মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, উত্তর সিরিয়ায় হামলা চালাতে তুরস্ককে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ঘিরে অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পম্পেও। ট্রাম্পের ঘোষণাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ওই অঞ্চলে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে তুরস্ক। এ ঘটনায় ট্রাম্প তুরস্ককে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তুরস্ক গতকাল বুধবার থেকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী পরিচালিত অঞ্চলটিতে অভিযান শুরু করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী এবং সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনী অপারেশন পিস স্প্রিংয়ের অংশ হিসেবে ফোরাত নদীর পূর্ব দিকে অভিযান শুরু করেছে। এরদোয়ান বলেন, এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তে সন্ত্রাসীদের আস্তানা তৈরি বন্ধ করা। তুর্কি বাহিনী কুর্দি মিলিশিয়াদের সাফ করে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির পরিকল্পনা করছে। এখানে সিরিয়ার শরণার্থীদেরও জায়গা দেওয়া হবে। কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী এ হামলা প্রতিহত করার অঙ্গীকার করেছে। এরই মধ্যে তুরস্কের সেনাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধেছে। তুরস্কের পাঠানো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক চিঠির বরাতে বলা হচ্ছে, চলমান সামরিক অভিযানটি হবে ‘সংগতিপূর্ণ, পরিমিত ও দায়িত্বশীল’। ১৫ সদস্যের এই সংস্থা আজ বৃহস্পতিবার পাঁচ ইউরোপীয় সদস্য ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের অনুরোধে সিরিয়ার বিষয়ে বৈঠক করবে। কুর্দিরা সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাস্ত করতে সহায়তা করেছিল। সেই লড়াইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল সহযোগী ছিল তারা। হাজার হাজার আইএস যোদ্ধা এবং তাদের আত্মীয়স্বজন কুর্দিনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কারাগার এবং শিবিরে দিন কাটাচ্ছে। লড়াই শুরু হলে কুর্দিরা তাদের সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা এখনো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুখ্যাত দুজন ব্রিটিশ বন্দীকে নিজেদের হেফাজত নিয়েছে। আইএসের একটি সেলে প্রায় ৩০ জন পশ্চিমা জিম্মিকে নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে তারা জড়িত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেল পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক পম্পেও মার্কিন সেনাবাহিনীকে ফিরিয়ে আনার ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, তুরস্কের বৈধ নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলার হুমকি রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ‘একেবারেই মিথ্যা’। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে সবুজ সংকেত দেয়নি। এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই হামলাকে ‘খারাপ বুদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা সমর্থন করবে না। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তুর্কি ও কুর্দিরা যুগ যুগ ধরে পরস্পরের সঙ্গে লড়ছে। তিনি বলেন, ‘কুর্দি যোদ্ধারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমাদের সহায়তা করেনি। এত কথার পরেও আমরা কুর্দিদের পছন্দ করি।’ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়ই একই সুরে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রকে ‘লজ্জাকরভাবে’ ত্যাগ করেছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ও গ্রাহাম তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল প্রকাশ করে বলেছেন, ‘প্রশাসন তুরস্কের বিরুদ্ধে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালেও, আমি দ্বিপক্ষীয় শক্তিশালী সমর্থন আশা করছি।’
ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভিরানতো। ছবি: রয়টার্সইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভিরানতোকে (৭২) ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির বেনতেন প্রদেশের একটি শহরে ব্যক্তিগত গাড়িতে ওঠার আগে এই ঘটনা ঘটে। মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে সেখানকার পুলিশ ধারণা করছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনায় মন্ত্রীর পাশাপাশি একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও আরও দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আর অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারী ও এক পুরুষকে। বেনতেনের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান বুদি গুনাভান বলেন, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামিকে স্টেট সমর্থিত জামাহ আনসহারুত দাওলাহ (জেএডি) নেটওয়ার্কের যোগসাজশ রয়েছে। ঘটনার পরপরই মন্ত্রী ভিরানতোকে হেলিকপ্টার যোগে রাজধানী জাকার্তায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ছুরিকাঘাতে তাঁর পাকস্থলীতে দুটো ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। এর আগের ভিরানতো দেশটির সেনা প্রধান ও ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থান অর্জন করায় ক্ষমতায় আসতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে জেএডির সদস্যদের দ্বারা এইটাই প্রথম হামলার ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে দেশটিতে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু হামলার দায় তারা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর এক গির্জার হামলার ঘটনা। যেখানে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। জোকো উইদোদোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় হামলার এই ঘটনা ঘটল। গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট বিরোধী এক র্যালিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে অন্তত ছয় ব্যক্তি নিহত ও ২০০ জন আহত হন। তখনই গোয়েন্দা বাহিনী বলেছিল, ভিরানতোসহ দেশটির আরও তিন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন।





