Category: আন্তর্জাতিক

  • পূর্বসূরিদের মতো আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে ট্রাম্প: খামেনী

    পূর্বসূরিদের মতো আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে ট্রাম্প: খামেনী

    ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি থেকে বের হওয়ার বিষয়টিকে মার্কিন সরকারের গভীর শত্রুতা বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনী। তিনি বলেন, ‘ইরানের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আমেরিকার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।’

    বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের উদ্দেশে খামেনী এসব মন্তব্য করেন। খবর পার্সটুডের।

    তিনি বলেন, আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের পরিণতি পূর্বসূরি বুশ ও রিগ্যানের চেয়ে ভালো কিছু হবে না এবং তাদের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

    ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বলেন, পরমাণু আলোচনার শুরু থেকে ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা হলো- আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসা তেহরানের সাজে না। কারণ দেশটি কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।

    খামেনী বলেন, পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকতে চাইলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনতে হবে।

    ইউরোপের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করে তিনি বলেন, তিন ইউরোপীয় দেশের শীর্ষ নেতাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের উপস্থিতি নিয়ে কখনো কোনো অবস্থায় কথা বলবে না।

    আয়াতুল্লাহ খামেনী বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। তবে এসব দেশের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাস আছে। ইউরোপীয়রা অতীতে ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে বলেই এ অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এ অবিশ্বাস ভাঙতে তিন ইউরোপীয় দেশকে (ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি) বাস্তব গ্যারান্টি দিতে হবে।

    সর্বোচ্চ নেতা তার শর্তের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ইরানের তেল বিক্রি ও বৈদেশিক লেনদেন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ইউরোপকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু তারা যদি এসব কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে পরমাণু কর্মসূচি আবার চালু করার অধিকার সংরক্ষণ করে তেহরান।

  • ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অর্থহীন: রাশিয়া

    ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অর্থহীন: রাশিয়া

    সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১২টি শর্তকে অর্থহীন বলে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা- আইএইএ’তে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানোভ বলেছেন, এসব শর্ত নতুন যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা নষ্ট করে ফেলেছে।

    সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এরপর তিরি ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে চাইলে ইরানকে ‌‌১২টি শর্ত মেনে নিতে হবে।

    এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানোভ মঙ্গলবার ভিয়েনায় বলেন, ‘এগুলো সব অর্থহীন ও বাজে বক্তব্য। এগুলোকে ভিত্তি করে কোনো সমঝোতা অর্জন সম্ভব নয়।’ খবর পার্সটুডের।

    ইরানকে ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার যে শর্ত পম্পেও দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করে উলিয়ানোভ বলেন, ‘ইরানের যে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি চালানোর সার্বভৌম অধিকার রয়েছে সেকথা উপলব্ধি করার যোগ্যতা হারিয়েছে ওয়াশিংটন।’

    ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু সমঝোতা উপলব্ধি করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

    এ সময় ইরানের পরমাণু সমঝোতা চুক্তিতে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সোমবার ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তেহরানকে ১২টি শর্ত দিয়েছে দেশটি। ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার কারণে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা বাঁচাতে হিমশিম খাবে ইরান।

    নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে- সামরিক কাজে পরমাণু কর্মসূচি চিরদিনের জন্য পরিত্যাগের ঘোষণা দেয়া ও নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করা, সিরিয়া থেকে সব ধরনের সেনা প্রত্যাহার করা, হামাস-হিজবুল্লাহ-হুতি-ইসলামি জিহাদের মতো সংগঠনগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করা, পরমাণু বোমা বহনে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি, ইসরায়েল ও অন্যদের ক্রমাগত হুমকি বন্ধ করা ইত্যাদি।

    মাইক পম্পেও’র এ হুমকির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ধোঁকাবাজি আখ্যা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ইরান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই। প্রত্যেকটি দেশ স্বাধীন দেশ, বিশ্ব আর কখনোই মার্কিন কর্তৃত্ব মেনে নেবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন হাসান রুহানি।

  • বিমান দুর্ঘটনা থেকে বাঁচলেন ১৫১ বাংলাদেশি

    সৌদি আরব থেকে ঢাকাগামী একটি বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর ফলে প্রাণে বেঁচে গেছেন বিমানটিতে থাকা ১৫১ বাংলাদেশি। গতকাল সোমবার বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

    জানা গেছে, ১৫১ আরোহী নিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের SV3818 একটি বিমান মদিনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওড়ার পর বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পাইলট দ্রুত বিমানটি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন। এতে ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে বিমানটি রানওয়েতে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুন ধরে যায়।

