনে নেমে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছি। দুজনের একটু পানির তৃষ্ণা পেলে একটা শপে ঢুকলাম। পানি আর কোক নিলাম, সঙ্গে নিলাম বাদাম ভাজা। ভদ্র মহিলা পানি, ড্রিংকস আর বাদাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন আপনারা কি এখানেই খাবেন, নাকি হাঁটতে হাঁটতে খাবেন?

    আমি বললাম, ‘ইচ্ছে ছিল হাঁটতে হাঁটতে খাব, কিন্তু শহরের রাস্তাঘাট এতো পরিচ্ছন্ন, খাবার শেষে এই কোকের ক্যান আর বাদামের প্যাকেট কী করবো?’।

    তিনি হেসে বিনীতভাবে বললেন, ‘অহ..! এই কথা? আমি আপনাকে ব্যাগ দিচ্ছি। খাবার শেষে ক্যান আর বাদাম প্যাকেট এই ব্যাগে রেখে দেবেন আর হাঁটতে গেলে কিছুক্ষণ পরপরই দেখবেন ডাস্টবিন রাখা, ওতে আলাদা আলাদা করে ফেলে দেবেন। কোথায় কোকের বোতল আর কোথায় বাদামের প্যাকেট ফেলবেন, সেটা লেখা আছে। যান যান মজা করে খান,….. আরিকাতো গুজাইমাছ‘।

    আমিও বললাম, ‘আরিকাতো… আরিকাতো’। দু’দিনে বহুল ব্যবহৃত এ শব্দের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়ে গিয়েছে।

    জাপানে পরিচিত অপরিচিত প্রথম দর্শনে সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে হালকা ঝুঁকে বাও করে। বাও করা মানে হলো সম্মান করা বা শান্তি কামনা করা। তারপর বলবে ‘আরিকাতো গুজাইমাছ‘ বা ‘আরিকাতো’।

    মানে, ‘তোমাকে অশেষ অশেষ ধন্যবাদ‘।

    জাপানেই দেখলাম স্টল বা রেস্টুরেন্টে পুরুষ কর্মীর চেয়ে নারী কর্মী বেশি। ৮০ ভাগই কর্মকর্তা কর্মচারী তরুণী। যেমন স্টলে তেমন রেস্ট্রুরেন্টে। অর্থাৎ এদের ৮০ ভাগ কলেজ ভার্সিটি স্টুডেন্ট। তাদের এটা পার্ট টাইম জব।

    এখানে শিশু কিশোর ব্যতীত সবাই কাজ করে। যে ক’দিন ছিলাম কোন শিশু কিশোরকে কাজে পাইনি। একেবারে আশি বছরের বুড়োরাও কাজ করেন। কাজ আলাদা ভাগ করা। রেডিসন হোটেল থেকে প্রতিদিন বের হয়ে আমরা নারিতা এয়ারপোর্টে যেতাম সেটাতে শিফট ওয়াইজ যারা ডিউটি করতেন তারা বেশ বয়স্ক ছিলেন।

    একটু শক্ত কাজ তরুণ-তরুণীরা করেন আর হালকা কাজ যেমন শপিংমল বা রাস্তাঘাট থেকে টুকটাক ময়লা কাগজ সংগ্রহ করে জায়গা মতো ডাস্টবিনে ফেলা, পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রাইভিং করা, এ কাজগুলো অপেক্ষাকৃত বয়স্করা করেন।

    এক সন্ধ্যায় আমি আর যুবায়ের ভাই হোটেল লনে বসি কফি খাচ্ছিলাম তখন দেখলাম অতিশায় এক বৃদ্ধা মহিলা এসে আমাদের সামনে রাখা ফুলের টবটি একটু মুছে দিয়ে গেলেন, যদিও সেটা মুছা ছিল।

    জাপানে ড্রাইভিং মানে কেবল সুইচ, বাটন টিপা টিপি। গাড়িগুলো সবই নতুন আর অটো। রাস্তা, লোকেশন, স্টপেজ গাড়ির সঙ্গে পোগ্রামিং করা।

