Category: আন্তর্জাতিক

  • শৈশবের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে কৃষক বানালেন উড়োজাহাজের রেপ্লিকা!

    শৈশবের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে কৃষক বানালেন উড়োজাহাজের রেপ্লিকা!

    তাঁর শৈশবের স্বপ্ন, একটি আস্ত উড়োজাহাজের মালিক হবেন। ছোটবেলায় মানুষ কত কিছুই না ভাবে! কিন্তু কেউ কেউ বড় হয়েও স্বপ্নের ঘুড়ির নাটাই হাতে ধরেই রাখে। তেমনই একজন হলেন চীনের ঝু ইয়া। শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করতে তাঁর দরকার ছিল সত্যিকারের উড়োজাহাজ। তবে আসল উড়োজাহাজ কিনতে না পারলেও প্রমাণ সাইজের এক রেপ্লিকা বানিয়েছেন তিনি!

    সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর খবরে বলা হয়েছে, এয়ারবাস কোম্পানির এ৩২০ মডেলের একটি উড়োজাহাজের রেপ্লিকা বানিয়েছেন ঝু ইয়া। ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবতেন, নিজের একটি উড়োজাহাজ থাকবে! কিন্তু এয়ারবাসের সত্যিকারের উড়োজাহাজ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর। শেষে একই আকারের একটি রেপ্লিকা বানিয়েছেন ঝু। দুই বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন এই রেপ্লিকা।

    সাংহাইয়িস্ট বলছে, ৪০ বছর বয়সে এসে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ঝু ইয়া। তাঁর বানানো রেপ্লিকাটি ১২৪ ফুট লম্বা। আর প্রস্থে ১১৮ ফুট। ৪০ ফুট উঁচু রেপ্লিকাটি বানাতে ঝু-কে সাহায্য করেছেন তাঁর পাঁচ বন্ধু।

    কথায় আছে, শখের দাম লাখ টাকা! স্বপ্নের উড়োজাহাজ বানাতেও ঢের খরচ করছেন ঝু। মোট খরচ হবে ২৬ লাখ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা হয় প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি। আগামী মে মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অবশ্য, স্বপ্নের উড়োজাহাজ নিয়ে আরও পরিকল্পনা আছে ঝু ইয়ার। সেখানে একটি রেস্তোরাঁ চালু করার ইচ্ছা আছে তাঁর। ঝু বলেন, ‘এখন আমি যেকোনো মূল্যে এর কাজ শেষ করতে চাই। পরে এখানে একটি রেস্তোরাঁ চালু করার পরিকল্পনা আছে আমার।’

  • কানাডার ইমিগ্রেশন নিয়ে যারা দোটানায় আছেন

    কানাডার ইমিগ্রেশন নিয়ে যারা দোটানায় আছেন

    ফারহান এবং মিমি সদ্য বিবাহিত। দুজনেই কাজের পাশাপাশি মাস্টার্স করছে বাংলাদেশের সুনামধন্য এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। মিমির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো কানাডায় স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া। ফারহানও সেটাই চায়।

    কিন্তু বাংলাদেশের ভালো চাকরিটা ছেড়ে যেতে মাঝে মাঝে মন সায় দেয় না। আর তার ওপরে বাংলাদেশে বাবা-মাকে দেখাশোনা করারও নির্ভরযোগ্য কেউ নেই।

    কানাডায় কী ইমিগ্রেশন নিয়ে যাওয়া ভালো হবে? নাকি স্টুডেন্ট ভিসা?

    কানাডা গিয়ে ভালো চাকরি মিলবে তো?

    নাকি অড-জব করেই কাটিয়ে দিতে হবে?

    কানাডায় থাকা-খাওয়ার খরচ কেমন হতে পারে?

    কানাডা যাওয়ার কত দিন পর বাবা-মাকে সে নিজের কাছে নিয়ে যেতে পারবে?

    কানাডার ইমিগ্রেশন কী নিজে করা সম্ভব?

    নাকি এজেন্সি বা ফেসবুকের কোনো দালালকে দিয়ে করাতে হবে?

    ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ফারহানের মনে প্রতিদিন ঘুরপাক খায়। একইসঙ্গে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি কানাডার উন্নত জীবনও হাতছানি দিয়ে ডাকে।

    ফারহান আর মিমির মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ইমিগ্রেশনকে প্রাধান্য দেওয়াটা জরুরি। কেননা স্টুডেন্ট হয়ে কানাডায় পড়তে যাওয়ার খরচ অনেক। যদিও কানাডায় স্কলারশিপ পেলে সেটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু স্কলারশিপ, ফান্ডিং ইত্যাদি পাওয়াটাও সহজ ব্যাপার নয়।

    কানাডার ইমিগ্রেশনের কথা চিন্তা করলে কয়েকটি কথা মাথায় রাখতে হবে। এক. কানাডার ইমিগ্রেশন একটি ধৈর্যের পরীক্ষা দুই. সঠিক সময়ে সঠিক কাজগুলো করে ফেলাটা জরুরি তিন. বিভিন্ন এজেন্সি কিংবা দালাল ছাড়াই নিজের ইমিগ্রেশন নিজে করা সম্ভব।

    কানাডার ইমিগ্রেশনের জন্য শুরুতে কি করা প্রয়োজন?

    প্রথমেই  এ ভালো স্কোর করাটা জরুরি। এরপর রয়েছে এডুকেশনাল ক্রেডেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট  করানো, ব্যাংকে নির্ধারিত ফান্ড জমা রাখা, ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স লেটার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজাদি তৈরি করা ইত্যাদি কাজ।

    কানাডা গিয়ে ভালো চাকরি মিলবে কী?

    কানাডায় গিয়ে ভালো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন সবার মাঝেই কমবেশি থাকে। সাধারণত ব্যাংকিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি সেক্টরে অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে দ্রুত চাকরি পাওয়ার আশা থাকে।

    তারপরেও বলা যায়, কানাডায় গিয়ে কানাডিয়ান কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে পারলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। কানাডিয়ান পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা, রেফারেন্স ইত্যাদি দ্রুত চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

    কানাডায় থাকার খরচ কেমন হতে পারে?

    বড় শহর যেমন, টরেন্টোতে থাকার খরচ বেশি। টরন্টোতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট লিভিংরুম এবং কিচেনসহ এলাকাভেদে প্রতি মাসে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ ডলার।

    আর একা থাকলে সেক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৮০০ ডলারের মধ্যে এক রুম, শেয়ার্ড কিচেন এবং ওয়াশরুমসহ পাওয়া সম্ভব। খাবার খরচ জনপ্রতি মাসে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার ধরে রাখতে পারেন। বাসায় নিয়মিত রান্না করে খেলে খরচ কমে যাবে। যাতায়াতে এক থেকে ১৫০ ডলার মাসে ধরে রাখতে হবে।

    বাবা-মাকে কানাডায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব কী?

    অবশ্যই সম্ভব। কানাডায় যাওয়ার পর ভিজিট ভিসা কিংবা সুপার ভিসাতে বাবা-মাকে কানাডায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে কেউ কানাডায় যাওয়ার পরপরেই হয়তোবা সেটা করা সম্ভব না হলেও কয়েক বছর পরে বাবা-মাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

    বাংলাদেশ থেকে যারা কানাডায় ইমিগ্রেশন নিয়ে যেতে আগ্রহী, তাদের মনে এক ধরনের সংশয় কাজ করে যে, বাংলাদেশের বড় চাকরি কিংবা আরাম-আয়েশ ছেড়ে কানাডার ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং কঠিন জীবনের মুখোমুখি হওয়াটা আসলেই কী ঠিক কাজ হবে?

    উত্তরে এতটুকুই শুধু বলা যায় যে, পৃথিবীর অন্যতম শান্তির দেশ কানাডায় যারা পাড়ি জমিয়েছেন, শুরুতে হয়তোবা অনেক কষ্টের সম্মুখীন তারা হয়েছেন, কিন্তু কালক্রমে এই দেশান্তরী মানুষজন কানাডাতেই তাদের স্থায়ী ঠিকানা করে নিয়েছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও একটি সুন্দর জীবন উপহার দিয়েছেন।

  • ‘হিটলার অভিবাদন’ দেখানোয় দুজনের কারাদণ্ড

    ‘হিটলার অভিবাদন’ দেখানোয় দুজনের কারাদণ্ড

    জার্মানির কেমনিজ শহরে গত আগস্টে নব্য নাৎসিদের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে ‘হিটলার অভিবাদন’ দেখানোর দায়ে দুই ব্যক্তির কারাদণ্ড হয়েছে।

    সপ্তাহ দুয়েক আগে কেমনিজ শহরে এএফডি (জার্মানির জন্য বিকল্প দল), পেগিডা (পশ্চিমের ইসলামিকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ইউরোপীয় জনগণের আন্দোলন) ও প্রো-কেমনিজ নামের তিনটি সংগঠনের বর্ণবিদ্বেষী আগ্রাসী বিক্ষোভ থেকে ‘হিটলার অভিবাদন’ প্রদর্শন করা হয়।

