Category: আন্তর্জাতিক

  • চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

    চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

    দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এ বছর চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

    তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম কায়েলিন ও গ্রেগ সেমেনজা ও যুক্তরাজ্যের পিটার র‌্যাটক্লিফ।

    সোমবার নোবেল কমিটি চিকিৎসায় এ বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হলো।

    নোবেল কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেহকোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি বুঝতে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি আবিষ্কারের জন্যই তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    ক্যান্সারের চিকিৎসায় নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি আবিষ্কার করে গতবছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পান যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পি অ্যালিসন ও জাপানের তাসাকু হোনজো।

  • ৩৯ বছর বয়সে ৪৪ সন্তানের মা হয়েছেন মারিয়ম!

    ৩৯ বছর বয়সে ৪৪ সন্তানের মা হয়েছেন মারিয়ম!

    মারিয়মের যখন তিন দিন বয়স, তখন মা তাকে ফেলে রেখেই চলে যান। সেই থেকে দাদির কাছে বড় হতে থাকেন তিনি। এরপর মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় তার। বলা চলে জোর করেই বিয়ে দিয়ে দেন তার দাদি। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যমজ সন্তানের জন্ম দেন কিশোরী মারিয়ম। প্রথমটায় যমজ সন্তান পেয়ে খুব খুশিই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর টানা চার বার যমজ সন্তানের জন্ম দেন মারিয়ম। ততদিনে কিশোরী থেকে যুবতী হয়ে যান আফ্রিকার উগান্ডার এই বাসিন্দা। আর সেই সঙ্গে বুঝে গিয়েছেন, কোথাও একটা বড়সড় সমস্যা রয়েছে।

    এদিকে অভাবের সংসারে সদস্য সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় অনটন আর অশান্তিও ক্রমশ বেড়ে চলে। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চিকিত্সকের কাছে ছুটে যান মারিয়ম। চিকিৎসক তাঁকে জানিয়ে দেন, তার ডিম্বাশয়ের আকার বেশ বড় এবং তিনি নিজেও অত্যন্ত ফার্টাইল। কিন্তু কোনও রকম গর্ভনিয়ন্ত্রক ওষুধ বা অস্ত্রপচার তার ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে! গোটা বিষয়টি নিয়ে মারিয়ম তার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মারিয়মের কথায় কান দেননি তার স্বামী। ফলে এরপর চার বার একসঙ্গে তিন সন্তান (ত্রিপলেট) ও পাঁচ বার এক সঙ্গে চার সন্তানের (কোয়াড্রুপলেট) জন্ম দেন মারিয়ম।

    সব মিলিয়ে মোট ৪৪ সন্তানের জন্ম দেন মারিয়ম যাদের মধ্যে ৩৮টি বেঁচে রয়েছে। বর্তমানে মারিয়মের বয়স ৩৯ বছর। আড়াই বছর আগে অন্য মহিলাকে বিয়ে করে তাকে পরিত্যগ করেছেন মারিয়মের স্বামী। আর বিগত আড়াই বছর ধরে ৩৮ সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন স্বামী পরিত্যক্তা ‘সিঙ্গল মাদার’ মারিয়ম নবট্যানজি। উগান্ডার কামপালার উত্তরে ৫০ কিলোমিটার দূরে একটা ছোট গ্রামে ৩৮ সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন মারিয়ম। স্বামী বাড়ি থেকে বার করে দেওয়ার পর মারিয়মের ঠাকুমাই এখানে তার থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন মারিয়ম। নানা উপায়ে সংসার চালান তিনি। অনটনের সংসার, তাই মাছ, মাংস সে ভাবে হয় না বললেই চলে। তবে প্রতিদিন ২৫ কেজি ভুট্টা লাগে মারিয়মের সংসারে।

    মারিয়মের প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানরা উপার্জনের চেষ্টার পাশাপাশি ঘরের কাজেও মাকে সাহায্য করে। কে কোন দিন কোন কাজটা করবে, তা একটা রুটিনের মতো বানিয়ে ঘরের দেওয়ালের একপাশে টাঙিয়ে দিয়েছেন মারিয়ম। শারীরিক সমস্যা, সমাজ ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে মারিয়মের একক মাতৃত্বের লড়াই আজও অব্যহত।

  • বিবাহিত পুরুষরা কি খ্রিস্টান পুরোহিত হতে পারবেন?

