Category: আন্তর্জাতিক

  • জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য উঠছে নিরাপত্তা পরিষদে

    জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য উঠছে নিরাপত্তা পরিষদে

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘ তদন্ত টিমের বক্তব্য তুলে ধরা হবে। তদন্ত টিমের বক্তব্য নিরাপত্তা পরিষদে তুলে ধরার আবেদন করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ ৯টি সদস্য দেশ।

    তাই চীন ও রাশিয়ার বিপরীত অবস্থান থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদে তদন্ত টিমের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হবে। এই তদন্ত টিমই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার শামিল বলে অভিহিত করেছে। রয়টার্স।

    গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

    হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরা হলে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কূটনীতিকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার মালিক চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া ঠেকাবে। তবে তারা নিরাপত্তা পরিষদের এই উদ্যোগ ঠেকাতে পারেননি।

    কারণ ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ন্যূনতম ৯ সদস্য এই প্রস্তাবটি সমর্থন করেছে। তাই বিষয়টিতে ভেটো দেয়া যাবে না। কূটনীতিকরা বলেছেন, চীন ও রাশিয়া মনে করে, এই প্রতিবেদন প্রথমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটির কাছে পাঠানো উচিত।

    ওই কমিটি মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করে থাকে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, পোল্যান্ড, পেরু, কুয়েত, আইভরিকোস্ট ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে এক চিঠিতে এই আবেদন জানায়। ফলে এখন তদন্ত দলের প্রধান নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করতে পারবেন।

    জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছেন।

    সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন ঘৃণ্য অপরাধের নীলনকশা করার দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেনারেলকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

    এবার ওই তদন্ত কমিটির প্রধানকেই হাজির করা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে। তিনি সবার সামনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

    তবে মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা একটি চিঠিতে এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এটা রাখাইনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও মেরুকরণই শুধু বাড়াবে। অন্যান্য ইতিবাচক উন্নয়ন বাদ দিয়ে সবার ওপরে জবাবদিহিতাকে স্থান দেয়া একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা যা ভবিষ্যতে ব্যর্থ হতে পারে।’

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার চিন্তা করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্যিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

    এছাড়া মিয়ানমারের চারজন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত আগস্ট মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও সেনাবাহিনী পরিচালিত কমপক্ষে দুটি ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে দেশটি।

    মিয়ানমারের কূটনীতিক সুয়ান নিরাপত্তা পরিষদকে লিখেছেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাহ্যিক চাপ বিদ্যমান সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতাকে নষ্ট করবে।’

  • খাশোগির এক হত্যাকারী গাড়িচাপায় নিহত

    খাশোগির এক হত্যাকারী গাড়িচাপায় নিহত

    সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে নিখোঁজের ঘটনায় সম্পৃক্ত এক ঘাতককে গাড়িচাপায় হত্যা করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে তুর্কি দৈনিক ইয়ানি শাফাক।

    খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের যে দলটি তুরস্কে গিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম সদস্য ছিলেন মাল আল সাদ আল বাসতানি। তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর লেফট্যানেন্ট।

    ইয়ানি শাফাকের খবরে বলা হয়েছে, সাজানো সড়ক দুর্ঘটনায় মাল আল সাদ আল বাসতানিকে হত্যার মাধ্যমে খাশোগি হত্যার তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘাতক টিমের অন্য ১৪ সদস্যের মুখ চিরতরে বন্ধ রাখতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে।

    পত্রিকাটি বলছে, গত ২ অক্টোবর বিশেষ বিমানে করে যে ১৫ জন ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে এসেছিলেন তাদের মধ্যে সাদ আল বাসতানিও ছিলেন।

    বাসতানি সেদিন কনস্যুলেট ভবনে না গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ইস্তাম্বুলের উইন্ডহাম গ্র্যান্ড হোটেলে অবস্থান করেন এবং হোটেল থেকে বের হয়েই তুরস্ক ত্যাগ করেন। ১৫ সদস্যের ঘাতক টিমে তার দায়িত্ব কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন।

  • টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে এক ব্যক্তির ২৪ বছর জেল

    টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে এক ব্যক্তির ২৪ বছর জেল

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মসজিদ পোড়ানোর দায়ে বুধবার এক ব্যক্তিকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে সে এ জঘন্য কাজ করে বলে প্রসিকিউটররা জানান। খবর এএফপি’র।
    ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে টেক্সাসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার পুড়িয়ে দিয়ে জঘন্য অপরাধ করায় জুলাই মাসে মার্ক পেরেজ নামের এ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
    আদালতের রায়ের বরাত দিয়ে বিচার বিভাগের (ডিওজে) এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগুন দিয়ে পোড়ানোর এক সপ্তাহ আগে ২৬ বছর বয়সী এ ব্যক্তি মসজিদের অবকাঠামো ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে তা দেখে আসে।
    ডিওজের বিবৃতিতে বলা হয়, এ অপরাধ সংঘটনের দিন পেরেজ কাগজপত্র জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিতে লাইটার ব্যবহার করে বলে এক সাক্ষী জানান। তিনি আরো জানান, এ সময় পেরেজকে অনেক উত্তেজিত দেখাচ্ছিল।
    এফবিআই এজেন্ট অ্যাডওয়ার্ড মাইকেল এক বিবৃতিতে বলেন, এমন ঘটনা ঘটিয়ে ‘পেরেজ আতংক ছড়াতে চেয়েছিল।
    তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশের কেউ প্রকাশ্যে তাদের নিজ ধর্মপালনে এবং নিজস্ব বিশ্বাস প্রকাশে ভীত থাকবে না।’
  • ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিদিন ১৮শ’ জনের মৃত্যু

    ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিদিন ১৮শ’ জনের মৃত্যু

    ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু বিশ্বব্যাপী পরিচিত সাধারণ রোগ। কিন্তু এ রোগে বছরে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন ১৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।

    এমনকি এটি মাঝে মাঝে মহামারী আকার ধারণ করে। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের শীত ঋতুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ রোগ প্রতিকারের জন্য টিকা জরুরি। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৮ সালকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়মূলক জনস্বাস্থ্য সংকটের শততম বার্ষিকী চিহ্নিত করেছে। কারণ ঠিক ১০০ বছর আগে ১৯১৮ সালে পৃথিবীব্যপী ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকার ধারণ করেছিল। যা স্প্যানিশ ‘ফ্লু’ নামে পরিচিত। সেই ফ্লুতে ৫০ মিলিয়ন লোকের প্রাণহানি ঘটে। তখন প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন লোক আক্রান্ত হয়।

    ১৯৫৭ সালেও বিশ্বে ফ্লুর মহামারী লক্ষ্য করা গেছে। তখন এক মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। ১৯৬৮ সালে আরেকটি ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন আনুমানিক ১-৩ মিলিয়ন জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ২০০৩ সালে (এইচ৫এন১) বা তথাকথিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকার ধারণ করে। যা প্রাণী এবং মানুষ উভয়কেই আক্রান্ত করে।

    ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার শুরু মেক্সিকোতে। এটি ২১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ৩ লাখ ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ স্থান বা পাবলিক প্লেস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিস্তারের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে বিমান বা বিমানের মতো স্থানগুলো, যেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা অনেক মানুষ একত্রে অবস্থান করেন। এসব স্থানে খুব সহজেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। অপরিহার্যভাবে তারা কখনও পরিবর্তনশীল ছদ্মবেশ ধারণ করে। এর কারণ মানুষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এন্টিবডিকে প্রতিহত করা। যখন একটি নতুন ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হয়, সেটি দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্বব্যাপী মানুষের গুরুতর অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা। মাথাব্যথা, নাক ফুলে ওঠা, কাশি হওয়া এবং পেশিব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো ঋতুভিত্তিক। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতি বছর সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

    এ কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে নিরাপদ থাকতে টিকা গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার উত্তর গোলার্ধের শীতকালে এবং একবার দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবল ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রোগ্রামের ম্যানেজার ড. ওয়েনকিং ঝাং বলেন, নতুন ভাইরাস দ্বারা কোন ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি হলে সেটি মহামারী আকার ধারণ করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত ঘটনা আলোচনা করা হল- ১. বেশিরভাগ মানুষ মনে করে ইনফ্লুয়েঞ্জা গুরুতর কোনো রোগ নয়, তাই টিকা নেয়ার দরকার নেই। অথচ এ রোগে বছরে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

    ২. অনেকেই মনে করেন ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা থেকেও ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ফ্লুর টিকায় একটি নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থাকে। তবে সেটি ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করতে পারে না। টিকা গ্রহণের পর যদি সামান্য জ্বর হয়, তবে সেটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাধারণ প্রতিক্রিয়া। ৩. অনেকেই মনে করেন ফ্লুর টিকায় গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

