Category: আন্তর্জাতিক

  • নেপালে বামজোটের জয়, চীনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে টেনশনে ভারত

    নেপালে বামজোটের জয়, চীনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে টেনশনে ভারত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে সাধারণ নির্বাচনে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিতি বামেজোটের ভূমিধস বিজয় হয়েছে। এতে ভারতের সীমান্ত রাষ্ট্র নেপালে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি।
    সম্প্রতি সাধারণ নির্বাচনে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত বামেজোট ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। আর ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত নেপালি কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে পি অলি।
    এ নিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন এখানে তুলে ধরা হলো।
    কয়েক বছর আগেও সম্পর্কটা মধুরই ছিল। এতটাই যে খক্ষপ্রসাদ ওলির কিডনি সংক্রান্ত সমস্ত চিকিৎসাই ভারতে হতো। নয়াদল্লির তত্ত্বাবধানে।
    কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে ভারতের সঙ্গে ওলির তিক্তটা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, তার নেতৃত্বে নেপালের নতুন বাম সরকার পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভরপুর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে চলেছে সাউথ ব্লকের সামনে।
    চীন-ওলি ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নটি নতুন নয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। কূটনীতির জগতের অনেক মনে করেন, নেপালে মাওবাদী এবং কমিউনিস্টদের একসঙ্গে নিয়ে এসে সরকার গড়ার যে নকশা, তার পিছনে বেইজিংয়ের প্রয়াস রয়েছে যথেষ্ট। সিপিএন-ইউএমএল নেতা ওলি নেপালে সরকার চালিয়েছেন ২০১৫-র অক্টোবর থেকে ২০১৬-র আগস্ট পর্যন্ত। ভারত-নেপাল সম্পর্কের খুবই অবনতি হয় সে সময়ে। ফের তার হাতেই যাচ্ছে নেপালের ভার। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই সরকার গড়া নিয়ে মঙ্গলবার মাওবাদী নেতা প্রচণ্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওলি। প্রচণ্ড আগেই জানিয়েছেন ওলি-র নেতৃত্বেই হবে নয়া সরকার। ওলির এই দফাতেও ভারতের সীমান্ত রাষ্ট্রটিতে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি।

    এই পরিস্থিতিতেও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর কিন্তু ভারতের ধরাবাঁধা অবস্থানকেই ফের তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, প্রথমত, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যে সরকারই আসুক না কেন, তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক ভাবেই গড়াবে। দুই, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল নয়। এরই পাশাপাশি আরে একটি যুক্তিও খাড়া করছে সাউথ ব্লক। সেটা হলো, নেপালের সঙ্গে ভারতের যে আবহমান ধর্মীয় সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে, কখনোই তা অর্থ দিয়ে কিনতে পারবে না চীন। ভারতকে পরোপুরি বাদ দিয়ে কিছু করা সম্ভবও নয় নেপালের পক্ষে।

    কিন্তু কঠোর বাস্তবের জমিতে এই যুক্তিগুলি যে তেমন জুতসই হচ্ছে না, সে কথা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বড় অংশ। ডোকলাম প্রশ্নে দীর্ঘ সংঘাত আপাত ভাবে মিটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্রাগন। এই অবস্থায় নেপালে তাদের আধিপত্য-বৃদ্ধি আদৌ কাক্সিক্ষত নয়।
    নয়াদিল্লি ভোলেনি যে গত বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে এই ওলি-ই চীন সফরে গিয়ে একটি চুক্তি সই করে দু’দেশের মধ্যে রেল আর বন্দর যোগাযোগ-সহ সামগ্রি ভাবে বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতাকে এক ধাপে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। মদেশীয় বিক্ষোভের সময়ে ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রফতানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অবরোধের কারণে।

    নয়াদিল্লির অভিযোগ, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চীনের প্রতি নির্ভরতা অনেকটাই বাড়িয়ে নেয় তৎকালীন ওলি সরকার। পাশাপাশি, ওই সময়ে উগ্র ভারত-বিরোধিতার রাজনৈতিক আবহ তৈরি করা হয় নেপালে। যা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।