    কোথায় যাবেন, কোথায় থামবেন, কোন স্টপেজ সামনে এগুলো সব সেটিং করা থাকে। একটু পরপর মাইক্রোফোনে অটো বেজে উঠছে। ড্রাইভার সাহেবের কাজ কেবল খেয়াল রাখা আর সময় মতো বাটন চাপা। অনেক বয়স্কা মহিলারা ও ড্রাইভিং পেশায় আছেন। আর এখানের পাবলিক বাসগুলোতে প্রিপেইড কার্ড আছে অথবা বক্স আছে নামার সময় হয় কার্ড টাচ করাবেন বা বক্সে টাকা দিয়ে দিবেন। ভাংতি প্রয়োজন হলে বক্স থেকেই নেবেন, বা এটেন্ডেন্ট আছেন তাকে বললেই হবে। কিছুক্ষণ পরপর তিনি এ মাথা টু ও মাথা হেঁটে যান। তার কাছে ছোট মাইক্রোফোন আছে।

    জাপানে কাজের ছোট বড় নেই। সবই সমান। তাছাড়া সবাই সবাইকে অতি সম্মানের চোখে দেখেন। প্রথম দর্শনেই বাও করেন। সেটা প্রধানমন্ত্রী হন বা সাধারন নাগরিক হন কিংবা হন না কেনো একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। কে কাকে আগে সম্মান দেবে, শুভেচ্ছা জানাবে, এটাই তাদের কাছে মুখ্য, এটাই নিয়ম। এটাই তাদের ছোটবেলা থেকে শিখিয়ে দেয়া হয়।

    জাপান বেড়াতে গেলে আপনি যে একজন মানুষ সেটা বোধহয় জীবনে প্রথম মনে হবে। আমাদের দেশে বা আশপাশের দেশগুলোতে কারো কাছে টাকা থাকলেই কেবল তাকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়; সে যাইহোক!

    জাপানিজরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা শেখে ছোটবেলা থেকেই। সবাই খুব পরোপকারী। মনে হয় একজনকে উপকার করতে পারলেই তার দিনটা সার্থক হলো। এটা যেমন জাপানের সাধারণ মানুষের বেলায় তেমনি জাপানের পুলিশের বেলায়।

    ভিজিটর বা ফরেইনার সামনে পড়লে যেচে এসে বাও করবে জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমাদের কোন কিছু লাগবে কি? ‘পথ দেখিয়ে দিবো?

    অথবা ‘তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে গন্তব্য চিনতে?’।

    বাস বা ট্রেনের লাইনে দাঁড়ালে আপনাকে সামনে জায়গা করে দেবে বা অফার করবে।

    যে ক’দিন ঘুরেছি মসজিদ মন্দির প্যাগোডা কোথাও চোখে লাগেনি। মাঝেমধ্যে মনেহতো, এরা ধর্মকর্ম করে না তাহলে এতো মনুষ্যত্ব এতো মানবিকতা তারা শিখলো কোত্থেকে?

    আমাদের দেশে গলিতে গলিতে, পাড়ায় পাড়ায় ধর্মীয় স্থাপনা, প্রতিষ্ঠান।

  • ইউটিউবে ‘আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প’

    আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প ’ উপন্যাস অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিমার্ণ করা হয়েছে। এতে তিশা ও নিশো অভিনয় করছেন।

    গল্পটিতে মাহবুব এক স্বাধীনচেতা যুবক। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ছেলেটি শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার জোরে সফলতা অর্জন করতে চান। সবাই যখন চাকরির পেছনে ছুটছে, মাহবুব তখন ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

    সমাজ, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। প্রেমিকা রাইসার সঙ্গে টানাপোড়েন। তবু নিজের কাজের প্রতি সম্মান ও একাগ্রতা নিয়ে সে এগোয়। মাহবুব কী পারবে এসব প্রতিকূলতা জয় করতে। এমনই এক গল্প নিয়ে রাহিতুল ইসলামের উপন্যাস অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প।’

    গত ১৩ অক্টোবর ঢাকায় চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে। উপন্যাসের নামেই ছবির নাম রাখা হয়েছে। এর চিত্রনাট্যও করেছেন লেখক নিজে। গল্পে মাহবুব চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও রাইসা চরিত্রে তানজিন তিশা। চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ্।