    বিবাহিত পুরুষরা কি খ্রিস্টান পুরোহিত হতে পারবেন?

    অ্যামাজনে ক্যাথিলিক চার্চগুলোর ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য ভ্যাটিক্যান সিটিতে রবিবার একটি সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও ধর্ম প্রচার হলেও বিবাহিত পুরুষদের পুরোহিত হিসেবে স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    ভেটিকানের অফিসিয়াল নথি ইনস্ট্রুমেন্টাম লেবরিসে আমাজন অঞ্চলের গীর্জাগুলোতে পুরোহিত সংকট সমাধানে বিবাহিত ও বয়স্ক পুরুষদের নিয়োগ দেবার পরামর্শ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ইনস্ট্রুমেন্টাম লেবরিসে বলা হয়েছে, পুরোহিত হিসেবে এমন পুরুষদের নিয়োগ দেওয়া উচিত যারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী।

    আমাজন অঞ্চলের গীর্জাগুলোতে পুরোহিত সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমাজনের শতকরা ৮৫ ভাগ গীর্জায় সপ্তাহিক প্রার্থনা বন্ধ রয়েছে। কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বছরে একবার পুরোহিতের দেখা পান।

    দক্ষিণ আমেরিকার বিশপরা এই অঞ্চলে পুরোহিতদের ঘাটতি দূর করার জন্য ইতিমধ্যে ইনস্ট্রুমেন্টাম লেবরিস প্রদত্ত পরামর্শের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্মেলনে গৃহীত হবে।

    ৩ সপ্তাহব্যাপী চলা এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৬০ ক্যাথলিক বিশপ অংশ নেবেন।

  • ক্যানসাসের বারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৪

    ক্যানসাসের বারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৪

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের একটি বারে বন্দুকধারীদের হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন। রবিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্যানসাস পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি

    ক্যানকাস সিটি পুলিশ রবিবার এক টুইট বার্তায় জানায়, বন্দুকধারীরা বারে ঢুকেই গুলি শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরও ৫ জন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    থমাস টমাসিক নামে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, শহরের টাকিলা কেসি বারে এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় ছোট সেই বারটিতে প্রায় ৪০ জন মানুষ ছিলেন। দুজন ব্যক্তি হঠাৎ অন্য কয়েকজনের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। উত্তেজিত ওই দুই ব্যক্তি পরে বার থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ বাদে তার দুটো হাতবন্দুক নিয়ে আবার ফিরে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো শুরু করেন।

    হামলাকারী ওই দুই ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতারে সমর্থ হয়নি পুলিশ। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে ক্যানসাস জুড়ে। একইসঙ্গে বারের আশপাশের এলাকাতে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে সিটি পুলিশ।

  • পাকিস্তানের ভেবে নিজেদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছিল ভারত!

    পাকিস্তানের ভেবে নিজেদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছিল ভারত!

    ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাতে একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল পাকিস্তান। ভারত অবশ্য বারবারই নিজেদের বিমান ভূপাতিত করার কথা অস্বীকার করে এসেছে।

    তবে শুক্রবার ভারতের বিমানবাহিনী স্বীকার করেছে, সে সময় তাদের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছিল। তবে সেটা পাকিস্তানের হাতে নয়, ভুল করে নিজেদের হেলিকপ্টারই ভূপাতিত করেছিল ভারতীয় সেনারা। খবর এনডিটিভির।

    ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভদৌরিয়া বলেছেন, আমরা একটি তদন্ত সম্পন্ন করেছি। এতে দেখা গেছে, পাকিস্তানিদের নয়, আমাদের হাতেই এমআই -১৭ হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়েছে। এটি আসলে একটি বড় ধরনের ভুল হয়েছে। আমরা এটিকে মেনে নিয়েছি।