    জেদ্দা বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট কয়েকবার চেষ্টা করে বিমানটি অবতরণ করাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন তিনি।

    বিমানটি অবতরণ করার আগে সৌদি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা মাথায় রেখেই সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বিমানটি মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

    সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের অফিসিয়াল টুইটারে জানিয়েছে, বিমানটিতে ১৫১ জন আরোহী ছিল, যাদের সবাইকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তারা সকলেই সুস্থ আছেন।

    বিমানটির যাত্রী আহাদুল হাসান জানান, ‘আলহামদুল্লিলাহ, আমরা প্রাণে বেঁচে এসেছি আল্লাহর হাজার শুকরিয়া। প্রায় দশবার বিমানটি অবতরণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমরা বেঁচে আসবো এ আশা ছিল না। বিমানের ভেতরে কান্নার রোল পড়ে যায়। যে যার মতো দোয়া দরুদ পড়ছিল।’

    বর্তমানে ফ্লাইটটির সকল যাত্রীদের জেদ্দা হজ টার্মিনালের লাউঞ্জে রাখা হয়েছে।

  • তুরস্কে ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন

    তুরস্কে ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন

    তুরস্কে ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিল দেশটির আদালত।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সামরিক অভ্যত্থানের চেষ্টা করা হয়। তবে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ২৬০ জন নিহত হয়। আহত হয় ২ হাজার ২শ মানুষ।

    ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তুর্কি সরকার। অভ্যুত্থানের পরপরই দেড় লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং আরো প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়।

    ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ২৮০ সাবেক সেনা সদস্য ইজমিরের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

  • ঢাকায় আসছেন থাই রাজকুমারী

    ঢাকায় আসছেন থাই রাজকুমারী

    থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন। আগামী ২৮ মে সোমবার তিনি ঢাকা সফর করবেন। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা ও বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও উদ্বোধন করবেন রাজকুমারী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    ঢাকা পৌঁছার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ৩০ মে রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন চট্টগ্রাম পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তিনি এর আগে ২০১০ এবং ২০১১ সালেও বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।

    প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভূমিবলের দ্বিতীয় কন্যা রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিনধরন।

  • শূন্যরেখায় ‘উস্কানি’ অব্যাহত মিয়ানমার বাহিনীর

    শূন্যরেখায় ‘উস্কানি’ অব্যাহত মিয়ানমার বাহিনীর

    রাখাইনে সেনা নিপীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে আনুমানিক যে ছয় হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকে সেখান থেকে বাংলাদেশের দিকে চলে যেতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে করে সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। এসময় প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। এই সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে যায়। তাদের ঠাঁই হয় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। সেসময় প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিলেও তারা সেখানেই রয়ে যায়।

    মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এমন এক সময়ে সীমান্তে ফের উস্কানি ছড়াচ্ছে, যখন দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমনকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বৃহস্পতিবার (১৭মে) দেশটির পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকও করেছেন। ঠিক তার দুইদিন পরই সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ানোতে দেশটির কূটকৌশল ধন্ধ তৈরি করেছে।

    কয়েকজন রোহিঙ্গার অভিযোগকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে লাউড স্পিকার দিয়ে রোহিঙ্গাদের সরে যেতে বলায় সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।  সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের হুমকি-ধামকি বন্ধ রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল মিয়ানমার। তবে রবিবার সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা এএফপির কাছে অভিযোগ করেছেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নতুন করে মাইকিং করছে।

    রবিবার শূন্যরেখায় থাকা থাকা রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আরিফ এএফপিকে বলেন: ‘শনিবার তারা এটি কয়েকবার বাজিয়েছে। রবিবার সকালে আবারও তারা একই কাজ করেছে। একারনণ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

    তিনি এএফপিকে জানান, লাউড স্পিকারে মাইকিং করে মিয়ানমারের বিচার ব্যবস্থার আওতাভুক্ত এলাকা ছাড়তে রোহিঙ্গাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

    এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে সম্বোধন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। লাউড স্পিকারে বার্তা দেওয়ার সময় তারা রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিজিবির স্থানীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুর হাসান খান এএফপিকে জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি তারা (মিয়ানমারের বাহিনী) ক্যাম্প সংলগ্ন সীমান্ত বেড়ার পাশে থাকা গাছের সঙ্গে লাউড স্পিকার ঝুলিয়ে দিয়েছে।’