    স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে ‘তিশা বলেন, ‘এই কাজটি করে আমার খুবই ভালো লেগেছে। মাত্র দুটি দৃশ্যেই ছবির গল্প শেষ। কিন্তু তথ্যনির্ভর।’

    ধ্রুব টিভি ইউটিউব চ্যানেলে সত্বাধিকারি ধ্রুব গুহ বলেন, ‘আসলে এমন একটা গল্প আমাদের দেশের তরুণদেরকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দুয়ারে তুলে ধরছে যারা তাদের নিয়ে এমন গল্প আসলেই প্রশংসিত। ফ্রিল্যান্সিং পেশার এই গল্পটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আশা করি আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে।’

    আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প উপন্যাসের লেখক রাহিতুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়ে অনেক তরুণই নিজের ভাগ্য বদলেছেন। কিন্তু এ পেশার সামাজিক স্বীকৃতি নেই এখনো। অথচ সরকারি, বেসরকারি যে কোনো চাকরির চেয়ে আউটসোর্সিং পেশা হিসেবে ভালো। নিজের অনেকটা স্বাধীনতা রয়েছে। উপন্যাসটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়। এটি মাহবুব নামের একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবন থেকে নেয়া। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’

    আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগামী ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধা ৬টায় ধ্রুব টিভি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

  • ফিরে আসছেন অমৃতা

    ফিরে আসছেন অমৃতা

    ‘ময়না পাখির সংসার’ নামের একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নিয়ে সবের্শষ ক্যামেরার সামনে দঁাড়ান ২০১৬ সালের প্রথম দিকে। এরপর অনেকদিন কোনো খবর নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে উপস্থিতি দেখা গেলেও রুপালিপদার্য় নেই চিত্রনায়িকা অমৃতা খান। তবে সম্প্রতি আবার অভিনয়ে সরব হচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে নতুন একটি চলচ্চিত্রে কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তিনি। রয়েল খান পরিচালিত সিনেমাটির নাম ‘সমসাময়িক’। এতে একজন এতিম মেয়ের চরিত্রে পদার্য় হাজির হবেন ‘পাগলা দেওয়ানা’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

    অমৃতা বলেন, ‘এ লেভেল পরীক্ষার জন্য আমাকে বছরখানেক অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে। সন্তোষজনক ফল পেয়েছি। তাই নতুন করে নিজেকে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত করছি। এখন থেকে সিনেমায় নিয়মিত হবো।

    ২০১৫ সালে রয়েল খান পরিচালিত অভিনেতা নিরবের বিপরীতে ‘গেম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন অমৃতা। পরে অভিনয় করেন গুÐা, পাগলা দিওয়ানা, নামের দুই ছবিতে। ব্যাপক আয়োজন নিয়ে প্রথম নায়ক নিরবের বিপরীতেই ‘টাগের্ট’ নামের আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেন। অধেের্কর বেশি শুটিং হওয়ার পর এ ছবিটি ঝুলে আছে।

    ডিপজলের একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেও অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। আর ‘ময়না পাখির সংসার’ তো আড়াই বছর ধরে থমকে আছে। তবে সম্প্রতি ‘ওহ মাই লাভ’ চলচ্চিত্রে কাজ করছেন অমৃতা। ত্রিভুজ প্রেমের এই ছবিতে নায়ক হিসেবে রয়েছেন কলকাতার ঋদ্বিস। ইতোমধ্যে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এখন ছবিটির শুটিং নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

    অমৃতা বলেন, আগস্ট থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। রাজধানীর অদূরে পুবাইলে প্রথম লটের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। বেশ কিছু রোমান্টিক শট নেয়া হয়েছে। ঋদ্বিস বেশ বিনয়ী ও কো-অপারেটিভ। এ ছাড়া সাবণীর্ অভিনয় করছে ছবিটিতে। একদম ত্রিভুজ প্রেমের রোমান্টিক ঘরানার ছবি এটি।’

    তিনি বলেন, চলতি মাসেও রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে এর শুটিং হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্টনে একজন নামি অ্যাডভোকেটের চেম্বারে শুটিং করলাম। যারা চেম্বারে আসছিলেন আমাকে গাউন করা অবস্থায় একজন সত্যিকার অ্যাডভোকেট হিসেবে অনেকে ভুল করছিলেন। পরে শুটিং সেট দেখে ভুল ভাঙছিল।