  • জাতির কাছে ক্ষমা চান: মোদিকে মনমোহন

    গুজরাতে জমানা বদলের পাকিস্তানি চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ঘরে-বাইরে আক্রমণের মুখে নরেন্দ্র মোদী। রাহুল গাঁন্ধী তো বটেই, ভোটে পাকিস্তানকে টেনে আনায় সরব সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকও। বিজেপির শত্রুঘ্ন সিনহা থেকে শরিক শিবসেনা নেতৃত্বও মোদীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
    তবে মোদিকে এ দিন সব থেকে শাণিত আক্রমণটি করেছেন মনমোহন সিংহ। ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলে পূর্বসুরির মন্তব্য, ‘‘গুজরাতে হারের আতঙ্কে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চাইছেন।’’ মনমোহন বলেন, ‘‘আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদের যোগ্য পরিণতিবোধ ও গরিমা রাখবেন। জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী পদের হৃত সম্মান পুনরুদ্ধার করবেন।’’
    রবিবার গুজরাতের প্রচারে মোদি অভিযোগ করেন, ‘‘পাক সেনার প্রাক্তন ডিজি গুজরাতের ভোটে নাক গলাচ্ছেন। পাকিস্তানের লোকেরা মণিশঙ্কর আইয়ারের বাড়িতে বৈঠক করছেন। তার পরে মণিশঙ্কর আমাকে নীচ বলছেন। এতে কি সন্দেহ হয় না?’’ আজ গুজরাতের প্রচারে গিয়ে রাহুল গাঁন্ধী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কখনও পাকিস্তান নিয়ে বলেন, কখনও চিন-জাপান নিয়ে। গুজরাতের ভোটে গুজরাত নিয়ে কিছু বলুন!’’
    আইয়ারের বাড়িতে যে বৈঠকের দিকে মোদি আঙুল তুলেছেন, সে’টি ছিল প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মেহমুদ কাসুরির সম্মানে নৈশভোজ। একটি আলোচনা সভায় দিল্লি এসেছিলেন কাসুরি। ৬ ডিসেম্বরের নৈশভোজে মনমোহন সিংহ, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কপূর, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী নটবর সিংহেরা হাজির ছিলেন।
    মনমোহন বলেছেন, ‘‘নৈশভোজে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেই কথা সীমাবদ্ধ ছিল। গুজরাতের প্রসঙ্গই ওঠেনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানের মতো মানুষদের দিকেও কালি ছেটানোর বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করলেন মোদি।’’
    পাকিস্তানও আজ সরব হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়সল বলেন, ‘‘ভোটের তর্কে পাকিস্তানকে টানা বন্ধ করুক ভারত। চক্রান্তের বানানো অভিযোগও বন্ধ হোক।’’ আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের জবাব, ‘‘পাকিস্তান যে সন্ত্রাস ছড়ায়, তা গোটা দুনিয়ার জানা।’’
    এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনমোহন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আপসের কথা সর্বজনবিদিত। উধমপুর, গুরুদাসপুরে হামলার পরে বিনা আমন্ত্রণে মোদি পাকিস্তানে যান। পঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলার পর আইএসআই-কে সেখানে কেন ডাকা হয়, সেটাও উনি দেশকে জানান।’’
    মনমোহনের কড়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে সারা দিন দিল্লি সরগরম থাকার পরে রাতে অরুণ জেটলিকে জবাব দিতে নামায় বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য ক্ষমা না-চেয়ে কংগ্রেস নেতারা উল্টে প্রধানমন্ত্রীকেই ক্ষমা চাইতে বলছেন!’’
    শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় আজ লেখা হয়েছে, মোদি নাটক করছেন। আর বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার কটাক্ষ, ‘‘ভোটে জিততে কি রোজ নতুন নতুন গল্প বানাতে হবে?’’

  • যে কারণে সব ধর্মের মানুষের কাছে জেরুজালেম গুরুত্বপূর্ণ

    যে কারণে সব ধর্মের মানুষের কাছে জেরুজালেম গুরুত্বপূর্ণ

    ডেস্ক: মুসলিমদের কাছে আল-কুদস, খ্রিস্টানদের কাছে জেরুজালেম, ইহুদিদের ভাষায় ‘ইরুশালাইম’। যে নামেই ডাকা হোক- হাজার বছর ধরে পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র নগরীর মর্যাদা জেরুজালেমের।
    ছোট্ট একটি শহরকে ঘিরে, তিন ধর্মের মানুষের এমন আবেগ, স্মৃতি বা ঐতিহ্য নেই পৃথিবীর আর কোথাও।
    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর শহর জেরুজালেম। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা, ‘ওল্ড সিটি’খ্যাত শহরটি বিভক্ত মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও আর্মেনীয় বসতিতে; যেখানে আছে বিভিন্ন ধর্মের অনেক পবিত্র স্থাপনা।
    তাই নগরীর পবিত্রতা নিয়ে মতভেদ না থাকলেও নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে আছে নানা বিতর্ক; আছে দফায় দফায় দখল, পুনর্দখল, ধ্বংস আর পুনর্র্নিমাণের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। সবচেয়ে বেশি টানাপড়েন, পবিত্র ভূমি ‘হারাম আল শরিফ’-কে ঘিরে।

    চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্র এ এলাকায় অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাসসহ মুসলিমদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বলা হয়, মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা; বিশ্বাস, শবে মেরাজের রাতে এখান থেকেই আসমানে যাত্রা করেছিলেন মহানবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
    একই জায়গায় অবস্থিত, ইহুদিদের পবিত্র ভূমিখ্যাত ‘টেম্পল মাউন্ট’ বা ‘ঈশ্বরের ঘর’, যা মুসলিমদের কাছে পবিত্র ‘কুব্বাত আস-সাখরা’। টেম্পল মাউন্টকে ঘিরে থাকা ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ ইহুদিদের কাছে ‘পৃথিবীর ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে স্বীকৃত। এখানে নিয়মিত প্রার্থনায় অংশ নেন লাখো ইহুদি।
    যিশু খ্রিস্টের স্মৃতিবিজড়িত গির্জার কারণে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পবিত্রতার দিক থেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ জেরুজালেম। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, এখানেই ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল যিশুকে।
    ১২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ শহরের সঙ্গে কত ইতিহাস, কত স্মৃতি জড়িত তার ইয়ত্তা নেই। মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি- এই তিন ধর্মের মানুষের কাছেই হাজার বছর ধরে সমান গুরুত্ব জেরুজালেমের।

    ইতিহাসসমৃদ্ধ জেরুজালেম স্বাভাবিকভাবেই আজও সমান আলোড়ন তোলে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের হৃদয়ে। পৃথিবীর অন্যতম পুরনো শহরকে নিয়ে টানাপড়েনও হাজার বছরের। ধর্মীয় যুদ্ধে বারবার যার হাতবদল হয়েছে; কিন্তু নিজেদের অধিকার ছাড়েনি কোনো পক্ষই।
    যুগে যুগে অসংখ্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাক্ষী হওয়া পুরো নগরীকে নিজেদের রাজধানী দাবি করে ইসরাইল। কিন্তু পূর্ব জেরুজালেম নামে পরিচিত শহরের পূর্ব অংশে ইসরাইলিদের দখলদারিত্ব মানতে নারাজ শত শত বছর ধরে অঞ্চলটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা।
    কেবল মুসলিমরা নন, পুরো জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার বিরোধী খ্রিস্টানরাও।
    তিন ধর্মের কাছে পবিত্র বলেই আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় জেরুজালেমের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সমঝোতা ছিল, ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় সবার শেষে নির্ধারিত হবে জেরুজালেমের মালিকানা।

  • পশ্চিমবঙ্গে জেল ওয়ার্ডেনকে খুনের চেষ্টা বন্দি আইএস জঙ্গির

    পশ্চিমবঙ্গে জেল ওয়ার্ডেনকে খুনের চেষ্টা বন্দি আইএস জঙ্গির

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এক বন্দি আইএস জঙ্গির জেল ওয়ার্ডেনকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড় চলছে। আইএস জঙ্গি সন্দেহে ধৃত মুসা জেলের মধ্যেই এই খুনের চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। রোববার সকালে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এক ওয়ার্ডেনের গলায় ধারালো জিনিস দিয়ে আঘাত করেছে সে।
    জেল সূত্রের খবর, একটি চামচকে ধারালো করে মুসা পরিকল্পনা মাফিক এক ওয়ার্ডেনের গলায় আগাত করে। কারারক্ষীরা ছুটে গিয়ে ওই ওয়ার্ডেনকে উদ্ধার করেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।
    পরে সেখান থেকে সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই মুসার উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। কেন সে এই হামলা চালালো তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জেল সুত্রে বলা হয়েছে। গত বছর মসিউদ্দিন ওরফে মুসাকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে হেফাজতে নিয়েছে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ।

  • পৃথিবীর সর্বত্র আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

    পৃথিবীর সর্বত্র আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

     জীবন নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, এ যাবত কালের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একে পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
    এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছে, দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে জাপানের সাগরে গিয়ে পড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টির যথাযথ জবাব দেয়া হবে।
    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি অবহিত করে, সেখানেই গণ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
    দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার রাজধানীর পূর্ব দিক থেকে ছোঁড়া হয়।
    পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে উদ্বেগ তীব্র সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক অবরোধের মধ্যেও দুই মাস পর আবারো এমন পরীক্ষা চালানো হলো।
    অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার আবারো দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সরব বিশ্ব নেতারা।
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, বিষয়টি আমরা দেখছি। জেনারেল ম্যাটিস আমাদের সাথেই আছেন এবং এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাও হচ্ছে। আসলে, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে- সেটা আমরা সামলে নেবো।
    এদিকে, পিয়ং ইয়ং-এর এমন উস্কানি মূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি সভার আহ্বান করেছেন।
    দেশটির সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিহিডে সুগা বলেছেন, “আজ রাত তিনটার কিছু পর উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয় তা আমাদের নিবিড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে এসে পড়েছে।
    আমরা আর কোনোভাবেই তাদের এসব উস্কানিমূলক আচরণ মেনে নেবো না, এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পিয়ং ইয়ং-এর বিরুদ্ধে ক্রমাগত অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
    প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও।