    ২৫ আগস্ট শহরের কেন্দ্রের নগর মেলাতে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৩৫ বছর বয়স্ক এক জার্মানের মৃত্যুর ঘটনায় উগ্রবাদী দলগুলো শোক মিছিল করবে বললেও পরে তারা সহিংস হয়ে ওঠে।

    নব্য নাৎসিদের সহিংস মিছিল থেকে ‘হিটলার অভিবাদন’ দেখানোর দায়ে কেমনিজের জেলা আদালত দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গত দুই দিনে দুজনকে সাজা দেন।

    কেমনিজের আদালত বলেছেন, এর আগে কয়েকবার দণ্ডিত ৩৩ ও ৩৪ বছর বয়স্ক দুই ব্যক্তিকে আট মাস ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    জার্মানিতে শাসনতান্ত্রিক আইন অনুযায়ী হিটলারের নাৎসি দলের সব ধরনের প্রকাশনা, পতাকা, প্রতীক ও অভিবাদন নিষিদ্ধ।

    গতকাল শনিবার কেমনিজ শহরের একটি অনুষ্ঠানে নিজেদের স্বঘোষিত রক্ষী (বুরগারভের) পরিচয় দিয়ে উপস্থিত অভিবাসীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করতে চায় একদল লোক। এ সময় পুলিশ অনুষ্ঠানস্থলে এসে বুরগারভের দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

    কেমনিজ শহরে দুই সপ্তাহ আগে নব্য নাৎসিদের সহিংস ঘটনার জের ধরে এখনো জার্মানির পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে।

    কেমনিজ শহরে নব্য নাৎসিদের বিক্ষোভ চলাকালে সাংবাদিক, ভিন্নমতের বিক্ষোভকারী ও বিদেশিদের ধাওয়ার মতো আচরণ নিয়ে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছিলেন, এমন ঘটনা জার্মানিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হান্স গ্রিহগ মাসেন ভিডিও দেখে নব্য নাৎসিদের হাঙ্গামাকে অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ ও ধাওয়ার বিষয়গুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এমন বক্তব্যের জেরে বিভিন্ন মহল থেকে হান্সের পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

  • মর্যাদার সঙ্গে প্রস্থান চান ম্যার্কেল

    আঙ্গেলা ম্যার্কেলআঙ্গেলা ম্যার্কেলহঠাৎ করে জার্মানের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলীয় সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। টানা ১৮ বছর দলীয় সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম বড় শরিক দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সভানেত্রী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সোমবার (২৯ অক্টোবর) দলীয় সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন।

    এর আগে গত রোববার জার্মানির হেসেন প্রদেশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন নির্বাচনে খারাপ ফলাফল করার পর চ্যান্সেলর ম্যার্কেল দলীয় সভানেত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে হামবুর্গে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সম্মেলনে।

    প্রথা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন জার্মান চ্যান্সেলরই দলের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি বা সভানেত্রীর পদ অলংকৃত করেন। তবে আঙ্গেলা ম্যার্কেল ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মান চ্যান্সেলর পদে তার মেয়াদকাল পূর্ণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর আমলে বিগত সময়গুলোতে জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশে পরিণত হয়েছে।

    জার্মানির ১৬ প্রদেশে পৃথক পৃথক প্রদেশ পার্লামেন্টে রয়েছে। তবে কোনো প্রদেশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে খারাপ ফলের জন্য দলীয় প্রধানের পদত্যাগ করার ঘোষণাটি বিরল। সোমবার দলীয় বৈঠকে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের অনুসারী এবং জার্মানির জনগণকে অবাক করেছে।

    ২০০৫ সাল থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে থাকা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মতো জনপ্রিয় কোনো নেতা বা নেত্রী এ মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে না থাকলেও সাবেক দলীয় পার্লামেন্ট প্রধান ফ্রিডরিশ মের্স দলীয় প্রধানের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সম্মেলনেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন।

    সোমবার বার্লিনে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সদর দপ্তর কনরাড আডেনআওয়ার হাউসে দলীয় সভার পর ম্যার্কেল সাংবাদিকদের জানান, তিনি চ্যান্সেলর হয়ে জন্মগ্রহণ করেননি এবং দলীয় প্রধানের পদ থেকে তাঁর প্রস্থান দলে আরও উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।