    ছবির এই অংশের গল্প সম্পকের্ অমৃতা বলেন, নায়কের পক্ষে আমি একটি ‘ক্রিমিনাল কেস’ লড়ব। সে সত্যিকার অপরাধী তারপরেও আমাকে মামলা লড়তে হবে, কারণ সিনেমায় আমি তাকে ভালোবাসি।

    ‘ওহ মাই লাভ’ পরিচালনা করছেন আবুল কালাম আজাদ। মেসাসর্ এক্সেল ফিল্মসের ব্যানারে নিমির্ত হতে যাওয়া ছবিটি প্রযোজনা করছেন জাহাঙ্গীর শিকদার। ছবিটি এ বছরের শেষেরদিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে মুক্তি পেতে পারে বলে প্রযোজক সূত্রে জানা গেছে।

  • বর বেশে হাতির পিঠে এটিএম শামসুজ্জামান

    বর বেশে হাতির পিঠে এটিএম শামসুজ্জামান

    বর বেশে হাতির পিঠে চড়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন এটিএম শামসুজ্জামান। শুনে অবাক হচ্ছেন। নাটকে এমনি একটি চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।

    নাটকে দর্শক দেখতে পাবে তার গায়ে বিয়ের পোশাক। তার অপেক্ষায় বউ সেজে বসে আছেন দিলারা জামান। একটি ধারাবাহিক নাটকে বিয়ের বর-কনের সাজে দেখা যাবে নন্দিত এই দুই অভিনয়শিল্পীকে। নাটকে তাদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে এমন আয়োজন করা হয়।

    এস এ হক অলিক রচিত ও পরিচালিত এ নাটকের নাম ‘জায়গীর মাস্টার’। এতে বাড়ির কর্তা ও গিন্নি এটিএম শামসুজ্জামান ও দিলারা। তাদের মেয়ে মৌসুমী হামিদের জন্যই বাসায় নিয়োগ দেওয়া হয় জায়গীর মাস্টার। আর এতেই ঘটতে থাকবে মজার সব ঘটনা। নাটকের একটি পর্বে দেখা যাবে এটিএম শামসুজ্জামান ও দিলারা জামানের বিয়েবার্ষিকীর আয়োজন।

    নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ, সালাউদ্দিন লাভলু, অপূর্ব, মৌসুমী হামিদ, আশনা হাবিব ভাবনা, সূচনা আজাদ, আকাশ আহমেদ প্রমুখ। নাটকে কে হচ্ছেন জায়গীর মাস্টার তা খোলাসা করেননি পরিচালক অলিক। তবে তিনি রহস্য ছড়ালেন সালাউদ্দিন লাভলু বা অপূর্বকে নিয়ে।

    আগামী ২ নভেম্বর থেকে নাটকটির প্রচার শুরু হবে বাংলাভিশনে। প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাতে নাটকটি দেখানো হবে।

  • সালমানের সঙ্গে আমার ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল-শাবনূর

    সালমানের সঙ্গে আমার ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল-শাবনূর

    এক সময় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি ছিলেন সালমান-শাবনূর। এ দুজনের সিনেমা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এখনও দর্শকের মনে এ জুটি টিকে আছে। এই জুটির সূত্র ধরে সে সময় এমন গুঞ্জণও উঠে যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সালমানের মৃত্যুর এত বছর পর এসে শাবনূর বললেন. প্রেম নয়, সালমানের সঙ্গে আমার ভাই বোনের স¤পর্ক ছিল। সালমানের নিজের ছোট বোন ছিল না, তাই আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। এটাও ঠিক, সালমান শাহ আর আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু এসবের কোনোটিই সত্য নয়। ছোট বোন হিসেবে আমাকে তিনি আমাকে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। সালমানের মা-বাবাও আমাকে আদর করতেন। সালমানের কারণে আমাকে তাদের মেয়ের মতোই দেখতেন। সালমান খুব আন্তরিক আর কাজপাগল ছিলেন। আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার। বলতে পারেন, একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।