  • সেলফি যেন ‘কিলফি’ না হয়

    সেলফি যেন ‘কিলফি’ না হয়

    ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে কর্তৃপক্ষ সেলফি তোলার বিপদ ব্যাপারে লোকজনকে সতর্ক করতে এক প্রচারাভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি সেলফি তুলতে গিয়ে চারজন ছাত্রের মৃত্যুর পর তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

    সেপ্টেম্বর মাসে ২০-২৫ জন কলেজ ছাত্র বেঙ্গালুরু শহরের ৩০ কিলোমিটার দূরের রামাগোন্ডলুতে একটি হনুমান মন্দিরে বেড়াতে যায়।

    সেদিন দুপুরে তারা মন্দিরের পুকুরে স্নান করতে নামে। “তারা সেখানে আনন্দ-উল্লাস করছিল, সেলফি তুলছিল” – বলেন স্থানীয় একজন দোকানদার মঞ্জুনাথ।

    সেই সময়ই ছাত্রদের একজন সেই ১৫ ফুট গভীর পুকুরে ডুবে মারা যায়।

    তাদের তোলা সেলফিগুলোর একটিতে দেখা যায়, ছেলেদের সবাই তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে, তার তাদের ঠিক পেছনেই ডুবন্ত ছেলেটির মাথা দেখা যাচ্ছে পুকুরের পানিতে – কিন্তু কেউ সেদিকে দেখছে না ।

    ঘন্টাখানেক পর বাকিদের খেয়াল হয় যে তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ। এর আরো দু’ঘণ্টা পর পুলিশ ও স্থানীয়রা এসে তার লাশ পুকুর থেকে ওঠায়।

    কয়েক সপ্তাহ পরই আরেকটি দু:খজনক ঘটনা ঘটে ওই মন্দির থেকে ঘণ্টাখানেকের পখ দূরে।

    রেললাইনের ওপর শুয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে চাপা পড়ে মারা যায় তিনজন তরুণ।

    স্থানীয় লোকেরা জানান, পুরো জায়গাটি জুড়ে তাদের ছিন্নভিন্ন দেহের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিল। সম্ভবত তারা রেললাইনের ওপর শুয়ে থাকার জন্যেই দেখতে পায় নি যে ট্রেন আসছে।

    এ দুটি ঘটনার পর কর্ণাটক রাজ্যের সরকার বিশেষ করে তরুণরা সেলফি তুলতে গিয়ে কি বিপদ হতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    তারা বলছেন, বিপজ্জনক জায়গায় সেলফি তুলতে গেলে তা ‘কিলফি’তে পরিণত হতে পারে।

    এজন্য তারা বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে নতুন নতুন সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমেও তারা প্রচার চালাচ্ছেন।

    ভারতে ১১০ কোটিরও বেশি লোক মোবাইল ফোন গ্রাহক। স্মাটফোন ব্যবহার করে ৩০ কোটি লোক।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত তরুণরা সেলফি তোলার জন্য বেপরোয়া হয়ে নানা রকম ঝুঁকি নেয়।

    সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, পৃথিবীর অন্য যে কোন দেশের চাইতে ভারতে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে।

    এই জরিপে দেখা যায় ২০১৪-র মার্চ থেকে ২০১৬-র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে মৃত্যু ঘটেছে ১২৭টি , এর মধ্যে ভারতেই ঘটেছে ৭৬টি আর এদের অধিকাংশই তরুণ।

    সেলফি তুলতে গিয়ে এসব মৃত্যু হয়েছে ট্রেনে কাটা পড়ে, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে, পানিতে ডুবে, বা সমুদ্রে ভেসে গিয়ে।

    উত্তর ভারতের মোরাদাবাদ শহরে এবছর জুন মাসে পুলিশ হুঁশিয়ারি দেয় যে রেললাইন বা ফ্লাইওভারের ওপর, বা বাসের ওপর বসে কেউ সেলফি তুলতে গেলে তাকে জেলে পাঠানো হবে।

    মুম্বাই শহরে গত বছর সেলফি তুলতে গিয়ে ১৮ বছরের এক তরুণী সমুদ্রে ডুবে মারা যায়। এর পর সেখানকার টুরিস্ট স্পটগুলোয় ‘নো সেলফি’ সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।

    অবশ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, সেলফি তুলতে গিয়ে বিপদ যে কোনো জায়গাতেই হতে পারে তাই কোন জায়গাকে ‘নো সেলফি’ জোন করা হবে তা ঠিক করা কঠিন।
    সূত্র: বিবিসি