    কিন্তু এটি প্রমাণিত যে ফ্লুর টিকায় গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল। ৪. অনেকের ধারণা, টিকা গ্রহণের পরও ফ্লু হয়েছে অর্থাৎ টিকা কাজ করে না। প্রকৃত বিষয় হল, বেশিরভাগ ফ্লু ভাইরাসগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় টিকা গ্রহণ সত্ত্বেও ফ্লুতে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

    টিকা হচ্ছে ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়ার উন্নত ব্যবস্থা। ৫. অনেকেই মনে করেন গর্ভবতী নারীদের টিকা গ্রহণের দরকার নেই। এ ধারণা ভুল।

  • খাসোগি হত্যাকালীন অডিও চায় যুক্তরাষ্ট্র

    খাসোগি হত্যাকালীন অডিও চায় যুক্তরাষ্ট্র

    তুরস্কের কাছে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার সময় ধারণ করা অডিও রেকর্ড চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অডিও রেকর্ড থাকলে তাঁরা তা চেয়েছেন। বলা হচ্ছে, খাসোগিকে হত্যা করার সময় তাঁর অ্যাপল ওয়াচে ওই সময়ের কথাবার্তা রেকর্ড হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অডিও রেকর্ড যদি থাকে, তাহলে আমরা তা চাই।’

    আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি ও সিএনএনের খবরে জানানো হয়, ট্রাম্প বলেছেন, এমন কোনো অডিও থাকার বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এ রকম অডিও থাকতেও পারে। এই সপ্তাহের শেষে আসল সত্য জানা যাবে। সৌদি আরবের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন কথা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি শুধু কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

    গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তুরস্কের একজন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দাবি করেন, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যার পর খাসোগির দেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। এর আগে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একই দাবি করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। গত সোমবার স্থানীয় সময় রাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালান।

    তুরস্কের সরকারপন্থী সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক দাবি করেছে, খাসোগির অ্যাপল ওয়াচে হওয়া অডিও রেকর্ড তারা শুনেছে। এর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময় খাসোগির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁকে হত্যার কথা অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।

    নিখোঁজ হওয়ার আগে জামাল খাসোগির লেখা শেষ কলাম প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে খাসোগি আরব বিশ্বে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছিলেন। খাসোগি আরব বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতেন। শেষ কলামে তিনি লিখেছিলেন, পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আরব বিশ্বে নতুন ধারার সংবাদ মাধ্যম প্রয়োজন। যাতে দেশের ভেতরে ও বাইরে কী ঘটছে নাগরিকেরা তা জানতে পারেন।

    ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। খাসোগি ইস্যুতে সৌদি আরবকে চাপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ধোঁয়া, মেলানিয়ার বিমানের জরুরি অবতরণ

    ধোঁয়া, মেলানিয়ার বিমানের জরুরি অবতরণ

    মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে বহনকারী একটি বিমান উড়ার ১০ মিনিট পরেই আবার অবতরণ করেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেবিনে ধোঁয়া দেখা যাওয়ায় পর উড়োজাহাজটি বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

    সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটি থেকে মেলানিয়া ট্রাম্প নিয়ে উড়ে যায় একটি বিমান। উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর কেবিনে ধোয়া দেখা যাওয়ায় আবার অবতরণ করে। বিমানঘাঁটিতে বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সেটিতে থাকা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানের দিকে ছুটে যান। তারা ঢুকে দেখতে পান ভেতরে ধোঁয়া। বিমানে থাকা সাংবাদিকেরা জানান, পোড়ার মতো গন্ধ, তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল। বিমান অবতরণের পর অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটিতে মেলানিয়াকে নামতে দেখা যায়। এ সময় তাকে স্বাচ্ছন্দ্যই দেখা গেছে।
    এদিকে নতুন আরেকটি বিমান প্রস্তুত করা হলে মেলানিয়া ট্রাম্প আবারও যাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিসাম সাংবাদিকদের বলেন, বিমানে ছোট যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সবকিছুই ভালো আছে এবং সবাই নিরাপদে আছেন।

    মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া অ্যান্ড্রুস থেকে ফিলাডেলফিয়া যাচ্ছিলেন। সেখানকার থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিভিন্ন রোগীদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। এরপরে সেখানে একটি কনফারেন্সে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।