  • ৮০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে প্রকৌশলী দম্পতির মৃত্যু

    ৮০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে প্রকৌশলী দম্পতির মৃত্যু

    পর্যটন স্পটে ঘুরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন এক প্রযুক্তি প্রকৌশলী দম্পতি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের ৮০০ ফুট উঁচু স্থান থেকে পড়ে এই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

    মৃত ওই দম্পতি হলো বিষ্ণু বিশ্বনাথ (২৯) ও মিনাক্ষী মূর্তি (৩০)। তাঁরা দুজনই প্রযুক্তি প্রকৌশলী ছিলেন। ২৫ অক্টোবর খাড়া ওই পর্যটন স্থানের নিচ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্যান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের টাফট পয়েন্ট (দর্শনার্থীরা উঁচু যে স্থানে উঠে চারপাশ দেখেন) থেকে পড়ে বিষ্ণু বিশ্বনাথ ও মিনাক্ষী মূর্তি মারা গেছেন। তাঁরা যে ভারতীয়, সেটা গত সোমবার নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছিলেন।

    সম্প্রতি নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার কোম্পানি কিসকো সিস্টেমে চাকরিতে যোগদানের পর নিউইয়র্ক থেকে সান জোসেতে বসবাস শুরু করেন এই দম্পতি। বিশ্বভ্রমণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাঁরা পার্কটির ওই দুঃসাহসিক অভিযান স্থানে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

    অশ্বারোহী সৈন্যদল ২৫ অক্টোবর টাফট পয়েন্টের নিচ থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে। দর্শনার্থীদের কাছে ইয়োসেমাইট উপত্যকা ও জলপ্রপাত জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত। আকর্ষণীয় ও স্মৃতিময় ছবি তোলার জন্য বিশ্বের মধ্যে পর্যটকদের ওই স্থানটি ভীষণ প্রিয়। বিখ্যাত ওই পর্যটন স্থানে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং ওই দম্পতি কীভাবে নিচে পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

    এদিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টাফট পয়েন্ট থেকে পড়ে নিহত এক পুরুষ ও নারী দর্শনার্থীর লাশ উদ্ধার অভিযান ২৫ অক্টোবর বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। ওই দুজন প্রায় ৮০০ ফুট খাড়া স্থান থেকে পড়ে মারা গেছেন। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

  • মর্যাদার সঙ্গে প্রস্থান চান ম্যার্কেল

    মর্যাদার সঙ্গে প্রস্থান চান ম্যার্কেল

    হঠাৎ করে জার্মানের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলীয় সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। টানা ১৮ বছর দলীয় সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম বড় শরিক দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সভানেত্রী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সোমবার (২৯ অক্টোবর) দলীয় সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন।

    এর আগে গত রোববার জার্মানির হেসেন প্রদেশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন নির্বাচনে খারাপ ফলাফল করার পর চ্যান্সেলর ম্যার্কেল দলীয় সভানেত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে হামবুর্গে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সম্মেলনে।

    প্রথা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন জার্মান চ্যান্সেলরই দলের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি বা সভানেত্রীর পদ অলংকৃত করেন। তবে আঙ্গেলা ম্যার্কেল ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মান চ্যান্সেলর পদে তার মেয়াদকাল পূর্ণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর আমলে বিগত সময়গুলোতে জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশে পরিণত হয়েছে।

    জার্মানির ১৬ প্রদেশে পৃথক পৃথক প্রদেশ পার্লামেন্টে রয়েছে। তবে কোনো প্রদেশ পার্লামেন্টের নির্বাচনে খারাপ ফলের জন্য দলীয় প্রধানের পদত্যাগ করার ঘোষণাটি বিরল। সোমবার দলীয় বৈঠকে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের অনুসারী এবং জার্মানির জনগণকে অবাক করেছে।

    ২০০৫ সাল থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে থাকা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মতো জনপ্রিয় কোনো নেতা বা নেত্রী এ মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে না থাকলেও সাবেক দলীয় পার্লামেন্ট প্রধান ফ্রিডরিশ মের্স দলীয় প্রধানের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সম্মেলনেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন।

    সোমবার বার্লিনে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সদর দপ্তর কনরাড আডেনআওয়ার হাউসে দলীয় সভার পর ম্যার্কেল সাংবাদিকদের জানান, তিনি চ্যান্সেলর হয়ে জন্মগ্রহণ করেননি এবং দলীয় প্রধানের পদ থেকে তাঁর প্রস্থান দলে আরও উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।