    ভারতের বিচারবিভাগীয় তদন্তে দেখা গেছে, শ্রীনগর বিমানবন্দরে স্পাইডার বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম থেকে মিসাইল ছুঁড়ে ওই হেলিকপ্টারটি নামানো হয়েছিল। টেক-অফের ১০ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। ভয়াবহ আগুন ধরে যায় তাতে। যেখানে ওই হেলকপ্টারটি ভেঙে পড়ে তার পাশেই জনবসতি ছিল। এমআই -১৭ হেলিকপ্টারটি ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় বায়ুসেনার ৬ সদস্য এবং একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।

  • যেখানে হিন্দুদের জন্য পূজার আয়োজন করে মুসলমানরা

    যেখানে হিন্দুদের জন্য পূজার আয়োজন করে মুসলমানরা

    শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। অন্যান্য দেশের মতো গোটা ভারতেও চলছে এ পূজা উদযাপন। এটি হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও কলকাতার খুব কাছেই এমন একটি স্থান আছে যেখানে উৎসবের মূল উদ্যোক্তা মুসলমানরা।

    ধর্মীয় মিলনমেলার এ স্থানের নাম মুন্সিগঞ্জ। কলকাতা শহরের কাছাকাছি এ এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি। তারপরও গত ৬০ বছর ধরে মুসলমানরাই এ এলাকায় দুর্গাপূজার আযোজন করছে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদের মতোই উৎসবের সময় দুর্গাপূজা বা কালীপূজা।

    এ এলাকার বাসিন্দা সালমান সর্দার বলেন, ‘দুর্গাপূজায় খুব মজা হয়। ঠাকুর দেখতে যাই। ফুচকা আর আইসক্রিমের দোকানে বসে খাই, দোলনায় চড়ি। আবার আমাদের পূজায় চলে আসি।’

    সালমানের মতো এ এলাকার বাসিন্দারা ছেলেবেলা থেকে পূজার উৎসবকে ‘আমাদের পূজা’ মনে করেন। তিনি জানান, ঠাকুর আনা-নেওয়া, প্যান্ডেলে ঠাকুর তোলা, দেখাশোনা– সবই হিন্দুদের সঙ্গে মিলেমিশে করেন মুসলমানরা।

    সালমান বলেন, ‘৬০ বছর ধরে এভাবেই এখানে পূজা হয়ে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মামা, দাদাদের দেখেছি সকলের সঙ্গে মিলে দুর্গাপূজা-কালীপূজা-ঈদ-মহররম পালন করতে, আমরাও সেভাবেই করি।’

    ওই এলাকার পূজা কমিটির প্রধান প্রেমনাথ সাহা বলেন, , ‘ ছোটবেলায় আমরা করেছি। যারা এখন বড় হয়েছে, তারাও পূজার কাজে এগিয়ে আসে। চাঁদা তোলা, ঠাকুর নিয়ে আসা, ভাসিয়ে দেওয়া– সবকিছুতেই সবাই থাকি।’

    তিনি জানান, কয়েকদিন আগে মহররমের সময় তারা বাজার করেছেন, খাবার বিলি করেছেন, সবাইকে পানি দিয়েছেন। ধর্মীয় উৎসব পালনে কখনও কোনও সমস্যা হয় না তাদের এলাকায়।

    পূজার আরেক উদ্যোক্তা জানান, মানুষের মধ্যে এতটাই একতা আছে যে ‘৯২- এ বাবরি মসজিদ ভাঙার পরও ওই এলাকায় কোনো আঁচ পড়েনি।

    জানা গেছে, মন্ত্র বা শাস্ত্র হিন্দুরা পড়লেও পূজার ব্যবস্থাপনায় পাড়ার মুসলমান ছেলেরাই সামনের সারিতে থাকে। পূজায় চাঁদা সংগ্রহের কাজও করে তারা।

    মুহম্মদ নাজিম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের এখানে জাতপাত-হিন্দু-মুসলিম ব্যাপারটাই নেই। একটা হিন্দু বাড়ির শিশু আর মুসলিম বাড়ির শিশু ছোট থেকেই একসঙ্গে বড় হয়– তারা এ ভাগাভাগিটা ছোট থেকেই দেখে শেখে।