Category: গণমাধ্যম

  • ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর

    ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর

    বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

    এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প পুনরুজ্জীবন ও কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছে সরকার।

    শনিবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চরচা ডটকম এ আলোচনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের দর্শন হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি।

    উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু ভর্তুকি নয়, কৃষিকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে নিতে হবে। এ জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিতুমীর।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ সব খাতে ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবার বিস্তারও জরুরি।

    গোলটেবিল আলোচনায় এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বেসরকারি খাতের বিকাশে কর কাঠামোয় সংস্কার প্রয়োজন।

    তিনি বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থার উন্নয়নের আহ্বান জানান।

    গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে, কৃষিতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের চাপ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী বাজেটকে বাস্তবমুখী ও সংস্কারমুখী হতে হবে।

    কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।

    আলোচনায় আরও অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

    তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

    এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

    গত বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের সফরে সিউল থেকে ঢাকায় আসেন হাকান ফিদান। শুক্রবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

    এরপর তিনি রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার যান এবং রাতে ঢাকায় ফিরে আসেন। আজ বিকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তুরস্কের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

  • স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

    স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

    প্রাথমিক ও  সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা  জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার। এই লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    আজ (শনিবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হাসান শিপলু জানান, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আরও জানান, প্রথমে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সরকারের এই উাদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতাও কমবে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, তিন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী-এই তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সভায় জানানো হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাতেও উন্নয়ন ঘটবে।

    প্রেস উইং আরও জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি সেবার বিভিন্ন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা আছে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব যানবাহনের ডিজাইন করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

    পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

    স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ (শনিবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই পরামর্শ দেন তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।

    প্রেস উইং জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। এলাকায় মাটি ও পরিবেশের ধরন অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হত, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন,  পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বৃক্ষরোপণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে করা হবে তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    আগামী ১৪ জুন সারাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের ডুলহাজরায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

  • সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

    সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

    অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে আমরা যেমন আশীর্বাদপুষ্ট, তেমনি সাইবার ঝুঁকিও (ডিজিটাল হ্যাজার্ড) আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) এখন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।’

    এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা (ই-সেফটি) নিশ্চিত করতে দেশের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    আজ রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলা: নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

    তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন সমাধানের সময় (টাইম ফর সলিউশন)। দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা দ্রুত একটি ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র খসড়া তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সরকার মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমের জটিলতাগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে বিশেষজ্ঞদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত করছে।

    বিশ্বব্যাপী মেটা (ফেসবুক), গুগল বা এক্স (টুইটার)-এর মতো টেক জায়ান্টদের জবাবদিহিতা ও রেগুলেশনের আওতায় আনার প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অনেক শ্রম দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে, অথচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা বিনা পয়সায় ব্যবহার করে আয় করছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আইন করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের রয়্যালটি দিতে বাধ্য করছে।’

    বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও এ্যাব-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।

    গোলটেবিল আলোচনায় অন্য বক্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া খবর চিহ্নিত করার আধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস ব্যবহারের ওপর জোর দেন। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লিটারেসি বা তথ্য সচেতনতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    গোলটেবিল আলোচনায় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস

    ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস

    সংখ্যা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গণনা, পরিমাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সংখ্যার ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিছু সংখ্যাকে ঘিরে বিশেষ বিশ্বাস ও কুসংস্কার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ১৩ সংখ্যা সবচেয়ে আলোচিত।

    বিশ্বের বহু দেশে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যদিও এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদিও ১৩ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস, এর ঐতিহাসিক উৎস, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং বাস্তবতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।

    ১৩ সংখ্যার প্রতি ভীতির ধারণা

    ১৩ সংখ্যাকে ভয় পাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় ট্রিস্কাইডেকাফোবিয়া (Triskaidekaphobia)। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা, যেখানে মানুষ ১৩ সংখ্যাকে দুর্ভাগ্য, বিপদ বা অমঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত করে। অনেক ক্ষেত্রে এই ভয় এতটাই প্রবল যে মানুষ ১৩ নম্বর ঘর, আসন বা তলা ব্যবহার করতেও অনীহা প্রকাশ করে।

    ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় উৎস

    ১. শেষ ভোজ : খ্রিস্টান ঐতিহ্যে একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো, যিশু খ্রিস্টের শেষ ভোজে মোট ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জুডাস ইসকারিয়ট, যিনি পরে যিশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। এই ঘটনার সঙ্গে ১৩ সংখ্যার অশুভ ধারণাকে যুক্ত করা হয়।

    ২. নর্স পুরাণ: উত্তর ইউরোপের নর্স পুরাণে একটি কাহিনিতে ১২ জন দেবতার ভোজসভায় অনাহূত ১৩তম অতিথি হিসেবে লকি (Loki) উপস্থিত হন। তার আগমনের পর সংঘটিত ঘটনায় দেবতা বাল্ডর (Baldr)-এর মৃত্যু ঘটে। অনেক গবেষক মনে করেন, এই গল্পও ১৩ সংখ্যার অশুভ ভাবমূর্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

    ৩. শুক্রবার ১৩ তারিখ: পাশ্চাত্য সমাজে “Friday the 13th” বিশেষভাবে অশুভ বলে বিবেচিত হয়। অনেকের ধারণা, এই দিনে দুর্ঘটনা, আর্থিক ক্ষতি বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা বেশি ঘটে। তবে পরিসংখ্যানগত গবেষণায় এমন কোনো ধারাবাহিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    সমাজে ১৩ সংখ্যার প্রভাব

    ১. ভবন নির্মাণ: বিশ্বের অনেক হোটেল, হাসপাতাল ও অফিস ভবনে ১৩তম তলার নম্বর ব্যবহার করা হয় না। লিফটে ১২-এর পর সরাসরি ১৪ নম্বর তলা দেখা যায়। যদিও বাস্তবে সেই তলা বিদ্যমান থাকে, কেবল নম্বর পরিবর্তন করা হয়।

    ২. বিমান ও পরিবহন ব্যবস্থা: কিছু বিমান সংস্থা ১৩ নম্বর সারি বা আসন এড়িয়ে চলে। একইভাবে কিছু দেশে ১৩ নম্বর বাড়ি বা কক্ষ নম্বরও ব্যবহার করা হয় না।

    ৩. ব্যবসা ও বিপণন: অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের মনস্তাত্ত্বিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ১৩ নম্বর ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। কারণ কিছু ক্রেতা ১৩ সংখ্যাযুক্ত পণ্য, ঠিকানা বা সেবা গ্রহণে অস্বস্তি বোধ করেন।

    বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যার ভিন্ন ব্যাখ্যা: সব সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ মনে করা হয় না। যেমন:

    ইহুদি সংস্কৃতি: ইহুদি ঐতিহ্যে ১৩ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ সংখ্যা। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

    প্রাচীন সভ্যতা: কিছু প্রাচীন সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যাকে পূর্ণতা, পরিবর্তন বা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।

    আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: আধুনিক গণিতের দৃষ্টিতে ১৩ একটি মৌলিক সংখ্যা (Prime Number)। এর বিশেষ গাণিতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কিন্তু সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে এর কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই।

    বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

    মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস মূলত নিশ্চিতকরণ পক্ষপাতের ফল। মানুষ যখন ১৩ সংখ্যার সঙ্গে কোনো নেতিবাচক ঘটনা দেখে, তখন সেটি সহজে মনে রাখে; কিন্তু ইতিবাচক বা সাধারণ ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে। ফলে অশুভ ধারণাটি আরও শক্তিশালী হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ সংখ্যার উপস্থিতি কোনো দুর্ঘটনা, রোগ, আর্থিক ক্ষতি বা দুর্ভাগ্যের কারণ নয়। এটি কেবল একটি সংখ্যা, যার ওপর মানুষের সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা আরোপিত হয়েছে।

    ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত। ধর্মীয় কাহিনি, লোকবিশ্বাস ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রভাবে এই ধারণার বিস্তার ঘটেছে। তবে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ১৩ অন্য যেকোনো সংখ্যার মতোই একটি সাধারণ সংখ্যা। এর সঙ্গে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তাই ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তি ও প্রমাণকে প্রাধান্য দেওয়াই অধিক গ্রহণযোগ্য।